Tag: জাতিসংঘ

  • হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা—বপন মৌসুমে বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা

    হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা—বপন মৌসুমে বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষির গুরুত্বপূর্ণ বপন মৌসুমে জ্বালানি ও সারের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সামনে বৈশ্বিক খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের এক শীর্ষ অর্থনীতিবিদ।

    জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সুদান, কেনিয়া, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বপন মৌসুম চলছে। এই সময়ে জ্বালানি ও সারের ঘাটতি তৈরি হলে কৃষি উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়বে।

    তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় ৩৫ শতাংশ জ্বালানি তেল, ২০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার পরিবাহিত হয়। এই সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় উপকরণ কম ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। এতে উৎপাদন কমে যাবে এবং বাজারে খাদ্যের প্রাপ্যতা হ্রাস পাবে।

    তোরেরো সতর্ক করে বলেন, দ্রুত সমাধান না হলে ক্ষতির মাত্রা বাড়বে। এমনকি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি সমঝোতা হয়ও, ততক্ষণে কৃষি মৌসুমে যে বিঘ্ন ঘটবে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি মনে করেন, বাণিজ্য পুনরুদ্ধার এবং বাজার স্থিতিশীল হতে অন্তত ৯০ দিন সময় লাগতে পারে।

    তার ভাষায়, চুক্তি হলে শূন্য থেকে ৯০ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা তৈরি হবে। এই সময়ের মধ্যে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং জ্বালানি প্রবাহ পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। অন্যথায় কয়েক মাসের মধ্যেই খাদ্য সরবরাহে চাপ বাড়বে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

    ইরানি পক্ষ জানিয়েছে, তাদের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজে নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কোনও সমঝোতা হলে তা সতর্কতার সঙ্গে এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। তাই আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও হরমুজ ইস্যুতে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, বিশেষ করে কৃষি খাত, বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এখানে অচলাবস্থা তৈরি হলে জ্বালানি, সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়বে। ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

  • ‘যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা’: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বিশ্বকে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ইরানের

    ‘যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা’: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বিশ্বকে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ইরানের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধ’ ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে। তারা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সব অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার জন্য অপরিহার্য।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এই ধরনের প্রকাশ্য হুমকি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে এটিকে বেসামরিক জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা মনে করে, বিশ্ব সংস্থাগুলোর উচিত দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত না হয়।

    তেহরান আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তাই এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা বলা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের খবর পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • নির্বাচনের মুখে বাংলাদেশে বিপজ্জনক প্রবণতা, জনরোষকে ব্যবহার করা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: আইরিন খান

    নির্বাচনের মুখে বাংলাদেশে বিপজ্জনক প্রবণতা, জনরোষকে ব্যবহার করা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: আইরিন খান

    এবিএনএ: বাংলাদেশ যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে, তখন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে জনরোষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইরিন খান। তাঁর মতে, এমন প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইরিন খান এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

    আইরিন খান জানান, ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, পাশাপাশি নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে। এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতা শরীফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর।

    জাতিসংঘের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও শিল্পীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করে দায়ীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

    আইরিন খানের মতে, এই ধরনের হামলা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। বরং দায়মুক্তির দীর্ঘদিনের চর্চা এবং গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের অভাবই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। গত এক বছরে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি উভয় পর্যায় থেকেই গণমাধ্যমের ওপর চাপ বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে শতাধিক সাংবাদিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়মুক্তির ধারাবাহিকতা ভাঙতে না পারায় হামলা ও হুমকি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আইরিন খান।

  • সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত: প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে গভীর শোক জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব

    সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত: প্রধান উপদেষ্টাকে ফোন করে গভীর শোক জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব

    এবিএনএ: সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ উপলক্ষে তিনি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনূসকে ফোন করেন।

    রোববার সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত ফোনালাপে গুতেরেস বলেন, এই দুঃখজনক ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। হামলার ভয়াবহতায় তিনি গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিহত শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানান, যেন নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারগুলোর কাছে তার গভীর সমবেদনা পৌঁছে দেওয়া হয়।

    ফোনালাপে ড. মুহম্মদ ইউনূস নিহত শান্তিরক্ষীদের প্রাণহানিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি আহত সেনাদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য আধুনিক ও উচ্চমানের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং শহীদদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করেন।

    গুতেরেস জানান, আহত শান্তিরক্ষীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সুদানের একটি স্থানীয় হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তৎপরতা দেখানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

    এ সময় দুই নেতা গুতেরেসের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    উল্লেখ্য, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে সুদানের আবেই অঞ্চলের কাদুগলি লজিস্টিক বেসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি স্থাপনায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং আরও আটজন আহত হন।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) নিহত ও আহত শান্তিরক্ষীদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

  • বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের অভিযোগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

    বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের অভিযোগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

    এবিএনএ: বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধিত ধারা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলেছে, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগপন্থী রাজনীতিক ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করছে।

    বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের উচিত এ বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ করা।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। পরে দায়িত্ব গ্রহণ করে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যারা চলতি বছরের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়।

    এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যেন অতীতের মতো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফাঁদে না পড়ে। শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমন গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।”

    তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার বন্ধে দ্রুত ভূমিকা নিতে হবে।

    সংস্থাটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অস্বচ্ছ অভিযোগ আনা হয়েছে। কিছু আটক ব্যক্তিরা পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন, যা অতীত সরকারের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বলে মনে করা হচ্ছে।

    উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ঘটে গত ২৮ আগস্ট ঢাকায়, যখন ‘মঞ্চ ৭১’ সংগঠন স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে এক সভা আয়োজন করে। সেখানে হামলার পর পুলিশের বদলে সভায় অংশ নেওয়া ১৬ জনকেই আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান এবং সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

    পরে তাঁদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আলোচনাকেই ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত এই আইন এখন শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ এডিটরস কাউন্সিলও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, আইনটির সংশোধন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে। যদিও ড. ইউনূস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    অন্যদিকে দেশের আইন সহায়তা সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জনতার হাতে অন্তত ১৫২ জন নিহত হয়েছেন, যা সামাজিক অস্থিরতা ও বিচারহীনতার ইঙ্গিত বহন করছে।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তিন বছরের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য মানবাধিকার রক্ষা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের উচিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার বন্ধ করে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।”

  • ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ: ইতিহাস গড়লেন খন্দকার এম তালহা

    ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ: ইতিহাস গড়লেন খন্দকার এম তালহা

    এবিএনএ: জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো)-এর ৪৩তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্যারিসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম তালহা বিপুল ব্যবধানে জাপানের প্রার্থীকে পরাজিত করে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন।

    বাংলাদেশের ইউনেস্কো সদস্যপদ অর্জনের পর দীর্ঘ ৫৩ বছরে এই প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হলেন। এই অর্জন বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলো।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, এই ঐতিহাসিক বিজয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার গভীর আনন্দ প্রকাশ করে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    ড. আবরার বলেন, “ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়া নিঃসন্দেহে এক অসাধারণ সাফল্য। এটি শুধু বাংলাদেশের কূটনৈতিক অর্জন নয়, বরং দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন। এই সাফল্য বাংলাদেশের সফট পাওয়ারকে আরও জোরদার করবে।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “১৯৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা, সংহতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই বিজয় বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ তৈরি করবে।”

    এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, শিক্ষা ও সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এক নতুন যুগের সূচনা করল।

  • ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নড়েচড়ে ওঠলো যখন শুক্রবার হামাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া গাজার বিষয়ক প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত পোষণ করার খবর দিল। তারা কিছু শর্তে প্রস্তাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা মেনে নিয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    ট্রাম্প নিজেই হামাসের ওই বিবৃতি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন হামাস স্থায়ী শান্তির পথে এগোতে চায় এবং ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, যেন জিম্মিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। তার আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়ে।

    ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অন্যান্য পশ্চিম ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা এই অগ্রগতি স্বাগত জানিয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান, কাতার ও মিসরের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে — এখনই যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই প্রতিক্রিয়াকে উৎসাহজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সব পক্ষকে পরিস্থিতি শান্তিভাবেই এগোতে অনুরোধ করেছেন। ইউরোপীয় নেতারা—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও সংঘবদ্ধ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা ব্যক্ত করেছে যে, এটি জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির পথে একটি বড় ধাপ হতে পারে।

    তবে অনেকে সতর্কও: হামাসের সাড়া পুরো ব্যাপারকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে না—কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও আলোচনার বাইরে আছে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা দাবি, গাজার ভবিষ্যত প্রশাসন ও অস্ত্রবিরতি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ফলে বাস্তব কাজে যাওয়ার আগে আরও কড়া ব্যাকচেক ও মধ্যস্থতাকারী সংলাপ প্রয়োজন।

    প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল; তাই দ্রুত কিভাবে এগোতে হবে, কোন পর্যায়ে দুপক্ষ সাক্ষর করবে এবং জিম্মিদের মুক্তির পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—এসব প্রশ্ন এখনো ঝুলে আছে। সরাসরি প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসাবে ইসরায়েল কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে শুরু করেছে বলে খবর এসেছে।

  • রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপের আহ্বান ড. ইউনূসের

    রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপের আহ্বান ড. ইউনূসের

    এবিএনএ:  রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর টেকসই সমাধানও হতে হবে মিয়ানমারের ভেতরেই। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মিকে বাধ্য করা, যাতে তারা অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে এবং রাখাইনে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা (স্থানীয় সময় সকাল ১০টা) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের হলরুমে এ সম্মেলন শুরু হয়।

    ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, “এখনই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এটি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এ সংকটের স্থায়ী সমাধান একমাত্র মিয়ানমারেই সম্ভব। তাই আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া মিয়ানমারকে প্রত্যাবাসনে বাধ্য করা যাবে না।

  • মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে দৃঢ় অবস্থান: প্রধান উপদেষ্টার বার্তা জুলাই বিপ্লব স্মরণে

    মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে দৃঢ় অবস্থান: প্রধান উপদেষ্টার বার্তা জুলাই বিপ্লব স্মরণে

    এবিএনএ: গত বছরের জুলাইয়ে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ স্মরণানুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ন্যায়বিচার মানে শুধু শাস্তি নয়—ন্যায়বিচার মানে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে জনগণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রক্ষমতা কখনোই ব্যবহার হবে না।”


    🗓️ ‘জুলাই বিপ্লব’-এর স্মরণে এক প্রতিশ্রুতিশীল বার্তা

    ‘জুলাই বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকী’ উপলক্ষে জাতিসংঘ ঢাকা কার্যালয়ের আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইউনূস বলেন, “গত বছর এই সময় দেশের হাজার হাজার মানুষ—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম—ন্যায়বিচার ও সম্মানজনক ভবিষ্যতের জন্য রাস্তায় নেমেছিল। তাদের ত্যাগ গোটা জাতির গর্ব।”


    🕊️ জাতিসংঘের ভূমিকার প্রশংসা

    ড. ইউনূস বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা সংকট কিংবা গত বছরের সংকটকালেও জাতিসংঘ আমাদের পাশে ছিল। জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরের সহযোগিতায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হয়েছে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে আগস্ট ২০২৪-এর মধ্যে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়, যা ছিল পরিকল্পিত ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত সহিংসতা


    ⚖️ বিচারের দাবি ও চলমান পদক্ষেপ

    ড. ইউনূস বলেন, “এই সহিংসতা শুধুমাত্র নিন্দনীয় নয়, বরং তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। জাতিসংঘের সুপারিশমালার আলোকে আমরা ইতিমধ্যে গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন, দণ্ডবিধির সংশোধন এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি।”

    তিনি জানান, ঢাকায় গঠিতব্য সহায়তাকারী মিশন সরকার ও সুশীল সমাজকে কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেবে।


    🗳️ একটি নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের প্রত্যাশা

    অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জাতীয় ঐকমত্য গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রত্যেক মানুষ শান্তি, মর্যাদা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।”


    🔚 ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়

    শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা এই স্বপ্নের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করেছে—যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্র অটল থাকবে।”

    এই প্রতিশ্রুতি শুধু রাষ্ট্রীয় ভাষণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তবায়নের দিকেও এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

  • জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপনে সরকারের বৈধতা নেই: সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র প্রতিবাদ

    জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপনে সরকারের বৈধতা নেই: সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র প্রতিবাদ

    এবিএনএ:  ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় খোলার সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে বলেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এমন নীতিগত চুক্তি করা অনুচিত।

    সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, “এ ধরনের স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ছাড়া অগ্রসর হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি এ সিদ্ধান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো ইস্যুতেও ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।”

    সালাহউদ্দিন আরো বলেন, “গাজা, আরাকান, প্যালেস্টাইনের মতো জায়গায় মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলেও জাতিসংঘ সেখানে কার্যকর ভূমিকা রাখে না। অথচ বাংলাদেশে এমন একটি অফিস খোলার প্রয়োজন দেখা গেল।”

    তিনি জানান, এই চুক্তির মেয়াদ তিন বছর হলেও এক বা দুই বছরের মাথায় তা পর্যালোচনা হতে পারে। পরবর্তী সরকার চুক্তি নবায়ন করবে কি না, সেটাই মূল প্রশ্ন। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হবে সবকিছু পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে এগোনো।

    এসময় তিনি জাতিসংঘের নতুন আবাসিক প্রতিনিধি নিয়োগ সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, যিনি আসছেন, তাঁর সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর তথ্য তারা পেয়েছেন। তিনি আহ্বান জানান, সরকার যেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।

    হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, “আমরা দেশের স্বার্থে কথা বলবো, জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানকে চোখ বন্ধ করে স্বাগত জানানো ঠিক হবে না। দেশ ও ইসলামবিরোধী শক্তি যেন সুযোগ না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

    আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুর মতে, “সরকার রাজনৈতিক আলোচনায় না গিয়েই একতরফাভাবে চুক্তি করেছে। এই চুক্তির নীতিমালার বাইরে কমিশন কাজ করলে আমরা রাজপথে নামবো।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, “পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকারকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এই মিশন স্থাপিত হলে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ আরও হুমকির মুখে পড়বে।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজেদুর রহমান। বক্তব্য রাখেন আরও অনেকে, যার মধ্যে ছিলেন হেফাজতের নায়েবে আমির মাহফুজুল হক, সালাউদ্দিন নানুপুরী, জাতীয় ওলামা পরিষদের মহাসচিব রেজাউল করিম এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল হক প্রমুখ।