Tag: ইরাক

  • ইরাকের আকাশে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ৪ সেনা, আহত আরও ২

    ইরাকের আকাশে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ৪ সেনা, আহত আরও ২

    এবিএনএ: ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আকাশসীমায় একটি মার্কিন সামরিক রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত চারজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ড United States Central Command (সেন্টকোম) শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিল Boeing KC-135 Stratotanker মডেলের একটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ। দুর্ঘটনার সময় এতে চালক ও সহচালকসহ মোট ছয়জন সেনা সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

    সেন্টকোমের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকের আকাশসীমায় উড্ডয়নরত অবস্থায় দুটি সামরিক বিমানের একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়, আরেকটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। তবে কী কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    প্রাথমিকভাবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি শত্রুপক্ষের হামলার ফল নয়। তবে ঘটনার কিছু সময় পর টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে দায় স্বীকার করে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট Islamic Resistance in Iraq

    ওই বিবৃতিতে তারা দাবি করে, তাদের যোদ্ধারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটিকে ভূপাতিত করেছে। যদিও ওয়াশিংটন এই দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে।

    সামরিক অভিযানে আকাশে থাকা যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহের জন্য রিফুয়েলিং বিমান ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য এই ধরনের উড়োজাহাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    বিধ্বস্ত হওয়া কেসি-১৩৫ বিমানটি তৈরি করেছে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing। গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশক থেকে এই মডেলের রিফুয়েলিং বিমান ব্যবহার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: কোন দেশে কত প্রাণহানি

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: কোন দেশে কত প্রাণহানি

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হচ্ছেন।

    সাম্প্রতিক বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কয়েকটি দেশে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

    ইরান:
    ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী ও কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত আছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    ইসরায়েল:
    ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটিতে অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জেরুজালেমের কাছে বেইত শেমেস শহরে ১ মার্চের হামলায় নিহত ৯ জনও রয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনও সামরিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

    লেবানন:
    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বাহরাইন:
    দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজন নিহত হন।

    কুয়েত:
    ইরানের হামলায় কুয়েতে দুই সেনাসদস্যসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    ওমান:
    ওমানের রাজধানী মাস্কটের উপকূলের কাছে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে গোলাবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত:
    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

    মার্কিন সামরিক বাহিনী:
    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

    সিরিয়া:
    সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েদা শহরের একটি ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন নিহত হন।

    ইরাক:
    ইরাকে ইরানের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন মিলিশিয়া সদস্য, একজন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

    তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ইরাকে মর্মান্তিক ঘটনা: খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যু

    ইরাকে মর্মান্তিক ঘটনা: খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যু

    এবিএনএ: ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের আরবিল শহরে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক শোকবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে দুইজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার এবং একজন ফেনী জেলার বাসিন্দা। তারা কর্মসূত্রে ইরাকের আরবিল শহরে অবস্থান করছিলেন।

    প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক (পাসপোর্ট নম্বর: EL-0875891), মো. সাব্বির এবং ফেনী জেলার মেহেদী হাসান (পাসপোর্ট নম্বর: A18633961) ওই ঘটনায় মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

    ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

    এদিকে তিন প্রবাসী বাংলাদেশির এমন অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

  • খরা কাটাতে তেলের বিনিময়ে পানি কিনছে ইরাক, দজলা–ফোরাত সংকটে নতুন চুক্তি

    খরা কাটাতে তেলের বিনিময়ে পানি কিনছে ইরাক, দজলা–ফোরাত সংকটে নতুন চুক্তি

    এবিএনএ: দজলা ও ফোরাত—এই দুই ঐতিহাসিক নদীর দেশ ইরাক বর্তমানে নজিরবিহীন পানি সংকটে পড়েছে। উজানে বাঁধ নির্মাণ, কম বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তুরস্কের সঙ্গে ‘তেলের বিনিময়ে পানি’ সহযোগিতা চুক্তিতে গেছে ইরাক।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৩ সালের পর এবারই সবচেয়ে ভয়াবহ শুষ্ক সময় পার করছে দেশটি। দজলা ও ফোরাত নদীর পানির স্তর আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরস্ক ও সিরিয়ার উজানে নির্মিত বাঁধ, যুদ্ধের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতা সংকটকে আরও গভীর করেছে।

    ইরাকের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষের জীবনযাত্রা ও কৃষি খাত ব্যাপকভাবে পানির ওপর নির্ভরশীল। অথচ দেশের মোট পানির ৮০ শতাংশের বেশি কৃষিতে ব্যবহৃত হলেও সরবরাহ ক্রমেই কমছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় স্বস্তি মিললেও বড় বাঁধগুলোর পানির ঘাটতি পূরণ হয়নি।

    গত নভেম্বরে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলো ইরাকে পানি শোধন ও সংরক্ষণের নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করবে। এর বিপরীতে ইরাক প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিক্রি করে সেই অর্থে প্রকল্পের ব্যয় পরিশোধ করবে। সরকার এটিকে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে দেখলেও নীতিনির্ধারক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পানি মৌলিক মানবাধিকার—একে তেলের মতো বাণিজ্যিক পণ্যের সঙ্গে যুক্ত করা ভবিষ্যতে আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    এদিকে পানি সংকট ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, খরা ও পরিবেশগত দুর্যোগে দেড় লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পানির অভাবে বহু কৃষক পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ দোকানে কাজ করছেন, কেউ ট্যাক্সি চালাচ্ছেন। তবু অনেকের আশা, এই চুক্তি হয়তো আবার মাঠে পানি ফেরাবে।