Tag: স্বতন্ত্র প্রার্থী

  • বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, আহত সমর্থকের মৃত্যু

    বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, আহত সমর্থকের মৃত্যু

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আহত এক স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত ওসমান সরদার (২৯) শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ি গ্রামে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

    নিহত ওসমান সরদার বাগেরহাট সদর উপজেলার পাড়নওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে।

    পরিবারের অভিযোগ

    ওসমানের বড় ভাই এনামুল কবির সরদার অভিযোগ করেন, এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা ঘোড়া প্রতীকের লোকজনকে খুঁজতে থাকে। এ সময় তার ভাইসহ কয়েকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওসমানের মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে খুলনায় স্থানান্তর করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    পুলিশের বক্তব্য

    বাগেরহাট মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    বাগেরহাট-২ আসনের প্রেক্ষাপট

    সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-২ আসন-এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। তবে এ দুই প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।

    নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে স্থানীয়রা জানান। সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে শেষ নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে দুইজনের মৃত্যু

    টাঙ্গাইলে শেষ নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে দুইজনের মৃত্যু

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গণমিছিলে অংশ নিতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে দুজন সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা সদর উপজেলার সেলিমপুর ইউনিয়নের চর পাকুল্যা গ্রামের জোনাব আলী এবং একই ইউনিয়নের ছোনাট গ্রামের জিয়াউর রহমান। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিছিল শুরুর আগে একজন এবং মিছিল চলাকালে আরেকজন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একজনের হার্টের জটিলতা দেখা দেয় এবং অন্যজনের ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, প্রচারণার শেষ দিনে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ও শহরের অলিগলি থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মিছিলে অংশ নেয়। এ সময় দুজন কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের অকালপ্রয়াণে শোক প্রকাশ করে তিনি পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, নিহত দুজনই বয়সে প্রবীণ ছিলেন এবং আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

  • নির্বাচনী উত্তাপে বাগেরহাটে আগুন! স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রস্তাবিত মেডিকেল প্রকল্পে দুর্বৃত্তদের হামলা

    নির্বাচনী উত্তাপে বাগেরহাটে আগুন! স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রস্তাবিত মেডিকেল প্রকল্পে দুর্বৃত্তদের হামলা

    এবিএনএ: বাগেরহাট শহরের স্টেডিয়াম-সংলগ্ন এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্পের স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে একটি স্পিড বোর্ড ও আশপাশের কয়েকটি গাছ পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ঘটনার বিবরণ দিয়ে এম এ এইচ সেলিমের বড় ছেলে মেহেদী হাসান পিন্স জানান, বাগেরহাটবাসীর জন্য একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ার স্বপ্ন ছিল তাদের। আগে জমি নির্ধারণও করা হয়েছিল। স্টেডিয়াম এলাকার ওই স্থানে আগে একটি স্থানীয় পত্রিকার অফিস ছিল, সেখানে দুটি সেমিপাকা ঘর ও সামনে একটি স্পিড বোর্ড রাখা ছিল। আগুনে বোর্ডটি ও বেশকিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় দুটি টিনশেড ঘর অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, কর্মীদের হুমকি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তার। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান পরিবারটি।

    বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে এবং ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে বাগেরহাট-৪ আসন

    ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে বাগেরহাট-৪ আসন

    এবিএনএ, বাগেরহাট: মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা এবং মোরেলগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনটি এবারও আলোচনার কেন্দ্রে। অবকাঠামো, শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে পিছিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক সচেতনতার দিক থেকে এ এলাকার ভোটাররা বরাবরই সক্রিয়। অতীতে এই আসন থেকে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের প্রার্থীরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

    আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরালো হয়েছে। বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য, জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা এবং বর্তমানে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি সোমনাথ দে। অন্যদিকে বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    শিপন জানান, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনুরোধেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার মতে, দলীয় মনোনীত প্রার্থী একজন ফ্যাসিস্ট ঘরানার হওয়ায় তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার চালিয়ে আসছেন তিনি। জামায়াত নেতাকর্মীদের দাবি, অতীতে জোট ও একক নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের ভালো ফল রয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্বল প্রার্থীর কারণে এবার দাড়িপাল্লার জয় অনেকটাই নিশ্চিত।

    তবে বিএনপির প্রার্থী সোমনাথ দে এসব দাবি নাকচ করে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে আছি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার আমাদের সাংগঠনিক শক্তি বেশি। ইনশাআল্লাহ, জয় আমাদেরই হবে।”

    এছাড়া এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওমর ফারুক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে মো. আ. লতিফ খান এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে সাজন কুমার মিস্ত্রি নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারাও ভোটারদের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৮১২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।

  • কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    এবিএনএ ,বাগেরহাট: ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাগেরহাট-৩ আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভাসমান ভোটারদের ভূমিকা এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠায় হাট-বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাঠে-ময়দানে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের বাইরে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    মোংলা ও রামপাল উপজেলা এবং মোংলা পোর্ট পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৩ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি, স্বতন্ত্র, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এই আসনে মূল লড়াইটি গড়ে উঠতে পারে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখের মধ্যে।

    ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। একইভাবে জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখও দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন।

    তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিমের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে তিনি ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

    এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জিল্লুর রহমান এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার নিজ নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ভোটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাগেরহাট-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫১০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এই বিশাল ভোটার জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভাসমান হওয়ায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণাই নির্ধারণ করতে পারে চূড়ান্ত ফলাফল।

  • বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

    বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, অফিসে তালা দেওয়া, ভাঙচুর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম, মাহবুবুর রহমান টুটুল, সামিদ আল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

    এম এ এইচ সেলিম অভিযোগ করে বলেন, বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে তার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ, প্রচারণার মাইক ভাঙচুর এবং যাত্রাপুর এলাকার অফিসে তালা লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এম এ এইচ সেলিমের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কর ফাঁকির অভিযোগ সত্য হলে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হতো না। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

  • বাগেরহাট-১ আসনে ভোটের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, চাপে বিএনপি

    বাগেরহাট-১ আসনে ভোটের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, চাপে বিএনপি

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রচারণায় নেমে পড়েছেন মোট ২৩ জন প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি আসনেই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। এর পাশাপাশি নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বাড়তি চাপ তৈরি করছেন বিএনপির জন্য।

    দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বাগেরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মাসুদ রানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কার হলেও মাঠে তার তৎপরতা থেমে নেই, বরং স্থানীয় পর্যায়ে তার উপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম বাগেরহাটের ১, ২ ও ৩ নম্বর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে পুঁজি করে তিনি ভাসমান ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

    ভাসমান ভোটারই এখন মূল ফ্যাক্টর
    স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ায় এবারের নির্বাচনে ভাসমান ভোটারের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সবখানেই চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বাগেরহাট-১ আসনের চিত্র
    চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-১ আসনে সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

    তবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও শেখ মাসুদ রানা। বিএনপির অনেক স্থানীয় নেতাকর্মী নীরবে কিংবা প্রকাশ্যে এই দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মো. মশিউর রহমান খান এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫ আগস্টের পর সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং সুসংগঠিত প্রচারণায় তিনি আলাদা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।

    এছাড়াও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আবু সবুর শেখ, এবি পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর এস এম গোলাম সারোয়ার এবং মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হক নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

    বিএনপি প্রার্থীর আশাবাদ
    বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, “দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে। আমরা এই আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারব।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন ভোটারদের মতে, বাগেরহাট-১ আসনে এবার দ্বিমুখী নয়, বরং ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাই বেশি।

    ভোটার সংখ্যা
    এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।

  • সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিতে ভাঙনের সুর: স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ঘিরে তৃণমূলে অস্থিরতা

    সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিতে ভাঙনের সুর: স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ঘিরে তৃণমূলে অস্থিরতা

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) বাড়ছে অস্বস্তি। স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ঘিরে তৈরি হয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, যার প্রভাব পড়ছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ওপর। একদিকে ভোটের মাঠে শক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছেন দলেরই বিদ্রোহী নেতারা, অন্যদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন কর্মীরা।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে অন্তত ৫২টি আসনে বিএনপির ৭১ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের অনেকেই বর্তমানে বা অতীতে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে কেউ কেউ বাদ পড়লেও বেশ কয়েকটি আসনে এখনো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা সক্রিয় রয়েছেন। ইতোমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নয়জনকে বহিষ্কার করা হলেও মাঠ ছাড়তে নারাজ অনেক নেতা।

