Author: ABNANEWS

  • এনসিপিদের বরণ করে জবি শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ কেন: রিজভী

    এনসিপিদের বরণ করে জবি শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ কেন: রিজভী

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আপনারা কাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন সেটা আমরা জানি না। আপনাদেরকে আমরা সমর্থন করেছি, এখনো করে যাচ্ছি। কিন্তু এনসিপি যখন যমুনার দিকে যায়, তখন তাদেরকে সাদরে বরণ করেন। তিন-চারদিন আগে দেখলাম আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে তারা গেলেন, তাদেরকে সাদরে বরণ করলেন। আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা যখন তাদের আবাসনের জন্য গেলো, তখন আপনারা তাদেরকে উপহার দিলেন লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বে আপনারা রয়েছেন। আপনারা তো সুশীল সমাজের লোক। কিন্তু আপনাদের আচরণের মধ্যে এই দ্বিচারিতা কেন? আপনাদের আচরণের মধ্যে এই বিভাজন কেন?

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করেছে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, পুরো দেশ অশান্তিতে ভরে উঠেছে। অনেক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। আপনারা সেদিকে না তাকিয়েই কি নিজেদের মত দেশ চালাবেন? কিন্তু ওই যে ফ্যাসিবাদের পতন হয়ে পালিয়ে গেছে, তাদেরকে মদদ দেওয়ার অনেক শক্তি রয়েছে এবং যারা দিচ্ছে। সুতরাং ডানে বামে সবদিকে তাকিয়ে যথাযথভাবে দেশ শাসন করুন। না হলে কেউ রক্ষা পাবেন না। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল বা কোনো আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে আপনাদেরকে কিন্তু জনগণ ধরে ফেলবে।

    তিনি বলেন, আজ ৫ আগস্টের পর এক পরিবর্তিত পরিস্থিতি। আমরা সবাই একটু স্বস্তিতে থাকতে চেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শিক্ষক ছাত্ররা নির্বিঘ্নে ক্লাসে যাবে, ক্লাস থেকে বের হবে। এখন কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অরাজক পরিস্থিতি, তরুণ ছাত্রের লাশ ক্যাম্পাসের মধ্যে চলছে, রক্ত ঝরছে। এখন তো আর আওয়ামী দোসররা নেই। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, সকল বিরোধী দলীয় যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, তারা সমর্থন করেছেন। তাহলে এখন কেন লাশ পড়বে? গত পরশুদিন রাত ১২ টার সময় ছাত্রদল নেতা সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। সাম্য হলে একটি সম্পাদকীয় রয়েছে। কি অন্যায় করেছিল সাম্য! আমার তো মনে হয় এখানে রাজনৈতিক কারণ আছে। তিনজন ভবঘুরে তাহলে সাম্যকে কেন হত্যা করবে। কয়েকদিন আগে সে ফেইসবুকে শাহবাগে জাতীয় সংগীত বন্ধের জন্য একটা আন্দোলন চলছিল। তার বিরুদ্ধে এবং জাতীয় সংগীতের পক্ষে একটা পোস্ট করেছে। এটাই কি সেই কারণ।

    তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি ফ্যাসিবাদী আমলে পার্শ্ববর্তী দেশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে আবরারকে হত্যা করা হয়। আজকে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, ৭১ এবং স্বাধীনতার পক্ষে কথা বললে তার জীবন চলে যায়। অর্থাৎ দেশের পক্ষে, যারা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, দেশের স্বাধীনতার পক্ষে, যারা জাতীয় সংগীতের পক্ষে তাদের জীবন চলে যায়। আমি এজন্যই বলেছি, নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ আছে।

    পুলিশকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, আপনারা ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখুন। ভবঘুরেদেরকে গ্রেফতার করেছেন, মানুষ এসব বিষয় সহজভাবে নেয় না। মানুষ সহজভাবে নিতো যদি, সবসময় সত্য এবং ন্যায় অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতো। কিন্তু সেটা তারা নেয়নি। যেমন আবরার হত্যাকাণ্ডে নেননি, তেমনি আরও ঘটনাও নেননি। আজকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হাসিনা নেই, দোসররা নেই, রক্তপাত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জানুয়ারি মাসে তফাজ্জল নামে একজনকেও হত্যা করা হয়েছে। ক্যাম্পাস হবে শান্তি, এখানে থাকবে শান্তির পতাকা। সেখানে কেন রক্তপাত হবে। এটা তো হওয়ার কথা নয়।

