Tag: বাগেরহাট নির্বাচন

  • ভোটের অঙ্কে ধাক্কা—বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত, ইসলামী আন্দোলনের ৩ জনও বাদ

    ভোটের অঙ্কে ধাক্কা—বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত, ইসলামী আন্দোলনের ৩ জনও বাদ

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ২৩ জন প্রার্থী। নির্বাচনসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গেছে, এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ১৪ জন প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়েছে—যা সংখ্যায় অর্ধেকের বেশি এবং শতাংশের হিসাবে প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি।

    আসনভিত্তিক হিসাবে বাগেরহাট-১ এ ছয়জন, বাগেরহাট-২ এ একজন, বাগেরহাট-৩ এ তিনজন এবং বাগেরহাট-৪ এ চারজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

    বাগেরহাট-১ আসনে জামানত হারানোদের মধ্যে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এমএএইচ সেলিম ও মাসুদ রানা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আ. সবুর শেখ ও এমডি শামসুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. আমিনুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির এস এম গোলাম সরোয়ার। প্রয়োজনীয় ভোটের কোটা না ছোঁয়ায় তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

    বাগেরহাট-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমান ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান। একইভাবে বাগেরহাট-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিম, ইসলামী আন্দোলনের শেখ জিল্লুর রহমান এবং জেএসডির মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করতে না পেরে জামানত হারিয়েছেন।

    বাগেরহাট-৪ আসনে জামানত হারানো চারজনের মধ্যে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, ইসলামী আন্দোলনের মো. ওমর ফারুক, জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রি এবং জেএসডির মো. আব্দুল লতিফ খান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কাজী খায়রুজ্জামান শিপন প্রচার শেষে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে ভোটের কয়েক দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবু প্রার্থী তালিকায় থাকায় তাঁর ক্ষেত্রেও জামানত বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

    বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তর জানিয়েছে, ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি কার্যকর করা হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনছার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

  • বিদ্রোহী প্রার্থী, ভুল মনোনয়ন আর কোন্দল—বাগেরহাটে বিএনপির দুর্গ ভাঙল জামায়াত

    বিদ্রোহী প্রার্থী, ভুল মনোনয়ন আর কোন্দল—বাগেরহাটে বিএনপির দুর্গ ভাঙল জামায়াত

    এবিএনএ: বাগেরহাটকে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীনদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হলেও এবারের নির্বাচনে ছবিটা বদলে গেছে। বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট) আসনে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে—স্বাধীনতার পর প্রথমবার এখানে জয় পায় জামায়াত। স্থানীয় রাজনীতিতে এ ফলাফলকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

    এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের নেতা কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় ইউনিটে দায়িত্বে ছিলেন এবং সংখ্যালঘু সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই বিএনপির তৃণমূলে অসন্তোষ তৈরি হয়। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, দুঃসময়ে মাঠে থাকা একাধিক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে কেবল ভোটের অঙ্ক কষে। ফলে মাঠের কর্মীরা নিরুৎসাহিত হন।

    এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএএইচ সেলিম ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানার মতো দুই স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে থাকায় বিভাজন আরও গভীর হয়। ফলাফলে দেখা যায়, বিজয়ী জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর ব্যবধান ছিল অল্প; কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট যোগ করলে ব্যবধান স্পষ্টভাবেই পাল্টে যেতে পারত। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীদের একটি অংশ প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও গোপনে বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।

    বাগেরহাট-২ আসনেও একই চিত্র। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতিতে বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যায়। প্রকাশ্যে দলীয় প্রচারণা থাকলেও আড়ালে ভিন্ন মেরুর তৎপরতা চলেছে বলে দাবি করেন মাঠের কর্মীরা। ভোটের হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, বিভক্তি না হলে ফল ভিন্ন হতে পারত।

    দলীয় কোন্দলের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে চাঁদাবাজি, ঘের ও বসতভিটা দখল, নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতার অভিযোগে সাধারণ ভোটারদের একাংশ মুখ ফিরিয়ে নেয়। অনেকেই বলেন, দল জনপ্রিয় হলেও একাধিক গ্রুপে বিভক্ত থাকায় সাংগঠনিক শক্তি ক্ষয়ে গেছে। আবার মনোনীত প্রার্থীদের অনেককে ভোটাররা ঠিকভাবে চিনতেন না—এটাও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

    অন্যদিকে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে দীর্ঘদিন পর ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় ছিনিয়ে নেয়। অতীতে জোটের সমীকরণে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার নজির থাকলেও এবার স্থানীয় সংগঠন সক্রিয় থাকায় ফল তাদের পক্ষে যায়।

    বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মনোনয়ন বিতর্ক নতুন করে ক্ষোভ বাড়ায়। দলবদল করে আসা প্রার্থীকে এগিয়ে দেওয়ায় তৃণমূল নেতারা অসন্তুষ্ট হন। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনী ব্যয় ভাগাভাগি ও অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে মাঠে সমন্বয় হয়নি। শেষ পর্যন্ত এর খেসারত দিতে হয় দলকে।

    সব মিলিয়ে বাগেরহাটে বিএনপির ভরাডুবির পেছনে তিনটি বিষয় স্পষ্ট: বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোটকাটা, স্থানীয় বাস্তবতা না বুঝে মনোনয়ন এবং দলীয় কোন্দল। এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা সুযোগ নিয়েছে—এটাই বলছেন মাঠপর্যায়ের কর্মী ও পর্যবেক্ষকেরা।

  • বাগেরহাটে ভোটের চূড়ান্ত ফল: চার আসনে ক্ষমতার পালাবদল, জামায়াতের তিনটিতে জয়, বিএনপির একটিতে সাফল্য

    বাগেরহাটে ভোটের চূড়ান্ত ফল: চার আসনে ক্ষমতার পালাবদল, জামায়াতের তিনটিতে জয়, বিএনপির একটিতে সাফল্য

    এবিএনএ, বাগেরহাট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফল প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন তার দপ্তরে ফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে জেলার তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এবং একটি আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

    বাগেরহাট-১ (চিতলমারী–ফকিরহাট–মোল্লাহাট) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মশিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে থেকে জয় পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কপিল কৃষ্ণ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট সংগ্রহ করেন।

    বাগেরহাট-২ (সদর–কচুয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পান ৬৬ হাজার ২৭৪ ভোট।

    বাগেরহাট-৩ (মোংলা–রামপাল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৮৩ হাজার ৭০৫ ভোট।

    অন্যদিকে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল আলিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সোমনাথ দে ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩২৬ ভোট।

    ফল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর ফল চূড়ান্ত রূপ পাবে।

  • বাগেরহাট-১ আসনে ভোটের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, চাপে বিএনপি

    বাগেরহাট-১ আসনে ভোটের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, চাপে বিএনপি

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রচারণায় নেমে পড়েছেন মোট ২৩ জন প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি আসনেই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। এর পাশাপাশি নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বাড়তি চাপ তৈরি করছেন বিএনপির জন্য।

    দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বাগেরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মাসুদ রানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কার হলেও মাঠে তার তৎপরতা থেমে নেই, বরং স্থানীয় পর্যায়ে তার উপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম বাগেরহাটের ১, ২ ও ৩ নম্বর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে পুঁজি করে তিনি ভাসমান ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

    ভাসমান ভোটারই এখন মূল ফ্যাক্টর
    স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ায় এবারের নির্বাচনে ভাসমান ভোটারের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সবখানেই চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বাগেরহাট-১ আসনের চিত্র
    চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-১ আসনে সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

    তবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও শেখ মাসুদ রানা। বিএনপির অনেক স্থানীয় নেতাকর্মী নীরবে কিংবা প্রকাশ্যে এই দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মো. মশিউর রহমান খান এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫ আগস্টের পর সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং সুসংগঠিত প্রচারণায় তিনি আলাদা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।

    এছাড়াও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আবু সবুর শেখ, এবি পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর এস এম গোলাম সারোয়ার এবং মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হক নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

    বিএনপি প্রার্থীর আশাবাদ
    বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, “দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে। আমরা এই আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারব।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন ভোটারদের মতে, বাগেরহাট-১ আসনে এবার দ্বিমুখী নয়, বরং ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাই বেশি।

    ভোটার সংখ্যা
    এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।

  • বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর প্রতিক বরাদ্দ, তিন আসনে নির্বাচন করা সেলিমের প্রতিক ঘোড়া

    বাগেরহাটে ২৩ প্রার্থীর প্রতিক বরাদ্দ, তিন আসনে নির্বাচন করা সেলিমের প্রতিক ঘোড়া

    এবিএনএ, ‎বাগেরহাট: ‎বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনে ২৩ জন প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিক বরাদ্দ করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলার বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৩ তিনটি আসন থেকে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এম,এ,এইচ সেলিম নিয়েছেন ঘোড়া প্রতিক। বাগেরহাট-১ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. শেখ মাসুদ রানা ফুটবল প্রতিক ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন পেয়েছেন হরিণ প্রতিক। বুধবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিক বরাদ্দ করা হয়।

    বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, জামায়াতের মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আবু সবুর শেখ, এবি পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি-জেপি‘র স, ম, গোলাম সরোয়ার, মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হকের মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ করা হয়েছে।

    বাগেরহাট-২ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এম,এ,এইচ সেলিম নিয়েছেন ঘোড়া প্রতিক। এ আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, জামায়াতের শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ও ইসলামী আন্দোলনের এ্যাড. আতিয়ার রহমানের মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ করা হয়েছে।

    বাগেরহাট-৩ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এম,এ,এইচ সেলিম নিয়েছেন ঘোড়া প্রতিক। এ আসনে বিএনপির ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জামায়াতের এ্য্যড. আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামী আন্দোলনের জিল্লুর রহমান, জাসাদের মো. হাবিবুর রহমান মাস্টারের মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    বাগেরহাট-৪ আসনে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন পেয়েছেন হরিণ প্রতিক। এছাড়া এই আসনে বিএনপির সোমনাথ দে, জামায়াতের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, ইসলামী আন্দোলনে ওমর ফারুক, জাতীয় জাসদেও মো. আ. লতিফ খান, জাতীয় পার্টি-জেপি‘র সাজন কুমার মিস্ত্রির মাঝে তাদের দলীয় প্রতিক বরাদ্দ করা হয়েছে।

  • চার আসনে একযোগে মনোনয়ন সংগ্রহ, বাগেরহাটে নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় সিলভার সেলিম

    চার আসনে একযোগে মনোনয়ন সংগ্রহ, বাগেরহাটে নির্বাচনী মাঠে আলোচনায় সিলভার সেলিম

    এবিএনএ,বাগেরহাট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাটে আরও একটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সিলভার সেলিম। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বাগেরহাট–৩ সংসদীয় আসনের (রামপাল–মোংলা) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

    সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিমের পক্ষে তাঁর অনুসারীরা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই তাঁর মনোনয়ন সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন হলো।

    এর আগে তিনি বাগেরহাট–১ (ফকিরহাট–মোল্লাহাট–চিতলমারী), বাগেরহাট–২ (সদর–কচুয়া) এবং বাগেরহাট–৪ (শরণখোলা–মোরেলগঞ্জ) আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। সর্বশেষ রামপাল–মোংলা আসন যুক্ত হওয়ায় চার আসনেই তাঁর নির্বাচনী প্রস্তুতি দৃশ্যমান হয়েছে।

    মনোনয়ন সংগ্রহ শেষে মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা চারটি আসন থেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমরা বাগেরহাটের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।” তিনি আরও জানান, সিলভার সেলিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নেবেন—সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    এদিকে জেলার কয়েকটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাগেরহাট–১, ২ ও ৪ আসনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ, মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, বাগেরহাট–১ ও ৪ আসনে মনোনীত প্রার্থীরা সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় তারা এ মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করছেন।

  • বাগেরহাটের তিন আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন সাবেক এমপি সেলিম

    বাগেরহাটের তিন আসনে মনোনয়নপত্র নিলেন সাবেক এমপি সেলিম

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিমের পক্ষে একযোগে তিনটি আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাবেক এমপি সেলিমের বড় ছেলে মেহেদী হাসান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. মোত্তালেব হোসেনের কাছ থেকে তিনি বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লহাট-চিতলমারী), বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) এবং বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেহেদী হাসান বলেন, আমরা বাগেরহাটের তিনটি সংসদীয় আসন থেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন তিনি আবারও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পান। তবে মনোনয়নপত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

    এদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির পক্ষ থেকে বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে-কে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুজিবুর রহমান শামীম এবং বাগেরহাট-২ আসনে খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট বালী নাসের ইকবালের নাম উঠে এসেছে।

    এই পরিস্থিতিতে বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ, মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত দুই প্রার্থী অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এ কারণে তারা ওই প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করছেন বলে জানিয়েছেন।