Tag: আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • নতুন সরকারের শপথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় অভিযান: নেপালে গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি

    নতুন সরকারের শপথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় অভিযান: নেপালে গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি

    এবিএনএ: নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের নাটকীয় মোড় এসেছে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই। শপথ নেওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    শনিবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডুর ভক্তপুর এলাকায় তাদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করে কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের বিশেষ ইউনিট।

    পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী গণমাধ্যমকে জানান, একটি তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সাবেক বিশেষ বিচারক গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন কমিশনটি এই সুপারিশ দেয়।

    পটভূমি: সহিংস বিক্ষোভ ও অভিযোগ

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ‘জেন-জি’ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।

    বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন রমেশ লেখক। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চরমে পৌঁছে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর। ওই দুই দিনে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন বিক্ষোভকারী।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী অলি। এর আগেই পদ ছাড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখক।

    অন্তর্বর্তী সরকার ও তদন্ত

    পদত্যাগের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। একই সঙ্গে সহিংসতা ও জনঅভ্যুত্থানের কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

    নতুন নেতৃত্ব ও পরিবর্তনের বার্তা

    গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে নতুন সরকার গঠন করেন বালেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)। ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

    নতুন সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—আইনের প্রয়োগে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি ও রমেশ লেখকের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরং বলেন,
    “এটি প্রতিশোধ নয়, এটি ন্যায়বিচারের পথে এগোনোর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। আইনের চোখে সবাই সমান।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এটি একদিকে যেমন আইনের শাসনের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াতে পারে।

  • ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত প্রায় ৫ হাজার, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত প্রায় ৫ হাজার, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় Israel-এ আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮২৯ জনে।

    ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১১১ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে Iran এবং United States-এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে টানা ২১ দিন আলোচনা চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

    এর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালিয়ে ইরানে হামলা শুরু করে।

    এই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei, নিরাপত্তা কর্মকর্তা Ali Larijani এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার Mohammad Pakpour। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সংঘাতের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা জোরদার করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

    পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

  • ইরানে হামলা আপাতত বন্ধ! ৫ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

    ইরানে হামলা আপাতত বন্ধ! ৫ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন মোড় নিয়েছে United StatesIran সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, গত দুই দিনে দুই দেশের মধ্যে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে এবং বিরোধ নিরসনে কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সংঘাত এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এর আগে ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম দিয়ে ইরানকে Strait of Hormuz খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যথায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরানও। তারা সতর্ক করে দেয়, মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানতে পারে।

    আল্টিমেটামের সময়সীমা প্রায় শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা ‘ভালো অগ্রগতির’ দিকে এগোচ্ছে।

    ট্রাম্প আরও জানান, প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আগামী পাঁচ দিন ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত চলমান আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অগ্রগতির দাবি করা হলেও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান। বরং সাম্প্রতিক সময়গুলোতে তেহরান বারবার বলে আসছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সাময়িক স্থগিতাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।

  • পারস্য উপসাগরে বিস্ফোরক হুমকি ইরানের—হামলা হলে নৌপথে মাইন, বন্ধ হতে পারে বৈশ্বিক বাণিজ্য!

    পারস্য উপসাগরে বিস্ফোরক হুমকি ইরানের—হামলা হলে নৌপথে মাইন, বন্ধ হতে পারে বৈশ্বিক বাণিজ্য!

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও চড়াল Iran। দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি United States বা Israel তাদের উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালায়, তবে পুরো Persian Gulf জুড়ে নৌ-মাইন বসানো হবে, যা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোকে অচল করে দিতে পারে।

    ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার জবাবে উপসাগরের প্রবেশপথ ও যোগাযোগ লাইনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের মাইন পেতে দেওয়া হবে। এর মধ্যে উপকূল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ভাসমান মাইনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে পুরো উপসাগরীয় এলাকা Strait of Hormuz-এর মতো সংকটের মুখে পড়তে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, এর দায়ভার বহন করতে হবে হামলাকারী পক্ষকেই। একইসঙ্গে সংঘাতে জড়িত নয় এমন দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী নিরাপদে ব্যবহার করতে হলে ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যৌথ সামরিক হামলার পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পারস্য উপসাগরে নৌ-মাইন স্থাপনের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ৪ হাজার কিমি দূরের মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের মিসাইল নিক্ষেপ—রহস্যে ঘেরা সক্ষমতা

    ৪ হাজার কিমি দূরের মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের মিসাইল নিক্ষেপ—রহস্যে ঘেরা সক্ষমতা

    এবিএনএ: ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ ব্যবহৃত এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া অন্তত দুটি মিসাইল শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন সূত্র।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা মিসাইলগুলোর একটি মাঝপথেই বিকল হয়ে ভূপাতিত হয়। অপর মিসাইলটি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। তবে সেটি লক্ষ্যভেদ করতে পেরেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    তবে নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে—দুটি মিসাইলের একটিও ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়নি।

    দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অথচ ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার।

    এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে ইরান এত দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানার চেষ্টা করল?