    বিএনপির এই নেতা বলেন, কালকে ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে গিয়েছে ছাত্র দলের নেতার। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মারা গেছে। আপনি বিরক্ত হয়েছেন, ক্ষুব্ধ হয়েছেন, আপনি তুইতোকারি করেছেন ছাত্র নেতাদেরকে। আপনি শুনতে চান না। কারণ, সাম্য ছাত্র দল করে। আপনার রাজনৈতিক চিন্তা দর্শন কি সেটা আমরা ইতিমধ্যে জেনে ফেলেছি। যারা জাতীয়তাবাদের পক্ষে ওখানে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে ছাত্র সংগঠন করে সেটা আপনি পছন্দ করেন না। আপনার উচিত ছিল প্রথমে সেই লাশ দেখা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। ভাইস চ্যান্সেলররা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ বিশেষ দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে নেমে যান, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনোই শান্তি বয়ে আনবে না। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন ও সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিম বিল্লাহ ।উপস্থিত ছিলেন, আমরা  বিএনপি পরিবারের সদস্য আবুল কাশেম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি,কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন ,মাসুদ রানা লিটন,ডাঃ তৌহিদুর রহমান আউয়াল, শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাবিবুল বাশার, সাবেক সহ সভাপতি জামিল হোসেন।
    আরো উপস্থিত ছিলেন, জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন,মহানগর উত্তর কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আহমেদ, মোখলেছুর রহমান, ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান মহান, মিসবাহ প্রমুখ।

  • মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ২১ মে

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে ২১ মে

    এবিএনএ: আগামী বছরগুলোতে আরও বড় সংখ্যায় বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজারের অধিক শ্রমিক যাবে বিনা খরচে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাশুসন ইসমাইল ও মানবসম্পদ মন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কেওয়ের সঙ্গে এক যৌথ সভায় মিলিত হন  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    বৈঠকে শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সারওয়ার আলম বলেন, ‘মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে একটি ইতিবাচক ফলাফল এসেছে। ২১ মে ঢাকায় যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

    মালয়েশিয়ায় অবৈধ কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আশাবাদী এবং মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ৭১ সালের যুদ্ধের প্রতিশোধ নিয়েছি : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

    ৭১ সালের যুদ্ধের প্রতিশোধ নিয়েছি : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

    এবিএনএ: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ভারতের বিরুদ্ধে চালানো ‘অপারেশন বুনইয়ান-উন-মারসুসের’ সাফল্যকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ও শক্তিশালী জবাব দিয়ে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের প্রতিশোধ নিয়েছে।

    গতকাল বুধবার শিয়ালকোটের পাসরুর সেনানিবাসে ‘বুনইয়ান-উন-মারসুস’-এ অংশ নেওয়া সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাতকালে এসব মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে, কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, পাকিস্তানের রক্ষীরা অতুলনীয় নির্ভুলতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে ভারতের অপ্রীতিকর আগ্রাসন রুখে দিয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গতকাল শেহবাজের সঙ্গে শিয়ালকোটে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার, দেশটির সেনাপ্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

    সেনাদের উদ্দেশে শেহবাজ শরিফ বলেছেন, জাতির অটল সংকল্পে শক্তিশালী বীর পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী বীরত্বপূর্ণ ভঙ্গিতে মাতৃভূমিকে রক্ষা করেছে এবং প্রতিপক্ষের নৃশংস আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হেনেছে।

    এই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে শেহবাজ বলেছেন, বিশ্ব জানে ১৯৭১ সালে কারা মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। এখন তারাই বালুচ লিবারেশন আর্মি এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানকে (পাকিস্তান সরকার বিরোধী গোষ্ঠী) সমর্থন দিচ্ছে।

    ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশ্রয়ে এসব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শেহবাজ। শেহবাজ বলেছেন, আপনার আগুনঝরা বক্তব্য আপনার কাছেই রাখুন। পাকিস্তান শান্তি চায়, তবে এই আকাঙ্ক্ষাকে আমাদের দুর্বলতা ভেবে ভুল করবেন না।

  • ৫০ বছরের অপেক্ষা শেষে বোলোনিয়ার ইতিহাস, রোমে উল্লাস

    ৫০ বছরের অপেক্ষা শেষে বোলোনিয়ার ইতিহাস, রোমে উল্লাস

    এবিএনএ: রোমের অলিম্পিকো স্টেডিয়ামের বাতাসে বুধবার রাতে ভেসে বেড়িয়েছে বোলোনিয়ার জয়ধ্বনি। দীর্ঘ ৫১ বছরের তৃষ্ণা মিটিয়ে ইতালিয়ান কাপের শিরোপা জিতে নিল ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি। ফাইনালে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছে এসি মিলানকে, রচনা করেছে এক নতুন অধ্যায়ের।

    ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম কোনো বড় শিরোপার মুখ দেখল বোলোনিয়া। যে সময়টাতে পুরো একটি প্রজন্ম কখনো এমন উৎসব দেখেনি, সেই ক্লাবের আকাশ এবার রঙিন করল একমাত্র গোলদাতা ড্যান নডোয়ে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে তার করা একমাত্র গোলেই নিশ্চিত হয় বোলোনিয়ার ইতিহাস গড়া জয়।

    কোচ ভিনচেনজো ইতালিয়ানোর জন্য এই জয় যেন এক মধুর প্রতিশোধ। ফিওরেন্টিনার ডাগআউটে দাঁড়িয়ে তিনবার ফাইনালে হারার কষ্ট আজ মুছে গেল বোলোনিয়াকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে। থিয়াগো মোটতার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি দলটিতে এনেছেন সংগঠিত রূপ আর দৃঢ় মানসিকতা। তার কোচিংয়ের ফলস্বরূপ বোলোনিয়া পেল বহু প্রতীক্ষিত সাফল্যের স্বাদ।

    ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের বুকে জড়িয়ে ধরা ইতালিয়ানোর চোখে জল ছিল গর্বের, আর গ্যালারিতে তখন হাজারো সমর্থকের নাচে-কান্নায় মিলেছে আবেগের বিস্ফোরণ। অনেকেই বলছিলেন, এমন মুহূর্ত হয়তো আর কখনো জীবনে দেখবেন না।

    এক সময়ের ইউরোপ দাপানো এসি মিলানের জন্য আবারও হতাশার রাত। শেষবার তারা এই কাপ ছুঁয়েছিল ২০০৩ সালে। যে বছর তারা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল। সেই স্মৃতিময় সময় আজ শুধুই অতীত। বর্তমান মিলান যেন পথ হারানো এক জাহাজ, যার গন্তব্য স্পষ্ট নয়।

    এই হারের ফলে তাদের ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। সিরি’আ লিগের টেবিলে তারা এখন অষ্টম। ইউরোপা কনফারেন্স লিগে জায়গা করে নিতে হলে তাদের আগামী ম্যাচে রোমার বিপক্ষে জিততেই হবে।

  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা

    এবিএনএ: তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে কাকরাইলে চলমান আন্দোলন থেকে এ ঘোষণা দেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন।

    তিনি বলেন, “আমরা কারো বিরুদ্ধে এখানে কথা বলতে আসিনি। কোনো ষড়যন্ত্র করতে আসিনি। আমাদের অধিকার চাইতে, আমাদের দাবি আদায় করতে এসেছি। দাবি আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষা ও পরীক্ষা কার্যক্রম চলবে না।”

    তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো সড়কে অবস্থান করছেন জবি শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে আছেন শিক্ষকেরাও। দাবি আদায়ে কাকরাইল মসজিদের সামনের রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন তারা।

    বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় সরজমিনে দেখা যায়, এখনও সড়কেই অবস্থান করছেন তারা। আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণে কাকরাইল মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকায় তৈরি হয়েছে যানজট। এদিকে, পুলিশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    এর আগে বুধবার বেলা ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে ‘লং মার্চ টু যমুনা’ শুরু করেন জবির শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা। লং মার্চটি গুলিস্থান, মৎস্য ভবন পার হয়ে কাকরাইল মসজিদের সামনে আসলে ১২টা ৪০ মিনিটে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশি কিছু শিক্ষক শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে ওখানে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এরমধ্যে গতকাল রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এ সময় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন এবং ভিড় থেকে কেউ একজন তাকে লক্ষ্য করে পানির বোতল ছুড়ে মারেন। রাত ১২টার দিকে এই প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ব্রিফ করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব সামসুল আরেফিন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

  • কান চলচ্চিত্র উৎসব শুরু, গাজা ইস্যুতে নীরবতা নিয়ে বিতর্ক

    কান চলচ্চিত্র উৎসব শুরু, গাজা ইস্যুতে নীরবতা নিয়ে বিতর্ক

    এবিএনএ: ফ্রান্সের রিভিয়েরায় মঙ্গলবার শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত কান চলচ্চিত্র উৎসব। তবে এবারের উৎসবের শুরুতেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা নিয়ে নীরবতার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন কান কর্তৃপক্ষ। গাজার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য তাদের চাপ দিচ্ছেন বিশ্ব চলচ্চিত্র জগতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা।

    বিশ্ববিখ্যাত ‘শিন্ডলার্স লিস্ট’ চলচ্চিত্রের অভিনেতা রালফ ফাইনস এবং কানের পুরস্কারজয়ী চারজন পরিচালকসহ মোট ৩৮০ জনেরও বেশি চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একটি খোলা চিঠিতে চলচ্চিত্র শিল্পের ‘নীরবতা’ নিয়ে নিন্দা প্রকাশ করেছে।

    তারা চিঠিতে বলেছেন, ‘গাজায় যখন গণহত্যা চলছে, তখন আমাদের নীরব থাকা ঠিক না।’ ফরাসি পত্রিকা ‘লিবারেশন’ ও মার্কিন ম্যাগাজিন ‘ভ্যারাইটি’ তাদের চিঠিটি প্রকাশ করেছেন। চিঠিটি প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান অ্যাকটিভিস্টদের কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে লেখা হয়েছে।

    চিঠির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন হলিউড অভিনেতা রিচার্ড গিয়ার, সুসান সারান্ডন, স্প্যানিশ খ্যাতিমান পরিচালক পেদ্রো আলমোদোভার এবং কানের পুরস্কারজয়ী রুবেন অস্টলান্ড, মাইক লি এবং কোস্টা-গাভরাসের মতো নামকরা চলচ্চিত্র নির্মাতারা।

    তারা সকলেই গাজার তরুণ ফটোসাংবাদিক ফাতিমা হাসুনার মৃত্যুর তীব্র নিন্দা জানান। ২৫ বছর বয়সি ফাতিমা একটি ডকুমেন্টারির কেন্দ্রীয় চরিত্র, যেটি বৃহস্পতিবার কানে পরিবেশিত হতে যাচ্ছে। এটির নাম ‘Put Your Soul on Your Hand and Walk’। পরিচালনা করেছেন নির্বাসিত ইরানি নির্মাতা সেপিদেহ ফারসি।

    ডকুমেন্টারিটি ঘোষণার পরদিনই একটি ইসরাইলি বিমান হামলায় ফাতিমা ও তার পরিবারের ১০ জন সদস্য নিহত হন।

    পরিচালক কানের আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন গাজায় চলমান বিমান হামলার বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে অবস্থান নেয়। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে গাজা ‘মারাত্মক দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে’ রয়েছে—যা সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • অটোরিকশা বন্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত

    অটোরিকশা বন্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা বন্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।ইতোমধ্যে এই রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেসকোর সহায়তায় এসব রিকশার চার্জিং পয়েন্ট ও উৎপাদনের ওয়ার্কশপগুলো বন্ধ করা হবে। এ ছাড়া ঢাকার মূলসড়কে কোনো রিকশা চলাচল করতে পারবে না। রিকশা চলাচল করবে অভ্যন্তরের সড়কে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ডিএনসিসির যৌথভাবে ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকালে এসব কথা বলেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

    তিনি বলেন, এ সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০ শতাংশ দুর্ঘটনা এই ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শহরের নারী ও শিশুরা। এগুলো কোনো নীতিমালা বা যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়নি। প্রায়ই দেখা যায় পথচারীদের ওপর উঠে যাচ্ছে, অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

    দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও সড়কে গণপরিবহণ চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বুয়েটের সহায়তায় ইতোমধ্যে ব্যাটারিচালিত নিরাপদ রিকশার নকশা প্রস্তুত করে কয়েকটি কোম্পানিকে প্রস্তুতের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

    তিনি আরও বলেন, এই মাসের মধ্যে ডিএনসিসি রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণরাই বৈধ লাইসেন্স পাবে এবং অনুমোদিত কোম্পানির তৈরি রিকশা শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় চালাতে পারবে। এক এলাকার বৈধ রিকশাও অন্য এলাকায় যেতে পারবে না। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ভাড়াও নির্ধারিত থাকবে।

    ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য একটা রিকশা লাইসেন্স দেওয়া হবে। চলমান রিকশা নিয়ে যে বাণিজ্য রয়েছে- তা বন্ধ করা হবে।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের যৌথভাবে পরিচালিত আজকের অভিযানে মূলসড়কে চলাচলরত আনুমানিক ৩০টি ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ করা হয়।

    এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম, ডিএমপির কর্মকর্তা ও ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর কর্মকর্তারা।

  • জাতীয় স্বার্থের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না : আশিক চৌধুরী

    জাতীয় স্বার্থের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না : আশিক চৌধুরী

    এবিএনএ: জাতীয় স্বার্থের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না জানিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের সমগ্র বাংলাদেশের বন্দর। এটাকে বিশ্বমানের একটি বন্দরে আমরা রূপান্তরিত করতে চাই কিন্তু সবার আগে জাতীয় স্বার্থ।’

    মঙ্গলবার (১৩ মে) রাজধানীতে বিডার কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি একথা বলেন। সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিএম), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ পার্টি, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

  • পোপ ফ্রান্সিস মারা গেছেন

    পোপ ফ্রান্সিস মারা গেছেন

    এবিএনএ: ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। আজ সোমবার ভ্যাটিকানের একটি ভিডিও বার্তায় তার মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। ভিডিও বার্তায় কার্ডিনাল কেভিন ফারেল জানান, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে ভ্যাটিক্যানে নিজ বাসভবন কাসা সান্টা মার্টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন পোপ।

    ভ্যাটিক্যানের টেলিভিশন চ্যানেলে ফারেল বলেন, “গভীর দুঃখের সঙ্গে আমাকে আমাদের পবিত্র ফাদার ফ্রান্সিসের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করতে হচ্ছে। রোমের বিশপ আজ সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার পুরো জীবন প্রভু এবং তার গির্জার সেবায় নিবেদিত ছিল।”

    “তিনি আমাদের বিশ্বস্ততা, সাহস এবং সর্বজনীন প্রেমের সাথে সুসমাচারের মূল্যবোধগুলো জীবনযাপন করতে শিখিয়েছিলেন, বিশেষ করে দরিদ্রতম এবং সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের পক্ষে।”

    দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলছিল তার। সম্প্রতি রোমের গেমেলি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান রোমান ক্যাথলিক গির্জার প্রধান। তারপর থেকে ভ্যাটিক্যানে নিজের বাসভবনেই ছিলেন তিনি। সোমবার সকালে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পোপ।

    ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ ভ্যাটিকানের ২৬৬তম পোপ নির্বাচিত হন ফ্রান্সিস। রোমের বিশপ হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক চার্চ এবং সার্বভৌম ভ্যাটিকান সিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ১৯৩৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে পোপ ফ্রান্সিসের জন্ম। ক্যাথলিক পুরোহিত হিসেবে তার অভিষেক হয়েছিল ১৯৬৯ সালে।

