চিতলমারীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক

এবিএনএ: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও বাড়ছে ক্ষোভ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রভাব বিস্তার করে তিনি এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। তার কর্মকাণ্ডে অনেকেই আতঙ্কে থাকেন এবং প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও দাবি উঠেছে।

এলাকায় এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনেও তার ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতা মো. আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। সময়ের সঙ্গে এসব অভিযোগ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।

তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অবৈধ জুয়ার আসর পরিচালনা, প্রতারণা এবং অন্যের সম্পত্তি দখলের মতো অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, চিতলমারী শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজে একটি পদে থাকতে তিনি স্নাতক পাসের একটি ভুয়া সনদ জমা দেন। পরে যাচাইয়ে সেটি জাল বলে প্রমাণিত হয়।

এছাড়া জমি সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়, অল্প পরিমাণ জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিপুল পরিমাণ জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নিজের নামে নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি পরবর্তীতে ধরা পড়ে।

এসব ঘটনার জেরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় অস্থিরতা ও আতঙ্ক বাড়ছে বলে জানা গেছে।

তবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতা মো. আহসান হাবিব। তিনি বলেন, “অ্যাডভোকেট লাভলু নামে এক ব্যক্তি ভুয়া আইডি ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি রাজনীতি করি বলেই প্রতিপক্ষরা আমাকে হেয় করতে এসব মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।”

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *