Tag: চাঁদাবাজি

  • ‘মঈন বাহিনীর’ দৌরাত্ম্য: দেড় বছরে প্রায় ৬০ হাসপাতালে চাঁদাবাজি, মূলহোতাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

    ‘মঈন বাহিনীর’ দৌরাত্ম্য: দেড় বছরে প্রায় ৬০ হাসপাতালে চাঁদাবাজি, মূলহোতাসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

    এবিএনএ: রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় ‘মঈন বাহিনী’ নামে একটি চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির মূলহোতা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে এই চক্রটি এলাকায় অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেছে। শুধু হাসপাতালই নয়, সাধারণ মানুষের বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

    গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই বাহিনী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা দখলের হুমকি দেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক জানান, আগে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। পরে তা বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশ ও প্রতিষ্ঠান দখলের ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    চক্রটির বিরুদ্ধে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন মোড়ে তাদের সদস্যরা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে এবং প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

    গোয়েন্দা সূত্র বলছে, মঈনের সঙ্গে কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী সক্রিয়ভাবে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সামনে আসে। এ ঘটনায় র‍্যাব অভিযান চালিয়ে প্রথমে কয়েকজন সহযোগীকে আটক করে। পরে পৃথক অভিযানে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সবশেষে মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া এলাকা থেকে আটক করা হয়।

    র‍্যাব জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয় এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। তদন্তের ভিত্তিতে একাধিক ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মঈন বাহিনীর চাঁদাবাজির শিকার কেউ থাকলে লিখিত অভিযোগ দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে শেরেবাংলা নগর থানায় মঈন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে আরও অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • চিতলমারীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর  অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক

    চিতলমারীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক

    এবিএনএ: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও বাড়ছে ক্ষোভ।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রভাব বিস্তার করে তিনি এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। তার কর্মকাণ্ডে অনেকেই আতঙ্কে থাকেন এবং প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও দাবি উঠেছে।

    এলাকায় এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনেও তার ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতা মো. আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। সময়ের সঙ্গে এসব অভিযোগ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।

    তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অবৈধ জুয়ার আসর পরিচালনা, প্রতারণা এবং অন্যের সম্পত্তি দখলের মতো অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

    শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, চিতলমারী শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজে একটি পদে থাকতে তিনি স্নাতক পাসের একটি ভুয়া সনদ জমা দেন। পরে যাচাইয়ে সেটি জাল বলে প্রমাণিত হয়।

    এছাড়া জমি সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়, অল্প পরিমাণ জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিপুল পরিমাণ জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নিজের নামে নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি পরবর্তীতে ধরা পড়ে।

    এসব ঘটনার জেরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় অস্থিরতা ও আতঙ্ক বাড়ছে বলে জানা গেছে।

    তবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতা মো. আহসান হাবিব। তিনি বলেন, “অ্যাডভোকেট লাভলু নামে এক ব্যক্তি ভুয়া আইডি ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি রাজনীতি করি বলেই প্রতিপক্ষরা আমাকে হেয় করতে এসব মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।”

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবন এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত আসাবুর বাহিনীর প্রধান সহযোগী রবিউল ইসলামকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।

    বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আসাবুর বাহিনীর প্রধান মোবাইল ফোন ব্যবহার করে জেলেদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিল। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবিউল ইসলামকে অস্ত্রসহ সুন্দরবনে পাঠানো হয়।

    এ তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন দুপুর ২টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও নলিয়ান আউটপোস্টের সমন্বয়ে শিবসা নদীর কুমারখালি খাল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ওই এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে রবিউল ইসলাম (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    আটক রবিউল খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সে আসাবুর বাহিনীর হয়ে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানায় কোস্ট গার্ড।

    কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, রবিউলকে গ্রেপ্তারের ফলে আসাবুর বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে এবং তাদের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

    আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • চাঁদাবাজির রাজনীতি আর নয়, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ডা. শফিকুর রহমানের

    চাঁদাবাজির রাজনীতি আর নয়, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ডা. শফিকুর রহমানের

    এবিএনএ: সারাদেশে বেসরকারি ট্যাক্সের নামে চলমান চাঁদাবাজির সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে তা সম্পূর্ণ নির্মূলের অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য ইনসাফ নিশ্চিত না হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে মিরপুর-১০ এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় করের বাইরে এক ধরনের অবৈধ ট্যাক্স দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোট দোকানদার, হকার, পথচারী এমনকি ভিক্ষুকদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী চাঁদা নেবে না, চাঁদা দেবে না এবং দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না।

    বিএনপির দুই হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের সাময়িক সহায়তা স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এসব উদ্যোগে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুবিধা নেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়, যা অতীতে বহুবার দেখা গেছে।

    ইনসাফের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজে বৈষম্য, লুটপাট ও দুঃশাসনের মূল কারণ ন্যায়বিচারের অভাব। ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীরা কখনোই নিরাপদে দেশ ছাড়তে পারত না।

    গত দেড় দশকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের শাসনে বহু মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখনো অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

    জনসভায় উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ আর কোনো ভোট ডাকাতকে ক্ষমা করবে না। যারা নিজেদের দলের ভেতরে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন করতে পারবে, তারাই দেশকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে সক্ষম হবে।

    মিরপুর এলাকার অবকাঠামোগত দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, খালগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানসম্মত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মিরপুরকে একটি আদর্শ এলাকায় পরিণত করা হবে। তরুণ সমাজকে কেবল সার্টিফিকেটধারী নয়, নৈতিকতা ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

  • চাঁদাবাজি বেড়েছে ৫ আগস্টের পর, ফেব্রুয়ারিতে ফেরত আসতে পারে পাচার হওয়া অর্থ: ড. সালেহউদ্দিন

    চাঁদাবাজি বেড়েছে ৫ আগস্টের পর, ফেব্রুয়ারিতে ফেরত আসতে পারে পাচার হওয়া অর্থ: ড. সালেহউদ্দিন

    এবিএনএ:  গত বছরের ৫ আগস্টের পর দেশে চাঁদাবাজির প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আগে যেখানে এক টাকা চাঁদা নেওয়া হতো, এখন তা বেড়ে দেড় বা দুই টাকা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এতে অনেক পক্ষ জড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যরাও চাঁদাবাজিতে জড়িত।”

    তিনি আরও জানান, চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগামী জুন নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

    পাচার হওয়া অর্থ ফেরার সম্ভাবনা ফেব্রুয়ারিতে

    অর্থ উপদেষ্টা জানান, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফেরত আসতে পারে। বিষয়টি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হলেও এ নিয়ে আন্তর্জাতিক লিগ্যাল ফার্মগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে কিছু বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজও করা হয়েছে। তবে সঠিক অঙ্ক জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলতে পারবেন।”

    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু ডিসেম্বরে

    তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরীক্ষামূলকভাবে ডিসেম্বরে চালু হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রের জ্বালানি এসে গেছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সুপারিশ বাস্তবায়ন চলছে। তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম এখনো নির্ধারণ হয়নি।

    ব্যক্তিগত মতামত

    ড. সালেহউদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, তার মন্ত্রী হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি যোগ করেন, “আমি যেখানে কাজ করেছি, সততার সঙ্গে করেছি। তিনটি সরকারের সময়ই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি।”

    খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি সমস্যা

    অর্থ উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি বলেন, “আমাদের খাদ্যাভ্যাস এখনো সুষম নয়। চালের ওপর নির্ভরতা বেশি, আমিষ গ্রহণ কম। ডিমের মতো সহজলভ্য আমিষও অনেকেই কিনতে পারছে না।”

  • চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ছাত্রনেতাদের আদালত প্রাঙ্গণে মারধর

    চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ছাত্রনেতাদের আদালত প্রাঙ্গণে মারধর

    এবিএনএ:  রাজধানীর গুলশানে সাবেক মহিলা এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবি করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের চার নেতাকে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজিত জনতা কিল-ঘুষি ও লাথি মারে।

    ঘটনাটি ঘটে রোববার বিকালে রিমান্ড শুনানির আগে ও পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রাঙ্গণে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন– ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব এবং আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ। পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আদালত তাদের প্রত্যেককে ৭ দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

    আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, এই চক্র গত বছর আগস্ট থেকে ধানমন্ডি, গুলশান ও বনানী এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসায় গিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতো এবং পরবর্তীতে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে উল্লাস প্রকাশ করত। এমনকি তারা বিভিন্ন সময়ে তারেক রহমানকেও কটাক্ষ করত।

    রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, অভিযুক্তরা শেখ হাসিনাকে ‘পালিয়ে থাকা’ বলে মন্তব্য করে এবং এনসিপির ব্যানারে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালাতো। তাদের রিমান্ডে এনে কোটি টাকার অবৈধ উৎস সম্পর্কে জানা যাবে বলে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ।

    অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, আসামিরা বাসায় যাওয়ার আগে থানায় জানিয়ে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তবে আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আবারও উত্তেজিত জনতা আসামিদের মারধর করে।

    প্রসঙ্গত, ২৬ জুলাই রাতে গুলশানের সেই বাসায় চাঁদাবাজির সময় পুলিশ চারজনকে হাতেনাতে আটক করে। গ্রেফতারের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

  • গুলশানে চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘বৈষম্যবিরোধী নেতা’ রিয়াদসহ ৪ জন ৭ দিনের রিমান্ডে

    গুলশানে চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘বৈষম্যবিরোধী নেতা’ রিয়াদসহ ৪ জন ৭ দিনের রিমান্ডে

    এবিএনএ:  গুলশানের একটি বাসায় সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদসহ চারজনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    রবিবার (২৭ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমান এই আদেশ দেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য তিন আসামি হলেন—সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব এবং মো. ইব্রাহিম হোসেন।

    এর আগে, গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান রিয়াদসহ চারজনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। একই সঙ্গে ‘আইনের সংঘাতে জড়িত’ এক কিশোর আমিনুল ইসলামকে হেফাজতে রাখার আবেদন জানানো হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন, এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী আক্তার হোসেন ভূঁইয়া রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে প্রত্যেকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার বাদী সিদ্দিক আবু জাফরের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ১৭ জুলাই সকালে আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ ও কাজী গৌরব অপু গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডে অবস্থিত শাম্মী আহমেদের বাসায় যান এবং ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করেন। তারা হুমকি দিয়ে বলেন, দাবিকৃত অর্থ না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন এবং ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে অপবাদ দেবেন।

    চাপে পড়ে বাদী সিদ্দিক তার নিজের ও ভাইয়ের কাছ থেকে মোট ১০ লাখ টাকা দেন। এরপর ১৯ জুলাই রাত ১০টার দিকে আসামিরা বাদীর বাসায় ফের অনুপ্রবেশ করেন এবং দরজায় ধাক্কা দেন। ২৬ জুলাই বিকেলেও রিয়াদের নেতৃত্বে আসামিরা ফের এসে বাকি ৪০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকি দেন।

    গুলশান থানায় অবহিত করার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তবে এজাহারভুক্ত আসামি কাজী গৌরব অপু পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

    এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় তদন্ত চলছে।

  • গুলশানে সাবেক এমপির কাছ থেকে চাঁদা তুলতে গিয়ে ধরা খেল ছাত্রনেতা, গ্রেফতার ৫

    গুলশানে সাবেক এমপির কাছ থেকে চাঁদা তুলতে গিয়ে ধরা খেল ছাত্রনেতা, গ্রেফতার ৫

    এবিএনএ:  রাজধানীর গুলশানে সাবেক এক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন পাঁচজন। এদের মধ্যে একজন হলেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদ।

    শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশান ৮৩ নম্বর রোডে ১০ লাখ টাকা নিতে গেলে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদ আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত পাঁচজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রিয়াদ গুলশান এলাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনি ও তার সহযোগীরা সাবেক ওই এমপির কাছে নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন।

    ওসি জানান, ওই সাবেক এমপি বিষয়টি গুলশান থানায় জানানোর পর পুলিশ আগে থেকেই নজর রাখছিল। টাকা লেনদেনের সময় অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরা হয়।

    ঘটনার পর গোটা গুলশান এলাকায় ছাত্র রাজনীতির একটি নতুন চেহারা উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ছাত্রনেতা পরিচয়ে কেউ যদি অপরাধে জড়ায়, তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

  • পাঁচ কোটি টাকার চাঁদা না পেয়ে পল্লবীতে গুলি ও হামলা, গ্রেপ্তার তিন সন্ত্রাসী

    পাঁচ কোটি টাকার চাঁদা না পেয়ে পল্লবীতে গুলি ও হামলা, গ্রেপ্তার তিন সন্ত্রাসী

    এবিএনএ: রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আবাসন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ করে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে ব্যর্থ হয়ে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা হামলা ও গুলি চালিয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের নাম—মামুন মোল্লা, মোহাম্মদ রায়হান ও নিলয় হোসেন বাপ্পী। শনিবার রাতে পল্লবী থানা পুলিশের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

    প্রতিষ্ঠানটির নাম এ কে বিল্ডার্স। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পল্লবীর আলাব্দিরটেক এলাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে ৩০-৩৫ জনের একটি দল প্রবেশ করে হঠাৎই হামলা চালায়। তাদের মধ্যে কেউ চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় শরিফুল ইসলাম নামে এক কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার রাতে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

    পল্লবী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের রোববার আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ, যাতে ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা যায়।

    পুলিশ বলছে, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা। চাঁদা আদায় করতে ব্যর্থ হয়েই এমন সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

  • পাটগ্রাম থানায় ভয়াবহ হামলা: সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি ছিনতাই, আহত অন্তত ২৫

    পাটগ্রাম থানায় ভয়াবহ হামলা: সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি ছিনতাই, আহত অন্তত ২৫

    এবিএনএ, লালমনিরহাট
    লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় সংঘটিত এক ভয়াবহ হামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই হামলায় থানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

    সূত্র জানায়, পাথরবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছিল দুই আসামি—বেলাল হোসেন ও সোহেল রানা চপলকে। তবে রাতেই ২০০-২৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল থানা চত্বরে ঢুকে হামলা চালায় এবং আসামিদের ছিনিয়ে নেয়। তারা থানার আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ভাঙচুর করে এবং নথিপত্র তছনছ করে।

    রাজনৈতিক দোষারোপ ও বিভাজন

    এই ঘটনার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম সামাজিক মাধ্যমে এই হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন। তার দাবি, ইউএনওর নির্দেশে সাজা পাওয়া আসামিদের ছিনিয়ে নিতে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায়।

    তবে পাটগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল এই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “বিএনপি বিশৃঙ্খলা সমর্থন করে না। জামায়াত বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

    ঘুষের অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য

    পাথর মহালের ইজারাদার মাহমুদ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ইউএনও ও ওসি ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং থানায় গিয়ে তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন।

    ইউএনও উত্তম কুমার দাস বলেন, “পাথর কোয়ারির শর্ত ভঙ্গ করে মহাসড়কে চাঁদা তোলা হচ্ছিল। এজন্যই দুই ব্যক্তিকে আটক করে সাজা দেওয়া হয়।”

    তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদার

    রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, থানায় হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক জানান, পাথর উত্তোলনে নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করে কেউ কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    পরিস্থিতির মূল্যায়ন

    পাটগ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সংশ্লিষ্ট মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা থেকে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ঘুষ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক দলগুলোর অপব্যবহারে সাধারণ মানুষ আর কত ভুগবে? এখন অপেক্ষা বিচার এবং সত্য উদঘাটনের।