Tag: বাগেরহাট

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    এবিএনএ: সুন্দরবনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

    রবিবার (১৭ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে পশ্চিম জোন সদর দপ্তর মোংলায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন।

    কোস্ট গার্ড জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূলে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ দফার অভিযানে এই সাফল্য আসে।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল এলাকায় অবস্থান করছে। পরে রবিবার ভোর চারটার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

    অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    আটক দুই ডাকাত হলেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)। কোস্ট গার্ডের দাবি, রাজন শরীফ দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

    অভিযান চলাকালে ডাকাতদের কবল থেকে চার জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

    এদিকে জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • মোংলায় পরীক্ষা চলাকালে সরকারি টাকায় শিক্ষকদের ‘ফুটবল ভ্রমণ’! ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ৫০ শিক্ষকের জেলা সফরে ক্ষোভ

    মোংলায় পরীক্ষা চলাকালে সরকারি টাকায় শিক্ষকদের ‘ফুটবল ভ্রমণ’! ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ৫০ শিক্ষকের জেলা সফরে ক্ষোভ

    এবিএনএ: মোংলা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলমান থাকলেও উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্লাসে অনুপস্থিত থেকে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ফুটবল খেলা দেখতে জেলা সদরে ভ্রমণে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়ন থেকে মোট ১৪টি দল এবারের জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে বালক বিভাগে মোংলা দ্বিগরাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালিকা বিভাগে উত্তর বাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

    নিয়ম অনুযায়ী সীমিতসংখ্যক শিক্ষক দলের সঙ্গে থাকার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, খেলা উপলক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই অন্তত ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা জেলা সদরে অবস্থান করেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা খেলায় দায়িত্ব পালনের চেয়ে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরিতেই বেশি সময় কাটান।

    গত ১০ মে প্রথম রাউন্ডেই মোংলার দুটি দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও শিক্ষকদের সফর থেমে থাকেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, দল বাদ পড়ার দুই দিন পরও ফাইনাল খেলা দেখার অজুহাতে বুধবার সকালে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আবারও জেলা সদরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, এই সফরের পেছনে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, যা মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও শিক্ষা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল। অথচ চলমান পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মনোযোগ না দিয়ে শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডকে তারা দায়িত্বহীনতা ও অর্থের অপচয় হিসেবে দেখছেন।

    একাধিক অভিভাবক জানান, বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। এখন পরীক্ষা চললেও অনেক শিক্ষক স্কুলে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছে না। এতে করে শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আর শিক্ষকেরা সরকারি টাকায় আনন্দ ভ্রমণে ব্যস্ত। শিক্ষা ব্যবস্থার এমন দুরবস্থা আগে দেখা যায়নি।”

    এদিকে, এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক কীভাবে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা প্রশাসনের একাংশের নীরব সমর্থন থাকায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের মধ্যে চলেছে।

    ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পিন্টু রঞ্জন দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেননি।

    তবে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ললোন কুমার মন্ডল জানান, জেলা পর্যায়ের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা দেখার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। যদিও চলমান পরীক্ষা ও পাঠদান ব্যাহত করে একসঙ্গে এত শিক্ষক জেলা সদরে অবস্থান করাকে তিনি গুরুতর বিষয় বলে মন্তব্য করেন।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারমিন আক্তার সুমী বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি করে কোনো ধরনের ভ্রমণ বা বিলাসিতা মেনে নেওয়া হবে না। সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের সংঘর্ষ, উদ্ধার ৪ অপহৃত জেলে

    সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের সংঘর্ষ, উদ্ধার ৪ অপহৃত জেলে

    এবিএনএ: বাগেরহাটের সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দস্যুদের কবল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি দস্যুদের ফেলে যাওয়া একটি বন্দুক ও এক রাউন্ড গুলিও জব্দ করেছে বন বিভাগ।

    বুধবার (১৩ মে) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কোকিলমনি এলাকার সিঙারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের দাবি, অভিযানের মুখে দস্যুরা পালিয়ে যায় এবং তাদের ব্যবহৃত একটি ট্রলার ঘটনাস্থলে রেখে যায়।

    উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আবদুল বারেক খান, একই এলাকার মো. হাসান, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নাছিম এবং দাকোপ উপজেলার ইরাক শেখ।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথভাবে সিঙারটেক এলাকায় নিয়মিত টহলে ছিল। এ সময় বনদস্যুদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযান চালানো হয়। বনকর্মীদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দস্যুরা প্রথমে গুলি ছোড়ে। পরে আত্মরক্ষার্থে বনরক্ষীরাও পাল্টা গুলি চালায়।

    তিনি আরও জানান, বনরক্ষীরা দস্যুদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তাদের হাত-পা বাঁধা ছিল বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

    বর্তমানে উদ্ধার হওয়া জেলেরা শেলারচর টহল ফাঁড়ির হেফাজতে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    বন বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, এ ঘটনায় জড়িত দস্যুরা কুখ্যাত শরীফ বাহিনীর সদস্য। সুন্দরবনে দস্যু দমনে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

