Tag: জামায়াতে ইসলামী

  • ইসলামী জোটে ভাঙনের শঙ্কা? চরমোনাইকে ৪০ আসনের বেশি দিতে নারাজ জামায়াত

    ইসলামী জোটে ভাঙনের শঙ্কা? চরমোনাইকে ৪০ আসনের বেশি দিতে নারাজ জামায়াত

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী সমঝোতা এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী নবগঠিত দল এনসিপিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। দলটির দাবি অনুযায়ী আসন না পেলে তারা জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

    নির্বাচনী সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত এনসিপিকে ৩০টির মতো আসন ছাড়তে প্রস্তুত হলেও ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টির বেশি আসন দিতে নারাজ। আগে যেখানে জামায়াত ১৮০ থেকে ১৯০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, সেখানে এখন দলটি অন্তত ২০০ আসনে নিজস্ব প্রতীক দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রাখতে চায়।

    ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটের পরিকল্পনা ছিল ১২ জানুয়ারি একযোগে ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা। তবে আসন বণ্টনে ঐকমত্য না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব দল একসঙ্গে তালিকা প্রকাশ করবে।

    তবে জোটসংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, আলোচনার বদলে জটিলতাই বাড়ছে। ইসলামী আন্দোলনের পাশাপাশি এবি পার্টিও পর্যাপ্ত আসন না পেলে জোটে থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে।

    জামায়াত সূত্র জানায়, এনসিপির পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এলডিপিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য শরিক দলগুলো নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করছে। চরমোনাই পীরের দল শুরুতে ১৫০ আসন চাইলেও ধাপে ধাপে কমিয়ে এখন ৭০ আসনের নিচে নামতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে।

    জামায়াতের প্রস্তাব অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলন পাবে ৪০টি আসন, এনসিপি ২৮ থেকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৪টি, এলডিপি ও খেলাফত মজলিস পাঁচটি করে এবং এবি পার্টি তিনটি আসন। বাকি প্রায় ২০০ আসনে জামায়াত নিজেই প্রার্থী দেবে।

    এই প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ ইসলামী আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করছেন, জামায়াত তাদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে আসন ছাড়ছে না। বরং যেসব এলাকায় জামায়াত দুর্বল, সেসব আসনই চরমোনাইকে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াত নিজের শক্ত অবস্থান থাকা এলাকাতেও এনসিপিকে ছাড় দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে আলোচনা চলছে, প্রয়োজনে তারা এককভাবেও নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবে। দলটির নেতাদের ভাষ্য, এনসিপিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের অবমূল্যায়ন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

    জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এনসিপির জনসমর্থন তাদের জরিপে প্রায় ৭ শতাংশ। সাংগঠনিক শক্তি না থাকায় এই ভোট বিএনপিতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই জামায়াত নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে এনসিপিকে শক্ত অবস্থানে আনতে চায়।

    এদিকে, এনসিপি ইতোমধ্যে ৩০ আসনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। জামায়াত, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের সমঝোতা মোটামুটি চূড়ান্ত হলেও সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ইসলামী আন্দোলনকে ঘিরে।

    মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এর আগেই আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলগুলোকে। না হলে ইসলামপন্থি এই বৃহৎ জোটে ভাঙনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে নীতির বিসর্জন: নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার কঠোর বার্তা

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীকে অন্তর্ভুক্ত করে ৮ দলীয় রাজনৈতিক জোট কিংবা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন নেতা। এ বিষয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর একটি নীতিগত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তারা।

    শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্মারকলিপিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। তিনি জানান, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা, দলের ঘোষিত আদর্শ ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতার আলোকে’ সম্ভাব্য জোটের বিরুদ্ধে এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    স্মারকলিপিতে নেতারা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার আলোচনা দলের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, কৌশলগত সুবিধার জন্য আদর্শ বিসর্জন দেওয়া হলে এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    চিঠিতে বলা হয়, গত এক বছরে জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠনের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক তৎপরতা, এনসিপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, নারী নেত্রীদের চরিত্রহননের চেষ্টা এবং ধর্মভিত্তিক সামাজিক ফ্যাসিবাদের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।

    এছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের ভূমিকা, মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নে তাদের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও এনসিপির মূল দর্শনের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

    নেতারা আরও বলেন, এনসিপি একটি গণঅভ্যুত্থান-উদ্ভূত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা, নারী-পুরুষের সমতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার দায় বহন করে। জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এই নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দলের সমর্থকভিত্তি ক্ষয় হবে।

    চিঠিতে নাহিদ ইসলামকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়—এর আগে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা, সংস্কারভিত্তিক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি এবং জামায়াতের দ্বিচারিতা নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য অবস্থানের কথা। অল্প কয়েকটি আসনের জন্য জোটে যাওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।