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, দেশটির মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো এখন উন্নত পর্যায়ে রয়েছে, যা পূর্বের চেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হতে পারে।

    ভারত মহাসাগরের দ্বীপে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি। এখানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বোমারু বিমান, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং গাইডেড মিসাইল সজ্জিত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে থাকে।

    এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে নিহত ২, আহত প্রায় দুই শতাধিক

    ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে নিহত ২, আহত প্রায় দুই শতাধিক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ হামলায় দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৯২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইয়ারোন মোশে ও ইলানা মোশে নামে এক দম্পতি, যাদের বয়স প্রায় ৭০ বছরের কাছাকাছি। তারা রাজধানীর নিকটবর্তী রামাত গান শহরে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ হারান।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা মাঝারি গুরুতর, বাকিরা তুলনামূলকভাবে কম আহত হয়েছেন।

    সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে টানা আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর পরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। এসব অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বহু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

    এর জবাবে ইরান ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: আমিরাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষায় ধ্বংস একাধিক ড্রোন

    মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: আমিরাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষায় ধ্বংস একাধিক ড্রোন

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয়টি ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে আমিরাত।

    তবে এই হামলায় কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মোট ২৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৬০৬টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

    চলমান এই সংঘাতে ইরানি হামলার ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৪২ জন।

    এদিকে একই সময়ে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনাতেও হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিশেষ পুলিশ ইউনিট ‘লাহাভ ৪৩৩’ এবং প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ‘জিলাত’ লক্ষ্য করে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

    তবে হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান কিংবা এতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

  • ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তরে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, সংঘাতে আহত শতাধিক

    ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তরে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, সংঘাতে আহত শতাধিক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার সকালে ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তর ও একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

    ইরানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের বিশেষ পুলিশ ইউনিটের সদর দপ্তর ‘লাহাভ ৪৩৩’ এবং প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ‘জিলাত’।

    তবে হামলাটি কোথায় সংঘটিত হয়েছে কিংবা এতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    সংঘাতে আহত শতাধিক

    অন্যদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ একদিনে অন্তত ১০৮ জন আহত ব্যক্তিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    তবে আহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কেউ সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আঘাতে আহত হয়েছেন, আবার কেউ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় সৃষ্ট হুড়োহুড়িতেও আঘাত পেয়েছেন।

    হাসপাতালে ভর্তি তিন হাজারের বেশি

    এদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সংঘাতের ঘটনায় মোট ৩ হাজার ১৯৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    তাদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে অন্তত ৮১ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • তেহরানে কুদস দিবসে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: নারী নিহত, লাখো মানুষ রাস্তায় প্রতিবাদে

    তেহরানে কুদস দিবসে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: নারী নিহত, লাখো মানুষ রাস্তায় প্রতিবাদে

    এবিএনএ: ইরানের রাজধানী Tehran-এ বার্ষিক আল-কুদস দিবসের সমাবেশ চলাকালীন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন। এসময় হাজারো মানুষ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমেছিলেন।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর Ferdowsi Square-এ এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, তবে ঘটনার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নয়।

    প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক নারী প্রাণ হারান। বিস্ফোরণটির ঠিক অবস্থান ও আরও কোনো হতাহতের খবর এখনও নিশ্চিত হয়নি।

    সমাবেশে অংশ নেওয়া হাজারো বিক্ষোভকারী ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ এবং ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দেন। তারা ইরানের পতাকা এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ছবি বহন করে, জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি Ali Larijani সহ অন্যান্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। লারিজানি বলেন, “ইসরায়েল ভয়ের কারণে কুদস দিবসে বোমা ফেলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানেন না যে ইরানিরা শক্তিশালী ও সংকল্পবদ্ধ।”

    আল জাজিরা অ্যারাবিকের প্রতিবেদক Tawhid Asadi জানিয়েছেন, সমাবেশ শুধু ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য নয়, এটি দেশের চলমান হামলার বিরুদ্ধে ইরানিদের ক্ষোভ দেখানোর একটি মুহূর্ত।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক কুদস দিবসে জনগণের পাশে থাকার জন্য তিনি গর্বিত।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের Islamic Revolution এর পর থেকে ইরান প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার আল-কুদস দিবস পালন করে আসছে। বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা Ayatollah Ruhollah Khomeini এই দিনটি ঘোষণা করেছিলেন, যা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন এবং ইসরায়েলি দখলের বিরোধিতার প্রতীক।

    ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন।

  • ইরাকের আকাশে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ৪ সেনা, আহত আরও ২

    ইরাকের আকাশে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ৪ সেনা, আহত আরও ২

    এবিএনএ: ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আকাশসীমায় একটি মার্কিন সামরিক রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত চারজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ড United States Central Command (সেন্টকোম) শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিল Boeing KC-135 Stratotanker মডেলের একটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ। দুর্ঘটনার সময় এতে চালক ও সহচালকসহ মোট ছয়জন সেনা সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

    সেন্টকোমের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকের আকাশসীমায় উড্ডয়নরত অবস্থায় দুটি সামরিক বিমানের একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়, আরেকটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। তবে কী কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    প্রাথমিকভাবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি শত্রুপক্ষের হামলার ফল নয়। তবে ঘটনার কিছু সময় পর টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে দায় স্বীকার করে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট Islamic Resistance in Iraq

    ওই বিবৃতিতে তারা দাবি করে, তাদের যোদ্ধারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটিকে ভূপাতিত করেছে। যদিও ওয়াশিংটন এই দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে।

    সামরিক অভিযানে আকাশে থাকা যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহের জন্য রিফুয়েলিং বিমান ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য এই ধরনের উড়োজাহাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    বিধ্বস্ত হওয়া কেসি-১৩৫ বিমানটি তৈরি করেছে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing। গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশক থেকে এই মডেলের রিফুয়েলিং বিমান ব্যবহার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।