Author: ABNANEWS

  • চরমোনাই পীরের মহাসমাবেশে জামায়াতে ইসলামী-এন‌সি‌পি-হিন্দু মহাজোটের নেতারা

    চরমোনাই পীরের মহাসমাবেশে জামায়াতে ইসলামী-এন‌সি‌পি-হিন্দু মহাজোটের নেতারা

    এবিএনএ: সংস্কার, বিচার, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন, লে‌ভেল প্লে‌য়িং ফি‌ল্ডের দাবিতে চর‌মোনাই পী‌রের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আ‌ন্দোল‌নের মহাসমাবেশে জামায়া‌তে ইসলামী, এন‌সি‌পি, গণ অ‌ধিকার প‌রিষদ, এ‌বি পা‌র্টিসহ বি‌ভিন্ন দ‌লের নেতারা যোগ দি‌য়ে‌ছেন।

    রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলমান এ মহাসমা‌বেশ হিন্দু্, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদা‌য়ে‌র সংগঠ‌নের নেতারাও র‌য়ে‌ছেন। সংখ্যানুপা‌তিক নির্বাচানর বি‌রোধী হওয়ায় বিএন‌পি‌কে আমন্ত্রণ জানায়‌নি ইসলামী আ‌ন্দোলন। দুপুর দুইটায় শুরু হয় লা‌খো মানু‌ষের এ সমা‌বেশ।

    জামায়াত নেতা‌দের ম‌ধ্যে র‌য়ে‌ছেন দল‌টির না‌য়ে‌বে আ‌মির মুজিবুর রহমান, সে‌ক্রেটা‌রি জেনা‌রেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, সহকারী সেক্রেটার রফিকুল ইসলাম খান। যোগ দি‌য়ে‌ছেন এ‌বি পা‌র্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণ অ‌ধিকার সভাপ‌তি নূরুল হক নূর, এন‌সি‌পির সদস্য স‌চিব আখতার হোসেন, মূখ্য সংগঠক সার‌জিস আলম, নেজা‌মে ইসলাম পা‌র্টির মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইজহার, খেলাফত মজলিসের মহাস‌চিব আহমাদ আবদুল কাদের মহাসচিব, ইসলামী ঐক্যজোট মহাস‌চিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন রাজি, বাংলা‌দেশ খেলাফত মহাস‌চিব জালাল উদ্দীন, খেলাফত আ‌ন্দোলন মহসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানি প্রমুখ।

    মহাসমা‌বে‌শে যোগ দেন জাতীয় হিন্দু মহা‌জো‌টের মহাসবি গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, বোধিজ্ঞান ভাবনাকেন্ত্রের সভাপ‌তি দয়াল কুমার বড়ুয়া, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপ‌তি নির্মল রোজারিও।

  • চেয়ারম্যান অপসারণ দাবি: শনিবার থেকে এনবিআরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

    চেয়ারম্যান অপসারণ দাবি: শনিবার থেকে এনবিআরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

    এবিএনএ: সব বদলির আদেশ বাতিল ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা না হলে আগামী শনিবার (২৮ জুন) থেকে দেশের কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সকল দপ্তরে লাগাতার কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। একইসঙ্গে মঙ্গলবার (২৪ জুন) থেকে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন পরিষদের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব সেহেলা সিদ্দিকা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকায় এনবিআরের সব দপ্তরের সহস্রাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এদিন রাজস্ব ভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পাশাপাশি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে কলম বিরতি কর্মসূচি। অনককে কাফনের কাপড় পরে এ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়।

    এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে এই আন্দোলনের মধ্যে রবিবার আয়কর অনুবিভাগের পাঁচ কর্মকর্তাকে `তাৎক্ষণিক বদলি’ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের, একজন এনবিআর বোর্ড অফিসের এবং বাকি দুজন ঢাকা ও কুমিল্লার কর অঞ্চলের।

    কর প্রশাসনের এক আদেশে বলা হয়, উপকর কমিশনার শাহ মোহাম্মদ ফজলে এলাহীকে আয়কর গোয়েন্দা থেকে বদলি করে ময়মনসিংহ কর অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। উপ কর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলামকে ঢাকার কর অঞ্চল-১৬ থেকে থেকে খুলনা কর অঞ্চলে এবং উপ কর কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ ইউসুফকে বোর্ড থেকে সরিয়ে বদলি করা হয়েছে বগুড়া কর অঞ্চলে।

