Tag: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

  • গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার আশঙ্কা: দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

    গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার আশঙ্কা: দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

    এবিএনএ: নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সমর্থকদের সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ের সব ইউনিটকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে পাঠানো এক নির্দেশনায় নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক তৎপরতার ওপর কড়া নজর রাখার কথা বলা হয়েছে।

    গোয়েন্দা তথ্যে নাশকতার ইঙ্গিত

    সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক উগ্রবাদী সদস্যের সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সাবেক সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই চক্রটি সমন্বিতভাবে নাশকতার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম এলাকা বিবেচনায় রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর ওপরও বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।

    অস্ত্রাগারেও হামলার শঙ্কা

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারেও হামলার চেষ্টা হতে পারে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে এসব স্থাপনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনরা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশনা

    এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো, প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

  • জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্য গ্রেপ্তার: জিম্মি তিন জেলেকে উদ্ধার, স্বস্তি ফিরছে নদীপাড়ে

    জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্য গ্রেপ্তার: জিম্মি তিন জেলেকে উদ্ধার, স্বস্তি ফিরছে নদীপাড়ে

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের পৃথক ২টি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২ জন সক্রিয় সদস্য আটক এবং জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ৩ জেলে উদ্ধার।

    শুক্রবার ০৩ এপ্রিল দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী খুলনার দাকোপ থানাধীন বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, আজ ৩ এপ্রিল শুক্রবার ভোর ৬টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান কর্তৃক ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের ভেতর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল কর্তৃক ডাকাতদের ধাওয়া করে ২টি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১,১০০ টাকাসহ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করে তাদের আস্তানা ধ্বংস করা হয়।

    আটককৃত ডাকাত মোঃ সোহাগ হাওলাদার (৩৫) বাগেরহাটের শরণখোলা এবং বাবুল সানা (৪২) খুলনার পাইকগাছা থানার বাসিন্দা। উভয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি করে আসছিল।

    অপরদিকে, আরও একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় গত ৩১ মার্চ মঙ্গলবার সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত জোনাব বাহিনীর সদস্যরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন হোগলডরা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ১টি নৌকাসহ ৩ জন জেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপন দাবি করছে।

    প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, উক্ত এলাকায় গত ১ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হলদেবুনিয়া এবং স্টেশন কৈখালী কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকা হতে ডাকাতদের কাছে জিম্মি থাকা ১টি নৌকাসহ ৩ জন জেলে এবং ডাকাতদের ব্যবহৃত ১টি নৌকা, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৩টি ওয়াকিটকি চার্জার, ৩টি মোবাইল ব্যাটারি ও ১টি কুড়াল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলে ইনতাজ (৫০), মোশাররফ (৪২) ও আনিস (৪৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।

    আটককৃত ডাকাত, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, আপনাদের অবগতির জন্য, গত দেড় বছর হতে অদ্যাবধি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে কুখ্যাত করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীর মোট ৬১ জন ডাকাত সদস্য আটক করা হয়েছে। অভিযানগুলোতে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গোলা ও ১,৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি জব্দ এবং দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

    এছাড়া কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনে ব্রিফিং প্রদান করেন লেঃ শেখ সাদমান বিন মাহমুদ, (এক্স), বিএন। নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস সোনার বাংলা।

  • সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: তিন জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জন

    সুন্দরবনে ফের দস্যু আতঙ্ক: তিন জেলে অপহৃত, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জন

    এবিএনএ,বাগেরহাট: সুন্দরবনে থামছেনা বনদস্যুদের হাতে জেলে অপহরণ। বুধবার রাতে আরো দুই জেলেকে অপহরণন করেছে করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা। শরণখোলা রেঞ্জের শৌলা ও আড়–য়াগাং এলাকায় বনদস্যুরা এই ৩ জেলেকে অপহৃত হয়। অপহৃত জেলেদের মধ্যে দুইজনের নাম জানা গেছে।

    তারা হলেন, রায়হান (২২) ও সুমন (২৪) এদের বাড়ী বাগেরহাটের শরণখোলার শরণখোলা গ্রামে। অপরদিকে,অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন ১৪ জেলে। সুন্দরবনের শুটকি পল্লীর চার মহাজনের ১৪ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে। এখনো দুইমহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন।

    সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডে নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু হলেও শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। যে কারণে শরণখোলা রেঞ্জের বনাঞ্চল এখন দস্যুদের অভযারণ্যে পরিণত হয়েছে।

    সুন্দরবনের শুটকি জেলে পল্লী শেলার চরের মৎস্য ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু বৃহস্পতিবার বিকালে মোবাইল ফোনে এতথ্য নিশ্চিত করে আরো জানান, বনদস্যুদের হাতে অপহৃত প্রত্যেক জেলেকে মুক্ত করতে দস্যুদের ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্ধর্ষ বনদস্যু করিম শরীফ বাহিন পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ৬ জেলেকে ও বনদস্যু জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছিল। এদেও মধ্যে মুক্তি পাওয়া ১৪ জেলে রয়েছে।

    এদিকে শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী ফিরোজ হাওলাদার বাদী হয়ে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীরকে প্রধান আসামী করে গতকাল শরণখোলা থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন।

  • সুন্দরবনের দস্যু অস্ত্রসহ ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

    সুন্দরবনের দস্যু অস্ত্রসহ ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

    এবিএনএ,মাসুদ রানা,মোংলা: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১ সক্রিয় সদস্য আটক।

    মঙ্গলবার ৩ মার্চ  দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে কোস্ট গার্ড সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার দৃঢ় সংকল্পে ইতোমধ্যে কোস্ট গার্ড বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরম্ভ করেছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ৩ মার্চ  মঙ্গলবার ভোর ৪টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, আউটপোস্ট নলিয়ান, স্টেশন কয়রা এবং পুলিশের সমন্বয়ে কয়রা থানাধীন নারায়নপুর এলাকায় একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।  অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আফজাল সরদার (৩২) কে আটক করা হয়।  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে  তথ্যের ভিত্তিতে, সকাল ১১টায় মোংলা থানাধীন পাশাখালী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১টি শট গান, ১টি একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়।

    নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে সুন্দরবনে যৌথ অভিযান শুরু হলে উক্ত ডাকাত সদস্য আতঙ্কিত হয়ে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসমূহ উক্ত এলাকায় পুঁতে রেখে কয়রার নারায়ণপুর এলাকায় আত্মগোপন করে বলে জানা যায়।

    আটককৃত ডাকাত আফজাল সরদার (৩২) খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলো। উল্লেখ্য  আটক  ডাকাত সদস্যের বিরুদ্ধে কয়রা ও ডুমুরিয়া থানায় মোট ৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

    আটককৃত ডাকাত এবং জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    কোস্টগার্ড আরো বলেন, আমরা দস্যুদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ভোটের আগের রাতে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: চেকপোস্টে তল্লাশি, পথে পথে টহল

    ভোটের আগের রাতে ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: চেকপোস্টে তল্লাশি, পথে পথে টহল

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাকে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিশেষ রোবাস্ট ও মোবাইল টহলের পাশাপাশি ফুট পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকায় মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে যাচাই করা হচ্ছে; যুক্তিসংগত কারণ দেখাতে না পারলে যানবাহন জব্দও করা হচ্ছে।

    র‍্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল কিংবা ফলাফল মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সহিংসতায় জড়াতে চাইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে পরিস্থিতি অশান্ত হলে প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঠেকাতে মাঠে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথভাবে টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বিজিবির টহল চোখে পড়ছে—সামনে পিকআপ, পেছনে এপিসি নিয়ে সাইরেন বাজিয়ে চলাচল করছে টহল দল। সেনাবাহিনীও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। শের-ই-বাংলা নগর এলাকায় দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ওয়ার্ড ও ভোটকেন্দ্রের আশপাশে নিয়মিত টহল চলছে, যাতে কেউ অবৈধ অস্ত্র বা বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য নেই। তবু আগাম সতর্কতায় প্রায় ২৬ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া সেল বলছে, চেকপোস্টের পাশাপাশি মোবাইল ও ফুট পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক চলাচলের ওপর নজরদারি চলছে।

    ভোটারদের উদ্দেশে ডিএমপি আশ্বস্ত করেছে—নিরাপত্তা বাহিনী পাশে আছে। নাগরিকরা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, নির্বাচন ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে।

  • ভোটে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর জবাব—নাশকতার দায় নেবে অভিযুক্তরাই, হুঁশিয়ারি র‍্যাব ডিজির

    ভোটে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর জবাব—নাশকতার দায় নেবে অভিযুক্তরাই, হুঁশিয়ারি র‍্যাব ডিজির

    এবিএনএ: ভোটকেন্দ্রে নাশকতা, জালভোট বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালনে কোনো ঝুঁকি নেয় না; ঝুঁকি বহন করতে হবে আইন ভাঙতে আসা ব্যক্তিদেরই।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র‍্যাব ডিজি জানান, যারা নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করবে, ফলাফল মেনে না নিয়ে সহিংসতায় জড়াবে কিংবা ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে—তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রয়োগ করা হবে।

    তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাব ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধী গ্রেপ্তারে জোরালো তৎপরতা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিশেষ অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

    নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে তিন ধাপে সাজানো হয়েছে—নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়। নির্বাচনের দিন র‍্যাব মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় র‍্যাবের টিম মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    র‍্যাব ডিজি আরও বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের স্থানীয় ইউনিটের সঙ্গেও সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।

    ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত স্থির ফোর্স বসানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে—অনেক কেন্দ্রে সিসিটিভি, পুলিশের বডি ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি, ডগ স্কোয়াড ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রস্তুতিও আছে।

    বহিরাগতদের অযৌক্তিক উপস্থিতি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন বা ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো কেন্দ্রে পরিস্থিতি অবনতি হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ভোট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন।

    র‍্যাব ডিজি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো জঙ্গি হুমকি নেই; তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

  • বিমানবন্দরে বিপুল অর্থসহ আটকের পর হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির, সিসিইউতে চিকিৎসাধীন

    বিমানবন্দরে বিপুল অর্থসহ আটকের পর হঠাৎ অসুস্থ জামায়াত আমির, সিসিইউতে চিকিৎসাধীন

    এবিএনএ: নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ আটক হওয়া ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সিসিইউ-১ এ নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন আছেন।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলের দিকে তাকে ভর্তি করা হয়। সিসিইউতে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ পেয়েছেন বলে জানান। তার রক্তচাপ ওঠানামা করছে এবং হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে পড়ায় অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইসিজি, ইকোসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে রোগের জটিলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

    এদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনের নিয়ম মেনেই অর্থ বহন করা হচ্ছিল এবং বিমানবন্দরে আটকের সময় সৃষ্ট মানসিক চাপে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দলীয় নেতারা জানান, বেলাল উদ্দিন ব্যবসায়িক কাজের প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে ফিরছিলেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে।

    পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে তল্লাশি চালিয়ে তার ব্যাগ থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি ভিন্ন অঙ্কের কথা বললেও পরে গণনায় বেশি টাকা পাওয়া যায়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

    উল্লেখ্য, বেলাল উদ্দিন ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যক্তি। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করতে চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাঁকড়া শিকার, অভিযান চালিয়ে ৪ জন আটক:জব্দ নৌকা ও ট্রলার

    নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কাঁকড়া শিকার, অভিযান চালিয়ে ৪ জন আটক:জব্দ নৌকা ও ট্রলার

    এবিএনএ,মোঃ শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা: পূর্ব সুন্দরবনে শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ৮০ কেজি কাঁকড়া উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে কাঁকড়া ধরার অপরাধে চার কাঁকড়া শিকারিকে আটক করা হয়।

    শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালিয়ে এসব কাঁকড়া জব্দ ও জড়িতদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

    আটকরা হলেন, রফিক মোল্লা (৪৮), রউফ মোল্লা (৪৫), আলামিন শেখ (৩১) ও আছাদুল শেখ (৩০)। তাদের সবার বাড়ি দাকোপের পানখালী ও মোরেলগঞ্জের ছোলম বাড়ীয়ায়।

    বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছুলিয়ার খালের মুখে একটি ট্রলার ও ডিঙ্গি নৌকাসহ চারজনকে আটক করা হয়। এসময় ট্রলার ও নৌকায় তল্লাশি করে ৮০ কেজি কাঁকড়া জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে চারজনকে জ্ঞানপাড়াট হল ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

    শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, আটক ব্যক্তিরা অবৈধভাবে কাঁকড়া ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো। সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক সচেতনতামূলক যৌথ মহড়া ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার ১৫ ডিসেম্বর রাউজান উপজেলায় কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং অফিসার, চট্টগ্রাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

    প্রধান অতিথি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, যা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়—এটি বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি আগামী একশ’ বছরের বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট।

    জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে তারা কী ধরনের বাংলাদেশ চায়। ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মানুষ আর রক্তপাত নয়—শান্তিতে বসবাস করতে চায়। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো স্বার্থের কাছে যেন কেউ নিজের মেরুদণ্ড ও বিবেক বিক্রি না করেন—ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি এই আহ্বানও জানান তিনি। প্রশাসন কঠোর হতে চায় না, তবে পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে কঠোর হতে বাধ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, কোনো অবস্থাতেই রাউজানে ভোটগ্রহণের পরিবেশে কেউ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না। নির্বাচনকে ঘিরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বালু সন্ত্রাসী ও অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থেকে তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান এবং বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ, রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম রাহাতুল ইসলাম এবং রাউজান থানা অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি)।যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে রাউজান উপজেলা পর্যন্ত গাড়িবহরের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

    সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তাগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত উদ্যোগে রাউজানে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • বাগেরহাটে মাদকবিরোধী বড় অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক ১৪, পলাতক ২

    বাগেরহাটে মাদকবিরোধী বড় অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক ১৪, পলাতক ২

    এবিএনএ,মাসুদ রানা : বাগেরহাট জেলায় মাদকচক্রের বিস্তার বেড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জেলার ৯টি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীর সংখ্যা। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও মামলা উভয়ই বেশি।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মাঝেই গোপন পথ ধরে নিয়মিত ঢুকছে মাদকের চালান। বাগেরহাট সদর, মোংলা, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, কচুয়া, ফকিরহাট, চিতলমারী ও মোল্লাহাট—এই ৯ উপজেলাজুড়ে বেশ সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা।

    ✅ মোংলায় সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা

    সমুদ্র বন্দর ও শিল্প এলাকার কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস—যা মোংলা উপজেলাকে মাদক বিস্তারের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় পরিণত করেছে। ফলে এখানে সেবনকারী ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা অন্য উপজেলাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিনিয়তই অভিযান চালিয়ে ধরা পড়ছে খুচরা বিক্রেতা, বাহক ও সেবনকারীরা।

    ✅ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ বিস্তার

    এ অঞ্চলের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কিশোর-তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে মাদকসেবন। ফলে বাড়ছে কিশোর অপরাধ থেকে শুরু করে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

    ✅ অক্টোবর মাসের বড় অর্জন

    বাগেরহাট জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মোঃ বুলু শেখ জানান, শুধু অক্টোবর মাসেই ৯ থানা এলাকায় অভিযানে—

    • ✅ গ্রেপ্তার: ১৪ জন

    • ✅ পলাতক: ২ জন

    • ✅ জব্দ: ইয়াবা ৬১০ পিস ও গাঁজা ৯ কেজি ১০০ গ্রাম

    তার ভাষায়—বাগেরহাট সদর থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তারদের মধ্যে—

    • বাগেরহাট সদর: ৯ জন

    • মোল্লাহাট: ২ জন

    • মোংলা: ৩ জন

    • চিতলমারী: ১ জন (পলাতক)

    • মোংলা: ১ জন (পলাতক)

    ✅ আইনি ব্যবস্থা

    অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনেকের অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ✅ কিছু এলাকায় অভিযান কম

    রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও কচুয়া উপজেলাগুলোতে কর্মকর্তার সংখ্যা কম থাকায় অক্টোবর মাসে তুলনামূলক কম অভিযান হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে আগামী সময়ে অভিযান আরও জোরদার হবে।