Category: আন্তর্জাতিক

  • হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    এবিএনএ:হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি আসার পর তা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। রসিকতার সুরে তারা বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ‘চাবি হারিয়ে গেছে’, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত কয়েকটি পোস্টে জিম্বাবুয়েতে ইরানের দূতাবাস ব্যঙ্গ করে জানায়, তারা নাকি ‘চাবি হারিয়ে ফেলেছে’। একই ধরনের পোস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের কূটনৈতিক মিশন মন্তব্য করে, ‘চাবি ফুলের টবের নিচে রাখা—শুধু বন্ধুদের জন্য খোলা।’ এসব মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালীটি চালু না হলে ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাত ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবরও মিলছে।

    এদিকে ইরান পাল্টা সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা চালানোর কথাও উল্লেখ করেছে তেহরান।

    চলমান উত্তেজনায় ইতোমধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

  • ‘যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা’: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বিশ্বকে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ইরানের

    ‘যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা’: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বিশ্বকে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ইরানের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধ’ ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে। তারা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সব অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার জন্য অপরিহার্য।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এই ধরনের প্রকাশ্য হুমকি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে এটিকে বেসামরিক জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা মনে করে, বিশ্ব সংস্থাগুলোর উচিত দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত না হয়।

    তেহরান আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তাই এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা বলা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের খবর পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা—ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ!

    বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা—ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ!

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে নতুন করে হামলার দাবি তুলেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, Ben Gurion Airport-এ ড্রোনের মাধ্যমে সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়েছে।

    ইরানের সামরিক সূত্র মতে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের সামরিক বিমান চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করা। বিশেষ করে বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার, নেভিগেশন সিস্টেম, রাডার ও যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    এক বিবৃতিতে তেহরান জানায়, ইসরায়েল ও তার মিত্রদের সামরিক কার্যক্রমে এই বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রতিবাদ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং আকাশপথে সমন্বয় ব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশল গ্রহণ করা হয়।

    ইরানি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের ফলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান পরিচালনা, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করা হয়।

    তারা আরও জানায়, এই ধরনের হামলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাতে ইরান তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। নিহতদের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ চালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত Israel সরকার বা United States-এর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ নিরাপত্তা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

  • বুশেহর হামলা ঘিরে ইরানের তীব্র হুঁশিয়ারি—তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ে নিশ্চিহ্ন হতে পারে উপসাগরীয় অঞ্চল!

    বুশেহর হামলা ঘিরে ইরানের তীব্র হুঁশিয়ারি—তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ে নিশ্চিহ্ন হতে পারে উপসাগরীয় অঞ্চল!

    এবিএনএ: ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দেশটির Abbas Araghchi কঠোর ভাষায় সতর্ক করে জানিয়েছেন, পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা অব্যাহত থাকলে তা গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, Bushehr Nuclear Power Plant-এর আশপাশে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। এই ধরনের আক্রমণ কেবল একটি দেশের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানলে সেখান থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বা রেডিওঅ্যাকটিভ ফলআউট দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে Gulf Cooperation Council-এর সদস্য দেশগুলোর রাজধানীগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, অতীতে Zaporizhzhia Nuclear Power Plant ঘিরে উত্তেজনার সময় আন্তর্জাতিক মহলের যে উদ্বেগ দেখা গিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

    এদিকে, ইরানের অভিযোগ—তাদের জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৃহত্তর কৌশলগত চাপ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছে তেহরান।

    তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত United States বা Israel আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনা কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়তে থাকলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

  • ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান: পাইলট উদ্ধারে ব্যর্থ চেষ্টা, উত্তেজনা বাড়াচ্ছে সংঘাত

    ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান: পাইলট উদ্ধারে ব্যর্থ চেষ্টা, উত্তেজনা বাড়াচ্ছে সংঘাত

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই বিমানের পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক অভিযান চালালেও তা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি বলে জানিয়েছে তাসনিম নিউজ

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। তবে প্রকাশিত ধ্বংসাবশেষের ছবির ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, সেটি আসলে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হতে পারে।

    এই ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। অন্যদিকে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ভূপাতিত বিমানের পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পাইলট জীবিত নাকি নিহত—এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ঘটনাস্থলের আকাশে নজরদারি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ধার অভিযানে একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং সি-১৩০ হারকিউলিস ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু ইরানি বাহিনীর বাধার কারণে হেলিকপ্টারটি পিছু হটতে বাধ্য হয়।

    তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সেনাদের সক্রিয় প্রতিরোধের কারণে উদ্ধার অভিযান এখনো ব্যর্থ রয়েছে এবং পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে।

    উল্লেখ্য, এর আগেও গত মার্চ মাসে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। তবে সে সময় পাইলট দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে জরুরি অবতরণ করে প্রাণে রক্ষা পান।

    বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • স্থল হামলার হুঁশিয়ারি: শত্রু ঢুকলে কাউকেই ছাড় নয়—ইরান সেনাপ্রধানের কঠোর নির্দেশ

    স্থল হামলার হুঁশিয়ারি: শত্রু ঢুকলে কাউকেই ছাড় নয়—ইরান সেনাপ্রধানের কঠোর নির্দেশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আমির হাতামি সম্ভাব্য স্থল হামলার বিরুদ্ধে বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি স্থলপথে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তাদের কাউকেই জীবিত ফিরে যেতে দেওয়া হবে না।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেন তিনি। সেখানে তিনি সেনাদের প্রতি আহ্বান জানান, শত্রুপক্ষের প্রতিটি নড়াচড়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে।

    সেনাপ্রধান বলেন, শত্রুর কৌশল বুঝে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তার মতে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।

    সম্প্রতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানও বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়।

    বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রায় এক মাস অতিক্রম করেছে। এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন হামলার ক্ষেত্রে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। কারণ, এই দ্বীপ থেকেই ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানি করা হয়।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। কয়েক হাজার মেরিন সেনা পাঠানোর পাশাপাশি একটি বিমানবাহী রণতরীও ওই অঞ্চলে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্ব পরিস্থিতির এমন উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে ইরানের এই কড়া বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

  • “যুদ্ধবিরতি নয়, শেষ চাই”—ট্রাম্পের দাবি সরাসরি নাকচ করে ইরানের কড়া বার্তা

    “যুদ্ধবিরতি নয়, শেষ চাই”—ট্রাম্পের দাবি সরাসরি নাকচ করে ইরানের কড়া বার্তা

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর করা যুদ্ধবিরতির দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই সাময়িক যুদ্ধবিরতি চায় না, বরং এই সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তিই তাদের লক্ষ্য।

    বুধবার ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, দেশটির প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর তেহরান প্রতিনিধি সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-ও একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তাদের লক্ষ্য কোনো অস্থায়ী সমাধান নয়। বরং চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসান চায় তেহরান।

    বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই ইরান এই অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত বলেও বারবার জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি হলে প্রতিপক্ষ নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে।

    অন্যদিকে, Donald Trump সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট নাকি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

    ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী হওয়ায় কূটনৈতিক সমাধান আরও জটিল হয়ে উঠছে।

  • ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা চরমে: কাদিরভের অনুগত বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা

    ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা চরমে: কাদিরভের অনুগত বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চেচেন প্রজাতন্ত্রের নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত বাহিনীর ঘোষণা। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে তারা ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত।

    ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কাদিরভ-সমর্থিত এই বাহিনী চলমান সংঘাতকে শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করছে। তাদের ভাষায়, এটি ‘ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই’, যেখানে তারা ইরানের প্রতিরক্ষায় অবস্থান নিতে চায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিমান হামলা কাঙ্ক্ষিত ফল না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

    সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এরপর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলি স্থাপনা ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি।

    এদিকে, এই সংঘাতে অন্য দেশের সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এটিকে সরাসরি আগ্রাসনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    সার্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

  • ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে কঠোর স্পেন! মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ

    ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে কঠোর স্পেন! মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ততা কমাতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। দেশটি ঘোষণা দিয়েছে, ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক বিমান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।

    সোমবার স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবেলস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মাদ্রিদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডে স্পেন তার আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

    এর আগে থেকেই স্পেন-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হলো বলে জানা গেছে।

    এই নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে এখন বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    স্পেনের অর্থমন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো জানান, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা কোনো সংঘাতে সমর্থন না দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছেন। তার অবস্থান স্পষ্ট—এ ধরনের যুদ্ধে স্পেন কোনোভাবেই অংশ নিতে চায় না।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    সব মিলিয়ে, স্পেনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ইরান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • মধ্যরাতে উত্তাল আকাশ—ইসরায়েলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানের শক্তি প্রদর্শন

    মধ্যরাতে উত্তাল আকাশ—ইসরায়েলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানের শক্তি প্রদর্শন

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়েছে IranIsrael। শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলের একাধিক অঞ্চলে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

    Israel Defense Forces (আইডিএফ) জানিয়েছে, অন্তত পাঁচ দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এসব হামলার সময় রাজধানী Jerusalemসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়।

    সামরিক সূত্রের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। সর্বশেষ হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। আইডিএফ জানায়, নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হানতে দেওয়া হয়।

    একই সময় লেবানন সীমান্ত থেকেও উত্তর ইসরায়েলের দিকে একাধিক রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিরোধ করা সম্ভব হলেও বেশ কয়েকটি খোলা জায়গায় গিয়ে পড়ে।

    আইডিএফ আরও জানায়, নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সংকেত পাওয়ার পর উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম সতর্কতা জারি করা হয়। এছাড়া শফেলা অঞ্চল এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকাতেও সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও এই ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।