Tag: তেহরান

  • ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান যদি অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের নতুন প্রস্তাবে এমন কোনো কার্যকর ছাড় নেই যা আলোচনাকে ইতিবাচক দিকে নিতে পারে। বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এখনও কাটেনি।

    তিনি দাবি করেন, ইরান প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রস্তাবিত শর্তগুলো কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। সেখানে ইরান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান যদি আলোচনায় নমনীয় না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। এমনকি ‘বোমা হামলার মাধ্যমে আলোচনা’ করার মতো কঠিন বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

    এর আগে রোববার ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

    পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান সম্প্রতি একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুতে স্পষ্ট কোনো অবস্থান দেয়নি।

    এদিকে ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তেল বাণিজ্যের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ছাড় পেতে হলে ইরানকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

  • বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    এবিএনএ:বহু বছর ধরে যুদ্ধ পরিচালনা করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তেহরান এখনও তার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজনে নতুন শক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

    বুধবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান আলাউদ্দিন বোরুজের্দি। তিনি বলেন, ইরান এখনো তার সব কৌশলগত সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজন হলে নতুন ‘কার্ড’ ব্যবহার করা হবে।

    হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ কার্যকর হবে না। তার দাবি, বর্তমানে বহু জাহাজ ওই প্রণালির আশপাশে চলাচলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ইরানি জাহাজগুলোও বাধাহীনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বোরুজের্দি বলেন, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার নিয়ে তেহরান আপস করবে না এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

    এদিকে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হামাদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে নতুন সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, উন্নত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত রয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সক্ষমতা বড় নৌজাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

    পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন এবং ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনার বাইরে রাখার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

  • হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: কয়েক ঘণ্টা আগে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পর আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে ইরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা এখন পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে।

    স্থানীয় সময় দুপুরে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীই এর চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।

    তবে এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তোলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় জানান, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। এই মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত থাকবে না। তিনি জানান, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুনরায় প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দেয়। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

  • ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির জবাব তেহরানের: ‘ভীত নয় ইরান, প্রতিরোধে প্রস্তুত’

    ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির জবাব তেহরানের: ‘ভীত নয় ইরান, প্রতিরোধে প্রস্তুত’

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি সভ্যতা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার জবাবে দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেছেন, এমন হুমকিতে ইরান ভয় পায় না এবং তাদের অবস্থান অটল থাকবে।

    মঙ্গলবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাসে ইরানি সভ্যতা নানা সংকট ও শত্রুতার মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা টিকে থেকেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের ওপরই আস্থা রাখছে তেহরান।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র জবাব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, একটি সভ্য জাতির সাংস্কৃতিক শক্তি ও ন্যায্য লক্ষ্যের প্রতি বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত বর্বর শক্তির যুক্তিকে পরাজিত করবে। নিজেদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা ব্যবহারের কথাও জানান তিনি।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে না নিয়ে বরং নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য হামলার মুখে এসব স্থাপনায় ‘মানবঢাল’ তৈরির অভিযোগও উঠেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আক্রমণের জবাবে সমপরিমাণ পাল্টা হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

    তেহরান জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো যোগাযোগে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামনে এখন কার্যত দুটি পথ—সমঝোতায় যাওয়া অথবা সংঘাতে জড়ানো। এমন অবস্থায় দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিরোধের অবস্থানেই রয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে ‘সমানুপাতিক জবাব’ দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

  • তেহরানে কুদস দিবসে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: নারী নিহত, লাখো মানুষ রাস্তায় প্রতিবাদে

    তেহরানে কুদস দিবসে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: নারী নিহত, লাখো মানুষ রাস্তায় প্রতিবাদে

    এবিএনএ: ইরানের রাজধানী Tehran-এ বার্ষিক আল-কুদস দিবসের সমাবেশ চলাকালীন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন। এসময় হাজারো মানুষ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমেছিলেন।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর Ferdowsi Square-এ এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, তবে ঘটনার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নয়।

    প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক নারী প্রাণ হারান। বিস্ফোরণটির ঠিক অবস্থান ও আরও কোনো হতাহতের খবর এখনও নিশ্চিত হয়নি।

    সমাবেশে অংশ নেওয়া হাজারো বিক্ষোভকারী ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ এবং ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দেন। তারা ইরানের পতাকা এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ছবি বহন করে, জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি Ali Larijani সহ অন্যান্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। লারিজানি বলেন, “ইসরায়েল ভয়ের কারণে কুদস দিবসে বোমা ফেলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানেন না যে ইরানিরা শক্তিশালী ও সংকল্পবদ্ধ।”