    স্মারকলিপির শেষে তারা সম্মান বজায় রেখে অনুরোধ জানান, ভবিষ্যৎ জোটনীতি নির্ধারণে নীতিগত প্রশ্নগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে।

  • ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাগেরহাটে প্রার্থী ছড়াছড়ি, মনোনয়ন ফরম নিলেন ২৫ জন

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাগেরহাটে প্রার্থী ছড়াছড়ি, মনোনয়ন ফরম নিলেন ২৫ জন

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২৫ জন প্রার্থী ইতোমধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন কার্যালয়।

    বাগেরহাট-১ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কপিল মণ্ডল, বিএনপি-স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এম এ এইচ সেলিম, এস এম মুজিবর রহমান ও মাসুদ রানা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মশিউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজিবর রহমান শামীম এবং এবি পার্টির মো. আমিনুল ইসলাম মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।

    বাগেরহাট-২ আসনে মনোনয়ন নিয়েছেন বিএনপির শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর শেখ মনজুরুল হক রাহাত, ইসলামী আন্দোলনের শেখ আতিয়ার রহমান এবং খেলাফত মজলিসের বালী নাছের ইকবাল ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বিএনপির ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও মো. জুলফিকার আলী, জামায়াতের মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ, ইসলামী আন্দোলনের শেখ জিল্লুর রহমান, জাসদ-রবের হাবিবুর রহমান মাস্টার এবং এনসিপির মো. রহমাতুল্লাহ মনোনয়ন নিয়েছেন।

    বাগেরহাট-৪ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীরা হলেন বিএনপির সোমনাথ দে, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও কাজী খাইরুজ্জামান শিপন, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল আলীম এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. ওমর ফারুক।

    জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। পরে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

  • দাঁড়িপাল্লার জোয়ার বদলে দিচ্ছে রাজনৈতিক স্রোত—চট্টগ্রামে আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে নতুন বার্তা

    দাঁড়িপাল্লার জোয়ার বদলে দিচ্ছে রাজনৈতিক স্রোত—চট্টগ্রামে আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে নতুন বার্তা

    চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।
    বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে ঘিরে জনগণের আগ্রহ ও আস্থা বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার ভাষায়, “দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা দাঁড়িপাল্লা আজ পরিবর্তিত বাংলাদেশে নতুন করে গণমানুষের আশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।”

    শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে আয়োজিত নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ভোটাধিকার থেকে বঞ্চনার অভিযোগ

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। বহু তরুণ একবারও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন,
    “জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে কেউ যেন আবার সাহস না দেখায়। অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে ফল ভালো হবে না।”

    জুলুম, ধৈর্য ও প্রশাসনের ভূমিকা

    তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ওপর নানা অত্যাচার হয়েছে, কিন্তু ক্ষমতার বদলের পর তারা প্রতিশোধ নেওয়ার পথ বেছে নেননি। বরং জনগণকে ধৈর্য ধরতে উৎসাহ দিয়েছেন।
    “প্রশাসন ভয় পেয়েছিল, আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি,”—বলেন তিনি।

    গণভোট প্রসঙ্গে মন্তব্য

    আগামী গণভোটকে ঘিরে তিনি বলেন, “যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন, তারা পুরোনো অপরিষ্কার রাজনীতি থেকে মুক্ত ভবিষ্যৎ চান। আর যারা ‘না’ বলবেন তারা সেই পুরোনো রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনতে চায়।”

    চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি

    জামায়াতের আমির জানান, তারা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ চান। অন্য অনেক রাজনৈতিক দল দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে লজ্জা পায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
    তিনি আরও বলেন, “ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। কেউ যেন আর জুলুমের শিকার না হয়।”

    ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে তাদের কোনো এমপি-মন্ত্রী সরকারি বাড়ি বা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি নেবেন না বলেও তিনি ঘোষণা দেন। তার ভাষায়, “বিলাসিতা কোনো জনপ্রতিনিধির চরিত্র হতে পারে না।”

    ভোটের নীতি পরিবর্তনের দাবি

    তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
    “‘আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব’—এই নীতি আর চলবে না। এবার যার ভোট, সে-ই দেবে।”

    বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য

    সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর জনগণ এমন একটি দেশ চায় যা স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও লুটপাটমুক্ত হবে। তিনি শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের উদাহরণ তুলে ধরে তাদের উত্তরসূরীদের বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

    নগর আমীরের প্রত্যাশা

    চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন,
    “জনগণ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলবাজদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকেই তারা বিজয়ী করবে।”

    অপেক্ষাকৃত বড় উপস্থিতি

    সম্মেলনে কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরাও অংশ নেন এবং দলের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

  • চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ জামায়াত আমিরের—‘ফাউল গেমে যেন কেউ না জড়ায়’

    চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ জামায়াত আমিরের—‘ফাউল গেমে যেন কেউ না জড়ায়’

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই হামলায় দলের কর্মী সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন এবং আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন।

    বৃহস্পতিবার রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, “চট্টগ্রামে একজন নির্বাচনী প্রার্থী ও তার সহকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা করা হয়েছে—এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া জরুরি।”

    তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে কেউ যেন ‘ফাউল গেম’ খেলতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, এমন সুযোগে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যা সমাজ ও রাজনীতির জন্য বিপজ্জনক।”

    জামায়াত আমির মনে করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা শুরু হয়েছে তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    চট্টগ্রাম-৮ আসনে এরশাদ উল্লাহ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু বুধবারের এই হামলার ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

  • সব দলের ক্ষোভ একজায়গায়: সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে রাজনৈতিক অস্থিরতা

    সব দলের ক্ষোভ একজায়গায়: সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে রাজনৈতিক অস্থিরতা

    এবিএনএ:  স্বৈরাচারবিরোধী জুলাই বিপ্লবের পর যে অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল সমর্থন দিয়েছিল, সেই সরকারের বিরুদ্ধে এখন উঠেছে তীব্র অভিযোগের ঝড়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার সম্পর্কে বিরোধী দলগুলো বলছে— জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে তারা।

    প্রথমদিকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য দল অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু মাত্র ১৫ মাসের ব্যবধানে চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক ঐক্যসহ একাধিক রাজনৈতিক দল সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সরকার ও কমিশন উভয়ই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন বিলম্বিত করার চক্রান্ত চলছে।”

    জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আর দেরি করলে সরকার জনআস্থা হারাবে। এখনই বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।”

    নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মন্তব্য করেন, “যে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, তার কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করা বৃথা। দেশের সংকট কাটাতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া বিকল্প নেই।”

    এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রাখা যাবে না। অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক মনে করেন, “অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করছে, যা আমাদের সমর্থনের পরিসীমায় পড়ে না।”

    আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বাংলাদেশে বারবার স্বৈরাচার পতনের পর নতুন স্বৈরাচারের জন্ম হয়—এটাই আমাদের রাজনৈতিক দুর্ভাগ্য।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সতর্ক করে বলেন, “জুলাই সনদের নামে রাজনীতিতে বিভাজন বাড়ছে। এই বিভক্তি থাকলে নির্বাচনের সময়সূচি ঝুঁকির মুখে পড়বে।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই বিপ্লবের পর গড়ে ওঠা ঐক্য আজ ভেঙে পড়ছে। ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দলটি এটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে জামায়াত ও এনসিপি কমিশনের সুপারিশকে ইতিবাচক বলে দাবি করছে।

    এই বিভক্ত অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ‘না’ লিখে পোস্ট দিচ্ছেন, অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় ব্যস্ত।

    ফলে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। যদিও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “যে সিদ্ধান্তই হোক, নির্বাচন ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই হবে।”

    তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, “জুলাই সনদ ইস্যুর সমাধান না হলে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে।”

    সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতি এখন নতুন মোড়ে—প্রায় সব দল সরকারের বিরুদ্ধে একজোট, অথচ নির্বাচনের পথ আরও জটিল হয়ে উঠছে।

  • “জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না”—নতুন ছাত্র সংগঠনকে সতর্ক করলেন গোলাম পরওয়ার

    “জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না”—নতুন ছাত্র সংগঠনকে সতর্ক করলেন গোলাম পরওয়ার

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার নতুন ছাত্র সংগঠনগুলোর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “তোমরা নতুন ছাত্রদের দল, আমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গেলে এখনও অনেক পথ বাকি। জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না।”

    সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ছাত্র-যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন ছাত্র সংগঠনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তোমরা এখনো রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে আছো। জামায়াতে ইসলামী যে অভিজ্ঞতা ও সংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, সেখানে পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে।”

    তিনি আরও বলেন, “একজন নতুন দলের নেতা সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী নাকি সংস্কার চায় না এবং নতুন সংবিধান সংলাপে অংশ নেয়নি। অথচ ঐকমত্য কমিশনে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতই। আমরা কাউকে সমালোচনা করি না, বরং কাজ দিয়েই প্রমাণ করি।”

    গোলাম পরওয়ার এ সময় ধর্মীয় সম্প্রদায়ভিত্তিক রাজনৈতিক ধারণার সমালোচনা করে বলেন, “অনেকে মনে করেন হিন্দু মানেই আওয়ামী লীগ ও নৌকা। আমি বলি, হিন্দুরাও এবার প্রমাণ করবে, তারা শুধু নৌকার নয়, দাঁড়িপাল্লার প্রতীকেও আস্থা রাখে।”

    তিনি দাবি করেন, তালা ও কলারোয়ার হিন্দু জনগণ যদি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন, তবে তারা অতীতের রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাবে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তালা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মফিদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল খালেক, শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • জুলাই সনদে অচলাবস্থা: জাতীয় নির্বাচনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক উত্তাপ

    জুলাই সনদে অচলাবস্থা: জাতীয় নির্বাচনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক উত্তাপ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়ে উঠছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও গণভোটের সময় নির্ধারণে এক বছরের আলোচনার পরও রাজনৈতিক দলগুলো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকও শেষ হয়েছে সমাধান ছাড়াই।

    বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দীর্ঘ আট ঘণ্টার বৈঠকে দলগুলো মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়। বিএনপি, কিছু নিবন্ধিত দল ও নতুন নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকলেও, জামায়াতে ইসলামী ও কয়েকটি ছোট দল নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি জানায়। তবে প্রশ্নের ভাষা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়েও মতবিরোধ থেকেই গেছে।

    কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব ও বিশেষজ্ঞদের মতামত মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারে পাঠানো হবে। ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এদিকে, নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হওয়া এখন বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক অচলাবস্থা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সচিব শূন্য, মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলাজনিত সংকট এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনআস্থার ঘাটতি—সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কর্মকর্তাও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চিত বলে জানা গেছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের বক্তব্যও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তারা বলেছে, “অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।” রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনকে ঘিরে রহস্যময় ভূমিকা নিচ্ছে। তারা বারবার নিজেদের অবস্থান বদল করছে। প্রথমে তারা জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটে রাজি থাকলেও, সর্বশেষ বৈঠকে তারা নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি জানিয়েছে। দলের প্রতীক ‘শাপলা’ নিয়েও জটিলতা সমাধান হয়নি।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, নারী নির্যাতন ও রাজনৈতিক সংঘর্ষ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। এ অবস্থায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “বাংলাদেশের গণতন্ত্র একাধিকবার সঙ্কটে পড়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণ পথ খুঁজে নিয়েছে। এবারও তা সম্ভব, যদি দলগুলো সংলাপের টেবিলে ফিরে আসে।” তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু অনিশ্চিতই নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি বয়ে আনতে পারে।

  • পিআর নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিল চরমোনাই পীরের দল

    পিআর নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিল চরমোনাই পীরের দল

    এবিএনএ: প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) নির্বাচনের দাবিকে সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    তিনি জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আন্দোলনের মূল দাবি—জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, লেভেল–প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, গণহত্যার বিচার এবং জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের বিচার।

    এর আগে জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং অন্য একটি খেলাফতপন্থী অংশও একই তারিখে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের প্রক্রিয়া আরও জোরালো হয়েছে। তবে এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও নেজামে ইসলাম পার্টি ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে একই প্ল্যাটফর্মে না গিয়ে আলাদা অবস্থান বজায় রেখেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করীম বলেন, “ইসলামী দলগুলো এখন একত্র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। জনগণের ভোটকে এক বাক্সে আনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করলেও কোনো ইতিবাচক ফল মেলেনি।

    চরমোনাই পীর জাতীয় পার্টিকে ‘ভারতীয় আধিপত্যের প্রকাশ্য এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “তারা প্রতিটি ভুয়া নির্বাচনে অংশ নিয়ে অবৈধ সরকারকে বৈধতা দিয়েছে। এবারও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।”

    তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনের আগে সংবিধান সংস্কার ছাড়া জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আর নির্বাচনের পর সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি জনগণ আর বিশ্বাস করে না। তাই এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখতে চায় ইসলামী আন্দোলন।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপে হতাশা: ইসির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জামায়াতের

    নির্বাচনী রোডম্যাপে হতাশা: ইসির ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জামায়াতের

    এবিএনএ:  নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনী রোডম্যাপকে বিভ্রান্তিকর ও অপরিপক্ব বলে আখ্যা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জাতি আশা করেছিল আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। কিন্তু এখনো নির্বাচনের ধরন ও পদ্ধতি স্পষ্ট নয়।”

    বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া ও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করেই রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ঘোষিত পরিকল্পনায় জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে হতো। এরপর সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত ছিল।”

    জামায়াতের মতে, এভাবে অসম্পূর্ণ ও দ্ব্যর্থক পরিকল্পনা জনগণকে বিভ্রান্ত করবে এবং নির্বাচনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করবে।