  • কচুয়ায় বিষখালী ভাঙনে ঝুঁকিতে বাধাল বাজার ব্রিজ, বন্ধ হতে পারে বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়ক

    কচুয়ায় বিষখালী ভাঙনে ঝুঁকিতে বাধাল বাজার ব্রিজ, বন্ধ হতে পারে বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়ক

    এবিএনএ, বাগেরহাট : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে বাধাল বাজার সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ (কালভার্ট) এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। এতে বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কে যান চলাচল যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি ঘিরে যাত্রী, চালক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি নদী খননের ফলে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে কালভার্টের পাশের মাটি সরে যেতে থাকে। এতে করে কাঠামোটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ব্রিজটির উইং ওয়ালের একটি অংশ ভেঙে গেছে এবং সড়কের উপর ফাটল দেখা দিয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার পূর্বাভাস দিচ্ছে।

    এই মহাসড়কটি বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মধ্যে অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য, মাছ এবং ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ব্রিজটি ধসে পড়লে দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

    এলাকাবাসী দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

    এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, নদী খননের কারণে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় এই ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড গ্রেপ্তার

    সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড গ্রেপ্তার

    এবিএনএ: সুন্দরবনে সক্রিয় কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড মো. আব্দুস সামাদ মোল্লা (৩৫) কে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যুদের দমনে কোস্টগার্ড কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

    তিনি বলেন, অভিযানের ধারাবাহিকতায় ছোট সুমন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, আব্দুস সামাদ মোল্লা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে সুন্দরবন থেকে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শুকদারা বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

    এই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১০টার দিকে কোস্টগার্ড বেইস মোংলার একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে মোংলা থানার আওতাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি এয়ার গান এবং দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    আটক আব্দুস সামাদ মোল্লা বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছোট সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দস্যু কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন বলে জানায় কোস্টগার্ড।

    আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ সংক্রান্ত আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলে অপহরণ

    সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলে অপহরণ

    এবিএনএ,মোংলা : বনদস্যু শরীফ বাহিনী সুন্দরবনের শুয়োর মারা খাল এলাকা থেকে অন্তত ১০ জেলেকে মুক্তিপনের দাবিতে অপহরণ করছে।

    এর মধ্যে ৫ জন বাগেরহাটের মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা। বাকিরা মোরেলগঞ্জ এলাকার । সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তবে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সত্যতা নিশ্চিত করতে তারা কাজ শুরু করেছেন।

    মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম নাসিম উদ্দিন জানান, সুন্দরবনের শুয়োর মারা খাল এলাকা থেকে ১১ জন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে বনদস্যু শরীফ বাহিনীর সদস্য। এরমধ্যে সবুর নামের এক জেলে  ২০ হাজার টাকা বকেয়া রেখে  ফিরে এসেছে। তার বাবা নাম আব্দুল হামিদ। সে সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা । এছাড়াও একই এলাকার মানিক শেখ,  আবু বকর গাজী, জাকির ফরাজী, নুরজামাল শিকদার, ওয়াহিদ মুন্সি কে জিম্মি রেখেছে। এসময়  মোরেলগঞ্জ এলাকার আরও ৫ জন তাদের হাতে জিম্মি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    দস্যুরা এখনও পর্যন্ত মুক্তিপন বিনিময় কি দিতে হবে তা জানায়নি।

    অপরদিকে, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের অপারেশন কর্মকর্তা  লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল  আরেফিন জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তারা তথ্য যাচাই ও বিশেষ নজরদার শুরু করেছেন।

  • বৈশাখী বিকেলে মোংলায় ঐতিহ্যের জোয়ার, ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলায় মুগ্ধ হাজারো দর্শক

    বৈশাখী বিকেলে মোংলায় ঐতিহ্যের জোয়ার, ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলায় মুগ্ধ হাজারো দর্শক

    এবিএনএ,মোংলা:পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে ঘিরে মোংলায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার বর্ণাঢ্য আয়োজন। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার এই লোকঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে জমজমাট প্রদর্শনীর আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল বহু পুরোনো ‘ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা’, যা দেখতে মাঠজুড়ে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।

    একসময় মোংলা ও আশপাশের এলাকায় জনপ্রিয় এই লাঠি খেলা আধুনিক বিনোদনের চাপে প্রায় বিলুপ্তির পথে। সেই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে ২০ সদস্যের একটি দল দৃষ্টিনন্দন কৌশল ও সমন্বিত প্রদর্শনী উপস্থাপন করে। ঢোলের তালে তালে লাঠির ঝংকার, দ্রুত গতির কসরত এবং রণকৌশল দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি করে বাড়তি উত্তেজনা। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষই এই আয়োজনে মুগ্ধ হন।

    অনুষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীরা জানান, বহু বছর পর এমন লোকজ আয়োজন দেখতে পেরে তারা আনন্দিত। অনেকেই বলেন, এ ধরনের খেলাধুলা নিয়মিত হলে তরুণ সমাজ ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে এবং সামাজিক অবক্ষয় কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. জুলফিকার আলী, মাহবুবুর রহমান মানিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ও শিশুরা।

    অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ধরে রাখতে দেশীয় খেলাধুলার বিকল্প নেই। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনা গেলে ব্যস্ত জীবনের মাঝেও মানুষ আনন্দ খুঁজে পাবে এবং নতুন প্রজন্ম শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত হবে।

    লাঠি খেলার দলনেতা মো. আবুল বসার জানান, ‘ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা’ দলটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের উদ্যোগেই এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে ভবিষ্যতে দলটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রয়োজন নিয়মিত সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা।

    প্রধান অতিথি ইউএনও শারমিন আক্তার সুমী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে লোকজ সংস্কৃতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। লাঠি খেলা শুধু বিনোদন নয়, এটি সাহস, শারীরিক সক্ষমতা এবং গ্রামবাংলার বীরত্বের প্রতীক। তিনি অভিভূত হয়ে আয়োজক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

    বৈশাখী এই আয়োজন শেষ হলেও দর্শকদের মনে রয়ে গেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের রঙিন স্মৃতি, আর সেই সঙ্গে প্রত্যাশা—এ ধরনের লোকজ উৎসব নিয়মিত হলে সংস্কৃতির শেকড় আরও দৃঢ় হবে।

  • চিতলমারীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর  অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক

    চিতলমারীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক

    এবিএনএ: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও বাড়ছে ক্ষোভ।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রভাব বিস্তার করে তিনি এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। তার কর্মকাণ্ডে অনেকেই আতঙ্কে থাকেন এবং প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও দাবি উঠেছে।

    এলাকায় এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনেও তার ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতা মো. আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। সময়ের সঙ্গে এসব অভিযোগ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।

    তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অবৈধ জুয়ার আসর পরিচালনা, প্রতারণা এবং অন্যের সম্পত্তি দখলের মতো অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

    শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, চিতলমারী শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজে একটি পদে থাকতে তিনি স্নাতক পাসের একটি ভুয়া সনদ জমা দেন। পরে যাচাইয়ে সেটি জাল বলে প্রমাণিত হয়।

    এছাড়া জমি সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়, অল্প পরিমাণ জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিপুল পরিমাণ জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নিজের নামে নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি পরবর্তীতে ধরা পড়ে।

    এসব ঘটনার জেরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় অস্থিরতা ও আতঙ্ক বাড়ছে বলে জানা গেছে।

    তবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতা মো. আহসান হাবিব। তিনি বলেন, “অ্যাডভোকেট লাভলু নামে এক ব্যক্তি ভুয়া আইডি ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি রাজনীতি করি বলেই প্রতিপক্ষরা আমাকে হেয় করতে এসব মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।”

  • বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুরের মৃত্যু: তদন্তের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস

    বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুরের মৃত্যু: তদন্তের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর, দোষীদের শাস্তির আশ্বাস

    এবিএনএ: বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণ করলেও প্রাণীটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে না আসায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ঘটনাটি নজরে আসার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

    মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনাটি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবেও মর্মাহত। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তদন্ত কমিটি গঠন

    প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    কমিটিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. শরীফ খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার দাস এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহামুদ-উল-হাসান সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

    পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বাগেরহাটে চাঞ্চল্য: খান জাহান আলীর দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে কুকুর নিহত, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

    বাগেরহাটে চাঞ্চল্য: খান জাহান আলীর দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে কুকুর নিহত, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে এক কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরটি দিঘির প্রধান ঘাট এলাকা থেকে কুকুরটিকে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। এই ঘটনার একটি ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা বিতর্ক।

    অনলাইনে অনেকেই দাবি করেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে ফেলা হয়েছে। আবার কেউ অভিযোগ তোলেন, কুমিরকে নিয়মিতভাবে প্রাণী খাওয়ানো হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ভিডিও পর্যবেক্ষণে এসব দাবির সত্যতা মেলেনি।

    জানা গেছে, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং ঘটনার আগে কয়েকজন মানুষকে কামড় দেয়। পরে নিজেই ঘাটের দিকে গিয়ে পানিতে নামে। এ সময় কুমিরটি সুযোগ বুঝে আক্রমণ চালায়।

    ঘটনার সময় সেখানে অনেক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার জানান, কুকুরটি প্রথমে তাকে কামড় দেয় এবং পরে আশপাশে থাকা লোকজনের দিকে তেড়ে যায়। পরে পানিতে নামার পর কুমিরটি তাকে ধরে ফেলে। কিছু সময় পর দিঘির অন্য পাশে কুকুরটির মরদেহ ভেসে ওঠে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ী বিনা আক্তার বলেন, কুকুরটি তার দোকানের সামনে কয়েকজনকে আক্রমণ করে এবং একটি শিশুকেও কামড় দেয়। এছাড়া তার কয়েকটি মুরগিও মেরে ফেলে।

    স্থানীয়দের মতে, কুমিরটি সম্প্রতি ডিম পাড়ায় আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। ফলে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।

    মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কুকুরটিকে কেউ বেঁধে পানিতে ফেলেছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

    এদিকে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, কুমিরকে কখনোই কুকুর খাওয়ানো হয় না এবং কুসংস্কার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।