    এছাড়া উপ কর কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিলকে আয়কর গোয়েন্দা থেকে কুমিল্লা কর অঞ্চলে এবং উপ কর কমিশনার নুসরাত জাহান শমীকে কুমিল্লা কর অঞ্চল থেকে রংপুর কর অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়েছে, তাদের নতুন কর্মস্থলে মঙ্গলবার বা তার আগেই যোগ দিতে হবে এবং সোমবার বর্তমান কর্মস্থলে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।

  • আত্মাহুতি দিয়ে স্কাউটিংয়ের নজির বিশ্বের ইতিহাসে নেই: প্রধান উপদেষ্টা

    আত্মাহুতি দিয়ে স্কাউটিংয়ের নজির বিশ্বের ইতিহাসে নেই: প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের স্কাউটরা একটি অনন্য ইতিহাস গড়েছে। দেশের মঙ্গল ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে চারজন স্কাউট নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন—যা বিশ্ব স্কাউটিংয়ের ইতিহাসে বিরল ও নজিরবিহীন।

    সোমবার (২৩ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ স্কাউটসের দেশব্যাপী আয়োজিত কাব কার্নিভালের উদ্বোধন ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দুনিয়া ও নিজেকে আবিষ্কারের সুযোগ তৈরি করে স্কাউটসের কার্যক্রম।‌ গৎবাঁধা ছাত্রজীবনে নিজের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আর সুযোগ থাকে না। তোমাকে তোমার সঙ্গে পরিচিত করে দেওয়ার জন্য স্কাউটিং একটা বড় দরজা খুলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু নিজে নয়, অন্যদেরও নিজেকে চেনার সুযোগ করে দেওয়া যায়।

  • ইরানের জনগণকে সাহায্য করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

    ইরানের জনগণকে সাহায্য করতে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

    এবিএনএ: ইরানের জনগণকে সাহায্য করতে রাশিয়া প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ভিত্তিহীন। রাশিয়া ইরানি জনগণকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।’

    মস্কোতে স্থানীয় সময় সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনার শুরুতে এই মন্তব্য করেন পুতিন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ইরানে মার্কিন হামলার নিন্দা জানানোর জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। রাশিয়া ‘ইতিহাসের সঠিক দিকে’ দাঁড়িয়ে আছে বলেও জানান তিনি। খবর রয়টার্সের।

    তিনি আরও বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাকে পুতিনের প্রতি তাদের শুভকামনা জানাতে বলেছেন।

    এদিকে ক্রেমলিন বলেছে, তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা সংঘাতে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বাড়িয়েছে এবং উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার কী হয়েছে এবং তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি আছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হামলা সম্পর্কে আগে থেকে কিছু জানাননি, যদিও তারা মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে সাধারণভাবে আলোচনা করেছেন বলে জানান পেসকভ।

    ইরানের দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়া এর আগে তেহরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর পরমাণু আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এ স্থায়ী সদস্য ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির অন্যতম পক্ষও ছিল। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের মাঝামাঝিতে, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে বের করে নিয়েছিলেন।

    ইরান সহায়তা চাইলেও মস্কোর পক্ষে এখন তাদেরকে বড় ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, রাশিয়াকে এখন নিজেই ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। তার ওপর ট্রাম্পকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে আগ্রহী দেখা যাচ্ছে।

  • ইরানে হামলার পেছনে নেতানিয়াহুর তিন লক্ষ্য

    ইরানে হামলার পেছনে নেতানিয়াহুর তিন লক্ষ্য

    এবিএনএ: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তারা ‘মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিচ্ছে’, যা ইরানে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ ঘটাতে পারে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) তিনি বলেন, ইসরায়েল মূলত তিনটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

    ১. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সম্পূর্ণ অবসান,
    ২. ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতার ধ্বংস,
    ৩. ‘সন্ত্রাসের অক্ষ’ নির্মূল করা; এখানে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

    নেতানিয়াহু বলেন, “এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে যা কিছু করার প্রয়োজন, আমরা তা করব এবং আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালোভাবে সমন্বয় করছি।” তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। নেতানিয়াহু আরো বলেন, ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মাধ্যমে যে ‘অস্তিত্ববাদী হুমকি’ সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রতিহত করাই উদ্দেশ্য।

