Tag: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ

  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: মার্কিন ঘাঁটির আশপাশ এড়িয়ে চলার আহ্বান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: মার্কিন ঘাঁটির আশপাশ এড়িয়ে চলার আহ্বান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। শুক্রবার (২৭ মার্চ) প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় তারা জানায়, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে, সেই সব স্থান ভবিষ্যৎ হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    বিপ্লবী গার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে জনগণকে ওইসব এলাকা দ্রুত ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় এক মাস ধরে চলমান এই সংঘর্ষ ক্রমেই জটিল ও বিস্তৃত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী কৌশলগতভাবে সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে তাদের উচিত সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেওয়া। অন্যথায় যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলও এই সংঘাতের দিকে গভীর নজর রাখছে, কারণ এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত প্রায় ৫ হাজার, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত প্রায় ৫ হাজার, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় Israel-এ আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮২৯ জনে।

    ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১১১ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে Iran এবং United States-এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে টানা ২১ দিন আলোচনা চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

    এর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালিয়ে ইরানে হামলা শুরু করে।

    এই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei, নিরাপত্তা কর্মকর্তা Ali Larijani এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার Mohammad Pakpour। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সংঘাতের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা জোরদার করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

    পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

  • ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—৯২% প্রতিহত, তবুও বাড়ছে আতঙ্ক

    ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—৯২% প্রতিহত, তবুও বাড়ছে আতঙ্ক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে Iran। দেশটির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত Israel ভূখণ্ডে ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

    রোববার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এসব হামলা চালানো হয়। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, এত বড় আকারের হামলার পরও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    এদিকে শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১৮০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

    অন্যদিকে, চলমান সংঘাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড শুধু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং ইউরোপসহ পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

    দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তার এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় হওয়া জরুরি।

    তিনি আরও জানান, কিছু দেশ ইতোমধ্যে সমর্থন জানাতে শুরু করেছে, তবে এই সংঘাতে কার্যকর ফল পেতে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

  • মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: আমিরাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষায় ধ্বংস একাধিক ড্রোন

    মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: আমিরাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষায় ধ্বংস একাধিক ড্রোন

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয়টি ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে আমিরাত।

    তবে এই হামলায় কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মোট ২৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৬০৬টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

    চলমান এই সংঘাতে ইরানি হামলার ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৪২ জন।

    এদিকে একই সময়ে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনাতেও হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিশেষ পুলিশ ইউনিট ‘লাহাভ ৪৩৩’ এবং প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ‘জিলাত’ লক্ষ্য করে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

    তবে হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান কিংবা এতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

  • ইরানের হামলায় ধ্বংস ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন রাডার ব্যবস্থা, মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

    ইরানের হামলায় ধ্বংস ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন রাডার ব্যবস্থা, মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডারটি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বলে জানা গেছে।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘাতের শুরুর দিকেই ওই স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে এক মার্কিন কর্মকর্তা এই ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই রাডার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অঞ্চলে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামসহ বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় এসব ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য বলছে, থাড ব্যবস্থার প্রতিটি ব্যাটারির মোট মূল্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কেবল রাডার ব্যবস্থার জন্যই ব্যয় হয় প্রায় ৩০ কোটি ডলার।

    আমিরাত, কুয়েত ও ইসরায়েলে ড্রোন হামলার দাবি

    এদিকে আঞ্চলিক যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের নৌবাহিনী।

    ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলের কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবারের অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ঘাঁটি, কুয়েতের একটি মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    পরে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করে, আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতেও তারা হামলা চালিয়েছে। এতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশযুদ্ধ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং ফায়ার কন্ট্রোল রাডারের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এরপর থেকেই ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ও ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানছে।

  • দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: ‘নতুন শক্তিশালী অস্ত্র এখনো ব্যবহারই করা হয়নি’

    দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: ‘নতুন শক্তিশালী অস্ত্র এখনো ব্যবহারই করা হয়নি’

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, সম্ভাব্য দীর্ঘ সংঘাত মোকাবিলায় তাদের কাছে উন্নত ও নতুন ধরনের অস্ত্র মজুত রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগ এখনো বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়নি।

    বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলেও তা মোকাবিলার জন্য ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে এসব নতুন অস্ত্র ব্যবহার করে শত্রুপক্ষকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

    নতুন অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত

    আইআরজিসির এই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছে। সেগুলো এখনো পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সময়ে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হলে প্রতিপক্ষের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

    ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ঘোষণা

    এ বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন প্রথমবারের মতো ইরান থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ‘খাইবার’ নামের ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের নতুন সক্ষমতার একটি বড় প্রদর্শন।

    পারমাণবিক ইস্যুতে ব্যর্থ সংলাপ

    এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানযুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে টানা ২১ দিন আলোচনা চলেছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সেই সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সমান্তরাল অভিযান চালায়।

    ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত

    গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান বিভিন্ন সময় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানা গেছে।

