Tag: হরমুজ প্রণালি

  • হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের অভিযোগে ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, তেল সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস

    হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের অভিযোগে ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, তেল সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস

    এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজ থেকে টোল আদায়ের অভিযোগ তুলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, অচিরেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

    বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। প্রথম পোস্টে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ইরান টোল নিচ্ছে— এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি ইরানকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং যদি টোল আদায় শুরু হয়ে থাকে, তা অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলেন।

    পরবর্তী পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে ইরানের আচরণ অগ্রহণযোগ্য এবং অসম্মানজনক। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি সমঝোতার মধ্যে এমন কোনো শর্ত ছিল না।

    তৃতীয় পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরান সহযোগিতা করুক বা না-ই করুক— হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

    এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত ইউনিট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে আগাম টোল দিতে হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি অথবা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকবে।

    অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ইরানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে ১ ডলার করে টোল নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক তেলবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

  • যুদ্ধবিরতি ভাঙলে কঠোর শাস্তি, চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়াতে পারে ইরান—বাড়ছে উত্তেজনা

    যুদ্ধবিরতি ভাঙলে কঠোর শাস্তি, চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়াতে পারে ইরান—বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তেহরান বলছে, ইসরায়েল একাধিকবার চুক্তি ভেঙে হামলা চালাচ্ছে—এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

    তেহরানের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বারবার হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের পরিকল্পনা তৈরি করছে ইরান। ওই সূত্রের মতে, উত্তেজনা কমাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে পরিস্থিতি নতুন করে সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

    এদিকে ফার্স প্রদেশে একটি ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।

    আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংঘাত বাড়লে শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ কখনোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।

  • হরমুজ প্রণালি খুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র—ট্রাম্পের দাবি, তবে লাগবে কিছুটা সময়

    হরমুজ প্রণালি খুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র—ট্রাম্পের দাবি, তবে লাগবে কিছুটা সময়

    এবিএনএ:  বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি পুনরায় পুরোপুরি সচল করা তাদের জন্য কঠিন নয়, তবে এতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আর কিছুটা সময় পেলেই আমরা সহজেই হরমুজ খুলে দিতে পারব। তখন এখান থেকে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

    অন্যদিকে, সামুদ্রিক বিশ্লেষক সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার এই পথ দিয়ে ১৬টি জাহাজ অতিক্রম করেছে, যা টানা কয়েকদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    সংস্থাটি আরও জানায়, এসব জাহাজ ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে চলাচল করছে এবং তারা লারাক দ্বীপ সংলগ্ন রুট ব্যবহার করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিভিন্ন দেশ নিজেদের জাহাজ নিরাপদে চালাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল হচ্ছে, তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনও অনেক কম।

    বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এই রুটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।

  • মার্কিন শান্তি প্রস্তাব ‘অন্যায্য’—যুদ্ধবিরতিতে শর্ত জুড়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    মার্কিন শান্তি প্রস্তাব ‘অন্যায্য’—যুদ্ধবিরতিতে শর্ত জুড়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    এবিএনএ: চলমান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবকে ‘একতরফা’ ও ‘অন্যায্য’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তেহরান জানিয়েছে, এতে তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবটি দেশটির উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে। তার মতে, এতে ইরানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে, অথচ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অস্পষ্ট রাখা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, এই প্রস্তাব কার্যকর করার মতো প্রয়োজনীয় শর্তগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনায় বসার বাস্তবসম্মত সুযোগ খুবই সীমিত বলে মনে করছে তেহরান।

    তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে নেই। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে তুরস্ক ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এই জবাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এখন তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

    ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে বেশ কিছু শর্ত উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গুপ্তহত্যা ও সামরিক আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্রদান।

    এছাড়া সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সব গোষ্ঠীসহ সকল ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে দেশটি। হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে তেহরান।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যে দাবিগুলো তুলেছিল, বর্তমান শর্তগুলোর সঙ্গে সেগুলোরও মিল রয়েছে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইরান। তাদের মতে, শান্তি আলোচনার আড়ালে ওয়াশিংটন কৌশলগতভাবে সময় নিচ্ছে—যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শান্তিপ্রিয় হিসেবে তুলে ধরা, তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা।

  • মার্কিন প্রস্তাব নাকচ ইরানের—যুদ্ধ থামাতে দিল ৫ কঠোর শর্ত, বাড়ছে উত্তেজনা

    মার্কিন প্রস্তাব নাকচ ইরানের—যুদ্ধ থামাতে দিল ৫ কঠোর শর্ত, বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে—তা নির্ধারণ করবে শুধুমাত্র ইরান নিজেই এবং তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপরই নির্ভর করবে সবকিছু।

    বুধবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের শেষ নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ইরান তার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন হলে শত্রুপক্ষের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানবে।

    ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছে। তবে তেহরানের দৃষ্টিতে এসব উদ্যোগ বাস্তবতা আড়াল করার কৌশল। তিনি ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত দুই দফা আলোচনাকে ‘প্রতারণামূলক’ উল্লেখ করে বলেন, তখনও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আন্তরিকতা ছিল না এবং পরে তারা সামরিক হামলা চালায়।

    এবার একটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আসা নতুন প্রস্তাবকেও ইরান উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছে এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ শর্ত

    ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে—

    ১. শত্রুপক্ষকে সব ধরনের আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
    ২. ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না—এমন কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
    ৩. যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
    ৪. অঞ্চলের সব ফ্রন্টে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে।
    ৫. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

    ইরানি কর্মকর্তা জানান, এই শর্তগুলো আগের আলোচনায় উত্থাপিত দাবির সঙ্গেও যুক্ত থাকবে। সব শর্ত মেনে নেওয়া না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয় বলে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।

    তিনি আরও বলেন, ইরান নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধ শেষ করবে—যুক্তরাষ্ট্রের সময়সূচি বা চাপে নয়।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূচনা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রায় ৮০ দফা পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

  • যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি বাজার উত্তাল: ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে তেলের দাম, সামনে কি বৈশ্বিক সংকট?

    যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি বাজার উত্তাল: ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে তেলের দাম, সামনে কি বৈশ্বিক সংকট?

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই সর্বোচ্চ মূল্য বলে বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।

    জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার সম্ভাবনা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম এক লাফে ১২.৭৭ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১২.৬৬ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩.৫৬ ডলারে।

    দিনের লেনদেন চলাকালে এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা একদিনে অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। অতীতের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তেলের দাম সর্বোচ্চ ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলারে উঠেছিল।

    সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা

    বিশ্ববাজারে তেলের বর্তমান সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাৎক্ষণিক সরবরাহ ও ছয় মাস পরের চুক্তিমূল্যের ব্যবধান রেকর্ড ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতির ভাষায় এই পরিস্থিতিকে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ বলা হয়, যা সাধারণত বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

    বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারকে প্রভাবিত করছে। ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিবহন সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী কয়েক মাস উচ্চ জ্বালানি দামের প্রভাব থাকতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৩.২২ ডলারে উঠেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

    জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিকল্প সরবরাহের সুযোগ খুবই সীমিত। কৌশলগত মজুদ থেকে কিছু তেল ছাড়া সম্ভব হলেও হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় খুবই অল্প হবে।

    উৎপাদন কমাচ্ছে তেল উৎপাদক দেশ

    মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় তেল উৎপাদক দেশও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরবের বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকো দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমিয়েছে।

    এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওপেকভুক্ত কয়েকটি দেশেও মজুদ কমে আসায় উৎপাদন সীমিত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

    কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও উৎপাদন কমিয়ে ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পর সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ করেছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। বাহরাইনের একটি বড় তেল শোধনাগারেও হামলার পর জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের একটি বৃহৎ তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

  • যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশের পথে জাহাজ, পৌঁছাতে পারে ১৪ মার্চ

    যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশের পথে জাহাজ, পৌঁছাতে পারে ১৪ মার্চ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ ও ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করার পর এটিই কাতারের প্রথম এলএনজি চালান বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার থেকে ছেড়ে আসা এই জাহাজটি তার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের নাম সংকেত পাঠিয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

    জাহাজ ট্র্যাকিং সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার কাতারের এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র থেকে একটি ট্যাঙ্কার যাত্রা শুরু করে। জাহাজটির পানির নিচের অংশের গভীরতা বা ড্রাফট লেভেল বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘লেব্রেথাহ’ নামের ট্যাঙ্কারটি কাতারের রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি টার্মিনাল ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে এটি আগামী ১৪ মার্চ বাংলাদেশের কোনো টার্মিনালে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ‘আল ঘাশামিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজেও এলএনজি লোড করা হয়েছিল। তবে সেটি এখনো পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব জাহাজ শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলএনজি সরবরাহ যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, চলমান সংঘাতের কারণে সেই রুট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ‘লেব্রেথাহ’ জাহাজটি আপাতত ভাসমান গুদাম হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।

    এর আগে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনার পর কাতার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফান টার্মিনাল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। সেই ঘটনার আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে এসব চালান বা গন্তব্য নিয়ে কাতারএনার্জির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।