    আল জাজিরা অ্যারাবিকের প্রতিবেদক Tawhid Asadi জানিয়েছেন, সমাবেশ শুধু ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য নয়, এটি দেশের চলমান হামলার বিরুদ্ধে ইরানিদের ক্ষোভ দেখানোর একটি মুহূর্ত।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক কুদস দিবসে জনগণের পাশে থাকার জন্য তিনি গর্বিত।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের Islamic Revolution এর পর থেকে ইরান প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার আল-কুদস দিবস পালন করে আসছে। বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা Ayatollah Ruhollah Khomeini এই দিনটি ঘোষণা করেছিলেন, যা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন এবং ইসরায়েলি দখলের বিরোধিতার প্রতীক।

    ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন।

  • ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত

    ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত

    এবিএনএ: ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত একটি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে জানা গেছে। তেহরানের একটি লক্ষ্যবস্তুতে চালানো এ হামলায় তাঁর মৃত্যু ঘটে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্র দাবি করেছে।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, হামলা তেহরানের নারমাক এলাকার কাছে তাঁর আবাসস্থলকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল, যেখানে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার পর নিয়মিত বসবাস করছিলেন। হামলায় তাঁর নিরাপত্তা টিমের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছে। যদিও ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ এখনও এ তথ্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কি ঘোষণা দিয়েছে তা নিশ্চিত নয়।

    আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পশ্চিমা শক্তি, বিশেষ করে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর অবস্থানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর শাসনামলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

    তার প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় মেয়াদে পরিচালিত ২০০৯ সালের নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল এবং নির্বাচন পরবর্তী আম হলে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ইরানজুড়ে সেই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল।

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার এক পর্যায়ে এমন একটি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের মৃত্যুর সংবাদটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম এ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।

  • যুদ্ধের গুজবে নির্ঘুম রাত: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কে ইরানের সাধারণ মানুষ

    যুদ্ধের গুজবে নির্ঘুম রাত: যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কে ইরানের সাধারণ মানুষ

    এবিএনএ: ৩০ জানুয়ারির রাতটি ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য ছিল অস্বাভাবিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গুজবে বলা হচ্ছিল—যে কোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো হামলা হয়নি, তবুও মানুষের মনে জমে থাকা আতঙ্ক দূর হয়নি।

    তেহরানের বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী এক প্রকৌশলী (ছদ্মনাম মিলাদ) জানান, পুরো রাত তিনি ঘুমোতে পারেননি। বিস্ফোরণের শব্দ শোনার অপেক্ষায় জেগে ছিলেন। তার ভাষায়, ভোর না হওয়া পর্যন্ত মনে হচ্ছিল—এই বুঝি কিছু ঘটে যায়।

    পূর্ব তেহরানের এক পার্কে নিয়মিত হাঁটতে যাওয়া ৬৮ বছর বয়সী সোহরেহ নামের এক নারী বলেন, শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে—এমন কথাই তিনি আশপাশের মানুষের মুখে শুনেছেন। এই গুজবেই চারপাশে ভয় আরও ছড়িয়ে পড়ে।

    সোহরেহর মতে, বিদেশি হামলার বিরোধিতা করলেও সমাজের একাংশ ভিন্নভাবে ভাবছে। অনেকে মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে বর্তমান সংকটের অবসান ঘটতে পারে। সরকারের দমন-পীড়নে মানুষের হতাশা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা ভালো-মন্দের পার্থক্য করতেও দ্বিধায় পড়ছে।

    গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির খবর ইরানের মানুষের মনে যুদ্ধকে আরও বাস্তব করে তুলেছে। ৩২ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী আরজু বলেন, প্রকাশ্যে কেউ কথা না বললেও ভেতরে ভেতরে সবাই ভয় পাচ্ছেন। কারণ গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে তারা যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছেন।

    আতঙ্কের কারণে অনেকেই জানালা বন্ধ করে রাখছেন। আরজু জানান, তার ভবনসহ আশপাশের প্রায় সব বাড়ির জানালা বন্ধ। মানুষের ধারণা—হামলা হলে তখন আর সরকারপন্থী বা বিরোধী বলে কিছু থাকবে না।

    ভয়ের প্রভাব পড়েছে দৈনন্দিন জীবনেও। বহু মানুষ অন্তত ১০ দিনের খাবার ও পানি মজুদ করছেন। জরুরি কাগজপত্র আলাদা ব্যাগে গুছিয়ে রাখা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত বাড়ি ছাড়তে পারা যায়। অনেক পরিবার বাড়ির বের হওয়ার পথও আগেভাগে প্রস্তুত রাখছেন।

  • রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নে কাঁপছে ইরান: তেহরানে এক রাতেই দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহতের অভিযোগ

    রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নে কাঁপছে ইরান: তেহরানে এক রাতেই দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহতের অভিযোগ

    এবিএনএ: ইরানের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নতুন করে সহিংস রূপ নিয়েছে। গত মাসে রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির সব ৩১টি প্রদেশে বিস্তার লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেবল তেহরানেই এক রাতের অভিযানে দুই শতাধিক বিক্ষোভকারীর প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলন চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই সময় রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক গুলিবর্ষণ করলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

    একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের এক চিকিৎসক দাবি করেছেন—শহরের অন্তত ছয়টি হাসপাতালে ২১৭ জন নিহতের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ ছিলেন এবং তাদের বড় অংশ তরুণ বয়সী।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্য নিশ্চিত হলে স্পষ্ট হবে যে বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার কঠোরতম পথ বেছে নিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তাকেও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন চালানো হলে ইরান সরকারকে এর মূল্য দিতে হবে।

    তীব্র দমন অভিযান সত্ত্বেও শুক্রবার রাতেও তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। ওই চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে হাসপাতাল থেকে মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় এবং উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে মেশিনগান দিয়ে গুলিবর্ষণে অন্তত ৩০ জন আহত হন।

    তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, স্বাধীনভাবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করা এখনো সম্ভব হয়নি।

    পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে। নেটব্লকস জানিয়েছে, টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সরকার বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ আড়াল করতেই সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

    ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। দুবাই বিমানবন্দরের তথ্যমতে, ইরানগামী ও ইরান থেকে আসা অন্তত ১৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    এদিকে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আন্দোলনের মুখে কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই বিক্ষোভ ইরানের শত্রু যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় পরিচালিত হচ্ছে।

  • অর্থনৈতিক চাপে উত্তাল ইরান, বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে সহায়তার ঘোষণা মোসাদের

    অর্থনৈতিক চাপে উত্তাল ইরান, বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে সহায়তার ঘোষণা মোসাদের

    এবিএনএ: অর্থনৈতিক সংকটের তীব্র প্রভাবে ইরানে দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে গণবিক্ষোভ। মুদ্রার মান অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে এই বিক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

    টানা তৃতীয় দিনের মতো মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেন হাজারো মানুষ। আন্দোলনকারীরা সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর প্রভাব পড়ে তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড বাজারে—যেখানে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

    রাজধানীর বাইরে কেরমানশাহসহ একাধিক শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। কিছু স্থানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের পাহলভি শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতেও স্লোগান উঠতে দেখা যায়।

    বিক্ষোভের চাপ সামাল দিতে তেহরান প্রদেশ কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছে। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তীব্র শীতের কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, আন্দোলন দমন করতেই এই লকডাউন জারি করা হয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এতে কিছু জায়গায় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

    এদিকে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে দাবি করেছে, তারা শুধু দূর থেকে নয়, সরাসরি মাঠপর্যায় থেকেও বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করছে।

  • ইরানের হুঁশিয়ারি: আবার নিষেধাজ্ঞা এলে ইউরোপের ভূমিকাই থাকবে না!

    ইরানের হুঁশিয়ারি: আবার নিষেধাজ্ঞা এলে ইউরোপের ভূমিকাই থাকবে না!

    এবিএনএ:  পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের চাপের মুখে ইরান এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা যদি পুনর্বহাল করা হয়, তবে ইউরোপের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক আলোচনার দ্বার বন্ধ হয়ে যাবে।

    শনিবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে কথা বলতে গিয়ে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা শুরু করার প্রক্রিয়া নিয়ে ইরান এখনও পর্যালোচনা করছে। আলোচনার সময়, স্থান, কাঠামো ও সম্ভাব্য বিষয়বস্তু নিয়ে সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, আলোচনার পরিধি থাকবে কেবলমাত্র পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে আস্থা অর্জন, কোনোভাবেই সামরিক সক্ষমতা আলোচনায় আসবে না।

    গত জুন মাসে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র ও সামরিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যাতে শতাধিক মানুষ নিহত হন। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর প্রতি গভীর অনাস্থা প্রকাশ করে তেহরান, এবং ঘোষণা দেয় সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার।

    আরাগচি জানান, এখন থেকে আইএইএর সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে ‘নতুন কাঠামোতে’। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি আইএইএ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শন করতে চায়, তবে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া তা সম্ভব হবে না।

    তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয়তা ঝুঁকি বিবেচনায় শুধু ইরানেরই নয়, আইএইএর পরিদর্শকদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। সুরক্ষার দিক বিবেচনায় প্রতিটি পরিদর্শনের জন্য আলাদা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    আরাগচি বলেন, ‘আমরা আমাদের সার্বভৌম অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ছাড় দেব না। ইউরোপীয় দেশগুলো যদি নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটে, তবে তাদের আর কোনো অংশীদারিত্ব থাকবে না ইরানের পারমাণবিক ভবিষ্যতে।’