যুদ্ধের গুজবে নির্ঘুম রাত: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কে ইরানের সাধারণ মানুষ

এবিএনএ: ৩০ জানুয়ারির রাতটি ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য ছিল অস্বাভাবিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গুজবে বলা হচ্ছিল—যে কোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো হামলা হয়নি, তবুও মানুষের মনে জমে থাকা আতঙ্ক দূর হয়নি।

তেহরানের বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী এক প্রকৌশলী (ছদ্মনাম মিলাদ) জানান, পুরো রাত তিনি ঘুমোতে পারেননি। বিস্ফোরণের শব্দ শোনার অপেক্ষায় জেগে ছিলেন। তার ভাষায়, ভোর না হওয়া পর্যন্ত মনে হচ্ছিল—এই বুঝি কিছু ঘটে যায়।

পূর্ব তেহরানের এক পার্কে নিয়মিত হাঁটতে যাওয়া ৬৮ বছর বয়সী সোহরেহ নামের এক নারী বলেন, শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে—এমন কথাই তিনি আশপাশের মানুষের মুখে শুনেছেন। এই গুজবেই চারপাশে ভয় আরও ছড়িয়ে পড়ে।

সোহরেহর মতে, বিদেশি হামলার বিরোধিতা করলেও সমাজের একাংশ ভিন্নভাবে ভাবছে। অনেকে মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে বর্তমান সংকটের অবসান ঘটতে পারে। সরকারের দমন-পীড়নে মানুষের হতাশা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা ভালো-মন্দের পার্থক্য করতেও দ্বিধায় পড়ছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির খবর ইরানের মানুষের মনে যুদ্ধকে আরও বাস্তব করে তুলেছে। ৩২ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী আরজু বলেন, প্রকাশ্যে কেউ কথা না বললেও ভেতরে ভেতরে সবাই ভয় পাচ্ছেন। কারণ গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে তারা যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছেন।

আতঙ্কের কারণে অনেকেই জানালা বন্ধ করে রাখছেন। আরজু জানান, তার ভবনসহ আশপাশের প্রায় সব বাড়ির জানালা বন্ধ। মানুষের ধারণা—হামলা হলে তখন আর সরকারপন্থী বা বিরোধী বলে কিছু থাকবে না।

ভয়ের প্রভাব পড়েছে দৈনন্দিন জীবনেও। বহু মানুষ অন্তত ১০ দিনের খাবার ও পানি মজুদ করছেন। জরুরি কাগজপত্র আলাদা ব্যাগে গুছিয়ে রাখা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত বাড়ি ছাড়তে পারা যায়। অনেক পরিবার বাড়ির বের হওয়ার পথও আগেভাগে প্রস্তুত রাখছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *