Author: ABNANEWS

  • মহিমান্বিত কদরের রাতে ইবাদত ও প্রার্থনা

    মহিমান্বিত কদরের রাতে ইবাদত ও প্রার্থনা

    এবিএনএ: পবিত্র রমজান মাস ও তার শেষ দশকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো কদরের রাত। হাদিসের ভাষ্য অনুসারে রমজানের শেষ দশকের যে কোনো বেজোড় রাতই কদরের রাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদিও বহু সংখ্যক আলেম ২৭ রমজানের রাতকে কদরের রাত বলে অভিমত দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের ভাষায় কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। মহান আল্লাহ কদরের রাতকে ‘বরকতময়’ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এটা অবতীর্ণ করেছি এক মোবারক রাতে। আমি সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত : ৩-৪)

    আল্লাহ ‘কদর’ নামে একটি পূর্ণ সুরা অবতীর্ণ করেছেন। যাতে তিনি এই রাতের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রাতে। আর মহিমান্বিত রাত সম্পর্কে তুমি কি জানো? মহিমান্বিত রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশরা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সেই রাত ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।’ (সুরা কদর, আয়াত : ১-৫)

    আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়, কদরের এক রাতের ইবাদত কম-বেশি প্রায় ৮৩ বছর ইবাদত করার সমান। তাই মহিমান্বিত এই রাতের অনুসন্ধান করা আবশ্যক। সুরা দুখানের আয়াত থেকে ইঙ্গিত মেলে কদরের রাতে আল্লাহ ফেরেশতাদের কাছে পুরো বছরের ভাগ্যলিপি হস্তান্তর করেন। সুতরাং অনাগত দিনগুলো যেন সুন্দর হয় কদরের রাতে সেটাও করা প্রয়োজন। একাধিক হাদিসে মহানবী (সা.) কদরের রাতে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ও দোয়া করতে উৎসাহিত করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সাওয়াবের আশায় কদরের রাতে জাগ্রত থাকবে (ইবাদত করবে) তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৭৬৮)

    আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এই যে মাস (রমজান) তোমরা লাভ করেছ তাতে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি তার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো। আর হতভাগ্য ব্যক্তিই কেবল তার কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৩৪)

    কদরের রাত কেমন হবে তার একটি ইঙ্গিতও হাদিসে রয়েছে। তা হলো মেঘ ও বৃষ্টি থাকা। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) রমজান মাসের মাঝের দশকে ইতিকাফ করেন। ২০ তারিখ অতীত হওয়ার সন্ধ্যায় এবং ২১ তারিখের শুরুতে তিনি ও তাঁর সঙ্গে যাঁরা ইতিকাফ করেছিলেন সবাই নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেলেন। সে রাতে তিনি ভাষণ দেন। তাতে বহু নির্দেশ দান করেন। অতঃপর বলেন যে, আমি এই দশকে ইতিকাফ করেছিলাম। এরপর আমি সিদ্ধান্ত করেছি যে, শেষ দশকে ইতিকাফ করব। যে আমার সঙ্গে ইতিকাফ করেছিল সে যেন তার ইতিকাফস্থলে থেকে যায়। আমাকে সে রাত দেখান হয়েছিল, পরে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকে ঐ রাতের তালাশ করো এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তা তালাশ করো। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, সে রাতে আমি কাদা-পানিতে সিজদা করছি। সে রাতে আকাশে প্রচুর মেঘের সঞ্চার হয় এবং বৃষ্টি হয়। মসজিদে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নামাজের স্থানেও বৃষ্টির পানি পড়তে থাকে। এটা ছিল ২১ তারিখের রাত। যখন তিনি ফজরের নামাজ শেষে ফিরে বসেন তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই যে, তাঁর মুখমণ্ডল কাদা-পানি মাখা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০১৮)

    কদরের রাতের বিশেষ ইবাদত হলো নামাজ আদায় করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আম্মাজান আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি লায়লাতুল কদর কোনটি তাহলে আমি সে রাতে কি বলব? তিনি বলেন, তুমি বলো, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন কারিমুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি। অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল দয়ালু, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১৩)

    বুজুর্গ আলেমরা বলেন, মহিমান্বিত এই রাতে আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া সে ব্যক্তিই লাভ করবে, পরিচ্ছন্ন দেহ ও মন নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হবে। আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলি বলেন, ‘‘উত্তম হলো যে রাতে ‘কদর’ অনুসন্ধান করা হবে তাতে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, গোসল-সুগন্ধি-উত্তম কাপড়েরর মাধ্যমে সৌন্দর্য বর্ধন করা। আর বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য যথষ্টে নয়, যদি না মানুষের ভেতরটা সুন্দর হয়। মানুষের ভেতর সুন্দর হয় তাওবা ও আল্লাহমুখী হওয়ার মাধ্যমে।’ (লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা ১৮৯)

    যেহেতু কদরের রাত কবে হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষিত হয়নি, তাই মুমিনের উচিত রমজানের শেষ দশকের প্রত্যেক বেজোর রাতে কদর অনুসন্ধান করা। ঠিক যেমনটি মহানবী (সা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০১৭)

    হে আল্লাহ! আপনি আমাদের কদরের রাতের যাবতীয় কল্যাণ দান করুন। আমিন। লেখক : মুহাদ্দিস, সাঈদিয়া উম্মেহানী মহিলা মাদরাসা, ভাটারা, ঢাকা।

  • ঈদে পুলিশ সদস্যদের ছুটি নেই : স্বরাষ্ট্র সচিব

    ঈদে পুলিশ সদস্যদের ছুটি নেই : স্বরাষ্ট্র সচিব

    এবিএনএ: পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ছুটি নেই, ফলে ঈদে টানা ছুটি থাকলেও নিরাপত্তায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের ছুটি থাকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। নাসিমুল গণি বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছুটিতে নেই। তারা সমস্ত কাজের জন্য সতর্ক থাকবে।

    ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা থেকে গ্রামে যাবে। তাদের যাত্রাটা আনন্দদায়ক করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে পরিবহন খাতে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের সহযোগিতা নিয়ে আগাচ্ছি। আশা করছি অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটবে না।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সতর্কতার মধ্যে থাকবে। আশা করছি আল্লাহ আমাদের রহমতের চাদরে আগলে রাখবেন।  পুলিশের ছুটি কি বাতিল করা হয়েছে – এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাদের তো ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি। থানা এমন একটা অফিস যেটা ১৮৬১ সালে শুরু হয়েছিল দিবারাত্র চলেছে, ২০২৪ সালের আগে এই দেশে আর কোনোদিন থানা বন্ধ হয়নি। এখন আবার চালু হয়েছে। সব থানা চালু থাকবে।

    বাসমালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশ সচল আছে। ঈদের ছুটিতে যারা বাসা ছেড়ে যাবেন, তারাও নিশ্চিন্তে থাকবেন। এ ছাড়া ঈদে ৯ দিনের ছুটিতে অর্থনীতিতে কোনো স্থবিরতা তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

    ঈদের ছুটিতে উপদেষ্টামণ্ডলীর বেশির ভাগ সদস্য ঢাকায় থাকবেন বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সচিবরা দেশের বাইরে গেলেও সিদ্ধান্ত নিতে কোনো সমস্যা হবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আজকাল সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

    এদিকে রাজধানীর গাবতলীর র‍্যাব কন্ট্রোল রুম থেকে সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-৪ এর সিও লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম।

  • গাড়ি আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

    গাড়ি আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধকে আরো বিস্তৃত করার হুমকি।বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। বুধবার হোয়াইট হাউজ কার্যালয়ে ট্রাম্প বলেছেন, সর্বশেষ শুল্ক আরোপ ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এবং ৩ এপ্রিল থেকে শুল্ক বাবদ অর্থ সংগ্রহ করা হবে। যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক আরোপ মে বা তার পরে শুরু হবে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের জন্য ‘অসাধারণ প্রবৃদ্ধি’ আনবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে। তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য গাড়ি উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, দাম বৃদ্ধি পাবে এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেবে। গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় আট মিলিয়ন গাড়ি আমদানি করেছে, যা বাণিজ্যে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার এবং মোট বিক্রয়ের প্রায় অর্ধেক।

    মেক্সিকো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির শীর্ষ বিদেশী সরবরাহকারী, তারপরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কানাডা এবং জার্মানি। ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী গাড়ি বাণিজ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে উল্টে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। অনেক মার্কিন গাড়ি কোম্পানি মেক্সিকো ও কানাডায়ও কাজ করে, যা এই তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির শর্তাবলীর অধীনে প্রতিষ্ঠিত।

    হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এই আদেশ কেবল প্রস্তুত গাড়ির ক্ষেত্রেই নয়, গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যা প্রায়শই অন্যান্য দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংযোজনের আগে পাঠানো হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা, জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এটি স্থায়ী।”

    তিনি বলেন, “আপনি যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপনার গাড়ি তৈরি করেন তাহলে কোনো শুল্ক নেই।” জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেছেন, “তার সরকার শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় সব বিকল্পে গুরুত্ব দেবে।” টোকিওতে প্রাথমিক লেনদেনে টয়োটা, নিসান, হোন্ডা সহ জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের শেয়ারের দাম কমেছে।

    ট্রাম্প আমেরিকান ব্যবসাগুলোকে রক্ষা এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য একটি ব্যাপক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই পদক্ষেপগুলো দেশীয় ব্যবসাগুলোকে রক্ষা করতে পারলেও, বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসাগুলোর জন্য খরচও বাড়িয়ে দেয়, যেমন গাড়ি নির্মাতাদের ক্ষেত্রে।

    অ্যান্ডারসন ইকোনমিক গ্রুপের মতে, বিশ্লেষকরা অনুমান করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির দাম হাজার হাজার ডলার বেড়ে যেতে পারে, কেবল মেক্সিকো ও কানাডা থেকে যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে গাড়ি ভেদে দাম ৪,০০০-১০,০০০ ডলার বৃদ্ধি পাবে।

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পের ঘোষণাকে কানাডা এবং এর গাড়ি শিল্পের ওপর ‘সরাসরি আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের ক্ষতি করবে। কিন্তু আমরা আমাদের কোম্পানিগুলোকে রক্ষা করব। আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করব এবং আমরা তা একসঙ্গে রক্ষা করব।”

    ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন বলেছেন, “এই শুল্ক ব্যবসার জন্য খারাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভোক্তাদের জন্য আরো খারাপ।” তিনি আরো বলেন, “‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজ অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা অব্যাহত রাখবে।”

  • স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের জনগণকে ট্রাম্পের শুভেচ্ছা

    স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের জনগণকে ট্রাম্পের শুভেচ্ছা

    এবিএনএ: বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (মার্চ ২৭) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আগামী এই গুরুত্বপূর্ণ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমরা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে পারব এবং একইসঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারব। পাশাপাশি, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বৃদ্ধিতেও একসঙ্গে কাজ করতে পারব।

    এর আগে, বুধবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছাবার্তা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই শুভেচ্ছাবার্তা প্রকাশ করে।

  • জনগণের আস্থা ফেরাতে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    জনগণের আস্থা ফেরাতে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ: জনগণের আস্থা ফেরাতে সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বিশ্ব দেখছে বাংলাদেশের মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে জনগণের আস্থা ফেরাতে সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকালে বিএফএ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

    এ সময় জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বিক যে ক্ষতি হচ্ছে- তা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আমাদের সভ্যতা হুমকির মুখে। জলবায়ুর এই প্রভাব রোখে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস।

    এর আগে, বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুরে চার দিনের সফরে চীনে যান অধ্যাপক ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টাসহ তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে একটি বিশেষ ফ্লাইট বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে দেশটির হাইনানের কিয়োংহাই বোয়াও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

    সাক্ষাৎকালে সেনাপ্রধান দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন।

    এ ছাড়াও, সদ্য সমাপ্ত বিবিধ বঞ্চিত সেনা কর্মকর্তাদের সুবিচার নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত উচ্চপদস্থ পর্ষদের মূল্যায়ন ও সুপারিশ এবং বিবিধ কারণে চাকরিচ্যুত জেসিও ও অন্যান্য পদবির সেনা সদস্যদের চলমান উচ্চপদস্থ পর্ষদ-এর অগ্রগতির বিষয়ে সেনাপ্রধান প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। এ সময় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতার চিকিৎসায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও অবদানের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী তাদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

  • ভারতের ওপর ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    ভারতের ওপর ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: আগামী এপ্রিল থেকে ভারতের ওপর ১০০ শতাংশের বেশি পাল্টা শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সময় এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

    এতে বলা হয়, মঙ্গলবার পুনরায় ভারতকে উচ্চ শুল্কের জন্য লক্ষ্যবস্তু করেছেন ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন পারস্পরিক শুল্কের ক্ষেত্রে এবার নয়াদিল্লিকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। আগামী ২ এপ্রিল থেকে এই শুল্ক নীতি কার্যকর করবেন ট্রাম্প। মোটরগাড়ি শিল্পের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, ভারত ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করে।

    জানুয়ারিতে অনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাগ্রহণের পর কংগ্রেসে প্রথম ভাষণ দিলেন ট্রাম্প। যৌথ অধিবেশনের ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, ভারত আমাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ন্যায্য নয়। ২ এপ্রিল থেকে পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে। তারা আমাদের ওপর যে পরিমাণ শুল্ক দেবে আমরাও তাদের ওপর একই পরিমাণ শুল্ক দিব। তারা যদি আমাদের তাদের বাজার থেকে দূরে রাখতে শুল্ক ব্যবহার করে তাহলে আমরাও তাদের আমাদের বাজার থেকে দূরে রাখতে শুল্ক দিব।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্কিন সফরের কয়েক সপ্তাহ না যেতেই ভারতের ওপর কর বসানোর এমন কড়া বার্তা দিলেন ট্রাম্প। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরালো হবে বলে আশা করা হয়েছিল। নয়াদিল্লির ব্যাপক আশা ছিল মার্কিন বাজারে তাদের পণ্য প্রবেশে শুল্ক ছাড়ে বিশেষ সুবিধা পাবে ভারত। সে লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর আগেই বোরবন হুইস্কির মতো বেশ কয়েকটি মার্কিন পণ্যে শুল্ক কমিয়েছিল দিল্লি। তবে এই নীতি ভারতকে ট্রাম্পের শুল্ক নীতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি।

    এমন পরিস্থিতিতে পারস্পরিক শুল্ক কমানোর চেষ্ট করবে নয়াদিল্লি। কেননা ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছেন। সেখানে তিনি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আরেকটি বিষয় হচ্ছে চীনের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ভারতে কিছুটা বাড়তি সুবিধা দেয়। তার প্রথম মেয়াদে চীনকে লক্ষ্যবস্তু করায় ইলেকট্রনিক খাতে রপ্তানির সুযোগ পেয়েছিল ভারত।

    কংগ্রেসকে সম্মোধন করে ট্রাম্প বলেন, অন্য বহু দেশ বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর শুল্ক আরোপ করে যাচ্ছে। এখন সময় এসেছে সেই দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি প্রয়োগ করা। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, চীন, ব্রাজিল এবং ভারতের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তুলনামূলক বেশি শুল্ক আরোপ করে বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তিনি এ বিষয়টি অন্যায্য বলে অভিহিত করেছেন।

  • নতুন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন সি আর আবরার

    নতুন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন সি আর আবরার

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন অধ্যাপক সি আর আবরার। আজ বুধবার বেলা ১১টা ৬ মিনিটে রাষ্ট্রপতির বাসভবন ও কার্যালয় বঙ্গভবনে উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

    শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরবর্তী সময় কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। অধ্যাপক সি আর আবরার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।

    নতুন একজন উপদেষ্টা যুক্ত হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট উপদেষ্টার সংখ্যা হলো ২৩ জন।উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। ওইদিনই বিলুপ্ত হয় মন্ত্রিসভা। পরদিন ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর গত ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

    এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওই সময় নিয়োগ পান ১৬ জন উপদেষ্টা। ঢাকা ও দেশের বাইরে থাকায় তিনজন উপদেষ্টা ওইদিন শপথ নিতে পারেননি। তারা পরে শপথ নেন। পরে আরও চারজন উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারে যুক্ত হন। সর্বশেষ ১০ নভেম্বর তিনজন উপদেষ্টা যুক্ত হন।

    গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বিমান ও পর্যটন এবং ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ মারা যান। সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে সরকারে প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট উপদেষ্টা ছিলেন ২২ জন।

  • শপথ নিয়েই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সি আর আবরার

    শপথ নিয়েই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সি আর আবরার

    এবিএনএ: দপ্তর বণ্টন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলেও শপথ নেওয়ার পরই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হয়েছেন নতুন উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি আজ বুধবার বেলা ১২টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব চালিয়ে আসা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

    এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদকে বিদায় এবং সি আর আবরারের যোগদান উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে বিস্তারিত তুলে ধরেন ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। এ সময় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও অধীন দপ্তর-সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সি আর আবরার। এরপর গণমাধ্যমের সঙ্গে সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে মতবিনিময়ও করেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।

  • মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে: অধ্যাপক ইউনূস

    মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে: অধ্যাপক ইউনূস

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি আজ বুধবার প্রকাশ পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় থাকাকালীন জোরপূর্বক গুমের পাশাপাশি গত বছরের জুলাই ও আগস্টে বিক্ষোভকারীদের গণহত্যার তদারকির জন্য অভিযুক্ত শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, একটি বিচার হবে। শুধু শেখ হাসিনা নয়, বরং তার সঙ্গে জড়িত সবার- পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে তার সহযোগীদেরও বিচার করা হবে।

    ছাত্র-জনতার ব্যাপক বিক্ষোভের ফলে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বর্তমানে ভারতে নির্বাচিত থাকা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গোপন আটক কেন্দ্রের একটি নেটওয়ার্ক তদারকি করার অভিযোগ রয়েছে। এসব গোপন আটক কেন্দ্রে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো, নির্যাতনও করা হতো এবং কয়েকজনকে হত্যাও করা হয়েছিল- আর এই সবই করা হয়েছিল ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ ব্যানারে।

    অধ্যাপক ইউনূস সম্প্রতি ‘হাউজ অব মিররস’ বা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত একটি কুখ্যাত গোপন কারাগার পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেছেন, সেখানে তিনি যা দেখেছেন তাতে তিনি হতবাক। ড. ইউনূস বলেন, এটিই সবচেয়ে কুৎসিত জিনিস যা আপনি দেখতে পারেন, আপনি অনুভব করতে পারেন বা আপনি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

    শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তার নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশকে ব্যবহার করে শত শত নেতাকর্মীকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার তদারকি করার অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এবং ৮০০টিরও বেশি গোপন কারাগারের নেটওয়ার্ক তদারকির অভিযোগে অভিযুক্ত অনেকেই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, অভিযুক্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের সংখ্যা এবং পরিসর নিয়ে কাজ করতে ‘সময় লাগছে’। তিনি বলেন, সবাই এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। পুরো সরকার এর সঙ্গে জড়িত ছিল। সুতরাং এটা বের করা কঠিন যে- কারা সত্যিই এবং উৎসাহের সঙ্গে এই অপরাধগুলো করছিল, আর কারা উচ্চপদস্থদের আদেশের অধীনে এসব কাজ করেছিল এবং কারা পুরোপুরি এসব অপরাধের সমর্থনকারী না হলেও এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গিয়েছিল।

    শেখ হাসিনা, নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশকে গত বছরের জুলাই এবং আগস্টে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের জন্যও অভিযুক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘ অনুমান করছে, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আগের দিনগুলোতে সরকারের সহিংস দমন-পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছিলেন।

    অধ্যাপক ইউনূস ভুক্তভোগীদের পরিবার কত দ্রুত ন্যায়বিচার দেখতে পাবে এবং তার চোখের সামনে সেই বিচার হবে কিনা তা নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ করার চেষ্টা করে চলেছেন। এমন অবস্থায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে নতুন নির্বাচন হতে পারে।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, কিছু অপরাধী শাস্তি পাবে, কিছু তখনও প্রক্রিয়াধীন থাকবে, কিছু তখনও খুঁজে পাওয়া যাবে না। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক ইউনূসকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে হাসিনার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত।

    বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে তাদের একজন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি শেখ হাসিনার ভাগ্নী। অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে মামলাটি খুবই গুরুতর। দেশে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে এবং সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।

    বাংলাদেশে দুর্নীতির তদন্তে নাম আসার পর গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন টিউলিপ সিদ্দিক। যুক্তরাজ্যের এই এমপির একজন মুখপাত্র বলেছেন, টিউলিপ তার বিরুদ্ধ আনা অভিযোগগুলেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখান করেছেন।

    বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আগমন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওই দেশটির দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে সহিংসতা বৃদ্ধির পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সংখ্যালঘু মুসলিমদের সংখ্যা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের স্বদেশে ফিরে যেতে সহায়তা করার জন্য একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে তারা এখন মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন।