Tag: জামায়াতে ইসলামী

  • নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিতর্ক: রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অপসারণ দাবি জামায়াতের

    নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিতর্ক: রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অপসারণ দাবি জামায়াতের

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কথিত ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ ইস্যুতে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে পদ থেকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধেও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরুতে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মনে হলেও দিন শেষে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অনিয়মের অভিযোগ আসে। তার দাবি, অনেক কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান এবং দলের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    তিনি আরও জানান, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছু এজেন্টের যোগসাজশে ব্যালট কেটে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের অভিযোগে জামায়াত অন্তত ৫৩টি আসনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

    তাহের বলেন, সম্প্রতি সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি বক্তব্যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে তাদের ধারণা। তার মতে, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য কারা এবং কীভাবে প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে—তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এজন্য সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বর্তমান সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, বিষয়টি স্পষ্ট করতে খলিলুর রহমানকেও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

  • দলীয় পরিচয়ে নিপীড়ন চলবে না—কঠোর বার্তা দিলেন ডা. শফিকুর রহমান

    দলীয় পরিচয়ে নিপীড়ন চলবে না—কঠোর বার্তা দিলেন ডা. শফিকুর রহমান

    এবিএনএ: দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি বা নিপীড়ন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না—এমন কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের যে কোনো নাগরিক অবিচারের শিকার হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

    বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতিম শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সেখানে তিনি আরও বলেন, সরকার ও বিরোধীদল মিলেই নাগরিকদের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা উচিত।

    এতিমদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সমাজের অবহেলিত এই শিশুদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা দিলে তারা দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তাদের ভেতর থেকে মেধা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    সাম্প্রতিক সময়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের চার সাংবাদিকের চাকরি হারানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দ্রুত পুনর্বহাল করা উচিত। অন্যথায় তা একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রত্যাশা। ইফতার মাহফিলটি পরিণত হয় সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক সংহতির বার্তাবাহক এক আয়োজনে।

  • ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর পথে তারেক? জামায়াত আমিরের অগ্রিম অভিনন্দনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা

    ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর পথে তারেক? জামায়াত আমিরের অগ্রিম অভিনন্দনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা

    এবিএনএ: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে বাংলাদেশের ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক সৌজন্য সাক্ষাতের পর দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এই বার্তা দেন।

    ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা দিতে জামায়াত আমিরের বাসায় যান তারেক রহমান। সেখানে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনার পর দুই নেতার মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। আলোচনায় রাজনৈতিক সৌহার্দ্য, ভবিষ্যৎ সংসদে দায়িত্বশীল আচরণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

    বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, এই সাক্ষাৎ জাতীয় রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। তিনি প্রত্যাশা করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দায়িত্বশীলতার জায়গায় সবাই একমত হবেন।

    বৈঠকের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তারেক রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধে কঠোর অবস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন। বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথাও উঠে আসে আলোচনায়। জামায়াত আমির বলেন, কোনো নাগরিক যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

    ভবিষ্যৎ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের রূপরেখা টেনে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করা হবে। তবে আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আপসহীন থাকবে জামায়াতে ইসলামী। জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সমর্থন থাকবে, কিন্তু জবাবদিহি প্রয়োজন হলে গঠনমূলক সমালোচনা করা হবে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দলের মধ্যে সংঘাতের রাজনীতির বাইরে গিয়ে সংলাপের পথ খোলার ইঙ্গিত দেয়। সামনে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই বার্তার প্রতিফলন কতটা ঘটে—সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক অঙ্গন।

  • নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র: ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ, নিরঙ্কুশ জয়ে সরকার গড়ছে বিএনপি

    নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র: ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ, নিরঙ্কুশ জয়ে সরকার গড়ছে বিএনপি

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফল ঘোষণার সমাপনী বক্তব্যে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল আদালতের নির্দেশে আপাতত স্থগিত রয়েছে। এছাড়া একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোটগ্রহণ হয়নি।

    ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা মোট ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ১টি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৭টি আসনে।

    দলভিত্তিক হিসাবেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—এককভাবে তাদের দখলে গেছে ২০৯টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি–বিজেপি ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং গণঅধিকার পরিষদ ১টি আসনে জয় পেয়েছে।

    এই ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে বিএনপি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগবিহীন এই সংসদে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

    ভোটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ইসি সচিব জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯.৪৪ শতাংশ। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে অংশগ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে ৬০.২৬ শতাংশে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।

    তিনি আরও জানান, ২৯৯টি আসনের গণভোটের হিসাব করা হয়েছে। চট্টগ্রামের দুই আসনে প্রার্থীদের ভোট আদালতের স্থগিতাদেশে গণনায় ধরা না হলেও সেখানে গণভোটের ফল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর যে আসনে নির্বাচন হয়নি, সেটি গণনার বাইরে রাখা হয়েছে।

  • বাগেরহাটে ভোটের চূড়ান্ত ফল: চার আসনে ক্ষমতার পালাবদল, জামায়াতের তিনটিতে জয়, বিএনপির একটিতে সাফল্য

    বাগেরহাটে ভোটের চূড়ান্ত ফল: চার আসনে ক্ষমতার পালাবদল, জামায়াতের তিনটিতে জয়, বিএনপির একটিতে সাফল্য

    এবিএনএ, বাগেরহাট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফল প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন তার দপ্তরে ফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে জেলার তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এবং একটি আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

    বাগেরহাট-১ (চিতলমারী–ফকিরহাট–মোল্লাহাট) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মশিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে থেকে জয় পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কপিল কৃষ্ণ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট সংগ্রহ করেন।

    বাগেরহাট-২ (সদর–কচুয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পান ৬৬ হাজার ২৭৪ ভোট।

    বাগেরহাট-৩ (মোংলা–রামপাল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৮৩ হাজার ৭০৫ ভোট।

    অন্যদিকে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল আলিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সোমনাথ দে ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩২৬ ভোট।

    ফল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর ফল চূড়ান্ত রূপ পাবে।

  • নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা: শরীয়তপুরে জামায়াত অফিস থেকে ৭ লাখ টাকা উদ্ধার, শিক্ষককে কারাদণ্ড

    নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা: শরীয়তপুরে জামায়াত অফিস থেকে ৭ লাখ টাকা উদ্ধার, শিক্ষককে কারাদণ্ড

    এবিএনএ: শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় জামায়াতে ইসলামী’র একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। অভিযানে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, অর্থ বিতরণের তালিকা এবং একটি ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গোলাম মোস্তফা নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর নড়িয়া থানা পুলিশ দণ্ডপ্রাপ্তকে কারাগারে পাঠায়।

    আটক গোলাম মোস্তফা ১২৭ নম্বর হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি চলমান নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্রে পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।

    নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস জানান, নির্বাচনী কার্যক্রমে অর্থ বিতরণের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া টাকার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় এবং সেখানে তার উপস্থিতির যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা হয়।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেন ওই এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নির্বাচনী কার্যালয় পরিচালনা করছিলেন। বুধবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

    এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থীর মিডিয়া সেলের প্রধান মাসুদ কবির দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কর্মীদের যাতায়াত ও খাবারের খরচের জন্য রাখা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে।

    অন্যদিকে, একই রাতে নড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী সফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত বিভিন্ন এলাকায় অর্থের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশাসনের কাছে এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    উল্লেখ্য, শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট আটজন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

  • সরকার গঠন করলে প্রথমদিন ফজর পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব

    সরকার গঠন করলে প্রথমদিন ফজর পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব

    এবিএনএ: জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মানবিক, নিরাপদ ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রথম দিন ফজরের নামাজ শেষে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবেন। তাঁর ভাষ্যে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ভোগের বিষয় নয়—এটি আমানত ও জবাবদিহিতার বিষয়।

    ভাষণে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার—ধর্ম ও পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষাই হবে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। নারী-পুরুষের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দিতে প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি। তিনি জানান, নীতিনির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে দলীয় ইশতেহার ও নীতিকৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে; সুযোগ পেলে সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে সঙ্গে সঙ্গেই।

    তিনি অতীতের দমন-পীড়ন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সমালোচনা করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হয় না। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে ঐক্যের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘না’ বলার আহ্বান জানিয়ে সততা, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি করার কথা বলেন।

    রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, কাঠামোগত পরিবর্তন সময়ের দাবি—এ কারণেই সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের মতামতের মাধ্যমে সংস্কারকে টেকসই করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়া, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন।

    ভাষণের শেষে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন, আচরণবিধি মানা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, রাষ্ট্র সবার—সরকার হবে জনগণের। ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার নীতিতে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকারেই তাঁর বক্তব্য শেষ হয়।

  • শক্ত প্রতিরক্ষা থেকে বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার—জামায়াতের ইশতেহারে কী আছে বাংলাদেশের জন্য?

    শক্ত প্রতিরক্ষা থেকে বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার—জামায়াতের ইশতেহারে কী আছে বাংলাদেশের জন্য?

    এবিএনএ: পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত এই ইশতেহারে কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি কৌশলগত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যা এই ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে।

    পররাষ্ট্রনীতি: সমমর্যাদা ও কৌশলগত বন্ধুত্ব

    ইশতেহারে পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি পাসপোর্টের মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

    এ ছাড়া পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা জোরদার এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিরক্ষানীতি: ভিশন ২০৪০ ও সামরিক আত্মনির্ভরতা

    প্রতিরক্ষা খাতে জামায়াতের ইশতেহারের মূল লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে শতভাগ সামরিক আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন। এজন্য একটি যুগোপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন, নতুন সামরিক ডকট্রিন তৈরি এবং প্রতিরক্ষা গবেষণার জন্য জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়েছে।

    সামরিক বাজেট ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, নিজস্ব অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন, গোয়েন্দা সংস্থার আধুনিকীকরণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সামরিক প্রশিক্ষণ চালু ও সেনাসদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • নির্বাচনে পক্ষপাত চলবে না—নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাল জামায়াত

    নির্বাচনে পক্ষপাত চলবে না—নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাল জামায়াত

    এবিএনএ: নির্বাচনী পরিবেশে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পটুয়াখালীর বাউফলে দলটির থানা কার্যালয়ে পরিচালিত পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে এ আহ্বান জানানো হয়।

    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাউফল থানা জামায়াত কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশ তল্লাশি চালালেও কোনো আপত্তিকর বা অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি।

    তিনি অভিযোগ করেন, অভিযানের সময় একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছিলেন, যা থেকে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার দাবি, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দেশে-বিদেশে দলটির একটি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে। এ ধরনের সংগঠনের বিরুদ্ধে প্ররোচিত হয়ে অভিযান চালানো অনভিপ্রেত ও অনৈতিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, বাউফল থানার ওসি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমন অবস্থায় তাকে দায়িত্বে রেখে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

    তিনি অবিলম্বে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। পাশাপাশি নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

  • ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে কড়া হুঁশিয়ারি: টাকা নিয়ে এলে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

    ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে কড়া হুঁশিয়ারি: টাকা নিয়ে এলে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক লুটেরা ও ঋণখেলাপিমুক্ত করতে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। ভোটের অধিকার রক্ষায় কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তরুণ সমাজ ইতোমধ্যে জেগে উঠেছে—ডাকসু, চাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্রসংসদের নির্বাচনে তার প্রতিফলন দেখা গেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনতার রায়ের মধ্য দিয়েই দেশের জন্য নতুন পথ উন্মোচিত হবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা গণতান্ত্রিক ধারাকে অস্বীকার করে, তাদেরকে ভোটের মাধ্যমেই জবাব দিতে হবে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের ঢেউ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ভোট কেনাবেচা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, কেউ যদি অর্থের বিনিময়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তবে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। আগের দিনের অনিয়মের সংস্কৃতি আর চলবে না—এমন বার্তাও দেন তিনি।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, স্বল্প সময়ে কিছু গোষ্ঠী দুর্নীতির পথে গেছে। আসন্ন নির্বাচনে জনগণের রায়ে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে দাবি করেন তিনি।

    চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান এবং উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান।