Tag: জামায়াতে ইসলামী

  • বাগেরহাট-১ আসনে ভোটের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, চাপে বিএনপি

    বাগেরহাট-১ আসনে ভোটের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, চাপে বিএনপি

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রচারণায় নেমে পড়েছেন মোট ২৩ জন প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি আসনেই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। এর পাশাপাশি নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বাড়তি চাপ তৈরি করছেন বিএনপির জন্য।

    দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বাগেরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মাসুদ রানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কার হলেও মাঠে তার তৎপরতা থেমে নেই, বরং স্থানীয় পর্যায়ে তার উপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম বাগেরহাটের ১, ২ ও ৩ নম্বর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে পুঁজি করে তিনি ভাসমান ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

    ভাসমান ভোটারই এখন মূল ফ্যাক্টর
    স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ায় এবারের নির্বাচনে ভাসমান ভোটারের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সবখানেই চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বাগেরহাট-১ আসনের চিত্র
    চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-১ আসনে সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

    তবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও শেখ মাসুদ রানা। বিএনপির অনেক স্থানীয় নেতাকর্মী নীরবে কিংবা প্রকাশ্যে এই দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মো. মশিউর রহমান খান এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫ আগস্টের পর সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং সুসংগঠিত প্রচারণায় তিনি আলাদা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।

    এছাড়াও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আবু সবুর শেখ, এবি পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর এস এম গোলাম সারোয়ার এবং মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হক নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

    বিএনপি প্রার্থীর আশাবাদ
    বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, “দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে। আমরা এই আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারব।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন ভোটারদের মতে, বাগেরহাট-১ আসনে এবার দ্বিমুখী নয়, বরং ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাই বেশি।

    ভোটার সংখ্যা
    এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।

  • নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ! নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপে ক্ষুব্ধ জামায়াত

    নির্বাচনী প্রচারে হামলার অভিযোগ! নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপে ক্ষুব্ধ জামায়াত

    এবিএনএ: ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর নির্বাচনী প্রচারণাকালে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমর্থিত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন। এ সময় একটি বড় রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত কর্মীরা তার ওপর ডিম নিক্ষেপসহ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন কর্মকাণ্ড নির্বাচনের সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে বড় বাধা সৃষ্টি করে। শান্তিপূর্ণ প্রচারণা চালানো প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার, যা বাধাগ্রস্ত করা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সংকেত।

    জামায়াতের নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিপন্থি এবং অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিফলন।

    তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

  • জোটের দ্বন্দ্বে উত্তাল চট্টগ্রাম-৮, উন্মুক্ত নির্বাচন চান শহীদ ওমরের মা

    জোটের দ্বন্দ্বে উত্তাল চট্টগ্রাম-৮, উন্মুক্ত নির্বাচন চান শহীদ ওমরের মা

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এবার উন্মুক্ত নির্বাচনের দাবি তুলেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওমর ফারুকের মা রুবি আক্তার। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন ক্যাম্পেইনের প্রথম দিনে তিনি এ দাবি জানান।

    চট্টগ্রামে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নির্বাচনী সফরকালে বোয়ালখালীর ফুলতলায় আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত হয়ে রুবি আক্তার বলেন, এই আসনে দলীয় হিসাবের চেয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, এলাকার মানুষ যাকে চেনে ও বিশ্বাস করে, তাকেই ভোট দিতে চায়।

    এই দাবি উঠে আসে এমন এক সময়ে, যখন ১০ দলীয় জোটের আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি জোটের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির জুবাইরুল হাসান আরিফকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই জোটের ভেতরে ও মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতা শুরু হয়।

    মনোনয়ন যাচাইয়ে জামায়াত, এনসিপি ও খেলাফত মজলিস—এই তিন দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। পরে খেলাফত মজলিস প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এনসিপি অসন্তোষ প্রকাশ করে।

    যদিও পরে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়, তবু মাঠপর্যায়ে আবু নাছেরের সমর্থকদের একটি অংশ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যেতে থাকে। এতে ভোটের সমীকরণ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

    স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালী-চান্দগাঁও এলাকায় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় ডা. আবু নাছের একজন পরিচিত মুখ। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে প্রার্থী ঘোষণায় এনসিপির প্রার্থী এলাকায় তেমন পরিচিত নন বলেই আলোচনা চলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে রুবি আক্তার বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কখনো বিক্রি হয়নি এবং স্থানীয় মানুষের অবদান উপেক্ষা করা উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, জোটের ভোটের হিসাব সীমিত হলেও স্থানীয় ভোটই এই আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

