ইরানের হামলায় ধ্বংস ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন রাডার ব্যবস্থা, মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডারটি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বলে জানা গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘাতের শুরুর দিকেই ওই স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে এক মার্কিন কর্মকর্তা এই ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রাডার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অঞ্চলে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামসহ বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় এসব ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য বলছে, থাড ব্যবস্থার প্রতিটি ব্যাটারির মোট মূল্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কেবল রাডার ব্যবস্থার জন্যই ব্যয় হয় প্রায় ৩০ কোটি ডলার।

আমিরাত, কুয়েত ও ইসরায়েলে ড্রোন হামলার দাবি

এদিকে আঞ্চলিক যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের নৌবাহিনী।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলের কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবারের অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ঘাঁটি, কুয়েতের একটি মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

পরে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করে, আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতেও তারা হামলা চালিয়েছে। এতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশযুদ্ধ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং ফায়ার কন্ট্রোল রাডারের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এরপর থেকেই ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ও ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *