Category: আন্তর্জাতিক

  • যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া ঘিরে তীব্র হুঁশিয়ারি, ‘ভয়াবহ পরিণতি’ সতর্কবার্তা উত্তর কোরিয়ার

    যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া ঘিরে তীব্র হুঁশিয়ারি, ‘ভয়াবহ পরিণতি’ সতর্কবার্তা উত্তর কোরিয়ার

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে কোরীয় উপদ্বীপে। এই মহড়া বন্ধ না করলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা Kim Yo-jong, যিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Kim Jong-un-এর বোন।

    উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Korean Central News Agency (কেসিএনএ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই কঠোর সতর্কবার্তা দেন কিম ইয়ো জং।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৃহৎ পরিসরের এই সামরিক মহড়া কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, এমন পরিস্থিতির জবাবে উত্তর কোরিয়া তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পথে এগোবে।

    কিম ইয়ো জং বলেন, যেসব পদক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, সেগুলো ভবিষ্যতে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, শত্রুপক্ষ যেন কখনও তাদের ধৈর্য ও সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করার চেষ্টা না করে।

    সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের বার্ষিক বসন্তকালীন সামরিক মহড়া Freedom Shield শুরু করে। এই মহড়া শুরুর পরই উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া আসে।

    জানা গেছে, ১১ দিনব্যাপী এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার সেনা সদস্য অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় এবারের মাঠপর্যায়ের মহড়ার সংখ্যা কিছুটা কমানো হয়েছে।

    গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট Yoon Suk Yeol-এর প্রশাসনের সময় ৫১টি ফিল্ড ট্রেনিং মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা কমিয়ে ২২টিতে আনা হয়েছে।

    কিম ইয়ো জং বলেন, উত্তর কোরিয়া তাদের ‘অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা’ আরও শক্তিশালী করবে, যাতে সম্ভাব্য যেকোনো কৌশলগত হুমকির মোকাবিলা করা যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সবসময়ই অটুট থাকবে।

    উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই যৌথ মহড়াকে ‘আক্রমণের প্রস্তুতি’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। আর সেই কারণেই প্রায় প্রতিবারই এই মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয় কোরীয় উপদ্বীপে।

  • ইরানের ড্রোন হামলায় আবু ধাবির শিল্পাঞ্চলে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

    ইরানের ড্রোন হামলায় আবু ধাবির শিল্পাঞ্চলে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী Abu Dhabi-তে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পর শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ফরাসি সংবাদ সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানে আবু ধাবির Ruwais Industrial City এলাকায়। এতে শিল্পাঞ্চলের একটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে।

    আবু ধাবির সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, হামলার পরপরই দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রোনের আঘাতে শিল্পাঞ্চলের একটি স্থাপনায় আগুন লাগে। আগুন নেভাতে দমকলকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তবে এই হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

    অন্যদিকে UAE Ministry of Defence জানিয়েছে, মঙ্গলবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশিরভাগ হামলাই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর থেকে ইরানি বাহিনী নিয়মিতভাবে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট স্বার্থকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলার প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে।

    এ ধরনের হামলার ফলে Qatar, Kuwait, United Arab Emirates এবং Bahrain-এ হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীও রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

  • যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি বাজার উত্তাল: ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে তেলের দাম, সামনে কি বৈশ্বিক সংকট?

    যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি বাজার উত্তাল: ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে তেলের দাম, সামনে কি বৈশ্বিক সংকট?

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই সর্বোচ্চ মূল্য বলে বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।

    জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার সম্ভাবনা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম এক লাফে ১২.৭৭ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১২.৬৬ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩.৫৬ ডলারে।

    দিনের লেনদেন চলাকালে এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা একদিনে অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। অতীতের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তেলের দাম সর্বোচ্চ ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলারে উঠেছিল।

    সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা

    বিশ্ববাজারে তেলের বর্তমান সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাৎক্ষণিক সরবরাহ ও ছয় মাস পরের চুক্তিমূল্যের ব্যবধান রেকর্ড ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতির ভাষায় এই পরিস্থিতিকে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ বলা হয়, যা সাধারণত বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

    বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারকে প্রভাবিত করছে। ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিবহন সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী কয়েক মাস উচ্চ জ্বালানি দামের প্রভাব থাকতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৩.২২ ডলারে উঠেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

    জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিকল্প সরবরাহের সুযোগ খুবই সীমিত। কৌশলগত মজুদ থেকে কিছু তেল ছাড়া সম্ভব হলেও হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় খুবই অল্প হবে।

    উৎপাদন কমাচ্ছে তেল উৎপাদক দেশ

    মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় তেল উৎপাদক দেশও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরবের বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকো দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমিয়েছে।

    এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওপেকভুক্ত কয়েকটি দেশেও মজুদ কমে আসায় উৎপাদন সীমিত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

    কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও উৎপাদন কমিয়ে ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পর সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ করেছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। বাহরাইনের একটি বড় তেল শোধনাগারেও হামলার পর জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের একটি বৃহৎ তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

  • ইরানে সরকার বদলের পরিকল্পনায় কড়া বার্তা চীনের: ‘জনসমর্থন মিলবে না, সংঘাত আরও বাড়বে’

    ইরানে সরকার বদলের পরিকল্পনায় কড়া বার্তা চীনের: ‘জনসমর্থন মিলবে না, সংঘাত আরও বাড়বে’

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটিতে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, বাইরের শক্তির মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা বদলানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে না এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও গভীর হতে পারে।

    রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক বার্ষিক সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, কোনো ধরনের ‘কালার রেভল্যুশন’ বা পরিকল্পিত শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা জনগণের সমর্থন অর্জন করতে পারবে না। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।

    ওয়াং ই বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তার মতে, এই যুদ্ধের কোনো ইতিবাচক ফল নেই এবং শক্তি প্রয়োগ করে স্থায়ী সমাধানও সম্ভব নয়। বরং সামরিক সংঘাত মানুষের মধ্যে ঘৃণা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের জন্ম দেয়।

    তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার এই অঞ্চলের মানুষেরই থাকা উচিত। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শক্তিশালী হওয়া মানেই যে সব সময় সঠিক হওয়া—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বিশ্বকে আবার ‘জঙ্গলের আইনের’ দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে শক্তিই সবকিছু নির্ধারণ করে। বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধের সমাধান খোঁজা প্রয়োজন।

    এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েও ইরানের বর্তমান সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে না।

    এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এতটাই দৃঢ় যে বাহ্যিক হামলার মাধ্যমে তা দ্রুত ভেঙে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়ন সেই দাবির বাস্তবতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

    সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই হত্যার ঘটনায়ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে চীনের কৌশলগত সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন ওয়াং ই।

    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি সব পক্ষকে দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সংশয়: কমছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, শাসন পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সংশয়: কমছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, শাসন পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

    এবিএনএ: ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর মতো প্রস্তুতি ওয়াশিংটনের কাছে পর্যাপ্ত নাও থাকতে পারে।

    মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছে—সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলেও ইরানের বর্তমান শাসন কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা সহজ হবে না। তবুও মার্কিন প্রশাসন সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা বিমান হামলার কারণে মার্কিন সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র দ্রুত কমে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কংগ্রেস সদস্যদের এক বন্ধদ্বার বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা হামলা শুরু করে। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়, যেখানে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং কিছু স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রশাসন দাবি করে আসছে যে, ইরান যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে এমন কোনো আলোচনার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

    বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

    তবে তেহরান বরাবরই বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। এই ইস্যুতে গত এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গত জুনে, যখন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।

    গত এক সপ্তাহ ধরে চলা হামলায় ইরানের সরকারি দপ্তর, সামরিক ঘাঁটি এবং অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। বোমা হামলার প্রথম দিন একটি স্কুলে আঘাত হানলে ১৬৮ জন কিশোরীর মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলাটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই চালানো হয়েছিল।

    এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত ডানপন্থী নেতাদের সম্মেলন ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকান সামিট’-এ বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

    তার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের অভিযানে ইরানের বহু নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং তাদের নৌ ও বিমান সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ও টেলিযোগাযোগেও বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোমা হামলা চললেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে না।

    ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো শেষ পর্যন্ত তাদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্ধারণের দিকেই অগ্রসর হতে পারে।

  • তেহরানে ইসরায়েলি হামলা: তেলের ডিপোতে ভয়াবহ আগুন, রাস্তাজুড়ে ‘আগুনের নদী’ আতঙ্ক

    তেহরানে ইসরায়েলি হামলা: তেলের ডিপোতে ভয়াবহ আগুন, রাস্তাজুড়ে ‘আগুনের নদী’ আতঙ্ক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো ইরানের রাজধানী তেহরানের তেল ডিপো ও পরিশোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার পর রাজধানীজুড়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল ডিপো থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে মিশে যায়। এতে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশের ড্রেন ও নালায় আগুন ধরে যায়। কোথাও কোথাও সেই আগুন এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে পুরো রাস্তার ধারে আগুনের প্রবাহ বইতে দেখা গেছে—যা অনেকেই ‘আগুনের নদী’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘লিভিং ইন তেহরান’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সড়কের পাশে ড্রেনজুড়ে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। আগুনের লেলিহান শিখা রাস্তার একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

    এর আগে ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ অন্তত তিনটি স্থানে জ্বালানি ডিপোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

    এদিকে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার মাধ্যমে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে—এমন সব লক্ষ্যবস্তুই ইসরায়েলের নজরে রয়েছে।

    যুদ্ধের সময়সীমা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে কোহেন বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য কত সময় প্রয়োজন তা তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সামরিক অভিযান চালানো হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

    অন্যদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৯২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৭ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর, ৪২ জন মাঝারি অবস্থায় রয়েছেন এবং প্রায় ৭০ জন সামান্য আহত হয়েছেন। অধিকাংশ আহত ব্যক্তি নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • ইরানের হামলায় ধ্বংস ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন রাডার ব্যবস্থা, মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

    ইরানের হামলায় ধ্বংস ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন রাডার ব্যবস্থা, মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডারটি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বলে জানা গেছে।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘাতের শুরুর দিকেই ওই স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে এক মার্কিন কর্মকর্তা এই ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই রাডার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অঞ্চলে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামসহ বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় এসব ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য বলছে, থাড ব্যবস্থার প্রতিটি ব্যাটারির মোট মূল্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কেবল রাডার ব্যবস্থার জন্যই ব্যয় হয় প্রায় ৩০ কোটি ডলার।

    আমিরাত, কুয়েত ও ইসরায়েলে ড্রোন হামলার দাবি

    এদিকে আঞ্চলিক যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের নৌবাহিনী।

    ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলের কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবারের অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ঘাঁটি, কুয়েতের একটি মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    পরে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করে, আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতেও তারা হামলা চালিয়েছে। এতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশযুদ্ধ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং ফায়ার কন্ট্রোল রাডারের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এরপর থেকেই ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ও ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানছে।

  • যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশের পথে জাহাজ, পৌঁছাতে পারে ১৪ মার্চ

    যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশের পথে জাহাজ, পৌঁছাতে পারে ১৪ মার্চ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ ও ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করার পর এটিই কাতারের প্রথম এলএনজি চালান বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার থেকে ছেড়ে আসা এই জাহাজটি তার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের নাম সংকেত পাঠিয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

    জাহাজ ট্র্যাকিং সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার কাতারের এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র থেকে একটি ট্যাঙ্কার যাত্রা শুরু করে। জাহাজটির পানির নিচের অংশের গভীরতা বা ড্রাফট লেভেল বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘লেব্রেথাহ’ নামের ট্যাঙ্কারটি কাতারের রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি টার্মিনাল ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে এটি আগামী ১৪ মার্চ বাংলাদেশের কোনো টার্মিনালে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ‘আল ঘাশামিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজেও এলএনজি লোড করা হয়েছিল। তবে সেটি এখনো পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব জাহাজ শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলএনজি সরবরাহ যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, চলমান সংঘাতের কারণে সেই রুট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ‘লেব্রেথাহ’ জাহাজটি আপাতত ভাসমান গুদাম হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।

    এর আগে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনার পর কাতার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফান টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। সেই ঘটনার আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে এসব চালান বা গন্তব্য নিয়ে কাতারএনার্জির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: ‘নতুন শক্তিশালী অস্ত্র এখনো ব্যবহারই করা হয়নি’

    দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: ‘নতুন শক্তিশালী অস্ত্র এখনো ব্যবহারই করা হয়নি’

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, সম্ভাব্য দীর্ঘ সংঘাত মোকাবিলায় তাদের কাছে উন্নত ও নতুন ধরনের অস্ত্র মজুত রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগ এখনো বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়নি।

    বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলেও তা মোকাবিলার জন্য ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে এসব নতুন অস্ত্র ব্যবহার করে শত্রুপক্ষকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

    নতুন অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত

    আইআরজিসির এই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছে। সেগুলো এখনো পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সময়ে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হলে প্রতিপক্ষের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

    ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ঘোষণা

    এ বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন প্রথমবারের মতো ইরান থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ‘খাইবার’ নামের ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের নতুন সক্ষমতার একটি বড় প্রদর্শন।

    পারমাণবিক ইস্যুতে ব্যর্থ সংলাপ

    এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানযুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে টানা ২১ দিন আলোচনা চলেছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সেই সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সমান্তরাল অভিযান চালায়।

    ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত

    গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান বিভিন্ন সময় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানা গেছে।

    আগের সংঘাতের চেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার

    আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে ১২ দিনের সংঘাত হয়েছিল, তার তুলনায় এবার ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি শক্তিশালী। নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্রভাণ্ডার এখন আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ।

    বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: কোন দেশে কত প্রাণহানি

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: কোন দেশে কত প্রাণহানি

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হচ্ছেন।

    সাম্প্রতিক বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কয়েকটি দেশে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

    ইরান:
    ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী ও কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত আছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    ইসরায়েল:
    ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটিতে অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জেরুজালেমের কাছে বেইত শেমেস শহরে ১ মার্চের হামলায় নিহত ৯ জনও রয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনও সামরিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

    লেবানন:
    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বাহরাইন:
    দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজন নিহত হন।

    কুয়েত:
    ইরানের হামলায় কুয়েতে দুই সেনাসদস্যসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    ওমান:
    ওমানের রাজধানী মাস্কটের উপকূলের কাছে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে গোলাবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত:
    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

    মার্কিন সামরিক বাহিনী:
    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

    সিরিয়া:
    সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েদা শহরের একটি ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন নিহত হন।

    ইরাক:
    ইরাকে ইরানের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন মিলিশিয়া সদস্য, একজন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

    তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।