    তিনি ছিলেন ৭৪১ সালের পর প্রথম নন-ইউরোপিয়ান পোপ। ৭৪১ সালে সিরিয়ান বংশোদ্ভূত তৃতীয় গ্রেগরির মৃত্যুর পর রোমে আর কোনো নন-ইউরোপীয় পোপ আসেননি। পুরো আমেরিকা অঞ্চল এবং দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে নির্বাচিত প্রথম পোপ ছিলেন ফ্রান্সিস। তিনি ক্যাথলিক গির্জায় সংস্কার কখনো বন্ধ করেননি। তারপরও তিনি সকলের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন।

  • চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধান উপদেষ্টা

    চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ: ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠককালে তারা প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক চীন সফরের ফলাফল পর্যালোচনা করেন এবং বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা ত্বরান্বিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।

    উভয়পক্ষ অবকাঠামো, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলোচনাকে কার্যকর প্রকল্পে রূপান্তরিত করার জন্য যৌথ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হল চীন সফরের সময় আমরা যে পরিকল্পনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি সেগুলো নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে গতি যেন হারিয়ে না যায়।’

    চীনা রাষ্ট্রদূত প্রধান উপদেষ্টার অনুভূতির প্রতিধ্বনি করে বলেন, ‘এটি আমাদেরও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। চীনে আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এজেন্ডা বৈঠক হয়েছে এবং আমরা কেবল চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আরও দুই থেকে তিন বছর অপেক্ষা করতে চাই না- আমরা দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই।’

    আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি ছিল মোংলা এবং আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, প্রস্তুতি চলছে এবং একবার সম্পন্ন হলে জোনগুলো বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য ডেভেলপারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, উভয় পক্ষ চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেছেন। চীনা পক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে এই প্রক্রিয়াটি এই বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

    রাষ্ট্রদূত আরও নিশ্চিত করেছেন যে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন। তার সাথে বিনিয়োগকারীদের ১০০ সদস্যের প্রতিনিধিদল থাকবেন নতুন বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণের লক্ষ্যে।

    বিডার চেয়ারম্যান আশিক বলেন ‘আমরা খাত-নির্দিষ্ট সহযোগিতা জোরদার করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি ক্ষুদ্র-বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবো।’

    আলোচনায় স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। চীনা পক্ষ বাংলাদেশে ১,০০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা প্রাথমিকভাবে চীন সফরের সময় প্রস্তাব করা হয়েছিল। তারা চট্টগ্রামে একটি বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠায় চলমান সহায়তার কথাও তুলে ধরেন।

    চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি ফ্লাইট চালু করার জন্য অগ্রগতি হচ্ছে এবং বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসা ভিসা দ্রুততর করার প্রচেষ্টা চলছে।

    অধ্যাপক ইউনূস সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তরুণ বাংলাদেশিদের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত করার জন্য একটি চীনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। উভয় পক্ষ তিস্তা নদী ব্যবস্থার কাজসহ জল ব্যবস্থাপনার উপর দীর্ঘমেয়াদী ৫০ বছর মেয়াদী মাস্টার প্ল্যান চালু করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা চীনে পাট রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও উত্থাপন করেন এবং লোকোমোটিভ খাতে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি চট্টগ্রাম এবং সৈয়দপুর উভয় স্থানে লোকোমোটিভ উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও উপস্থাপন করা হয়।

    কৃষি বাণিজ্য ছিল অগ্রগতির আরেকটি ক্ষেত্র। বাংলাদেশ এই মৌসুমে চীনে আম রপ্তানি শুরু করবে, আগামী বছর কাঁঠাল রফতানির সময়সূচি রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি নিজেই রাষ্ট্রপতি শি’র কাছে এক ঝুড়ি তাজা আম পাঠাবো।’

    বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিউর রহমান, বিআইডিএ চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ তাইয়েব, মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া এবং এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ।