এবিএনএ,মাসুদ রানা : বাগেরহাট জেলায় মাদকচক্রের বিস্তার বেড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জেলার ৯টি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীর সংখ্যা। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও মামলা উভয়ই বেশি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মাঝেই গোপন পথ ধরে নিয়মিত ঢুকছে মাদকের চালান। বাগেরহাট সদর, মোংলা, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, কচুয়া, ফকিরহাট, চিতলমারী ও মোল্লাহাট—এই ৯ উপজেলাজুড়ে বেশ সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা।
✅ মোংলায় সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা
সমুদ্র বন্দর ও শিল্প এলাকার কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস—যা মোংলা উপজেলাকে মাদক বিস্তারের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় পরিণত করেছে। ফলে এখানে সেবনকারী ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা অন্য উপজেলাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিনিয়তই অভিযান চালিয়ে ধরা পড়ছে খুচরা বিক্রেতা, বাহক ও সেবনকারীরা।
✅ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ বিস্তার
এ অঞ্চলের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কিশোর-তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে মাদকসেবন। ফলে বাড়ছে কিশোর অপরাধ থেকে শুরু করে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
✅ অক্টোবর মাসের বড় অর্জন
বাগেরহাট জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মোঃ বুলু শেখ জানান, শুধু অক্টোবর মাসেই ৯ থানা এলাকায় অভিযানে—
-
✅ গ্রেপ্তার: ১৪ জন
-
✅ পলাতক: ২ জন
-
✅ জব্দ: ইয়াবা ৬১০ পিস ও গাঁজা ৯ কেজি ১০০ গ্রাম
তার ভাষায়—বাগেরহাট সদর থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে—
-
বাগেরহাট সদর: ৯ জন
-
মোল্লাহাট: ২ জন
-
মোংলা: ৩ জন
-
চিতলমারী: ১ জন (পলাতক)
-
মোংলা: ১ জন (পলাতক)
✅ আইনি ব্যবস্থা
অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনেকের অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
✅ কিছু এলাকায় অভিযান কম
রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও কচুয়া উপজেলাগুলোতে কর্মকর্তার সংখ্যা কম থাকায় অক্টোবর মাসে তুলনামূলক কম অভিযান হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে আগামী সময়ে অভিযান আরও জোরদার হবে।

Leave a Reply