    এদিকে এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ দাবি করেন, জোট ঐক্যবদ্ধ থাকলে আসন ধরে রাখা সম্ভব। তবে রুবি আক্তারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—চট্টগ্রাম-৮ আসনে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় সিদ্ধান্ত না কি স্থানীয় জনগণের রায়।

  • স্বাধীনতার প্রশ্নে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল, ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা

    স্বাধীনতার প্রশ্নে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল, ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ছিল স্বাধীনতার বিপক্ষে। সে সময় তাদের ভূমিকার কারণে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কান্দরপাড়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। আমরা দেশ ছেড়ে পালাইনি, বরং সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছি।

    তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন চাওয়ার জন্যই মাঠে নেমেছেন তারা। বিএনপি কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাবেন, পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

    কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কৃষিকার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং নারীদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।

    এ সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই একই দেশের নাগরিক। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবার নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে।

    নির্বাচনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে রাজনীতিতে নৌকা ও ধানের শীষ ছিল প্রধান প্রতীক। বর্তমানে রাজনৈতিক বাস্তবতায় নৌকা নেই, নতুন প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এসেছে। এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

    গণসংযোগে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • রক্তচক্ষুকে ভয় নয়, আল্লাহভীতিতেই রাজনীতি: গাইবান্ধায় ডা. শফিকুর রহমানের দৃপ্ত ঘোষণা

    রক্তচক্ষুকে ভয় নয়, আল্লাহভীতিতেই রাজনীতি: গাইবান্ধায় ডা. শফিকুর রহমানের দৃপ্ত ঘোষণা

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় যেতে পারলে নর্থ বেঙ্গলের মৃতপ্রায় নদীগুলোর পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নদী বাঁচলে এ অঞ্চলের জীবন-জীবিকাও নতুন গতি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের লক্ষ্য নর্থ বেঙ্গলকে একটি শক্তিশালী কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে রূপান্তর করা। এখানকার মানুষ অযৌক্তিক কিছু চায় না—তারা শ্রমনির্ভর জীবনযাপন করে এবং ন্যায্য সুযোগ পেলেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সেই পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের দায়িত্ব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না, ভয় করি একমাত্র মহান আল্লাহকে। দেশে কোনো আধিপত্যবাদী প্রভাব দেখতে চাই না। তবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই—কোনো খবরদারি নয়, আবার নিজেদের ভূখণ্ডে অন্যের খবরদারিও মেনে নেওয়া হবে না।

    ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসমর্থনের জোয়ার তুলতে হবে। সেই জোয়ারে পুরোনো ও ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেসে যাক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

    সমাবেশের শেষাংশে দশ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়।

  • চাঁদাবাজির রাজনীতি আর নয়, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ডা. শফিকুর রহমানের

    চাঁদাবাজির রাজনীতি আর নয়, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ডা. শফিকুর রহমানের

    এবিএনএ: সারাদেশে বেসরকারি ট্যাক্সের নামে চলমান চাঁদাবাজির সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে তা সম্পূর্ণ নির্মূলের অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য ইনসাফ নিশ্চিত না হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে মিরপুর-১০ এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় করের বাইরে এক ধরনের অবৈধ ট্যাক্স দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোট দোকানদার, হকার, পথচারী এমনকি ভিক্ষুকদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী চাঁদা নেবে না, চাঁদা দেবে না এবং দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না।

    বিএনপির দুই হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের সাময়িক সহায়তা স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এসব উদ্যোগে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুবিধা নেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়, যা অতীতে বহুবার দেখা গেছে।

    ইনসাফের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজে বৈষম্য, লুটপাট ও দুঃশাসনের মূল কারণ ন্যায়বিচারের অভাব। ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীরা কখনোই নিরাপদে দেশ ছাড়তে পারত না।

    গত দেড় দশকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের শাসনে বহু মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখনো অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

    জনসভায় উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ আর কোনো ভোট ডাকাতকে ক্ষমা করবে না। যারা নিজেদের দলের ভেতরে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন করতে পারবে, তারাই দেশকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে সক্ষম হবে।

    মিরপুর এলাকার অবকাঠামোগত দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, খালগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানসম্মত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে মিরপুরকে একটি আদর্শ এলাকায় পরিণত করা হবে। তরুণ সমাজকে কেবল সার্টিফিকেটধারী নয়, নৈতিকতা ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

  • নির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত: বিএনপি ও জামায়াতের ৮ শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ ইসির

    নির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত: বিএনপি ও জামায়াতের ৮ শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ ইসির

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আটজন নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতাদের সুরক্ষা নিশ্চিতের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-০২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

    ইসির এক চিঠিতে জানানো হয়, গাজীপুর-১ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত তার জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    অন্য একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দলের সাতজন শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য প্রার্থীর নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

    নিরাপত্তার আওতায় আসা জামায়াত নেতারা হলেন—
    আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রার্থীদের নিরাপদ প্রচার-প্রচারণা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অন্যতম শর্ত। সে লক্ষ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

  • প্রশাসন একদলীয় হলে নির্বাচন কি আদৌ নিরপেক্ষ থাকবে? কড়া সতর্কতা জামায়াতের

    প্রশাসন একদলীয় হলে নির্বাচন কি আদৌ নিরপেক্ষ থাকবে? কড়া সতর্কতা জামায়াতের

    এবিএনএ: দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে—এমন অভিযোগ তুলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গুরুতর শঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নষ্ট হলে জনগণের কাছে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।

    রোববার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. তাহেরের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যেসব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার একযোগে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কার্যক্রমে নিরপেক্ষতার অভাব দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা প্রস্তুত করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনো দেওয়া হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার ঘটনা নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ জোরালো হচ্ছে।

    জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিরোধিতা তারা করেন না। তবে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে জামায়াত আমিরের ক্ষেত্রেও একই আচরণ প্রত্যাশিত। তা না হলে প্রশাসনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে বিবেচিত হবে।

    নির্বাচন কমিশনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এ ধরনের বৈষম্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে কমিশন দায় এড়াতে পারবে না। এতে নির্বাচনী মাঠের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।

    ডা. তাহের জানান, এসব উদ্বেগ সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনা হয়েছে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন কার্যকর ভূমিকা না নিলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

    তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। তবে তার আশপাশের কিছু উপদেষ্টা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছেন—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

    এদিকে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াত নেতা জানান, প্রধান উপদেষ্টা মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • নির্বাচনী ঐক্য ভেঙে একক পথে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, ২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

    নির্বাচনী ঐক্য ভেঙে একক পথে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, ২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট রাজনীতি থেকে সরে এসে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও আসন সমঝোতার টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ঐক্য ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

    শুক্রবার রাজধানীতে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানান, দলটি ইতোমধ্যে ২৬৮টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বাকি ৩২টি আসনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানানো হবে।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবেই অংশ নেবে।”

    এর আগে আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের জেরে ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়েই জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১০টি রাজনৈতিক দল ২৫৩টি আসনে নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের জন্য আলাদা চেয়ার রাখা হলেও দলটির কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

    একই দিনে দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং রাতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনও বর্জন করে ইসলামী আন্দোলন। যদিও ওই সমঝোতায় দলটির জন্য পাঁচটি উন্মুক্ত আসনসহ মোট ৪৭টি আসন প্রস্তাব করা হয়েছিল।

    রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত জোটে না থাকায় উন্মুক্ত রাখা আসনগুলোতে জামায়াত তাদের নিজস্ব প্রার্থী দেবে। এ অবস্থায় একক নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি।

  • ১৩তম সংসদ নির্বাচনে বড় চমক: ২৫৩ আসনে ঐকমত্য, জামায়াত পাচ্ছে ১৭৯, এনসিপি ৩০

    ১৩তম সংসদ নির্বাচনে বড় চমক: ২৫৩ আসনে ঐকমত্য, জামায়াত পাচ্ছে ১৭৯, এনসিপি ৩০

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ২৫৩টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সর্বাধিক ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দেবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৩০টি আসন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে দেওয়া হয়েছে ২০টি, খেলাফত মজলিসকে ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি এবং বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২টি আসন।

    তবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য এখনো আসন চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও আসন সমঝোতার আলোচনা চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রাথমিক বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতারা জানান, আলোচনার মাধ্যমে বাকি দলগুলোর আসন সমঝোতাও শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে।