Tag: হরমুজ প্রণালি

  • বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    এবিএনএ:বহু বছর ধরে যুদ্ধ পরিচালনা করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তেহরান এখনও তার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজনে নতুন শক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

    বুধবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান আলাউদ্দিন বোরুজের্দি। তিনি বলেন, ইরান এখনো তার সব কৌশলগত সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজন হলে নতুন ‘কার্ড’ ব্যবহার করা হবে।

    হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ কার্যকর হবে না। তার দাবি, বর্তমানে বহু জাহাজ ওই প্রণালির আশপাশে চলাচলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ইরানি জাহাজগুলোও বাধাহীনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বোরুজের্দি বলেন, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার নিয়ে তেহরান আপস করবে না এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

    এদিকে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হামাদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে নতুন সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, উন্নত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত রয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সক্ষমতা বড় নৌজাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

    পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন এবং ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনার বাইরে রাখার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

  • হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: কয়েক ঘণ্টা আগে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পর আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে ইরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা এখন পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে।

    স্থানীয় সময় দুপুরে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীই এর চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।

    তবে এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তোলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় জানান, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। এই মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত থাকবে না। তিনি জানান, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুনরায় প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দেয়। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

  • উত্তেজনার পর হরমুজ খুলল ইরান, তেলের দামে বড় পতন; বিশ্ববাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত

    উত্তেজনার পর হরমুজ খুলল ইরান, তেলের দামে বড় পতন; বিশ্ববাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেছে ইরান। লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির প্রতি সংহতি জানিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।

    তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট অনুসরণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর মাধ্যমে প্রণালিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা করছে তেহরান।

    ইরানের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে ধন্যবাদও জানান।

    তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    এর আগে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত বন্ধ হওয়াকে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

    গত ৭ এপ্রিল ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিলেও লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় তখন প্রণালিটি কার্যত সীমিত রাখা হয়েছিল। সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির পরই প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • হরমুজ খুললেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত: বন্দর অবরোধ তুলে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প

    হরমুজ খুললেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত: বন্দর অবরোধ তুলে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিলেও ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ আপাতত তুলে নেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া পৃথক পোস্টে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, প্রণালিটি এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

    তিনি আরও জানান, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী। চুক্তির বাকি অংশ সম্পন্ন হলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেন, লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।

    লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে। এই যুদ্ধবিরতি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত।

    হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকায় দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি।

  • হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা—বপন মৌসুমে বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা

    হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা—বপন মৌসুমে বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষির গুরুত্বপূর্ণ বপন মৌসুমে জ্বালানি ও সারের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সামনে বৈশ্বিক খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের এক শীর্ষ অর্থনীতিবিদ।

    জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সুদান, কেনিয়া, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বপন মৌসুম চলছে। এই সময়ে জ্বালানি ও সারের ঘাটতি তৈরি হলে কৃষি উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়বে।

    তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় ৩৫ শতাংশ জ্বালানি তেল, ২০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার পরিবাহিত হয়। এই সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় উপকরণ কম ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। এতে উৎপাদন কমে যাবে এবং বাজারে খাদ্যের প্রাপ্যতা হ্রাস পাবে।

    তোরেরো সতর্ক করে বলেন, দ্রুত সমাধান না হলে ক্ষতির মাত্রা বাড়বে। এমনকি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি সমঝোতা হয়ও, ততক্ষণে কৃষি মৌসুমে যে বিঘ্ন ঘটবে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি মনে করেন, বাণিজ্য পুনরুদ্ধার এবং বাজার স্থিতিশীল হতে অন্তত ৯০ দিন সময় লাগতে পারে।

    তার ভাষায়, চুক্তি হলে শূন্য থেকে ৯০ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা তৈরি হবে। এই সময়ের মধ্যে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং জ্বালানি প্রবাহ পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। অন্যথায় কয়েক মাসের মধ্যেই খাদ্য সরবরাহে চাপ বাড়বে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

    ইরানি পক্ষ জানিয়েছে, তাদের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজে নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কোনও সমঝোতা হলে তা সতর্কতার সঙ্গে এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। তাই আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও হরমুজ ইস্যুতে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, বিশেষ করে কৃষি খাত, বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এখানে অচলাবস্থা তৈরি হলে জ্বালানি, সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়বে। ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

  • হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে এবং এতে চীন সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু চীনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই প্রণালি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না।

    চীনের সঙ্গে সমঝোতার দাবি

    পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চীন ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তার ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন সফরে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন এবং দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    তিনি আরও বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার পথই বেশি কার্যকর। তবে প্রয়োজনে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

    ভিন্ন তথ্য নিয়ে বিতর্ক

    ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। আবার অন্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি শনাক্তে চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    চীনের অবস্থান

    তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের দাবি, তারা ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

  • হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

    বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শামিল হবে।

    বাণিজ্যপথ বন্ধের হুমকি

    বিবৃতিতে সামরিক কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে।

    তার দাবি, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা

    হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও অবরোধের পরই এই হুঁশিয়ারি এসেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন জাহাজে বাধা দেওয়া হবে না। তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।

    তেলের বাজারে প্রভাব

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।

    বাজার খোলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

    মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় বিভিন্ন দেশে পরিবহন ও জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ছে।

    ইতোমধ্যে ইউরোপের কিছু দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু সরকার কর কমানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

  • হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, হরমুজে কোনো জাহাজ প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।

    এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ বন্ধের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি হামলার নির্দেশ নয়। বরং প্রথমে কৌশলগত অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হতে পারে। যদি তেহরান অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরবর্তী ধাপে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, হরমুজ অবরোধে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে। তবে কোন দেশগুলো এতে অংশ নেবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    তিনি আরও বলেন, ইরানে এখনো যেসব লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এ বক্তব্যকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

    ট্রাম্প অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান যে টোল আরোপের কথা বলছে তা চাঁদাবাজির শামিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব জাহাজ ইরানকে অর্থ প্রদান করবে সেগুলোকে আটক করা হতে পারে।

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সেই ব্যর্থ আলোচনার পরপরই হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন ট্রাম্প।

  • ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে গেল: হরমুজ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা

    ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে গেল: হরমুজ ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা

    এবিএনএ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান কাছাকাছি না আসায় চুক্তিহীনভাবে বৈঠক শেষ হয়।

    মার্কিন এক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া বৈঠক রাতভর চলার পর রোববার সকাল পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু মূল ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য কাটেনি। ফলে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে যায়।

    যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি তোলে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করার বিষয়েও কঠোর অবস্থান নেয় ওয়াশিংটন। এই দুই বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে ইরানকে জানানো হয়।

    তবে ইরানি প্রতিনিধিরা এসব শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তারা পাল্টা দাবি জানান, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও জোর দেন তারা।

    দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছাড়া তারা এই পদক্ষেপ নেবে না।

    বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা। পারমাণবিক ইস্যু দীর্ঘদিনের হলেও, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক থেকে কোনো সমাধান না আসায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা আমিরাতের, ‘কার ওপর ভরসা করা যায়’ নতুন করে ভাবছে আবুধাবি

    মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা আমিরাতের, ‘কার ওপর ভরসা করা যায়’ নতুন করে ভাবছে আবুধাবি

    এবিএনএ: ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়নের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি বলছে, ভবিষ্যতে কোন দেশের ওপর নির্ভর করা যাবে— তা এখন নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে, যার প্রভাব পড়ে কয়েকটি আরব দেশে।

    এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাস বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাদের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় কোন দেশগুলো প্রকৃত সহযোগী— তা সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, আমিরাত এখন এমন একটি অর্থনৈতিক ও আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যা দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে বাস্তবভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আবুধাবি।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা উপসাগরীয় বেশ কয়েকটি দেশ স্বাগত জানালেও আমিরাত এ বিষয়ে সরাসরি সমর্থন দেয়নি। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ও ভিত্তি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান নির্ধারণ করা হবে না।

    পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে আমিরাত, যাতে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও না বাড়ে।