Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে নিহত ২, আহত প্রায় দুই শতাধিক

    ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে নিহত ২, আহত প্রায় দুই শতাধিক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ হামলায় দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৯২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইয়ারোন মোশে ও ইলানা মোশে নামে এক দম্পতি, যাদের বয়স প্রায় ৭০ বছরের কাছাকাছি। তারা রাজধানীর নিকটবর্তী রামাত গান শহরে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ হারান।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা মাঝারি গুরুতর, বাকিরা তুলনামূলকভাবে কম আহত হয়েছেন।

    সম্প্রতি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে টানা আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর পরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। এসব অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বহু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

    এর জবাবে ইরান ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান—কঠোর বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান—কঠোর বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে।

    জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমানো ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু তেহরান সেই উদ্যোগে সাড়া দেয়নি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের নতুন নেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যতক্ষণ না তাদের বিরুদ্ধে চালানো হামলার দায় স্বীকার করে, পরাজয় মেনে নেয় এবং ক্ষতিপূরণ দেয়, ততক্ষণ কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

    তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রথম বৈঠকেই মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

    এদিকে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

    জবাবে ইরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

    এর আগে গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেয়। তবে সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয় বলে জানা গেছে।

    অন্যদিকে, ইসরাইল দাবি করেছে—তাদের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন। যদিও এসব দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।

    পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

  • দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা

    দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুক্ত এই হামলার ঘটনাকে ঘিরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ মার্চ) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে ড্রোন-সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর সেখানে আগুনের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

    একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ বন্দরের তেল শিল্প এলাকায়ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর সেখানে আগুন লাগে বলে জানা গেছে। ফুজাইরাহ অঞ্চলটি দেশটির অন্যতম বড় তেল সংরক্ষণাগার হিসেবে পরিচিত।

    এদিকে রাজধানী আবুধাবির উপকণ্ঠে আল বাহিয়া এলাকায় একটি গাড়িতে রকেট হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় মিডিয়া অফিস জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে তেহরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১,৯০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

    তবে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সোমবার তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১টি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে এটি তৃতীয়বারের মতো ড্রোন হামলার ঘটনা। উল্লেখ্য, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত।

    এই হামলার কারণে কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

    ফুজাইরাহ বন্দর ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত। ফলে এখানকার জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে হয় না, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: আমিরাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষায় ধ্বংস একাধিক ড্রোন

    মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: আমিরাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আকাশ প্রতিরক্ষায় ধ্বংস একাধিক ড্রোন

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয়টি ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে আমিরাত।

    তবে এই হামলায় কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী মোট ২৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৬০৬টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

    চলমান এই সংঘাতে ইরানি হামলার ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৪২ জন।

    এদিকে একই সময়ে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনাতেও হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিশেষ পুলিশ ইউনিট ‘লাহাভ ৪৩৩’ এবং প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ‘জিলাত’ লক্ষ্য করে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

    তবে হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান কিংবা এতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

  • ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তরে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, সংঘাতে আহত শতাধিক

    ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তরে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের, সংঘাতে আহত শতাধিক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার সকালে ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তর ও একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

    ইরানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের বিশেষ পুলিশ ইউনিটের সদর দপ্তর ‘লাহাভ ৪৩৩’ এবং প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ‘জিলাত’।

    তবে হামলাটি কোথায় সংঘটিত হয়েছে কিংবা এতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    সংঘাতে আহত শতাধিক

    অন্যদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ একদিনে অন্তত ১০৮ জন আহত ব্যক্তিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    তবে আহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কেউ সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আঘাতে আহত হয়েছেন, আবার কেউ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় সৃষ্ট হুড়োহুড়িতেও আঘাত পেয়েছেন।

    হাসপাতালে ভর্তি তিন হাজারের বেশি

    এদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সংঘাতের ঘটনায় মোট ৩ হাজার ১৯৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    তাদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে অন্তত ৮১ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কাঁপল মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বড় ক্ষতির চিত্র প্রকাশ

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কাঁপল মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বড় ক্ষতির চিত্র প্রকাশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ইরানি হামলা।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিহত হওয়ার দাবি ওঠে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে।

    পরবর্তীতে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা যায়, জর্ডান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ রাডার কেন্দ্রগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কুয়েতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি

    কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে হামলার ফলে একাধিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং রানওয়ের পাশের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এছাড়া ক্যাম্প আরিফজানে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত অন্তত ছয়টি স্যাটেলাইট রাডোম ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্প বুহরিং এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

    শুয়াইবা বন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর ছয়জন রিজার্ভ সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    বাহরাইনে নৌবহরের সদরদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত

    বাহরাইনের রাজধানী মানামার জুফায়ার এলাকায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে রাডার ডোম, গুদামঘর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত

    আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় সামরিক কম্পাউন্ড, রাডার ও স্যাটেলাইট ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে জেবেল আলী বন্দরের মার্কিন নৌ স্থাপনাতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    কাতারের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

    কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে পরিচিত, সেখানেও একাধিকবার হামলা হয়েছে। একটি বড় বিস্ফোরণে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকারী রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    জর্ডানে গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস

    জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডারটি ধ্বংস হওয়াকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

    জর্ডান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের অন্তত ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।

    সৌদি আরবেও হামলার প্রভাব

    সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হলেও একটি রাডার সাইটে আগুন ধরে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ইরাক ও অন্যান্য অঞ্চলে হামলা

    ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমান ঘাঁটি এবং উত্তর ইরাকের ইরবিল বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাগদাদের ভিক্টোরিয়া বেসেও ড্রোন আক্রমণের ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

    এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। শারজাহ ও দুবাইয়ের কয়েকটি বেসামরিক এলাকায়ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষতি হয়েছে।

    আরও হামলার লক্ষ্যবস্তু

    ওমানের দুকম বন্দরে থাকা মার্কিন নৌ স্থাপনা লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাইপ্রাসের আক্রোটিরি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

    একটি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি সামরিক, কূটনৈতিক এবং আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোর প্রায় অর্ধেকের সমান।

    হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৪০ জনের মতো আহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের লজিস্টিক হাব, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে অকার্যকর করে দেওয়া।

  • তেহরানে কুদস দিবসে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: নারী নিহত, লাখো মানুষ রাস্তায় প্রতিবাদে

    তেহরানে কুদস দিবসে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: নারী নিহত, লাখো মানুষ রাস্তায় প্রতিবাদে

    এবিএনএ: ইরানের রাজধানী Tehran-এ বার্ষিক আল-কুদস দিবসের সমাবেশ চলাকালীন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন। এসময় হাজারো মানুষ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমেছিলেন।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর Ferdowsi Square-এ এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, তবে ঘটনার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নয়।

    প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক নারী প্রাণ হারান। বিস্ফোরণটির ঠিক অবস্থান ও আরও কোনো হতাহতের খবর এখনও নিশ্চিত হয়নি।

    সমাবেশে অংশ নেওয়া হাজারো বিক্ষোভকারী ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ এবং ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দেন। তারা ইরানের পতাকা এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ছবি বহন করে, জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি Ali Larijani সহ অন্যান্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। লারিজানি বলেন, “ইসরায়েল ভয়ের কারণে কুদস দিবসে বোমা ফেলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানেন না যে ইরানিরা শক্তিশালী ও সংকল্পবদ্ধ।”

    আল জাজিরা অ্যারাবিকের প্রতিবেদক Tawhid Asadi জানিয়েছেন, সমাবেশ শুধু ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য নয়, এটি দেশের চলমান হামলার বিরুদ্ধে ইরানিদের ক্ষোভ দেখানোর একটি মুহূর্ত।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক কুদস দিবসে জনগণের পাশে থাকার জন্য তিনি গর্বিত।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের Islamic Revolution এর পর থেকে ইরান প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার আল-কুদস দিবস পালন করে আসছে। বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা Ayatollah Ruhollah Khomeini এই দিনটি ঘোষণা করেছিলেন, যা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন এবং ইসরায়েলি দখলের বিরোধিতার প্রতীক।

    ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন।

  • ইরাকের আকাশে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ৪ সেনা, আহত আরও ২

    ইরাকের আকাশে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ৪ সেনা, আহত আরও ২

    এবিএনএ: ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আকাশসীমায় একটি মার্কিন সামরিক রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত চারজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ড United States Central Command (সেন্টকোম) শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিল Boeing KC-135 Stratotanker মডেলের একটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ। দুর্ঘটনার সময় এতে চালক ও সহচালকসহ মোট ছয়জন সেনা সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

    সেন্টকোমের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকের আকাশসীমায় উড্ডয়নরত অবস্থায় দুটি সামরিক বিমানের একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়, আরেকটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। তবে কী কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    প্রাথমিকভাবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি শত্রুপক্ষের হামলার ফল নয়। তবে ঘটনার কিছু সময় পর টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে দায় স্বীকার করে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট Islamic Resistance in Iraq

    ওই বিবৃতিতে তারা দাবি করে, তাদের যোদ্ধারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটিকে ভূপাতিত করেছে। যদিও ওয়াশিংটন এই দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে।

    সামরিক অভিযানে আকাশে থাকা যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহের জন্য রিফুয়েলিং বিমান ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য এই ধরনের উড়োজাহাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    বিধ্বস্ত হওয়া কেসি-১৩৫ বিমানটি তৈরি করেছে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing। গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশক থেকে এই মডেলের রিফুয়েলিং বিমান ব্যবহার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

  • যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চলবে:মোজতবা খামেনি

    যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চলবে:মোজতবা খামেনি

    এবিএনএ: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের ১২তম দিনে এক চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    যুদ্ধের শুরুতেই ইসরায়েলি হামলায় পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি জাতীয় ঐক্যেরও ডাক দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শত্রুপক্ষকে চাপে রাখতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে।

    মোজতবা খামেনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় সেগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘ইরান তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, কিন্তু অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।’

    এ সময় তিনি আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইয়েমেনের যোদ্ধারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং ইরাকের গোষ্ঠীগুলোও ‘ইসলামি বিপ্লবকে’ সহায়তা করতে প্রস্তুত।

    মোজতবা খামেনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় সেগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে, সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ ও লড়াইয়ের অঙ্গীকার জানান।

    দেশ যখন চতুর্মুখী হামলার শিকার, তখন ইরানকে বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান খামেনি। তিনি বলেন, ‘আমি সেই সাহসী যোদ্ধাদের কৃতজ্ঞতা জানাই যারা এই কঠিন সময়ে অতুলনীয় কাজ করছেন। ইরান তার লড়াই চালিয়ে যাবে।’

    ৩৭ বছর ইরান শাসন করার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন আলি খামেনি। এরপর গত রোববার ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ সর্বসম্মতিক্রমে তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে নিয়োগ দেয়।

    তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানান, নতুন নেতার এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি হরমুজ প্রণালীকে দরকষাকষির প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন এবং যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবেন।

  • দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন আঘাত, বাংলাদেশিসহ আহত ৪—তবু স্বাভাবিক রয়েছে ফ্লাইট চলাচল

    দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন আঘাত, বাংলাদেশিসহ আহত ৪—তবু স্বাভাবিক রয়েছে ফ্লাইট চলাচল

    এবিএনএ: সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি Dubai International Airport–এর কাছাকাছি এলাকায় দুটি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক বাংলাদেশিসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    বুধবার (১১ মার্চ) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, ড্রোনের আঘাতে তিনজন ব্যক্তি হালকা আহত হয়েছেন এবং একজন মাঝারি মাত্রার আঘাত পেয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    খবরে বলা হয়েছে, আহত চারজনের মধ্যে দুইজন ঘানার নাগরিক, একজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।

    তবে এই ঘটনার পরও Dubai–এর প্রধান বিমানবন্দরটির কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমান ওঠানামা স্বাভাবিকভাবেই চলছে এবং যাত্রীসেবাও বন্ধ হয়নি।


    এর আগেও ঘটেছিল ড্রোন হামলা

    এর আগে গত ৭ মার্চ দুবাইয়ে আরেকটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ড্রোনটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়।

    তবে ওই ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়ে এক প্রবাসী পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন বলে জানা যায়।


    আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব

    মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি Iran–এ সামরিক অভিযান শুরু করে IsraelUnited States। পরবর্তীতে এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করে।

    এই আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।