    স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাশাপাশি ছয়টি আসনে ঘোষিত বিকল্প প্রার্থী নিয়েও বিব্রত অবস্থায় রয়েছে দল। চূড়ান্তভাবে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এই অনিশ্চয়তায় স্থানীয় পর্যায়ে বিভক্তি স্পষ্ট হচ্ছে। দলীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়তে পারে, যা নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও যশোরের কয়েকটি আসনে বিকল্প প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কোথাও বিকল্প প্রার্থীকে ‘শেষ ভরসা’ হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা, আবার কোথাও চরম আপত্তি জানানো হচ্ছে। এতে সংগঠনের ভেতরে মতবিরোধ আরও প্রকট হয়েছে।

    এদিকে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার কারণে যেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি, সেসব জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতায় বিপাকে পড়েছেন জোটের প্রার্থীরা। জোট নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই বিদ্রোহ নির্বাচনী হিসাবকে এলোমেলো করে দিতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আনা হয়েছে।

    দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বোঝাতে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি বৈঠকে বসবে। তবে শেষ পর্যন্ত কেউ অনড় থাকলে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি।

    নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী ইস্যু সামলানোই এখন বিএনপির সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ।

  • ঋণখেলাপির ছায়া নির্বাচনেও: আদালতের আদেশে টিকে গেলেন ৩১ প্রার্থী, অর্ধেক বিএনপির

    ঋণখেলাপির ছায়া নির্বাচনেও: আদালতের আদেশে টিকে গেলেন ৩১ প্রার্থী, অর্ধেক বিএনপির

    এবিএনএ: ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে ১৫ জনই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র রয়েছেন ১১ জন এবং বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে এসব প্রার্থী ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও আদালতের আদেশের কারণে তারা প্রার্থী তালিকায় টিকে যান। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের দায়ে তারা খেলাপি হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

    এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে শুধু ঋণখেলাপির কারণেই ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৮ জন, বিএনপির তিনজন এবং জামায়াতে ইসলামীর দুজন রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জেএসডি ও এলডিপিসহ একাধিক দলের প্রার্থীরাও বাদ পড়েছেন।

    গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৯টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ ও অবৈধ—উভয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও খেলাপির তথ্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আদালতের আদেশে টিকে যাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপিল নিষ্পত্তির পর জানা যাবে। তবে ঋণখেলাপি ইস্যুতে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন যাচাইয়ে কড়াকড়ি স্পষ্টভাবেই চোখে পড়ছে।

  • ভোটার স্বাক্ষরের গরমিলেই বড় ধাক্কা: চট্টগ্রাম ও ফেনীতে বাতিল ৫৩ প্রার্থীর মনোনয়ন

    ভোটার স্বাক্ষরের গরমিলেই বড় ধাক্কা: চট্টগ্রাম ও ফেনীতে বাতিল ৫৩ প্রার্থীর মনোনয়ন

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৫৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীই রয়েছেন ২২ জন। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংবলিত সমর্থন তালিকায় গরমিল পাওয়ায় এসব মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্রসহ মোট ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। চার দিনব্যাপী যাচাই শেষে ৪১ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কয়েকটি আসনে ভোটার তালিকার তথ্য মিল না পাওয়া ছাড়াও ঋণখেলাপি ও দলীয় মনোনয়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণেও প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

    চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলার মনোনয়ন বাতিল হয় ঋণখেলাপি হওয়ায়। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে অসংগতি ধরা পড়ায় তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একই কারণে চট্টগ্রামের একাধিক আসনে আরও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রার্থিতা হারান।

    এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই প্রার্থী হওয়া এবং প্রস্তাবকের স্বাক্ষরসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের আলী আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কয়েকটি আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এবং ভোটার স্বাক্ষরের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় আরও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়।

    চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আপিল করার সুযোগ পাবেন। আগামী ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করা হবে এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে।

    ফেনী জেলার তিনটি আসনেও একই ধরনের কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ফেনী-১, ফেনী-২ ও ফেনী-৩ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর নথি দাখিল না করা, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংক্রান্ত গরমিল প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

    ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হকের তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে আপিল করলে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিষয় পুনরায় বিবেচনা করা হবে।