Category: আন্তর্জাতিক

  • ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মিছিল: ছয় দিন ভেসে থাকার পর ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ পরিণতি, জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশি

    ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মিছিল: ছয় দিন ভেসে থাকার পর ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ পরিণতি, জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশি

    এবিএনএ:  ভূমধ্যসাগরে ইউরোপমুখী বিপজ্জনক যাত্রায় আবারও ঘটল মর্মান্তিক প্রাণহানি। উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে রওনা হওয়া একটি রাবারের নৌকা ছয় দিন ধরে উত্তাল সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিস উপকূলের কাছে অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনা থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ২৬ জন, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি।

    শনিবার গ্রিসের কোস্টগার্ড জানায়, ক্রিট দ্বীপের নিকটবর্তী সমুদ্র এলাকা থেকে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এক নারী ও এক শিশুসহ মোট ২৬ জনকে নিরাপদে তুলে আনে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে আরও রয়েছেন দক্ষিণ সুদানের ৪ জন এবং চাদের ১ জন নাগরিক।

    বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকায় থাকা পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এই অমানবিক ঘটনার পর দুজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ক্রিটের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    উদ্ধারপ্রাপ্তদের তথ্যে জানা গেছে, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর শহর তোবরুক থেকে নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে দিক হারিয়ে ফেলার কারণে যাত্রীরা টানা ছয় দিন খাবার ও পানির সংকটে ভুগেছেন। এর সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চরম ক্লান্তি ও দুর্বলতায় বহু মানুষ প্রাণ হারান।

    গ্রিস কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা এবং অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত চলছে।

    সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, নৌকাটি দক্ষিণ ক্রিটের ইয়েরাপেত্রা শহর থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে শনাক্ত করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ণনায় জানা যায়, যাত্রাপথে ভয়াবহ আবহাওয়া পরিস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

    এদিকে, ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে গ্রিসে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে অভিবাসীদের মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা।

    আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৫৫৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২৮৭।

    এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে নতুন প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যেখানে ইইউর বাইরের দেশে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে এটিকে অমানবিক বলে অভিহিত করেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবপাচারকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে এবং নিরাপদ অভিবাসন পথ নিশ্চিত না করলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা

    মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ইরান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। ইরানি সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মন্তব্য করেছেন, “পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যে ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, সেগুলো এখন আমাদের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করেছে। আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সেনাবাহিনী রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

    ২০২৫ যুদ্ধ ও নীতি পরিবর্তন

    শেখারচি উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতি আক্রমণাত্মক নীতিতে রূপান্তর করেছে। তিনি বলেন, “গত ৪৭ বছরে আমরা কারও ওপর আক্রমণ চালাইনি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন করব না। তবে যদি কেউ আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা পাল্টা আঘাত চালাব যতক্ষণ না শত্রু ধ্বংস হয়।”

    হরমুজ প্রণালী নিয়ে সতর্কবার্তা

    হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শেখারচি বলেন, “এই অঞ্চলের অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও আমরা কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছি, যা সকল দেশকে মানতে হবে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে নিজেদের উপস্থিতি দৃঢ় করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে তাদের এলাকায় আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন।”

    ইরানের সামরিক সক্ষমতা

    মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক ক্ষমতা প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাহিনী ক্রমাগত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করছে, যাতে যে কোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

  • একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে ভারত, দিল্লির স্পষ্ট বার্তা

    একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে ভারত, দিল্লির স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সমর্থনের কথা জানানো হয়।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ১৯৭১ সালে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে পাকিস্তানি বাহিনী যে নির্মম অভিযান চালিয়েছিল, তা ছিল ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়। সেই সময় অসংখ্য নিরীহ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় এবং নারীদের ওপর সংঘটিত হয় ব্যাপক নির্যাতন।

    শরণার্থী সংকট ও মানবিক বিপর্যয়

    এই দমন-পীড়নের ফলে লাখো মানুষ জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। ভারতের মতে, ওই সময়ের মানবিক বিপর্যয় শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, গোটা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল।

    তবে ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান এখনো ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তাই বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচার চাইছে, সে দাবিকে ভারত পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।

    অপারেশন সার্চলাইট: ইতিহাসের কালো অধ্যায়

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। নয় মাসব্যাপী এই দমন-পীড়নের অবসান ঘটে ১৬ ডিসেম্বর, যখন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

    এই সময়ে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান এবং দুই লাখের বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রচেষ্টা

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে এই হত্যাযজ্ঞকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও আইনসভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সমর্থনও বাড়ছে।

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্বীকৃতি আদায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

    গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য

    প্রতি বছর ২৫ মার্চ বাংলাদেশে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এ উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং ইতিহাসের এই বেদনাদায়ক অধ্যায় স্মরণ করা হয়।

    সরকারপ্রধান এক বার্তায় বলেন, ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যা কখনো ভোলার নয়।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে নতুন গতি আসতে পারে।

  • সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আহত ১২ সেনা, সংকটজনক ২

    সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আহত ১২ সেনা, সংকটজনক ২

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাতে অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

    শুক্রবার সংঘটিত এই হামলার তথ্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইস লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ঘাঁটির অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে কিছু রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব

    রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে দুই হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন আছেন, যারা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সমন্বয় কার্যক্রমে কাজ করেন।

    এই ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম এবং থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পরিচালনা করা হয়, যা আকাশপথে আসা হামলা প্রতিহত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সংঘাতের পটভূমি

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।

    এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সময়ে ইসরায়েলও সমন্বিতভাবে অভিযান চালায়।

    এই অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিহত হন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

    পাল্টা হামলায় ইরান

    এর জবাবে ইরানও একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে তেহরান।

    সৌদি আরব ছাড়াও কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান—এই দেশগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    আগের হামলার রেশ

    এর আগে মার্চের শুরুতেও একই ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল, যেখানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন। পরে তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত এক মাস ধরে চলা সংঘাতে ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। একই সঙ্গে বড় আকারের সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়ছে।

  • নতুন সরকারের শপথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় অভিযান: নেপালে গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি

    নতুন সরকারের শপথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় অভিযান: নেপালে গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি

    এবিএনএ: নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের নাটকীয় মোড় এসেছে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই। শপথ নেওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    শনিবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডুর ভক্তপুর এলাকায় তাদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করে কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের বিশেষ ইউনিট।

    পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী গণমাধ্যমকে জানান, একটি তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সাবেক বিশেষ বিচারক গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন কমিশনটি এই সুপারিশ দেয়।

    পটভূমি: সহিংস বিক্ষোভ ও অভিযোগ

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ‘জেন-জি’ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।

    বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন রমেশ লেখক। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চরমে পৌঁছে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর। ওই দুই দিনে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন বিক্ষোভকারী।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী অলি। এর আগেই পদ ছাড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখক।

    অন্তর্বর্তী সরকার ও তদন্ত

    পদত্যাগের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। একই সঙ্গে সহিংসতা ও জনঅভ্যুত্থানের কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

    নতুন নেতৃত্ব ও পরিবর্তনের বার্তা

    গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে নতুন সরকার গঠন করেন বালেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)। ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

    নতুন সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—আইনের প্রয়োগে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি ও রমেশ লেখকের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরং বলেন,
    “এটি প্রতিশোধ নয়, এটি ন্যায়বিচারের পথে এগোনোর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। আইনের চোখে সবাই সমান।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এটি একদিকে যেমন আইনের শাসনের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াতে পারে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: মার্কিন ঘাঁটির আশপাশ এড়িয়ে চলার আহ্বান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: মার্কিন ঘাঁটির আশপাশ এড়িয়ে চলার আহ্বান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। শুক্রবার (২৭ মার্চ) প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় তারা জানায়, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে, সেই সব স্থান ভবিষ্যৎ হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    বিপ্লবী গার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে জনগণকে ওইসব এলাকা দ্রুত ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় এক মাস ধরে চলমান এই সংঘর্ষ ক্রমেই জটিল ও বিস্তৃত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী কৌশলগতভাবে সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে তাদের উচিত সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেওয়া। অন্যথায় যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলও এই সংঘাতের দিকে গভীর নজর রাখছে, কারণ এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • মার্কিন শান্তি প্রস্তাব ‘অন্যায্য’—যুদ্ধবিরতিতে শর্ত জুড়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    মার্কিন শান্তি প্রস্তাব ‘অন্যায্য’—যুদ্ধবিরতিতে শর্ত জুড়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    এবিএনএ: চলমান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবকে ‘একতরফা’ ও ‘অন্যায্য’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তেহরান জানিয়েছে, এতে তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবটি দেশটির উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে। তার মতে, এতে ইরানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে, অথচ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অস্পষ্ট রাখা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, এই প্রস্তাব কার্যকর করার মতো প্রয়োজনীয় শর্তগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনায় বসার বাস্তবসম্মত সুযোগ খুবই সীমিত বলে মনে করছে তেহরান।

    তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে নেই। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে তুরস্ক ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এই জবাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এখন তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

    ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে বেশ কিছু শর্ত উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গুপ্তহত্যা ও সামরিক আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্রদান।

    এছাড়া সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সব গোষ্ঠীসহ সকল ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে দেশটি। হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে তেহরান।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যে দাবিগুলো তুলেছিল, বর্তমান শর্তগুলোর সঙ্গে সেগুলোরও মিল রয়েছে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইরান। তাদের মতে, শান্তি আলোচনার আড়ালে ওয়াশিংটন কৌশলগতভাবে সময় নিচ্ছে—যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শান্তিপ্রিয় হিসেবে তুলে ধরা, তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা।

  • মার্কিন প্রস্তাব নাকচ ইরানের—যুদ্ধ থামাতে দিল ৫ কঠোর শর্ত, বাড়ছে উত্তেজনা

    মার্কিন প্রস্তাব নাকচ ইরানের—যুদ্ধ থামাতে দিল ৫ কঠোর শর্ত, বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে—তা নির্ধারণ করবে শুধুমাত্র ইরান নিজেই এবং তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপরই নির্ভর করবে সবকিছু।

    বুধবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের শেষ নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ইরান তার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন হলে শত্রুপক্ষের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানবে।

    ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছে। তবে তেহরানের দৃষ্টিতে এসব উদ্যোগ বাস্তবতা আড়াল করার কৌশল। তিনি ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত দুই দফা আলোচনাকে ‘প্রতারণামূলক’ উল্লেখ করে বলেন, তখনও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আন্তরিকতা ছিল না এবং পরে তারা সামরিক হামলা চালায়।

    এবার একটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আসা নতুন প্রস্তাবকেও ইরান উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছে এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ শর্ত

    ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে—

    ১. শত্রুপক্ষকে সব ধরনের আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
    ২. ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না—এমন কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
    ৩. যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
    ৪. অঞ্চলের সব ফ্রন্টে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে।
    ৫. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

    ইরানি কর্মকর্তা জানান, এই শর্তগুলো আগের আলোচনায় উত্থাপিত দাবির সঙ্গেও যুক্ত থাকবে। সব শর্ত মেনে নেওয়া না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয় বলে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।

    তিনি আরও বলেন, ইরান নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধ শেষ করবে—যুক্তরাষ্ট্রের সময়সূচি বা চাপে নয়।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূচনা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রায় ৮০ দফা পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

  • ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব ঘিরে অস্বস্তিতে ইসরায়েল—গোপন চুক্তির শর্তে বাড়ছে নতুন শঙ্কা

    ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব ঘিরে অস্বস্তিতে ইসরায়েল—গোপন চুক্তির শর্তে বাড়ছে নতুন শঙ্কা

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, তা ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন, ট্রাম্প যেকোনও চুক্তিতে ইসরায়েলের স্বার্থ বিবেচনায় রাখবেন, তবুও সম্ভাব্য সমঝোতার খুঁটিনাটি নিয়ে সংশয় কাটছে না।

    রামাল্লাহ থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ধারণা করা হচ্ছে—ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র কতটা ছাড় দিতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    ইসরায়েল আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ চুক্তির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এর আগে এক মাসের জন্য যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ। এটি কি তৃতীয় কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে, নাকি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে দেওয়া হবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়। পাশাপাশি, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও বড় একটি অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।

    ইসরায়েল জানতে চাইছে, ভবিষ্যতে ইরান কি নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে না—এমন নিশ্চয়তা কতটা পাওয়া সম্ভব? একই সঙ্গে, তারা আশঙ্কা করছে ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব বিষয় এখন গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে তারা চায়, যেকোনও চুক্তির আগে প্রয়োজন হলে ইরানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর মতো সময় যেন হাতে থাকে।

  • ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত প্রায় ৫ হাজার, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত প্রায় ৫ হাজার, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় Israel-এ আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮২৯ জনে।

    ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১১১ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে Iran এবং United States-এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে টানা ২১ দিন আলোচনা চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

    এর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালিয়ে ইরানে হামলা শুরু করে।

    এই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei, নিরাপত্তা কর্মকর্তা Ali Larijani এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার Mohammad Pakpour। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সংঘাতের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা জোরদার করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

    পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।