কচুয়ায় প্রাক্তন ছাত্রীর ফেসবুকে প্রকাশ্যে অভিযোগ: স্কুল প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

এবিএনএ: কচুয়ায় এক প্রাক্তন ছাত্রী তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা অভিযোগ করে বৃহস্পতিবার বিকালে নিজের ফেসবুক পেজে বিস্তৃত স্ট্যাটাস দিয়েছেন। অভিযোগটি প্রকাশ হওয়ার পর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটে-ভিত্তিক টক অব দ্য জেলায় পরিণত হয়েছে। নেটিজেনরা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী স্ট্যাটাসে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন যে, তিনি ২০২৪ সালে কচুয়া এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে নরসিংদীতে অবস্থানরত ছিলেন। পরে প্রধান শিক্ষক শেখ আল মাহমুদ তাকে ঢাকায় সার্টিফিকেট দিতে বলেছিলেন। ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি ঢাকায় এসে ওই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গুলিস্তানের একটি হোটেলে সাক্ষাৎ নির্ধারিত হয়।

ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, গুলিস্তানে হোটেলের একটি কক্ষে স্যার তাকে সার্টিফিকেট ও প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে দেন। পরে কক্ষের তফসিল ও পরিস্থিতি এমন হয় যে তিনি অস্বস্তি বোধ করলে উঠতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তখনই শিক্ষক তাঁর কাছে আক্রমণ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ভুক্তভোগী লিখেছেন—অনেক সংগ্রামের পর তিনি রুমের তালা খুলে বাইরে বের হয়ে আশেপাশের লোকজনকে জানালে পুলিশ ও হোটেল ব্যবস্থাপনা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করেন। রিসেপশনে উপস্থিতদের সঙ্গে কথা বলার পরে অভিযুক্তকে পৌঁছে দেয়া হয় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা ওই শিক্ষককে মারধরও করেন বলে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী মানসিক ও শারীরিক বিপর্যয় বর্ণনা করেছেন এবং পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে বিভ্রান্ত ও দুশ্চিন্তায় আছেন। তিনি সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ করেছেন অসৎ শিক্ষককে যেন আইনের আওতায় আনা হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তিনি জাতীয়ভাবে শিক্ষক সমাজের সুনাম রক্ষার দাবি করলেও, কিছু অপকর্মীর কারণে পুরো শিক্ষাজগত আজ দোষারোপের মুখে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয়রা ও নেটিজেনরা দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। তারা প্রশাসন ও পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে অপরাধীরা দ্রুত শাস্তির মুখে পড়ে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

কচুয়া পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক শেখ আল মাহমুদ মুঠো ফোনে বলেন, হোটেলে বসে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করেছে, আমি দিতে অস্বীকার করায় ও আমাকে ব্লাক মেইল করেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক অধিকারী মুঠো ফোনে বলেন,রবিবার অফিস খুললে বিস্তারিত জেনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *