আন্তর্জাতিক

হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা—বপন মৌসুমে বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা

জ্বালানি ও সারের সরবরাহ ব্যাহত; কয়েক দিনের মধ্যে সমাধান না হলে ফলনে ধাক্কা, বাজার স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে ৯০ দিন

এবিএনএ: হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষির গুরুত্বপূর্ণ বপন মৌসুমে জ্বালানি ও সারের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সামনে বৈশ্বিক খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের এক শীর্ষ অর্থনীতিবিদ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সুদান, কেনিয়া, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বপন মৌসুম চলছে। এই সময়ে জ্বালানি ও সারের ঘাটতি তৈরি হলে কৃষি উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় ৩৫ শতাংশ জ্বালানি তেল, ২০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার পরিবাহিত হয়। এই সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় উপকরণ কম ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। এতে উৎপাদন কমে যাবে এবং বাজারে খাদ্যের প্রাপ্যতা হ্রাস পাবে।

তোরেরো সতর্ক করে বলেন, দ্রুত সমাধান না হলে ক্ষতির মাত্রা বাড়বে। এমনকি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি সমঝোতা হয়ও, ততক্ষণে কৃষি মৌসুমে যে বিঘ্ন ঘটবে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি মনে করেন, বাণিজ্য পুনরুদ্ধার এবং বাজার স্থিতিশীল হতে অন্তত ৯০ দিন সময় লাগতে পারে।

তার ভাষায়, চুক্তি হলে শূন্য থেকে ৯০ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা তৈরি হবে। এই সময়ের মধ্যে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং জ্বালানি প্রবাহ পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। অন্যথায় কয়েক মাসের মধ্যেই খাদ্য সরবরাহে চাপ বাড়বে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

ইরানি পক্ষ জানিয়েছে, তাদের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজে নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কোনও সমঝোতা হলে তা সতর্কতার সঙ্গে এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। তাই আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও হরমুজ ইস্যুতে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, বিশেষ করে কৃষি খাত, বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এখানে অচলাবস্থা তৈরি হলে জ্বালানি, সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়বে। ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button