Tag: স্থানীয় সংবাদ

  • কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যাকাণ্ড: চারজনের নামসহ দুই শতাধিক অজ্ঞাত আসামি, দায়ের হলো হত্যা মামলা

    কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যাকাণ্ড: চারজনের নামসহ দুই শতাধিক অজ্ঞাত আসামি, দায়ের হলো হত্যা মামলা

    এবিএনএ: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি করেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও প্রায় দুই শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

    মামলার অভিযোগে পীরের দরবারে হামলার ঘটনায় উস্কানির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের নামসহ অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

    এর আগে নিহত পীর শামীমের পরিবার মামলা না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা যায়। তবে পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলা দায়ের করা হয়।

    উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে ও তার অনুসারীদের মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    পরদিন রোববার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যার দিকে ফিলিপনগরের পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

  • চিতলমারীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর  অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক

    চিতলমারীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক

    এবিএনএ: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও বাড়ছে ক্ষোভ।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রভাব বিস্তার করে তিনি এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। তার কর্মকাণ্ডে অনেকেই আতঙ্কে থাকেন এবং প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও দাবি উঠেছে।

    এলাকায় এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনেও তার ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতা মো. আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। সময়ের সঙ্গে এসব অভিযোগ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।

    তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অবৈধ জুয়ার আসর পরিচালনা, প্রতারণা এবং অন্যের সম্পত্তি দখলের মতো অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

    শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, চিতলমারী শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজে একটি পদে থাকতে তিনি স্নাতক পাসের একটি ভুয়া সনদ জমা দেন। পরে যাচাইয়ে সেটি জাল বলে প্রমাণিত হয়।

    এছাড়া জমি সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়, অল্প পরিমাণ জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিপুল পরিমাণ জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নিজের নামে নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি পরবর্তীতে ধরা পড়ে।

    এসব ঘটনার জেরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় অস্থিরতা ও আতঙ্ক বাড়ছে বলে জানা গেছে।

    তবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতা মো. আহসান হাবিব। তিনি বলেন, “অ্যাডভোকেট লাভলু নামে এক ব্যক্তি ভুয়া আইডি ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি রাজনীতি করি বলেই প্রতিপক্ষরা আমাকে হেয় করতে এসব মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।”

  • গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, তিন ইউনিটের লড়াই—কারণ অজানা

    গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, তিন ইউনিটের লড়াই—কারণ অজানা

    এবিএনএ: গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট এলাকার একটি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

    ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে বস্তির ভেতরে আগুন লাগে। আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

    তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত হতাহতেরও কোনো খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার পর বস্তির মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়।

    ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আশপাশের ঘরবাড়িতে পানি ছিটাচ্ছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

  • মোংলায় ঈদের রাতে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কেটে দিলো ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি

    মোংলায় ঈদের রাতে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কেটে দিলো ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি

    এবিএনএ,মোংলা: মোংলায় ঈদের দিন রাতের আঁধারে চিংড়ির ঘেরের বাঁধ কেটে অন্য ঘেরের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা তলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহিল মারুফ সহ তার দলবল। এতে ঘের মালিকের কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘের দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী।

    মোংলা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, উপজেলার জয়খাঁ গ্রামের দীর্ঘদিন ধরে নিজের ১৮ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ করে আসছে স্থানীয় বাসিন্দা শেখ নাজিম উদ্দিন (৫৩)। তার ওই ঘেরটি দখলে নেয়ার জন্য শনিবার দিবাগত রাতের অন্ধকারে (ঈদের দিন রাতে) ২৫/৩০ জন নিয়ে ওই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মারুফ ও যুবদল নেতা মহিদুল সহ ঘেরে গিয়ে ঘেরের বাঁধ কেটে পাশের ঘোরের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে।

    সোনাইলতলা ইউনিয়নের প্রভাবশালী এ বিএনপির সভাপতি মারুফ (৪৫) ও মহিদুল শেখের নেতৃত্বে নাজিমের ঘেরের ভেঁড়ীর ৮ জায়গায় বাঁধ কেটে দেয়। এতে মাছ বেরিয়ে যাওয়া ঘের মালিকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মারুফ ও মহিদুল এরআগেও নাজিমের এই চিংড়ি ঘের দখলে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

    এ ঘটনায় ঘের মালিক রোববার দুপুরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মারুফ ও যুবদল নেতা মহিদুলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন

    মোংলা থানার ওসি শেখ শাহিনুর রহমান জানান, সোনাইলতলা ইউনিয়নের জয়খাঁ গ্রামের চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কাটার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলমান। সত্যতা পেলে ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন থানার এ কর্মকর্তা।

  • ঈদের আগে কচুয়ায় আগুনের তাণ্ডব: মুহূর্তেই পুড়ে ছাই ৯ দোকান, পথে বসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

    ঈদের আগে কচুয়ায় আগুনের তাণ্ডব: মুহূর্তেই পুড়ে ছাই ৯ দোকান, পথে বসার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় ঈদের ঠিক আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ৯টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোররাতে উপজেলা সদরের বাজার ব্রিজ সংলগ্ন মঘিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, আগুন লাগার পরপরই খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীও আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এরই মধ্যে ৯টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

    ঈদের আগমুহূর্তে এমন বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অনেক ব্যবসায়ীর জন্য এসব দোকানই ছিল জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম।

    ক্ষতিগ্রস্ত চায়ের দোকানদার সোহাগ মাঝি জানান, ঋণ নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ঈদ উপলক্ষে নতুন পণ্য মজুদ ও দুটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

    অন্যদিকে ‘মীম অ্যান্ড মুন’ সারের দোকানের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে তার দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার সার মজুদ ছিল, যা পুরোপুরি আগুনে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা কেন্দ্র, লন্ড্রি ও সেলুনসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

    এছাড়া সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ ও টিন সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    এ ঘটনায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • বাগেরহাটে ভয়াবহ আগুন: পুরোনো শীত কাপড় মার্কেট পুড়ে ছাই, দেড় কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

    বাগেরহাটে ভয়াবহ আগুন: পুরোনো শীত কাপড় মার্কেট পুড়ে ছাই, দেড় কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

    এবিএনএ: বাগেরহাট শহরের পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরোনো শীত কাপড় মার্কেটের ১৫টি দোকান ও একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

    মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত পুরোনো শীত কাপড়ের এই মার্কেটে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

    ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ১৫টি পুরোনো কাপড়ের দোকানের সব মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঈদ সামনে রেখে অনেক ব্যবসায়ী নতুন পণ্য মজুদ করছিলেন, পাশাপাশি দোকানে নগদ অর্থও ছিল বলে জানান তারা।

    আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অন্যতম মালিক জাহিদ চাকলাদার বলেন, দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে। আগুনে আমাদের সব যন্ত্রপাতি ও কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

    একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ব্যবসায়ী লিটু খান জানান, ঋণ করে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। ঈদের প্রস্তুতির জন্য দোকানে পণ্য ও নগদ টাকা রাখা ছিল, আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

  • বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর প্রতিক বরাদ্দ, তিন আসনে নির্বাচন করা সেলিমের প্রতিক ঘোড়া

    বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর প্রতিক বরাদ্দ, তিন আসনে নির্বাচন করা সেলিমের প্রতিক ঘোড়া

    এবিএনএ, ‎বাগেরহাট: ‎বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনে ২৩ জন প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিক বরাদ্দ করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলার বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৩ তিনটি আসন থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এম,এ,এইচ সেলিম নিয়েছেন ঘোড়া প্রতিক। বাগেরহাট-১ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. শেখ মাসুদ রানা ফুটবল প্রতিক ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন পেয়েছেন হরিণ প্রতিক। বুধবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ করা হয়।

    বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, জামায়াতের মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আবু সবুর শেখ, এবি পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি-জেপি‘র স, ম, গোলাম সরোয়ার, মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হকের মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ করা হয়েছে।

    বাগেরহাট-২ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এম,এ,এইচ সেলিম নিয়েছেন ঘোড়া প্রতিক। এ আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, জামায়াতের শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ও ইসলামী আন্দোলনের এ্যাড. আতিয়ার রহমানের মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ করা হয়েছে।

    বাগেরহাট-৩ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এম,এ,এইচ সেলিম নিয়েছেন ঘোড়া প্রতিক। এ আসনে বিএনপির ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জামায়াতের এ্য্যড. আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামী আন্দোলনের জিল্লুর রহমান, জাসাদের মো. হাবিবুর রহমান মাস্টারের মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বাগেরহাট-৪ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন পেয়েছেন হরিণ প্রতিক। এছাড়া এই আসনে বিএনপির সোমনাথ দে, জামায়াতের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, ইসলামী আন্দোলনে ওমর ফারুক, জাতীয় জাসদেও মো. আ. লতিফ খান, জাতীয় পার্টি-জেপি‘র সাজন কুমার মিস্ত্রির মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ করা হয়েছে।

  • পুকুরের পানিতে মিলল নিথর দেহ, শরণখোলায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

    পুকুরের পানিতে মিলল নিথর দেহ, শরণখোলায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

    এবিএনএ(শরণখোলা) বাগেরহাট: শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে সাব্বির হাওলাদার (২৫) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সাব্বির হাওলাদার রতিয়া রাজাপুর গ্রামের ইউনূস হাওলাদারের ছেলে।

    নিহতের বাবা ইউনূস হাওলাদার বলেন, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সাব্বির চা খাওয়ার জন্য দোকানে যায়। পরবর্তীতে আর বাড়িতে ফিরে না আসলে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সকালে বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে জুতা দেখে পুকুরে নেমে খোঁজা করা হলে সাব্বিরের মরদেহ পাওয়া যায়। পূর্ব শত্রুতার কারণে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করেন নিহত সাব্বিরের বাবা। তিনি অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের দাবী জানান।

    নিহত সাব্বিরের পরিবার থেকে জানা যায়, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুর্বশত্রুতার জেরে সাব্বিরকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। নিহত সাব্বিরকে বছর খানেক পূর্বে বাড়ির সামনে বসেই মারাত্মক জখম করে অভিযুক্ত প্রতিবেশী। পরিবারের সদস্যদের দাবি যে অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে সাব্বিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে উক্ত ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানায়।

    শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শামিনুল হক বলেন, সকালে খবর পেয়ে শরণখোলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে প্রকৃত কারন জানার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।