Tag: মোংলা

  • মোংলায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৪

    মোংলায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৪

    এবিএনএ,মোংলা : বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় একটি বড় মৎস্য ঘের দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সুন্দরবন ইউনিয়নের আগা মাদুরপাল্টা এলাকার কবিরাজ বাড়ির দিঘির পাড় সংলগ্ন ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। এতে ঘের মালিকসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা মো. আনসার সরদার তার পৈতৃক জমি এবং ইজারা নেওয়া প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, একই এলাকার প্রভাবশালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম মৃধার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল রাতের আঁধারে ঘেরটি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে হামলা চালায়।

    এ সময় ঘেরের পাহারাদারদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করা হয় এবং ঘেরের ঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। বাধা দিতে গেলে আনসার সরদার, আবু মুছা সরদার, মামুন সরদারসহ চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ঘের মালিক আনসার সরদার জানান, “আমরা বৈধভাবে জমি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছি। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল জোর করে আমাদের উচ্ছেদ করতে চাইছে। বাধা দেওয়ায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”

    এ ঘটনায় আনসার সরদারের ভাতিজা মো. আকরাম সরদার বাদী হয়ে ফারুকুল ইসলাম মৃধা, তরিকুল ইসলাম মৃধা, জালাল মৃধা ও হানিফ হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    তবে অভিযুক্ত নেতারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ঘটনাটিকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন।

    মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    ঘটনার পর থেকে সুন্দরবন ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • মোংলায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভবনের পিলার, দেশি মদ ব্যবসায়ী সরোয়ারের দাপটে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    মোংলায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভবনের পিলার, দেশি মদ ব্যবসায়ী সরোয়ারের দাপটে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    এবিএনএ,মোংলা: মোংলা পৌর শহরের কমলার মোড় সংলগ্ন ৭ নং কলেজ রোডে মূল সড়কের নবনির্মিত ড্রেনের উপরে ভবনের পিলার গেঁথে ড্রেন দখল ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ সরোয়ার হোসেন নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্বে।

    বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত একজন দেশী মদ বিক্রেতা সরোয়ার। তবে সরকারের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রি করে পুরো শহর জুড়ে আতকং সৃস্টি করে রাখেন। প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের সাথে অর্থের বিনিময়ে আতাঁত করেন তিনি। মোংলা শহরে তিনি অসাধু ক্ষমতাবান লোকদের তার মদের ভাট্টি থেকে নিজ খরচে উপঢৌকন হিসাবে পাঠিয়ে থাকেন।

    সোমবার ২ মার্চ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পৌরসভার কমলার মোড় সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত ড্রেনের উপর ১০ ইঞ্চি পিলার গেঁথে মূল ভবনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার কারণে সাধারণ পথচারীদের চলাচল করতে বেগ পোহাতে হচ্ছে।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় বাড়ির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কাউকে তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামতো সড়কের ড্রেনের উপর পিলার গেঁথেছে।

    পৌরসভার প্রকৌশলীর কাছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বারবার বলার পরও পৌর কর্তপক্ষ এবিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ন ভবনের একাংশ সম্পূর্ণ ড্রেন জুড়ে। ভবন মালিককে বলার পরও আমলে না নিয়ে উল্টো ড্রেন দখল করেছে।

    স্থানীয়রা মনে করছেন পৌর কর্তপক্ষের অসাধু কিছু কর্মকর্তাকে ভবন মালিক ম্যানেজ করে এমনটা করেছে। তার অপকর্ম সর্বদলীয় প্রভাবশালী অসাধু ব্যাক্তিদের অর্থের বিনিময় ম্যানেজ করে থাকেন।

    নিরাপদ সড়ক চাই মোংলা উপজেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বলেন এ ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ এবং ড্রেনের উপর এ ধরনের দখলদারিত্ব মোটেই কাম্য নয়। আশা করছি বিষয়টি কর্তৃপক্ষ আমলো নিয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এবং পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি জানান বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সুন্দরবনে শুরু হলো যৌথ বাহিনীর টানা কম্বিং অপারেশন

    সুন্দরবনে শুরু হলো যৌথ বাহিনীর টানা কম্বিং অপারেশন

    এবিএনএ: সুন্দরবন জুড়ে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্যে সাগর ও নদীঘেঁষা জনপদে জেলেদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণের দাবিতে নিপীড়নের খবরে গত কয়েক দিনে বহু জেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রাণভয়ে সাগরে নামা বন্ধ করায় উপকূলজুড়ে কয়েক হাজার ট্রলার ও নৌকা ঘাটে নোঙর করে আছে। স্থানীয় মহাজনদের দাবি, এতে শেষ মৌসুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে এবং দস্যু দমনে মঙ্গলবার সকাল থেকে বনের ভেতরে বিশেষ ‘কম্বিং অপারেশন’ শুরু হয়েছে। দুবলা, হারবাড়িয়া, কোকিলমনি, নন্দবারা ও জোংড়াসহ দুর্গম খাল ও চ্যানেলে একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দিনভর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে উদ্ধার বা দস্যু আটক সম্ভব না হলেও অভিযান থামছে না। অপহৃতদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং বনাঞ্চলকে দস্যুমুক্ত করাই এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য।

    জেলে প্রতিনিধিরা দ্রুত উদ্ধার ও টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাগরে নামতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উপকূলীয় অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

  • মোংলায় প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচছায় বরণ করলেন শ্রমিক কর্মচারীরা

    মোংলায় প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচছায় বরণ করলেন শ্রমিক কর্মচারীরা

    এবিএনএ, মাসুদ রানা,মোংলা: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামকে ফুলের সংবর্ধনা জানালেন মোংলা বন্দর শ্রমিক সংগঠন সহ বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা বাগেরহাট-৩ মোংলা রামপাল আসনের মোংলায় শনিবার প্রথম আগমনে মোংলাবাসীর পক্ষ থেকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রথম নিজ এলাকায় সফর করেন। শনিবার বিকালে শ্রমিক-কর্মচারী সংঘ চত্ত্বরে মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সভাপতি মো: জুলফিকর অলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নাসির তালুকদার, গোলাম জনি সহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ, বিএনপি নেতা-কর্মী এবং মোংলা বন্দর শ্রমিক সংঘ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়।

    এর আগে সকালে তিনি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলনে কক্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রীর সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এসময় তারা বন্দরের উন্নয়নে নানাবিধ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এলাকার ইতিবাচক ও গঠনমূলক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিক ও কর্মচঞ্চল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    সাথে তার সহধমিনী, ছেলে ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।

  • প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায় লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম: বাগেরহাটে উৎসবের আমেজ

    প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায় লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম: বাগেরহাটে উৎসবের আমেজ

    এবিএনএ,বাগেরহাট: প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম। বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসন থেকে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে তিনি ১ লাখ ২ হাজার ১৯৩ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন। প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

    রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সুপরিচিত। বিশেষ করে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, তার উদ্যোগে কয়েক লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন, যা এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

    বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম প্রতিক্রিয়ায় জানান, ডা. লায়ন ফরিদুল ইসলাম বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় জেলাবাসী আনন্দিত। তিনি বলেন, অবহেলিত বাগেরহাটবাসীর জন্য এটি একটি বড় প্রাপ্তি।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, জেলাবাসীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে। আগামী দিনে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাগেরহাট জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবাই কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • গভীর রাতে ভোট কেনাবেচার অভিযোগে ধরা পড়লেন ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

    গভীর রাতে ভোট কেনাবেচার অভিযোগে ধরা পড়লেন ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

    এবিএনএ,মোংলা : মোংলা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গভীর রাতে টাকা দিয়ে ভোট প্রভাবিতের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন—তিনি ওই ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং পৌর এলাকার বাসিন্দা।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের দিকে বালুর মাঠ এলাকার আশপাশে কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ভোটারদের অর্থের প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও জসিম উদ্দিনসহ দুজনকে ধরে ফেলা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের যৌথ বাহিনীর হাতে তুলে দেন।

    খবর পেয়ে নির্বাচন তদারকিতে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ভোট কেনার চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং ভোটার স্লিপ বিতরণের অস্থায়ী কার্যক্রমও সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে এমন যে কোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মোংলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

  • কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    এবিএনএ ,বাগেরহাট: ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাগেরহাট-৩ আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভাসমান ভোটারদের ভূমিকা এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠায় হাট-বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাঠে-ময়দানে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের বাইরে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    মোংলা ও রামপাল উপজেলা এবং মোংলা পোর্ট পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৩ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি, স্বতন্ত্র, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এই আসনে মূল লড়াইটি গড়ে উঠতে পারে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখের মধ্যে।

    ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। একইভাবে জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখও দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন।

    তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিমের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে তিনি ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

    এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জিল্লুর রহমান এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার নিজ নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ভোটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাগেরহাট-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫১০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এই বিশাল ভোটার জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভাসমান হওয়ায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণাই নির্ধারণ করতে পারে চূড়ান্ত ফলাফল।

  • মোংলায় গভীর রাতে যৌথ অভিযানে বিদেশি মদ ও ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক

    মোংলায় গভীর রাতে যৌথ অভিযানে বিদেশি মদ ও ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক

    এবিএনএ, মোংলা : মোংলা পৌর শহরের মাদ্রাসা রোড এলাকায় গভীর রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিদেশি মদ, ইয়াবা ও নগদ অর্থসহ এক নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে মোংলা থানা পুলিশ ও নৌবাহিনী।

    পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে মাদ্রাসা রোডের একটি বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে ১৮ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৪২ হাজার টাকা এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

    আটক নারী সাফিয়া বেগম (৫৬), তিনি মোংলা পৌর এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আব্দুর রহিমের স্ত্রী। অভিযানে অংশ নেয় মোংলা থানা পুলিশ ও নৌবাহিনীর একটি দল।

    মোংলা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র গাইন জানান, উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করে আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলার আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হবে।

  • মোংলা বন্দরে উন্মুক্ত নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের দুই যুদ্ধজাহাজ, দেখার ভিড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ

    মোংলা বন্দরে উন্মুক্ত নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের দুই যুদ্ধজাহাজ, দেখার ভিড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ

    এবিএনএ,মোংলা : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মোংলা বন্দরে জনসাধারনের জন্য উন্মক্ত রাখা হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দুটি যুদ্ধ জাহাজ। কোস্টগার্ড পশ্চিজোনের সদর দপ্তর (মোংলায়) সংলগ্ন জেটিতে উন্মক্ত রাখা  হয় বিসিজিএস কামরুজ্জামান। একই সময় নৌবাহিনীর দিগরাজ ঘাটিতে উন্মক্ত রাখা হয় বানৌজা আবু বকর।

    মঙ্গলবার(১৬ ডিসেম্বার) বিকাল ৪টা পর্যন্ত জাহাজ  দুটি জনসাধারনের জন্য উন্মক্ত থাকে। জাহাজ গুলো দেখতে দুপুরে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নানা বয়সের  মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়।

    এসময় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এর কর্মকর্তারা উপস্থিত দর্শনার্থীদেরকে তাদের কর্মকান্ড ও জাহাজের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করেন।

    এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সকল জাহাজ গুলোকে সাজানো হয়।

  • ৭ ডিসেম্বর: মোংলা ও সুন্দরবন হানাদার মুক্ত দিবস স্মরণ

    ৭ ডিসেম্বর: মোংলা ও সুন্দরবন হানাদার মুক্ত দিবস স্মরণ

    এবিএনএ: আজ ৭ ডিসেম্বর। মোংলা ও সুন্দরবন মুক্ত দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে হারিয়ে এই অঞ্চলকে শত্রুমুক্ত করেন।

    মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম শেখ জানান, মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর এম.এ. জলিল, সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও কবির আহমেদ মধুর নেতৃত্বে মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন এলাকা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়।

    সেই সময়ে সুন্দরবনে স্থাপিত পাঁচটি ক্যাম্পে সেনা কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা মোংলা, মোড়লগঞ্জ, রামপাল, শরণখোলা ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালাতেন। এছাড়া মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে থাকা পাকিস্তানি যুদ্ধ জাহাজ “এম.ভি মাকরন” ধ্বংস করা হয় মুক্তি নৌ কমান্ডের সদস্যদের মাধ্যমে।

    আবুল হাসেম শেখ আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদাররা এই অঞ্চলের নিরীহ মানুষদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছিল। দামেরখন্ড ও রামপালের ডাকরার বধ্যভূমি আজও সেই ভয়াবহ ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। মেজর জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের ত্রিমাত্রিক পরিকল্পিত আক্রমণে পাক সেনারা পশুর নদীতে মাইন বসিয়ে যুদ্ধজাহাজ মাকরন ডুবিয়ে দেয়। এভাবেই ৭ ডিসেম্বর মোংলা ও সুন্দরবন পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয়।”

    স্বাধীনতার পরে মোংলা পোর্ট পৌরসভা পৌর পার্কে নির্মিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, যেখানে যুদ্ধজাহাজসহ বিজয় স্তম্ভও আছে।

    উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে মোংলা পোর্ট পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের মোট ২৩৯ জন মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।