Tag: মোংলা

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    এবিএনএ: সুন্দরবনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

    রবিবার (১৭ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে পশ্চিম জোন সদর দপ্তর মোংলায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন।

    কোস্ট গার্ড জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূলে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ দফার অভিযানে এই সাফল্য আসে।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল এলাকায় অবস্থান করছে। পরে রবিবার ভোর চারটার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

    অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    আটক দুই ডাকাত হলেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)। কোস্ট গার্ডের দাবি, রাজন শরীফ দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

    অভিযান চলাকালে ডাকাতদের কবল থেকে চার জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

    এদিকে জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • মোংলায় পরীক্ষা চলাকালে সরকারি টাকায় শিক্ষকদের ‘ফুটবল ভ্রমণ’! ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ৫০ শিক্ষকের জেলা সফরে ক্ষোভ

    মোংলায় পরীক্ষা চলাকালে সরকারি টাকায় শিক্ষকদের ‘ফুটবল ভ্রমণ’! ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ৫০ শিক্ষকের জেলা সফরে ক্ষোভ

    এবিএনএ: মোংলা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলমান থাকলেও উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্লাসে অনুপস্থিত থেকে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ফুটবল খেলা দেখতে জেলা সদরে ভ্রমণে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়ন থেকে মোট ১৪টি দল এবারের জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে বালক বিভাগে মোংলা দ্বিগরাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালিকা বিভাগে উত্তর বাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

    নিয়ম অনুযায়ী সীমিতসংখ্যক শিক্ষক দলের সঙ্গে থাকার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, খেলা উপলক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই অন্তত ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা জেলা সদরে অবস্থান করেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা খেলায় দায়িত্ব পালনের চেয়ে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরিতেই বেশি সময় কাটান।

    গত ১০ মে প্রথম রাউন্ডেই মোংলার দুটি দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও শিক্ষকদের সফর থেমে থাকেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, দল বাদ পড়ার দুই দিন পরও ফাইনাল খেলা দেখার অজুহাতে বুধবার সকালে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আবারও জেলা সদরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, এই সফরের পেছনে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, যা মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও শিক্ষা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল। অথচ চলমান পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মনোযোগ না দিয়ে শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডকে তারা দায়িত্বহীনতা ও অর্থের অপচয় হিসেবে দেখছেন।

    একাধিক অভিভাবক জানান, বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। এখন পরীক্ষা চললেও অনেক শিক্ষক স্কুলে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছে না। এতে করে শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আর শিক্ষকেরা সরকারি টাকায় আনন্দ ভ্রমণে ব্যস্ত। শিক্ষা ব্যবস্থার এমন দুরবস্থা আগে দেখা যায়নি।”

    এদিকে, এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক কীভাবে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা প্রশাসনের একাংশের নীরব সমর্থন থাকায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের মধ্যে চলেছে।

    ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পিন্টু রঞ্জন দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেননি।

    তবে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ললোন কুমার মন্ডল জানান, জেলা পর্যায়ের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা দেখার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। যদিও চলমান পরীক্ষা ও পাঠদান ব্যাহত করে একসঙ্গে এত শিক্ষক জেলা সদরে অবস্থান করাকে তিনি গুরুতর বিষয় বলে মন্তব্য করেন।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারমিন আক্তার সুমী বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি করে কোনো ধরনের ভ্রমণ বা বিলাসিতা মেনে নেওয়া হবে না। সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক

    সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক

    মাসুদ রানা,মোংলা: অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড এ সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধানকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

    মঙ্গলবার ১২ মে  সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। এছাড়া কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (সদর দপ্তর মোংলায় ) ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় ব্রিফিং প্রদান করেন  লেঃ ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ,(এক্স), বিএন, নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস তৌহিদ।

    মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে চতুর্থ বারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” -এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।

    সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানা যায়। প গোপন তথ্যের ভিত্তিতে,  ১২ মে  মঙ্গলবার মধ্যরাত ১ টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে ২ টি একনলা বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ আটক করা হয়।

    আটককৃত ডাকাত মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীর (৫৬) নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ এ বাহিনীর প্রধান হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

  • সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলে অপহরণ

    সুন্দরবনে বনদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলে অপহরণ

    এবিএনএ,মোংলা : বনদস্যু শরীফ বাহিনী সুন্দরবনের শুয়োর মারা খাল এলাকা থেকে অন্তত ১০ জেলেকে মুক্তিপনের দাবিতে অপহরণ করছে।

    এর মধ্যে ৫ জন বাগেরহাটের মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা। বাকিরা মোরেলগঞ্জ এলাকার । সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তবে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সত্যতা নিশ্চিত করতে তারা কাজ শুরু করেছেন।

    মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম নাসিম উদ্দিন জানান, সুন্দরবনের শুয়োর মারা খাল এলাকা থেকে ১১ জন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে বনদস্যু শরীফ বাহিনীর সদস্য। এরমধ্যে সবুর নামের এক জেলে  ২০ হাজার টাকা বকেয়া রেখে  ফিরে এসেছে। তার বাবা নাম আব্দুল হামিদ। সে সুন্দরবন ইউনিয়নের বাসিন্দা । এছাড়াও একই এলাকার মানিক শেখ,  আবু বকর গাজী, জাকির ফরাজী, নুরজামাল শিকদার, ওয়াহিদ মুন্সি কে জিম্মি রেখেছে। এসময়  মোরেলগঞ্জ এলাকার আরও ৫ জন তাদের হাতে জিম্মি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    দস্যুরা এখনও পর্যন্ত মুক্তিপন বিনিময় কি দিতে হবে তা জানায়নি।

    অপরদিকে, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের অপারেশন কর্মকর্তা  লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল  আরেফিন জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনা সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তারা তথ্য যাচাই ও বিশেষ নজরদার শুরু করেছেন।

  • বৈশাখী বিকেলে মোংলায় ঐতিহ্যের জোয়ার, ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলায় মুগ্ধ হাজারো দর্শক

    বৈশাখী বিকেলে মোংলায় ঐতিহ্যের জোয়ার, ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলায় মুগ্ধ হাজারো দর্শক

    এবিএনএ,মোংলা:পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে ঘিরে মোংলায় অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার বর্ণাঢ্য আয়োজন। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার এই লোকঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে জমজমাট প্রদর্শনীর আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল বহু পুরোনো ‘ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা’, যা দেখতে মাঠজুড়ে ভিড় করেন হাজারো দর্শক।

    একসময় মোংলা ও আশপাশের এলাকায় জনপ্রিয় এই লাঠি খেলা আধুনিক বিনোদনের চাপে প্রায় বিলুপ্তির পথে। সেই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে ২০ সদস্যের একটি দল দৃষ্টিনন্দন কৌশল ও সমন্বিত প্রদর্শনী উপস্থাপন করে। ঢোলের তালে তালে লাঠির ঝংকার, দ্রুত গতির কসরত এবং রণকৌশল দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি করে বাড়তি উত্তেজনা। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষই এই আয়োজনে মুগ্ধ হন।

    অনুষ্ঠানে আগত দর্শনার্থীরা জানান, বহু বছর পর এমন লোকজ আয়োজন দেখতে পেরে তারা আনন্দিত। অনেকেই বলেন, এ ধরনের খেলাধুলা নিয়মিত হলে তরুণ সমাজ ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে এবং সামাজিক অবক্ষয় কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. জুলফিকার আলী, মাহবুবুর রহমান মানিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ও শিশুরা।

    অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ধরে রাখতে দেশীয় খেলাধুলার বিকল্প নেই। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনা গেলে ব্যস্ত জীবনের মাঝেও মানুষ আনন্দ খুঁজে পাবে এবং নতুন প্রজন্ম শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত হবে।

    লাঠি খেলার দলনেতা মো. আবুল বসার জানান, ‘ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা’ দলটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের উদ্যোগেই এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছে। তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে ভবিষ্যতে দলটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রয়োজন নিয়মিত সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা।

    প্রধান অতিথি ইউএনও শারমিন আক্তার সুমী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে লোকজ সংস্কৃতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। লাঠি খেলা শুধু বিনোদন নয়, এটি সাহস, শারীরিক সক্ষমতা এবং গ্রামবাংলার বীরত্বের প্রতীক। তিনি অভিভূত হয়ে আয়োজক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

