Tag: মোংলা

  • বাগেরহাটে মাদকবিরোধী বড় অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক ১৪, পলাতক ২

    বাগেরহাটে মাদকবিরোধী বড় অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক ১৪, পলাতক ২

    এবিএনএ,মাসুদ রানা : বাগেরহাট জেলায় মাদকচক্রের বিস্তার বেড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জেলার ৯টি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীর সংখ্যা। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও মামলা উভয়ই বেশি।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মাঝেই গোপন পথ ধরে নিয়মিত ঢুকছে মাদকের চালান। বাগেরহাট সদর, মোংলা, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, কচুয়া, ফকিরহাট, চিতলমারী ও মোল্লাহাট—এই ৯ উপজেলাজুড়ে বেশ সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা।

    ✅ মোংলায় সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা

    সমুদ্র বন্দর ও শিল্প এলাকার কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস—যা মোংলা উপজেলাকে মাদক বিস্তারের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় পরিণত করেছে। ফলে এখানে সেবনকারী ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা অন্য উপজেলাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিনিয়তই অভিযান চালিয়ে ধরা পড়ছে খুচরা বিক্রেতা, বাহক ও সেবনকারীরা।

    ✅ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ বিস্তার

    এ অঞ্চলের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কিশোর-তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে মাদকসেবন। ফলে বাড়ছে কিশোর অপরাধ থেকে শুরু করে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

    ✅ অক্টোবর মাসের বড় অর্জন

    বাগেরহাট জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মোঃ বুলু শেখ জানান, শুধু অক্টোবর মাসেই ৯ থানা এলাকায় অভিযানে—

    • ✅ গ্রেপ্তার: ১৪ জন

    • ✅ পলাতক: ২ জন

    • ✅ জব্দ: ইয়াবা ৬১০ পিস ও গাঁজা ৯ কেজি ১০০ গ্রাম

    তার ভাষায়—বাগেরহাট সদর থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তারদের মধ্যে—

    • বাগেরহাট সদর: ৯ জন

    • মোল্লাহাট: ২ জন

    • মোংলা: ৩ জন

    • চিতলমারী: ১ জন (পলাতক)

    • মোংলা: ১ জন (পলাতক)

    ✅ আইনি ব্যবস্থা

    অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনেকের অর্থদণ্ড ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ✅ কিছু এলাকায় অভিযান কম

    রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও কচুয়া উপজেলাগুলোতে কর্মকর্তার সংখ্যা কম থাকায় অক্টোবর মাসে তুলনামূলক কম অভিযান হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে আগামী সময়ে অভিযান আরও জোরদার হবে।

  • মোংলায় মাদক এখন প্রকাশ্যে, ধ্বংসের মুখে তরুণ প্রজন্ম

    মোংলায় মাদক এখন প্রকাশ্যে, ধ্বংসের মুখে তরুণ প্রজন্ম

    এবিএনএ, মোংলা: মাসুদ রানা

    মোংলার পথে ঘাটে, অলিগলিতে— এখন প্রকাশ্যে চলছে মাদক ব্যবসা। মাদকবিরোধী সভা কিংবা সচেতনতামূলক প্রচারণা কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। তরুণ সমাজ ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে ভয়ঙ্কর মাদক জগতে।

    প্রথমে গাঁজা ও বাংলা মদের হাত ধরে শুরু হলেও, বর্তমানে ইয়াবাই হয়ে উঠেছে প্রধান মরণনেশা। মোংলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য। প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও তা অকার্যকর—কারণ এখানকার সিন্ডিকেট এতটাই সংগঠিত যে তাদের থামানো যাচ্ছে না।

    গোপন সূত্র জানায়, অনেক তরুণই ভালো পরিবারের সন্তান হয়েও ইয়াবার সাথে যুক্ত। এমনকি স্কুল-কলেজগামী ছাত্রদের মধ্যেও বাড়ছে আসক্তি। অভিভাবকরা চোখের সামনে সন্তানকে ধ্বংস হতে দেখলেও কিছু করতে পারছেন না।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, মোবাইল গেমের আসক্তির সাথে যুক্ত হয়ে ছেলে-মেয়েরা ইয়াবার মতো ভয়ংকর নেশায় ডুবে যাচ্ছে। মাদক বিক্রেতারাও আজকাল বয়সে তরুণ—যাদের দেখে কেউ মাদক ব্যবসায়ী বলেই বিশ্বাস করবে না।

    মোংলার কবরস্থান রোড, দিগরাজ বালুর মাঠ, রাজ্জাক সড়ক, বটতলা, মাছমারা, নারিকেলতলা, শামসুর রহমান রোড, নতুন বাসস্ট্যান্ড, কানাইনগর, জিউধারা, বাজুয়া, রামপাল-পেড়িখালি সহ অন্তত ৩০টিরও বেশি স্থানে চলছে খোলাখুলি মাদক বেচাকেনা। এছাড়া নৌপথ ও ফেরিঘাট ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত ঢুকছে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক।

    সম্প্রতি রাজ্জাক সড়কের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী তিশার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা হুমকির মুখে পড়েছেন। তার মোবাইলে হুমকি, ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে সুনাম ক্ষুন্নের চেষ্টা—এসব ঘটনার জেরে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

    মোংলার ইউএনও শারমিন আক্তার সুমী বলেন, “সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া মাদক রোধ সম্ভব নয়। রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে খুব শিগগিরই মোংলায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

    মোংলা থানার ওসি মোঃ আনিসুর রহমান সাফ জানিয়ে দেন— “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট, কোনো প্রকার ছাড় নেই। তথ্য পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ও হবে।”

    🔻 দ্রষ্টব্য: দ্বিতীয় পর্বে প্রকাশিত হবে মোংলার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও পরিচয়।

  • উত্তাল বঙ্গোপসাগর: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা, উপকূলজুড়ে শঙ্কা

    উত্তাল বঙ্গোপসাগর: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা, উপকূলজুড়ে শঙ্কা

    এবিএনএ: সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    শুক্রবার রাতে প্রকাশিত আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে দক্ষিণ-পূর্ব অথবা পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

    এই অবস্থায় উল্লিখিত জেলার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত এবং সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উপকূলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

    এই মুহূর্তে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা অবলম্বনের সময়, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো।

  • নিম্নচাপের তাণ্ডবে প্লাবিত সুন্দরবন ও মোংলার নিচু এলাকা

    নিম্নচাপের তাণ্ডবে প্লাবিত সুন্দরবন ও মোংলার নিচু এলাকা

    এবিএনএ,বাগেরহাট:

    সাম্প্রতিক নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় এলাকা ও সুন্দরবনে জোয়ারের পানি বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকাল থেকে সুন্দরবনের দুবলা চরের বিভিন্ন স্থানে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় প্রায় তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে করমজল এলাকাতেও দেখা গেছে প্রায় আড়াই ফুট জোয়ার। এতে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যায়।

    তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের বড় কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ জোয়ার শেষে পানি দ্রুতই নামতে শুরু করে এবং বন্যপ্রাণীরা বনাঞ্চলের উঁচু স্থানে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করে।

    দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খলিলুর রহমান জানান, আগের দিন থেকেই উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা বৃহস্পতিবার জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা বাড়িয়ে দেয়। সুন্দরবনের জেলেরা নিরাপদ স্থানে আছেন বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

    করমজল বন্যপ্রাণী ও পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, করমজলের হাঁটার পথসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে বন্যপ্রাণীরা যাতে নিরাপদে থাকে, সেজন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জঙ্গলের ভেতরে বিভিন্ন উঁচু জায়গায় বন্যপ্রাণীদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

    মোংলার পশুর ও মোংলা নদীর পাড়ঘেঁষা জয়মনি, চিলা, কলাতলা ও বুড়িরডাঙ্গা এলাকার নিচু এলাকাও প্রবল জোয়ারে তলিয়ে গেছে। এতে সাময়িক দুর্ভোগের সৃষ্টি হলেও স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কুমার স্বস্তিক জানান, নিম্নচাপের কারণে পশুর নদীতে পানি স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দুই ফুট বেড়েছে। কিছু কিছু জায়গায় তা তিন ফুট পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের পরিস্থিতি এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে।