Category: আন্তর্জাতিক

  • পারস্য উপসাগরে বিস্ফোরক হুমকি ইরানের—হামলা হলে নৌপথে মাইন, বন্ধ হতে পারে বৈশ্বিক বাণিজ্য!

    পারস্য উপসাগরে বিস্ফোরক হুমকি ইরানের—হামলা হলে নৌপথে মাইন, বন্ধ হতে পারে বৈশ্বিক বাণিজ্য!

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও চড়াল Iran। দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি United States বা Israel তাদের উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালায়, তবে পুরো Persian Gulf জুড়ে নৌ-মাইন বসানো হবে, যা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোকে অচল করে দিতে পারে।

    ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার জবাবে উপসাগরের প্রবেশপথ ও যোগাযোগ লাইনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের মাইন পেতে দেওয়া হবে। এর মধ্যে উপকূল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ভাসমান মাইনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে পুরো উপসাগরীয় এলাকা Strait of Hormuz-এর মতো সংকটের মুখে পড়তে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, এর দায়ভার বহন করতে হবে হামলাকারী পক্ষকেই। একইসঙ্গে সংঘাতে জড়িত নয় এমন দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী নিরাপদে ব্যবহার করতে হলে ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যৌথ সামরিক হামলার পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পারস্য উপসাগরে নৌ-মাইন স্থাপনের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—৯২% প্রতিহত, তবুও বাড়ছে আতঙ্ক

    ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—৯২% প্রতিহত, তবুও বাড়ছে আতঙ্ক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে Iran। দেশটির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত Israel ভূখণ্ডে ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

    রোববার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এসব হামলা চালানো হয়। তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, এত বড় আকারের হামলার পরও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    এদিকে শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১৮০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

    অন্যদিকে, চলমান সংঘাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড শুধু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং ইউরোপসহ পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

    দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তার এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় হওয়া জরুরি।

    তিনি আরও জানান, কিছু দেশ ইতোমধ্যে সমর্থন জানাতে শুরু করেছে, তবে এই সংঘাতে কার্যকর ফল পেতে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

  • মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইরানের পাশে পুতিন—বন্ধুত্বের বার্তায় নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইরানের পাশে পুতিন—বন্ধুত্বের বার্তায় নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতি সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পারস্য নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

    রাশিয়ার পক্ষ থেকে পাঠানো ওই বার্তায় পুতিন উল্লেখ করেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও মস্কো তেহরানের নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। এই বার্তা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

    তবে কূটনৈতিক আশ্বাসের বাইরে বাস্তবে রাশিয়া কতটা সহায়তা দিচ্ছে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কিছু ইরানি বিশ্লেষকের মতে, দেশটি দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সংকটের মুখে থাকলেও মস্কোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা মিলছে না।

    এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের কারণে। সেখানে দাবি করা হয়, রাশিয়া নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিল—যদি ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ করে, তবে মস্কোও ইরানকে তথ্য সরবরাহ বন্ধ করবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ক্রেমলিন এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা লাভবান হলেও পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    একই সঙ্গে রাশিয়া ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। মস্কোর আশঙ্কা, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

  • ৪ হাজার কিমি দূরের মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের মিসাইল নিক্ষেপ—রহস্যে ঘেরা সক্ষমতা

    ৪ হাজার কিমি দূরের মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের মিসাইল নিক্ষেপ—রহস্যে ঘেরা সক্ষমতা

    এবিএনএ: ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ ব্যবহৃত এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া অন্তত দুটি মিসাইল শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন সূত্র।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা মিসাইলগুলোর একটি মাঝপথেই বিকল হয়ে ভূপাতিত হয়। অপর মিসাইলটি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। তবে সেটি লক্ষ্যভেদ করতে পেরেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    তবে নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে—দুটি মিসাইলের একটিও ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়নি।

    দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অথচ ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার।

    এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে ইরান এত দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানার চেষ্টা করল?

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, দেশটির মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো এখন উন্নত পর্যায়ে রয়েছে, যা পূর্বের চেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হতে পারে।

    ভারত মহাসাগরের দ্বীপে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি। এখানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বোমারু বিমান, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং গাইডেড মিসাইল সজ্জিত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে থাকে।

    এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ‘পৃথিবীর কোথাও আর নিরাপদ নও’—ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি, বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

    ‘পৃথিবীর কোথাও আর নিরাপদ নও’—ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি, বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারিতে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে বিশ্বের কোনো স্থানই ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ থাকবে না।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, ইরানের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে শত্রুপক্ষের ব্যক্তিরা বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। এমনকি পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র কিংবা পর্যটন এলাকাও তাদের জন্য নিরাপদ নয় বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    সম্প্রতি ইসরাইলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে এক বড় ধরনের হামলায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রাণ হারান।

    এরপর একাধিক হামলায় দেশটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও নিহত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলি লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি এবং গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব।

    সবশেষ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি নিহত হয়েছেন। এসব হামলার জবাব হিসেবেই তেহরান এবার কঠোর বার্তা দিয়েছে।

    পরমাণু ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যেই গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান ইতোমধ্যে ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

    চলমান এই সংঘাত এখন রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৪৪৪ জন ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২০৪ জন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে লেবাননেও ইসরাইলি হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজারের বেশি বলে জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ফিরিয়ে দিল শ্রীলঙ্কা: নিরপেক্ষ অবস্থানে অনড় কলম্বোর কড়া বার্তা

    যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ফিরিয়ে দিল শ্রীলঙ্কা: নিরপেক্ষ অবস্থানে অনড় কলম্বোর কড়া বার্তা

    এবিএনএ: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনোভাবেই তাদের ভূখণ্ডকে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জানান, মার্চের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের এ অনুরোধ নাকচ করা হয়। তিনি বলেন, দেশের নিরপেক্ষ নীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ২৬ ফেব্রুয়ারি মাত্তালা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুমতি চেয়েছিল। ওই বিমানগুলোতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়। নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে সেগুলো স্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল, তবে শ্রীলঙ্কা এতে সম্মতি দেয়নি।

    একই সময়ে ইরানও তাদের যুদ্ধজাহাজ কলম্বো বন্দরে নোঙর করার অনুমতি চায়। প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে বলেন, যদি এক পক্ষকে অনুমতি দেওয়া হতো, তবে অন্য পক্ষকেও একই সুযোগ দিতে হতো। কিন্তু শ্রীলঙ্কা কোনো পক্ষের পক্ষেই অবস্থান নেয়নি।

    তিনি আরও জানান, ভারত মহাসাগর এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কা সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একটি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে বহু নাবিক হতাহত হন। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে।

    এদিকে, পরের দিন ইরানের আরেকটি জাহাজকে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও সেটি শুধুমাত্র মানবিক দিক বিবেচনায় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

    শ্রীলঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। দেশটি যেমন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় রপ্তানি বাজারের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি ইরানও শ্রীলঙ্কার চায়ের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। ফলে দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখতে নিরপেক্ষ অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কলম্বো।

  • রিয়াদে জরুরি বৈঠক: ইরান ইস্যুতে আরব বিশ্বের কঠোর বার্তা—কি সিদ্ধান্ত নিল ১২ দেশ?

    রিয়াদে জরুরি বৈঠক: ইরান ইস্যুতে আরব বিশ্বের কঠোর বার্তা—কি সিদ্ধান্ত নিল ১২ দেশ?

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা চতুর্থ সপ্তাহে গড়াতেই মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদ-এ জরুরি বৈঠকে বসেন আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

    ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    বৈঠকের আগে একাধিক উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।

    এই প্রেক্ষাপটে রিয়াদের বৈঠকে কাতার, বাহরাইন, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মোট ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলায় বেসামরিক এলাকা, তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর, পানি শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করছে।

    বৈঠক থেকে ইরানের প্রতি চারটি প্রধান আহ্বান জানানো হয়—
    প্রথমত, সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ করতে হবে।
    দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
    তৃতীয়ত, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।
    চতুর্থত, হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়।

    এছাড়া বৈঠকে লেবাননে ইসরাইলি হামলারও সমালোচনা করা হয়েছে এবং তা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে নির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘পারমাণবিক হুমকি’ তালিকায় পাকিস্তান—তুলসি গ্যাবার্ডের সতর্কবার্তায় চাঞ্চল্য

    যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘পারমাণবিক হুমকি’ তালিকায় পাকিস্তান—তুলসি গ্যাবার্ডের সতর্কবার্তায় চাঞ্চল্য

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ঝুঁকি তৈরি করছে এমন দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তানের নামও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুলসি গ্যাবার্ড। বুধবার (১৮ মার্চ) মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

    বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে গ্যাবার্ড জানান, পাকিস্তানের পাশাপাশি ইরান, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা পারমাণবিক ও প্রচলিত উভয় ধরনের অস্ত্র বহনে সক্ষম। এসব প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, এসব দেশের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে আন্তঃমহাদেশীয় সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা বোঝার চেষ্টা করছে, যাতে নিজেদের অস্ত্র উন্নয়নে তা কাজে লাগানো যায়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, আগামী দশকে এই হুমকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বর্তমানের প্রায় ৩ হাজার থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী নীতির ধারাবাহিকতা। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক সুজা নওয়াজের মতে, অতীতেও পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তবে পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মূলত ভারতের সঙ্গে সামরিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য, যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে নয়।

    দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সাধারণত পাকিস্তানকে নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেও এই ধরনের মূল্যায়ন তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রতিবেদনে পাকিস্তানকে এককভাবে নয়, অন্যান্য শক্তিধর দেশের সঙ্গে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গ্যাবার্ড আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলো এখনো যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য বড় হুমকি। প্রতিবেদনে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে কাশ্মির অঞ্চলে সাম্প্রতিক সহিংসতা দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

    এছাড়া পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি এবং তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    ইরান প্রসঙ্গে গ্যাবার্ড বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর কিছুটা চাপে থাকলেও তেহরান এখনো সক্রিয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।

    শুনানিতে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর মাইকেল বেনেট-এর মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বেনেট।

  • সৌদিতে চাঁদ দেখা যায়নি—ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে শুক্রবার

    সৌদিতে চাঁদ দেখা যায়নি—ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে শুক্রবার

    এবিএনএ: সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ)। এর ফলে দেশটিতে রমজান মাস পূর্ণ ৩০ দিনে সম্পন্ন হচ্ছে।

    বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে দেশের কোথাও নতুন চাঁদের দেখা না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই নতুন মাস শুরু হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই একই নিয়ম অনুসরণ করে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও ৩০ রোজা পূর্ণ করে ঈদ উদযাপন করা হবে।

    এদিকে, দেশটির শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় আগেই ঈদের ছুটি ঘোষণা করেছে। বেসরকারি ও অলাভজনক খাতের কর্মীদের জন্য বুধবার রাত থেকে ছুটি কার্যকর হচ্ছে, যা পরবর্তী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, আগাম ছুটি ঘোষণার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে পারছে এবং কর্মীরাও নির্বিঘ্নে ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারছেন।

    এবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি আরবের জনগণ ৩০টি রোজা পূর্ণ করার পর শুক্রবার ঈদুল ফিতরের আনন্দে শামিল হবেন।

  • মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা—সৌদি, কাতার ও আমিরাতের তেল স্থাপনা খালি করতে ইরানের হুমকি

    মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা—সৌদি, কাতার ও আমিরাতের তেল স্থাপনা খালি করতে ইরানের হুমকি

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরান সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দিয়েছে এবং সেসব এলাকা দ্রুত খালি করার আহ্বান জানিয়েছে।

    বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব স্থাপনায় আঘাত হানার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা, কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

    সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের সামরেফ পরিশোধনাগার ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্র এবং কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা এখন সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব স্থাপনা এখন ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই সেখানে হামলা চালানো হতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সতর্কবার্তা সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে ইরানের সাউথ পার্স ও আসালুয়েহ অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে, যার পেছনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এরই প্রেক্ষিতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান এই কঠোর সতর্কতা জারি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সর্বশেষ পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে এবং সম্ভাব্য বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে উঠছে।