বাগেরহাট-১ আসনে ভোটের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, চাপে বিএনপি
জামায়াত ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতিতে বাগেরহাটের রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ, ভোটের মাঠে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস


এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রচারণায় নেমে পড়েছেন মোট ২৩ জন প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি আসনেই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। এর পাশাপাশি নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বাড়তি চাপ তৈরি করছেন বিএনপির জন্য।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বাগেরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মাসুদ রানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কার হলেও মাঠে তার তৎপরতা থেমে নেই, বরং স্থানীয় পর্যায়ে তার উপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম বাগেরহাটের ১, ২ ও ৩ নম্বর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে পুঁজি করে তিনি ভাসমান ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
ভাসমান ভোটারই এখন মূল ফ্যাক্টর
স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ায় এবারের নির্বাচনে ভাসমান ভোটারের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সবখানেই চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাগেরহাট-১ আসনের চিত্র
চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-১ আসনে সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও শেখ মাসুদ রানা। বিএনপির অনেক স্থানীয় নেতাকর্মী নীরবে কিংবা প্রকাশ্যে এই দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মো. মশিউর রহমান খান এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫ আগস্টের পর সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং সুসংগঠিত প্রচারণায় তিনি আলাদা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
এছাড়াও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আবু সবুর শেখ, এবি পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর এস এম গোলাম সারোয়ার এবং মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হক নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
বিএনপি প্রার্থীর আশাবাদ
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, “দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে। আমরা এই আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন ভোটারদের মতে, বাগেরহাট-১ আসনে এবার দ্বিমুখী নয়, বরং ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাই বেশি।
ভোটার সংখ্যা
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।