    আগের সংঘাতের চেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার

    আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে ১২ দিনের সংঘাত হয়েছিল, তার তুলনায় এবার ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি শক্তিশালী। নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্রভাণ্ডার এখন আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ।

    বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

  • যুদ্ধের প্রভাবে আকাশপথ অচল: চার দিনে বাংলাদেশ থেকে বাতিল ১৩১ ফ্লাইট

    যুদ্ধের প্রভাবে আকাশপথ অচল: চার দিনে বাংলাদেশ থেকে বাতিল ১৩১ ফ্লাইট

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে একাধিক দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে টানা চার দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১৩১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশপথ বন্ধ হওয়ায় প্রতিদিনই ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বেড়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চের সূচিতে থাকা আরও ২২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    ৩ মার্চের বাতিল তালিকায় রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এয়ারলাইন্স, গালফ এয়ার, ফ্লাই দুবাই, কুয়েত এয়ারওয়েজজাজির এয়ারলাইন্স–এর একাধিক ফ্লাইট।

    কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ ও দুবাই রুটে ফ্লাইট চলাচল এখনো সীমিত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে টিকিট ও সময়সূচি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত, আহত পাঁচজন—পেন্টাগন জানাল লুকানো তথ্য

    ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত, আহত পাঁচজন—পেন্টাগন জানাল লুকানো তথ্য

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে—ইরান-এর সঙ্গে সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন আজ রোববার এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এ সময় আরও পাঁচ সেনা আহত হয়েছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ইরান-ইসরায়েলের যৌথ হামলার সময়ে সেনাদের মৃত্যু ঘটেছে। তবে তাদের মৃত্যুর সঠিক স্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেন্টাগন প্রকাশ করেনি।

    পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধে আহত সেনারা শিগগিরই আবার দায়িত্বে ফিরতে পারবেন। নিরাপত্তা এবং সেনাদের পরিচয় রক্ষার কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের এই ধারা সামরিক এবং কূটনৈতিক দুই দিকেই উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। সংঘর্ষের পরবর্তী ঘটনার দিকে আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ নজর রাখছে।

  • ইসরায়েলে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা জবাবে বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলা

    ইসরায়েলে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা জবাবে বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজতে শুরু করার কিছুক্ষণ পর ইয়েমেন থেকে দুটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে এবং বিষয়টি এখনও বিশ্লেষণাধীন।

    ঘটনার জবাবে ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে বিমান হামলা চালায় ইয়েমেনের হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে। পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদেইদাহ, রাস ইসা ও সাইফ বন্দরসহ অন্তত তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। একইসঙ্গে, রাস কান্টিব নামের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি জাহাজও ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হুতিদের হামলার প্রতিশোধ নিতে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    রয়টার্স জানিয়েছে, এটি গত এক মাসের মধ্যে ইয়েমেনের ওপর ইসরায়েলের প্রথম হামলা। হোদেইদাহ শহরের বাসিন্দাদের আগে থেকেই বিমান হামলার সতর্কতা দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    হুতি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, হোদেইদাহ বন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এ পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যায়নি।

    এছাড়া হুতিরা জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের মোকাবিলা করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


    ইসরায়েল-হুতি সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের টানা পাল্টাপাল্টি হামলা অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট বাড়াতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।

  • তেল আবিবে ইরানের পাল্টা হামলা, ব্যর্থ আয়রন ডোমে ধসে পড়ে সামরিক সদর দপ্তর

    তেল আবিবে ইরানের পাল্টা হামলা, ব্যর্থ আয়রন ডোমে ধসে পড়ে সামরিক সদর দপ্তর

    এবিএনএ:

    ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার নতুন অধ্যায়ে শনিবার ভোরে তেল আবিবে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলের অতি প্রশংসিত আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তেল আবিবের কিরিয়া এলাকায় অবস্থিত সামরিক সদর দপ্তরে আঘাত হানে।

    এই ঘটনায় ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে, যা তারা “প্রতিশোধমূলক অভিযান” হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আকাশে উড়ে যাওয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে আয়রন ডোম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেটি ব্যর্থ হয়। মুহূর্তেই বিশাল বিস্ফোরণে আলোকচ্ছটা এবং আগুনে ছেয়ে যায় সামরিক সদর দপ্তরের একটি অংশ। ঘটনাস্থলের কাছেই ছিল মার্গানিট টাওয়ার, যেখানে আইডিএফের (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স) বেশ কয়েকটি অফিস রয়েছে।

    শুক্রবার সকালে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে হামলা চালায়। এতে ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানী নিহত হন। এর জবাবেই শনিবার ইরান এই পাল্টা হামলা চালায় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হামলার সত্যতা স্বীকার করলেও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে দেশটির গোয়েন্দা সূত্র বলছে, হতাহতের সংখ্যা বেশ উল্লেখযোগ্য হতে পারে।

    এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।