Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফা আলোচনা: আজই ইসলামাবাদে তেহরান দল পৌঁছাতে পারে

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফা আলোচনা: আজই ইসলামাবাদে তেহরান দল পৌঁছাতে পারে

    এবিএনএ: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার আভাস পাওয়া গেছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সূত্রগুলো বলছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই এই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ঘিরে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উত্তেজনা কমাতে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

    সামরিক পর্যায়েও যোগাযোগের ইঙ্গিত

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারি সূত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

    আগের বৈঠক ফলহীন

    দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দর ঘিরে পাল্টাপাল্টি নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে উত্তেজনা বাড়ে এবং আলোচনার পরিবেশ জটিল হয়ে পড়ে।

    নতুন বৈঠক ঘিরে প্রস্তুতি

    দ্বিতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের লক্ষ্যে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইরানের প্রতিনিধিদল না আসায় আলোচনা স্থগিত হয়। তেহরান জানায়, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা আলোচনায় বসবে না।

    আবারও আশার আলো

    তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন, অচলাবস্থা কাটিয়ে শিগগিরই নতুন করে আলোচনা হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

    কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছালে নতুন করে সংলাপের পথ খুলতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

  • পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট, উপস্থিতি প্রায় ৯০%

    পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট, উপস্থিতি প্রায় ৯০%

    এবিএনএ: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটের হার দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ১২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা এবারের প্রথম ধাপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

    এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম ধাপে ভোট হয়েছে ১৫২টি আসনে। এই আসনগুলোতে তিন কোটির বেশি ভোটার রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত ৮০টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

    নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেদিন ফলাফল ঘোষণা করা হবে না। পুরো নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে ৪ মে, তখনই জানা যাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের ক্ষমতায় কে আসছে।

    পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালে। সে সময় মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে ২১৫টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন।

    সেই নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও দলটি ক্ষমতা ধরে রাখতে মাঠে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দলটির শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।

    প্রথম ধাপের ভোটে উচ্চ উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দ্বিতীয় ধাপের ভোট এবং চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই নজর সবার।

  • মালয়েশিয়ার ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই হাজারের বেশি ঘর—উদ্বাস্তু ৯ হাজার মানুষ

    মালয়েশিয়ার ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই হাজারের বেশি ঘর—উদ্বাস্তু ৯ হাজার মানুষ

    এবিএনএ: মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের সানদাকান শহরের একটি ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ৯ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ৩২ মিনিটে উপকূলীয় এলাকার কামপুং বাহাগিয়া নামের ভাসমান গ্রামটিতে আগুন লাগে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে ঘটনাটি জানা যায় এবং ভোর ৪টার দিকে এলাকাটিকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

    দমকল বিভাগ জানায়, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ঘরবাড়ি মুহূর্তেই পুড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ঘর ছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৯ হাজারের বেশি বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর বেশিরভাগই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

    ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়লেও তা নাকচ করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু মানুষ নিজেদের জিনিসপত্র উদ্ধার করতে গিয়ে অথবা অন্যদের সহায়তা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দমকল বিভাগ, বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

    ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় সরকার ও সাবাহ রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করছে এবং দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: কয়েক ঘণ্টা আগে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পর আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে ইরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা এখন পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে।

    স্থানীয় সময় দুপুরে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীই এর চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।

    তবে এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তোলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় জানান, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। এই মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত থাকবে না। তিনি জানান, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুনরায় প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দেয়। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

  • উত্তেজনার পর হরমুজ খুলল ইরান, তেলের দামে বড় পতন; বিশ্ববাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত

    উত্তেজনার পর হরমুজ খুলল ইরান, তেলের দামে বড় পতন; বিশ্ববাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেছে ইরান। লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির প্রতি সংহতি জানিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।

    তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট অনুসরণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর মাধ্যমে প্রণালিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা করছে তেহরান।

    ইরানের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে ধন্যবাদও জানান।

    তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    এর আগে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত বন্ধ হওয়াকে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

    গত ৭ এপ্রিল ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিলেও লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় তখন প্রণালিটি কার্যত সীমিত রাখা হয়েছিল। সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির পরই প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা—বপন মৌসুমে বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা

    হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা—বপন মৌসুমে বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষির গুরুত্বপূর্ণ বপন মৌসুমে জ্বালানি ও সারের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সামনে বৈশ্বিক খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের এক শীর্ষ অর্থনীতিবিদ।

    জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সুদান, কেনিয়া, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বপন মৌসুম চলছে। এই সময়ে জ্বালানি ও সারের ঘাটতি তৈরি হলে কৃষি উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়বে।

    তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় ৩৫ শতাংশ জ্বালানি তেল, ২০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার পরিবাহিত হয়। এই সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় উপকরণ কম ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। এতে উৎপাদন কমে যাবে এবং বাজারে খাদ্যের প্রাপ্যতা হ্রাস পাবে।

    তোরেরো সতর্ক করে বলেন, দ্রুত সমাধান না হলে ক্ষতির মাত্রা বাড়বে। এমনকি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি সমঝোতা হয়ও, ততক্ষণে কৃষি মৌসুমে যে বিঘ্ন ঘটবে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি মনে করেন, বাণিজ্য পুনরুদ্ধার এবং বাজার স্থিতিশীল হতে অন্তত ৯০ দিন সময় লাগতে পারে।

    তার ভাষায়, চুক্তি হলে শূন্য থেকে ৯০ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা তৈরি হবে। এই সময়ের মধ্যে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং জ্বালানি প্রবাহ পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। অন্যথায় কয়েক মাসের মধ্যেই খাদ্য সরবরাহে চাপ বাড়বে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

    ইরানি পক্ষ জানিয়েছে, তাদের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজে নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কোনও সমঝোতা হলে তা সতর্কতার সঙ্গে এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। তাই আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও হরমুজ ইস্যুতে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, বিশেষ করে কৃষি খাত, বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এখানে অচলাবস্থা তৈরি হলে জ্বালানি, সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়বে। ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

  • হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে এবং এতে চীন সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু চীনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই প্রণালি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না।

    চীনের সঙ্গে সমঝোতার দাবি

    পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চীন ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তার ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন সফরে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন এবং দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    তিনি আরও বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার পথই বেশি কার্যকর। তবে প্রয়োজনে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

    ভিন্ন তথ্য নিয়ে বিতর্ক

    ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। আবার অন্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি শনাক্তে চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    চীনের অবস্থান

    তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের দাবি, তারা ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

  • হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

    বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শামিল হবে।

    বাণিজ্যপথ বন্ধের হুমকি

    বিবৃতিতে সামরিক কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে।

    তার দাবি, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা

    হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও অবরোধের পরই এই হুঁশিয়ারি এসেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন জাহাজে বাধা দেওয়া হবে না। তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।

    তেলের বাজারে প্রভাব

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।

    বাজার খোলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

    মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় বিভিন্ন দেশে পরিবহন ও জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ছে।

    ইতোমধ্যে ইউরোপের কিছু দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু সরকার কর কমানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

  • মক্কায় প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি, পারমিট ছাড়া ঢুকতে পারবেন না কেউ

    মক্কায় প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি, পারমিট ছাড়া ঢুকতে পারবেন না কেউ

    এবিএনএ: আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে সৌদি আরব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া বিদেশি নাগরিক কিংবা সৌদি আরবের বাসিন্দাদের কেউই মক্কায় প্রবেশ করতে পারবেন না। সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কায় প্রবেশ করতে হলে প্রত্যেক বিদেশির কাছে বৈধ পারমিট থাকতে হবে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাদের কাছে হজ ভিসা নেই কিংবা কাবা শরিফ সংশ্লিষ্ট কাজে অনুমোদন নেই, তাদের মক্কায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। অনুমতিহীন প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চেকপোস্টে কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র না থাকলে সংশ্লিষ্টদের ফেরত পাঠানো হবে।

    এদিকে, যেসব ব্যক্তির কাছে ওমরাহ ভিসা রয়েছে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মক্কা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ এপ্রিলের মধ্যে এসব ভিসাধারীদের শহর ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    সৌদি প্রশাসন বলছে, হজ মৌসুমে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। তাই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

  • মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ কার্যকর করতে আসা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে প্রয়োজনে সমুদ্রের তলদেশে পাঠানো হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলেদ্দিন বুরুজার্দি এ মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া অবরোধ নির্দেশ বাস্তবভিত্তিক নয় এবং এটি প্রচারণামূলক পদক্ষেপ। তার মতে, এমন অবরোধ কার্যকর করার মতো সক্ষমতা ওয়াশিংটনের নেই।

    তিনি আরও দাবি করেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোও এই উদ্যোগে অংশ নেবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এই পদক্ষেপ নিতে চাইছে। ফলে পরিস্থিতি বাস্তবে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে যে কোনো বিদেশি সামরিক তৎপরতা উত্তেজনা বাড়াবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক বলেন, আগ্রাসনের চেষ্টা হলে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু হরমুজ প্রণালী নয়—ওমান সাগর বা অন্য কোনো এলাকায় বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ দেখা গেলে ইরান তা প্রতিহত করবে।

    ইরানের কর্মকর্তারা আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ সফল হবে না। বরং এ ধরনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।