Tag: কচুয়া

  • কচুয়ায় বিষখালী ভাঙনে ঝুঁকিতে বাধাল বাজার ব্রিজ, বন্ধ হতে পারে বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়ক

    কচুয়ায় বিষখালী ভাঙনে ঝুঁকিতে বাধাল বাজার ব্রিজ, বন্ধ হতে পারে বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়ক

    এবিএনএ, বাগেরহাট : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে বাধাল বাজার সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ (কালভার্ট) এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। এতে বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কে যান চলাচল যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি ঘিরে যাত্রী, চালক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি নদী খননের ফলে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে কালভার্টের পাশের মাটি সরে যেতে থাকে। এতে করে কাঠামোটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ব্রিজটির উইং ওয়ালের একটি অংশ ভেঙে গেছে এবং সড়কের উপর ফাটল দেখা দিয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার পূর্বাভাস দিচ্ছে।

    এই মহাসড়কটি বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মধ্যে অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য, মাছ এবং ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ব্রিজটি ধসে পড়লে দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

    এলাকাবাসী দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

    এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, নদী খননের কারণে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় এই ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • কচুয়ায় ভেঙে পড়া কাঠের সেতুতে যোগাযোগ বিপর্যয়—দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, দ্রুত সমাধানের দাবি

    কচুয়ায় ভেঙে পড়া কাঠের সেতুতে যোগাযোগ বিপর্যয়—দুর্ভোগে হাজারো মানুষ, দ্রুত সমাধানের দাবি

    এবিএনএ,কচুয়া : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠের পুল ভেঙে পড়ায় স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শাখারীকাঠী স্মৃতিসৌধের পাশ দিয়ে দৈবজ্ঞহাটি এলাকায় যাওয়ার এই পুলটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় অবশেষে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাধাল ইউনিয়নের এই পুলটি ছিল আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ী এই পথ ব্যবহার করে তাদের গন্তব্যে যেতেন। কিন্তু বর্তমানে পুলটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পুলের ভাঙা অংশ পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মানুষ বাধ্য হয়ে চলাচল করছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    এদিকে, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একইসঙ্গে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারছে না, যা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পুলটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণ না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • বাগেরহাটে র‍্যাবের বড়সড় অভিযান: ৬৬ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

    বাগেরহাটে র‍্যাবের বড়সড় অভিযান: ৬৬ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

    এবিএনএ,বাগেরহাট : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় র‍্যাব-৬ এর এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি মুঞ্জারুল শিকদার (৪২), যার বাড়ি পিরোজপুর জেলার সদর উপজেলার চালিতাখালী গ্রামে।

    রবিবার (২২ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার এলাকায় ওসমান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাব-৬ এর টুআইসি মেজর নাজমুল ইসলাম।

    র‍্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-০৬৬২) থামানো হয়। এসময় গাড়ি তল্লাশি করে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং মুঞ্জারুল শিকদারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চল থেকে মাদক সংগ্রহ করে উপকূলীয় জেলাগুলোতে সরবরাহ করে আসছিলেন। উদ্ধার হওয়া এই চালানটি পিরোজপুর জেলার চালিতাখালী গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জব্দ করা গাঁজার বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা হতে পারে। এ ঘটনায় র‍্যাব-৬ এর ডিএডি কুদ্দুছ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ঈদের আগে কচুয়ায় আগুনের তাণ্ডব: মুহূর্তেই পুড়ে ছাই ৯ দোকান, পথে বসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

    ঈদের আগে কচুয়ায় আগুনের তাণ্ডব: মুহূর্তেই পুড়ে ছাই ৯ দোকান, পথে বসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় ঈদের ঠিক আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজ সংলগ্ন মঘিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, আগুন লাগার পরপরই খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীও আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এরই মধ্যে ৯টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

    ঈদের আগমুহূর্তে এমন বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অনেক ব্যবসায়ীর জন্য এসব দোকানই ছিল জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম।

    ক্ষতিগ্রস্ত চায়ের দোকানদার সোহাগ মাঝি জানান, ঋণ নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ঈদ উপলক্ষে নতুন পণ্য মজুদ ও দুটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

    অন্যদিকে ‘মীম অ্যান্ড মুন’ সারের দোকানের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা পুরোপুরি আগুনে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা কেন্দ্র, লন্ড্রি ও সেলুনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

    এছাড়া সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিন সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • বাগেরহাটে দুঃসাহসিক হামলা—পুলিশকে কুপিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি

    বাগেরহাটে দুঃসাহসিক হামলা—পুলিশকে কুপিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামি

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে মঘিয়া ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি নাদিম শেখ (৩৩)কে গ্রেপ্তার করতে এসআই আনিছুর রহমান ও এএসআই ইমদাদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে তাকে আটক করে ফিরিয়ে আনার সময় হামলার শিকার হয় পুলিশ।

    এ সময় নাদিমের ছোট ভাই সাগর শেখ ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলার একপর্যায়ে কনস্টেবল রাজু খানকে লক্ষ্য করে কোপ দিলে তার ডান হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়।

    এই সুযোগে নাদিম ও সাগর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত পুলিশ সদস্যকে দ্রুত উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান জানান, পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

    এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • বাগেরহাটে কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, অপমানে বিষপান—হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    বাগেরহাটে কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, অপমানে বিষপান—হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অপমান ও লোকলজ্জার ভয়ে ওই কিশোরী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নে বসবাসকারী এক দশম শ্রেণির ছাত্রীকে একা পেয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে এক যুবক। ভুক্তভোগী ছাত্রীটি রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং একটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী।

    অভিযোগ রয়েছে, একই ইউনিয়নের মহসিন সরদারের ছেলে রোহান (২০) সুযোগ পেয়ে ওই কিশোরীর ওপর জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় কিশোরী চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

    ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কিশোরী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সামাজিক অপমান ও লোকলজ্জার আশঙ্কায় রোববার (৯ মার্চ) সকালে সে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

    পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, কিশোরীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এ বিষয়ে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তারা মৌখিকভাবে শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

  • কচুয়ায় ভয়াবহ হামলা: জমি বিরোধে যুবকের হাত-পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

    কচুয়ায় ভয়াবহ হামলা: জমি বিরোধে যুবকের হাত-পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবকের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকালে মঘিয়া ইউনিয়নের সম্মানকাঠি গ্রামের একটি বাগান এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় মো. রহমতউল্লাহ শেখ (২৭)–কে উদ্ধার করে পুলিশ।

    স্থানীয়রা জানান, ধারালো অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি রহমতউল্লাহকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরিবারের দাবি, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    আহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। হামলায় তার দুই হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, একটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। চোখ ও মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পরিবার জানায়।

    কচুয়া উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহতের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। একাধিক অঙ্গ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে, সে কারণেই তাকে খুলনায় পাঠানো হয়েছে।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও চলছে।

  • বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, আহত সমর্থকের মৃত্যু

    বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, আহত সমর্থকের মৃত্যু

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আহত এক স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত ওসমান সরদার (২৯) শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ি গ্রামে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

    নিহত ওসমান সরদার বাগেরহাট সদর উপজেলার পাড়নওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে।

    পরিবারের অভিযোগ

    ওসমানের বড় ভাই এনামুল কবির সরদার অভিযোগ করেন, এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা ঘোড়া প্রতীকের লোকজনকে খুঁজতে থাকে। এ সময় তার ভাইসহ কয়েকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওসমানের মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে খুলনায় স্থানান্তর করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    পুলিশের বক্তব্য

    বাগেরহাট মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    বাগেরহাট-২ আসনের প্রেক্ষাপট

    সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-২ আসন-এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। তবে এ দুই প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।

    নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে স্থানীয়রা জানান। সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে।