    বৈশাখী এই আয়োজন শেষ হলেও দর্শকদের মনে রয়ে গেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের রঙিন স্মৃতি, আর সেই সঙ্গে প্রত্যাশা—এ ধরনের লোকজ উৎসব নিয়মিত হলে সংস্কৃতির শেকড় আরও দৃঢ় হবে।

  • তেল সংকটে থমকে সুন্দরবনের পর্যটন, কোটি টাকার বুকিং বাতিল—হতাশায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

    তেল সংকটে থমকে সুন্দরবনের পর্যটন, কোটি টাকার বুকিং বাতিল—হতাশায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

    এবিএনএ,মোংলা : দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পর্যটন খাতে। ডিজেলের অভাবে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকবাহী লঞ্চ ও নৌযান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে পর্যটন শিল্পে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা।

    পর্যটন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। আগাম বুকিং দেওয়া কোটি টাকার ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে, ফলে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ট্যুর অপারেটররা।

    প্রতি বছর এ সময় সুন্দরবনের করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলা, আলোর কোল, নীলকমল ও আন্দারমানিকসহ জনপ্রিয় স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় থাকে। তবে এবার জ্বালানি সংকটে এসব এলাকা প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। নৌযান চালানোর মতো পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় অনেক গন্তব্যে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোংলাতেই শতাধিক পর্যটকবাহী লঞ্চ ও ট্যুর জাহাজ রয়েছে, যেগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিনের ট্যুর পরিচালনা করে। কিন্তু বর্তমান সংকটে এসব ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে শুধু ব্যবসায়ী নয়, পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে।

    পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার নৌযান মালিক এবং ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় মালিকরা কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে শ্রমিকদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।

    নৌযান চালকদের মতে, স্থানীয়ভাবে উচ্চমূল্যে অল্প পরিমাণ ডিজেল পাওয়া গেলেও তা দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা সম্ভব নয়। মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে গভীর বনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ঝুঁকি এড়াতেই অনেকেই নৌযান চালাতে অনিচ্ছুক।

    সুন্দরবনের পর্যটন খাত থেকে সরকার প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পায়। কিন্তু পর্যটক কমে যাওয়ায় বন বিভাগের আয় কমছে। পাশাপাশি হোটেল, মোটেল ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, পর্যটকের অভাবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বন বিভাগ। জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলো এখন প্রায় জনশূন্য।

    এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানিয়েছেন, তেল সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনিয়মের অভিযোগে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন থেকে তেল জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সুন্দরবনকেন্দ্রিক এই বিশাল অর্থনৈতিক খাত ধসে পড়তে পারে। তাই পর্যটন শিল্প ও সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সবাই।

  • মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বিস্ফোরণ—ডাক্তারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি

    মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বিস্ফোরণ—ডাক্তারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি

    এবিএনএ,মোংলা:  মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একদল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সীমাহীন অনিয়ম এবং রোগীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার আর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা করায় উত্তাপ্ত হয়ে উঠছে মোংলার রাজনৈতিক অঙ্গন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এহেন কর্মকান্ড এবং ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে কলেজ ছাত্রছাত্রী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা।
    বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা সরকারি কলেজের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এক বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ সেখানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ডাক্তারদের হাতে লাঞ্ছিত ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন। সরকারি ওষুধ রোগীদের না দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া, সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ক্লিনিকে রোগী দেখা এবং নিম্নমানের চিকিৎসা সেবার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলেই সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

    বিক্ষোভ কর্মসুচিতে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই মামলায় ছাত্রদল নেতা সজিব মিয়া শান্ত এবং যুবদল নেতা মোঃ মানিককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বক্তারা এই মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত’ দাবি করে অবিলম্বে নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

    আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রধানত কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, দুর্নীতিবাজ ও দুর্ব্যবহারকারী চিকিৎসকদের অবিলম্বে অপসারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গরিব অসহায় মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা ও সরকারি ওষুধের নিশ্চয়তা দেওয়া।

    এদিন মোংলা সরকারি কলেজের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণ নারী-পুরুষ ও শিশুরা এতে অংশ নেন। তারা স্লোগান দেন, ডাক্তারদের অনিয়ম সইবে না আর মোংলাবাসী” এবং “মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো, শান্ত-মানিকের মুক্তি দাও”। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয় এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হয়, তবে আগামীতে মোংলায় আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    এই কর্মসূচির ফলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসকদের কর্মকান্ড ও তাদের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে।

  • মোংলায় অবৈধ ডিজেল মজুদের গোপন ভাণ্ডার উন্মোচন, অভিযানেই উদ্ধার ১২ হাজার লিটার!