  • কচুয়ায় ভোটের মাঠ রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫ জন

    কচুয়ায় ভোটের মাঠ রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫ জন

    এবিএনএ: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নির্বাচনী উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ঘোড়া ও ধানের শীষ প্রতীকের অন্তত পাঁচজন সমর্থক আহত হয়েছেন। শুক্রবার গোপালপুর ইউনিয়নের ধোপাবাড়ি পোল এলাকায় সর্বশেষ এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা চলাকালে প্রতিপক্ষ ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৮) গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও গোপালপুর এলাকায় দুই প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ঘোড়া প্রতীকের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে উভয় পক্ষের দুই কর্মী আহত হন। এসব ঘটনায় কচুয়া থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    আহত জাহাঙ্গীর হোসেনের দাবি, তিনি মোটরসাইকেলে করে গোপালপুর যাচ্ছিলেন, এ সময় কয়েকজন তাকে পথরোধ করে লাঠি দিয়ে মারধর করে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

    এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ তুলে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী টিম। তারা প্রচারণায় বাধা, কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা দাবি করেছেন।

    অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়েছে, তাদের প্রচারণা ও পোস্টারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, বিষয়গুলো নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • কচুয়ায় প্রাক্তন ছাত্রীর ফেসবুকে প্রকাশ্যে অভিযোগ: স্কুল প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

    কচুয়ায় প্রাক্তন ছাত্রীর ফেসবুকে প্রকাশ্যে অভিযোগ: স্কুল প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

    এবিএনএ: কচুয়ায় এক প্রাক্তন ছাত্রী তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা অভিযোগ করে বৃহস্পতিবার বিকালে নিজের ফেসবুক পেজে বিস্তৃত স্ট্যাটাস দিয়েছেন। অভিযোগটি প্রকাশ হওয়ার পর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটে-ভিত্তিক টক অব দ্য জেলায় পরিণত হয়েছে। নেটিজেনরা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    ভুক্তভোগী স্ট্যাটাসে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন যে, তিনি ২০২৪ সালে কচুয়া এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে নরসিংদীতে অবস্থানরত ছিলেন। পরে প্রধান শিক্ষক শেখ আল মাহমুদ তাকে ঢাকায় সার্টিফিকেট দিতে বলেছিলেন। ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি ঢাকায় এসে ওই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গুলিস্তানের একটি হোটেলে সাক্ষাৎ নির্ধারিত হয়।

    ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, গুলিস্তানে হোটেলের একটি কক্ষে স্যার তাকে সার্টিফিকেট ও প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে দেন। পরে কক্ষের তফসিল ও পরিস্থিতি এমন হয় যে তিনি অস্বস্তি বোধ করলে উঠতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তখনই শিক্ষক তাঁর কাছে আক্রমণ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ভুক্তভোগী লিখেছেন—অনেক সংগ্রামের পর তিনি রুমের তালা খুলে বাইরে বের হয়ে আশেপাশের লোকজনকে জানালে পুলিশ ও হোটেল ব্যবস্থাপনা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করেন। রিসেপশনে উপস্থিতদের সঙ্গে কথা বলার পরে অভিযুক্তকে পৌঁছে দেয়া হয় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা ওই শিক্ষককে মারধরও করেন বলে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী।

    ঘটনার পর ভুক্তভোগী মানসিক ও শারীরিক বিপর্যয় বর্ণনা করেছেন এবং পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে বিভ্রান্ত ও দুশ্চিন্তায় আছেন। তিনি সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ করেছেন অসৎ শিক্ষককে যেন আইনের আওতায় আনা হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তিনি জাতীয়ভাবে শিক্ষক সমাজের সুনাম রক্ষার দাবি করলেও, কিছু অপকর্মীর কারণে পুরো শিক্ষাজগত আজ দোষারোপের মুখে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন।

    স্থানীয়রা ও নেটিজেনরা দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। তারা প্রশাসন ও পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে অপরাধীরা দ্রুত শাস্তির মুখে পড়ে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

    কচুয়া পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক শেখ আল মাহমুদ মুঠো ফোনে বলেন, হোটেলে বসে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবী করেছে, আমি দিতে অস্বীকার করায় ও আমাকে ব্লাক মেইল করেছে।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানিক অধিকারী মুঠো ফোনে বলেন,রবিবার অফিস খুললে বিস্তারিত জেনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।