    মোংলায় অবৈধ ডিজেল মজুদের গোপন ভাণ্ডার উন্মোচন, অভিযানেই উদ্ধার ১২ হাজার লিটার!

    এবিএনএ,মাসুদ রানা,মোংলা: মোংলায় যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেডের ‘মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনে’ অভিযান চালিয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী , এনএসআই ও পুলিশের যৌথবাহিনী। অভিযানকারীরা গভীর রাতে রবিবার মধ্যরাত ১ টায় সেখানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ডিজেল মজুদের সন্ধান পান। এ বিষয়ে পরবর্তী সকল ব্যবস্থা নিবেন বিপিসি।

    কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা (ঢাকা) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার মধ্য রাত ১টার দিকে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই ও বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাসের সমন্বয়ে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় অবস্থিত যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে যৌথ অভিযান চালানো হয়।

    এ সময় অভিযানকারীরা এ প্রতিষ্ঠানের ৩টি তেলের ট্যাংকে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের পরিমাণ সরেজমিনে পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। এতে অবৈধভাবে মজুদকৃত প্রায় ১২ লাখ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত জ্বালানি তেল মজুত পাওয়া যায়।

    অবৈধভাবে মজুদকৃত তেলের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাসের তত্ত্বাবধানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরণেরর কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

    এ বিষয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাস বলেন, এ ঘটনায় আমরা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বরাবর একটি প্রতিবেদন দিয়েছি। বিপিসি কর্তৃপক্ষই এ বিষয়ে পরবর্তী সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

  • স্বাধীনতা দিবসে মোংলায় জনস্রোত—নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যুদ্ধজাহাজ ঘুরে দেখার বিরল সুযোগ

    স্বাধীনতা দিবসে মোংলায় জনস্রোত—নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যুদ্ধজাহাজ ঘুরে দেখার বিরল সুযোগ

    এবিএনএ: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বন্দরনগরী মোংলায় সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যুদ্ধজাহাজ। দিনটি ঘিরে সেখানে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ এই বিশেষ আয়োজন উপভোগ করতে ভিড় করেন।

    নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দিগরাজ নেভাল জেটিতে অবস্থানরত বিএনএস আবু বকর যুদ্ধজাহাজটি দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। একই সময় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের জেটিতে বিসিজিএস কামরুজ্জামান যুদ্ধজাহাজটিও সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।

    শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ পরিবারসহ এসে এসব যুদ্ধজাহাজ ঘুরে দেখেন। জাহাজে অবস্থানরত নাবিকরা দর্শনার্থীদের জাহাজের কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সমুদ্র নিরাপত্তায় এর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

    এই আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আধুনিক নৌ-সামরিক শক্তি সম্পর্কে কাছ থেকে জানার সুযোগ পান। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শনের সুযোগ পেয়ে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের আয়োজন আরও নিয়মিত করার দাবি জানান।

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: অস্ত্রসহ আসাবুর বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী রবিউল আটক

    এবিএনএ,মোংলা: সুন্দরবন এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত আসাবুর বাহিনীর প্রধান সহযোগী রবিউল ইসলামকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।

    বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আসাবুর বাহিনীর প্রধান মোবাইল ফোন ব্যবহার করে জেলেদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিল। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবিউল ইসলামকে অস্ত্রসহ সুন্দরবনে পাঠানো হয়।

    এ তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিন দুপুর ২টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও নলিয়ান আউটপোস্টের সমন্বয়ে শিবসা নদীর কুমারখালি খাল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযান চলাকালে ওই এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে রবিউল ইসলাম (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    আটক রবিউল খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সে আসাবুর বাহিনীর হয়ে ডাকাতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানায় কোস্ট গার্ড।

    কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, রবিউলকে গ্রেপ্তারের ফলে আসাবুর বাহিনীর কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে এবং তাদের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

    আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গুলির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।