    ইরান থেকে ৬ শতাধিক বিদেশি আজারবাইজানে চলে গেছে

    ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর শত শত বিদেশি নাগরিক পাশ্ববর্তী দেশ আজারবাইজানে পাড়ি দিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকে ১৭টি দেশের ৬০০-এর বেশি নাগরিককে ইরান থেকে আজারবাইজান হয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

    ইরান থেকে ছয় শতাধিকা বিদেশি নাগরিক কাস্পিয়ান সাগর উপকূলের আস্তারা সীমান্ত চেকপোস্ট পার হয়ে আজারবাইজানে প্রবেশ করেছে। আলজাজিরা লিখেছে, এই নাগরিকরা কাস্পিয়ান সাগর উপকূলের আস্তারা সীমান্ত চেকপোস্ট পার হয়ে আজারবাইজানে প্রবেশ করেছে। সেখান থেকে তাদের বাকু বিমানবন্দরে পাঠানো হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    এই তৎপরতায় রাশিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, সার্বিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা রয়েছেন।

    ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার নিন্দা কাতারের

    ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দোহায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চলমান ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। তিনি বলেন, “ইসরায়েলের এই হামলা একটি অপরিকল্পিত পদক্ষেপ, যার খুব ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। কাতার এই হামলাকে তীব্রভাবে নিন্দা জানাচ্ছে।”

    আল-আনসারি বলেন, এমন এক সময়ে এই হামলা হয়েছে যখন ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল, যেখানে অনেক আঞ্চলিক দেশও সংশ্লিষ্ট ছিল।

    তিনি আরো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কাতার এবং ‘মনে করে যে, একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আমেরিকার আগ্রহ রয়েছে।”“আমরা ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব,” যোগ করেন তিনি।

    সাইবার হামলায় ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কার্যক্রম ‘বিঘ্নিত’

    ইরানের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সেপাহ ব্যাংক, যেটি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। ফলে ব্যাংকটির অনলাইন সেবায় বিঘ্ন ঘটেছে। পার্স টুডে লিখেছে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

    এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েল-সম্পর্কিত হ্যাকিং গ্রুপ প্রিডেটরি স্পারো। তারা দাবি করেছে, এই হামলার মাধ্যমে তারা ব্যাংকের তথ্য ‌ধ্বংস করে দিয়েছে।  এই হামলাটি এমন সময় করা হলো, যখন ইসরায়েল-ইরান সংঘাত চূড়ান্ত উত্তেজনায় এবং উভয়পক্ষই সামরিক ও ডিজিটাল অঙ্গনে একে অপরকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

    ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘আরো শক্তিশালী’ আক্রমণের ঘোষণা ইরানের

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, সম্প্রতি ইসরায়েলের দিকে ‘আরো শক্তিশালী’ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপরে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

    সেনাবাহিনীর স্থল বাহিনীর কমান্ডার কিওমারস হেইদারি বলেছেন, “নতুন এবং উন্নত অস্ত্রসহ সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর স্থল বাহিনী কর্তৃক ভয়াবহ আক্রমণের একটি নতুন ধারা শুরু করা হয়েছে। যা আগামী কয়েক ঘণ্টায় তীব্রতর হবে।”

    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াই নেট নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলের তেল আবিব, জেরুজালেমসহ অন্তত ৪টি অঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে বেশ কয়েকটি এলাকায় বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    আগুনে ঘি ঢালছে যুক্তরাষ্ট্র: চীন

    ইরান-ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনাকে যুক্তরাষ্ট্র আরো উস্কে দিচ্ছে বলে দাবি করেছে চীন। বেইজিং বলেছে, সংঘাতকে প্রশমিত না করে উল্টো উস্কে দেওয়া মানে ‘আগুনে ঘি ঢালা’র মতো অবস্থা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের অবিলম্বে তেহরান খালি করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর বেইজিং এমন মন্তব্য করলো।

    মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। এ সময় ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আগুনে ঘি ঢালা, হুমকি দেওয়া ও চাপ সৃষ্টি করা পরিস্থিতি শান্ত করতে সাহায্য করবে না, বরং সংঘাতকে আরো তীব্র ও বিস্তৃত করবে।”

    ইরানের ইসফাহানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকালে ইসফাহানের মধ্য প্রদেশের কাশান শহরের একটি চেকপয়েন্টে ইসরায়েলি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। এতে কমপক্ষে তিনজন নিহত এবং আরো চারজন আহত হয়েছেন।

    সংবদ সংস্থাটি ইসফাহানের গভর্নরের ডেপুটি সিকিউরিটি অফিসার আকবর সালেহির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার। ইরানের তাসনিমসহ অন্যান্য সংবাদ সংস্থাগুলোও হতাহতের এই খবর জানিয়েছে, তবে আরো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

    এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মঙ্গল সকালে তেহরানে হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর প্রধান আলী শাদমানিকে হত্যার দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    শাদমানিকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল মাত্র কয়েকদিন আগেই। এর আগে গত শুক্রবার ইসরায়েল একই ইউনিটের সাবেক প্রধান গোলাম আলি রাশিদকে হত্যার দাবি করেছিল। গত শুক্রবার ভোর থেকে ইরানে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় অনেক উচ্চপদস্থ ইরানি সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং শিশু ও নারীসহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    তাসনিম নিউজ বলছে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর শহীদদের মধ্যে রয়েছেন- সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি, আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ হোসেইন সালামি, আইআরজিসির মহাকাশ বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজাদেহ, আইআরজিসির সিনিয়র কমান্ডার জেনারেল গোলাম আলী রশিদ এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কাজেমি।

    ইরানের আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

    আজ মঙ্গলবার তেহরানে হামলা চালিয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর প্রধান আলী শাদমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আলী শাদমানিকে ইরানের ‘সবচেয়ে শীর্ষ সামরিক কমান্ডার’ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইসরায়েল। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    শাদমানিকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল মাত্র কয়েকদিন আগেই। এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল একই ইউনিটের সাবেক প্রধান গোলাম আলি রাশিদকে হত্যার দাবি করেছিল।

    ইসরায়েলে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান, তেল আবিব-জেরুজালেমে বিস্ফোরণ

    ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে কিছুক্ষণ আগে আবারো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়াই নেট নিউজ জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মধ্য ইসরায়েলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তেল আবিবের উত্তরে উপকূলীয় শহর হার্জলিয়াতে একটি আট তলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, জেরুজালেম এলাকায় একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, দেশজুড়ে সাইরেন বাজানো হচ্ছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের ৩০টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার কথা বলার কিছুক্ষণ পরেই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এই খবর এলো। এর আগে রাতভরও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান। আলজাজিরা জানিয়েছে, সোমবার রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে ইসরায়েলিরা প্রায় সারা রাত আশ্রয়কেন্দ্রে ঢুকে ছিল। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    যুদ্ধবিরতির জন্য ফিরিনি, বড় কিছুর জন্য অপেক্ষায় থাকুন: ট্রাম্প

    ইসরায়েল-ইরানের সংঘাত থামাতে আগেভাগেই জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফেরেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানান, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “ফ্রান্সের ‘প্রচারপ্রিয়’ প্রেসিডেন্ট ভুলভাবে বলেছেন, আমি কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন ছেড়ে ওয়াশিংটনে ফিরে যাচ্ছি ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ‘যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে কাজ করার জন্য। এটা ভুল!” ফিরে আসার কারণ “তার চেয়ে অনেক বড় কিছু” এবং বলেন, “অপেক্ষায় থাকুন!”

    এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে কানাডায় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন থেকে একদিন আগেই ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবিলম্বে তেহরান খালি করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর আরো বড় কিছুর জন্য অপেক্ষার কথা জানালেন তিনি।

    ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ

    জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস আজও বন্ধ থাকবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাসের সব কর্মী ও তাদের পরিবারকে তাদের বাসস্থানের ভেতরে বা কাছাকাছি স্থানে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। খবর আল জাজিরার। ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন মিশন জানিয়েছে, জেরুজালেমের পাশাপাশি তেল আবিবে অবস্থিত তাদের শাখাও বন্ধ থাকবে।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “মার্কিন দূতাবাস এই মুহূর্তে আমেরিকানদের সরিয়ে নেওয়ার বা সরাসরি ইসরায়েল ত্যাগে সহায়তা করার অবস্থানে নেই।” এর আগে গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানিয়েছিলেন, তেল আবিবে মার্কিন দূতাবাস ভবনের কাছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, মার্কিন কর্মীদের কোনো আঘাত লাগেনি এবং জেরুজালেম ও তেল আবিবে দেশটির দূতাবাস ও কনস্যুলেট এদিন বন্ধ থাকবে।

    ইরান গত শুক্রবার থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ সোমবার রাতভর জেরুজালেম, তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে তেহরান। ইরানের সর্বশেষ হামলায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

    ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না: যৌথ বিবৃতিতে জি৭

    কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত অর্থনৈতিক জোট জি৭ একটি যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতে ‘উত্তেজনা কমানোর’ আহ্বান জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

    কানাডায় ৫১তম শীর্ষ সম্মেলনের জন্য বৈঠকে থাকা জি-৭ দেশগুলো তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলের ‘আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। আরো বলা হয়েছে, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না’। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা নিশ্চিত করছি, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে স্পষ্ট করে বলেছি, ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।”

    “আমরা জোর দিয়ে বলছি যে, ইরানি সংকটের সমাধানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে শত্রুতা হ্রাস পাবে, যার মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতিও অন্তর্ভুক্ত।” মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে কানাডায় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন থেকে একদিন আগেই ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবিলম্বে তেহরান খালি করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

    ট্রাম্প তার মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে বলেছেন, “ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা উচিত ছিল। আমি তাদের চুক্তি স্বাক্ষর করতে বলেছিলাম। এটা লজ্জার, আর মানব জীবনের ক্ষতি। সাধারণভাবে বলছি: ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। আমি এটি বারবার বলেছি। সবাই জরুরিভিত্তিতে তেহরান খালি করে দিন।”

    ইসরায়েল-ইরান সংঘাত থামানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প: মাখোঁ

    ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাব দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। মঙ্গলবার (১৭ জুন) সিএনএন’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে মাখোঁ সাংবাদিকদের জানান, “এই প্রস্তাবটি আলোচনা শুরু করার জন্য।”

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফরাসি ভাষায় বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত থামাতে সক্ষম হয়, তা খুবই ভালো বিষয় এবং ফ্রান্স তা সমর্থন করবে এবং আমরা এ জন্য শুভকামনা জানাই।” তিনি আরো বলেন, “উভয় পক্ষেরই হামলা বন্ধ করা উচিত, বিশেষ করে নিরীহ জনসংখ্যার ওপর সমস্ত হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া জরুরি।” এ ধরনের কোনো হামলা কখনোই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে কানাডায় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন থেকে একদিন আগেই ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবিলম্বে তেহরান খালি করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান আমার প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে নিলে আজকের প্রাণহানি এড়ানো যেত। এটা দুঃখজনক ও অনর্থক প্রাণহানি। পরিষ্কার করে বলছি—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র গ্রহণ করতে পারে না। আমি বারবার এটা বলেছি!”

    তেহরান খালি করার ট্রাম্পের আহ্বান ‘ভয়ঙ্কর ও উদ্বেগজনক’

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘তেহরান খালি করার’ আহ্বানকে “ভয়াবহ ও চরমভাবে উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্ক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’-এর নির্বাহী সহসভাপতি ম্যাথিউ ডাস।

    তিনি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এটা আসলে ভয়াবহ। তেহরান একটি মহানগরী যেখানে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ বাস করে। এই বিশাল জনসংখ্যাকে হঠাৎ করে সরিয়ে নেওয়া এক কথায় অসম্ভব। তেলের সংকটের মধ্যে মানুষকে পায়ে হেঁটে পালাতে হবে- এটা এক ভয়ঙ্কর কল্পনা।”

    দুর্ভাগ্যবশত, ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বলছেন তা কতটা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত তা জানা কঠিন… তবুও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাষ্ট্রপতির এই ধরণের ভাষা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমাদের সকলের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত,” তিনি বলেন।

    ডাস আরো বলেন, “ট্রাম্প যা বলেন, তার কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া উচিত সেটা বোঝা কঠিন হলেও, এমন ভাষা একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে শোনা গভীর উদ্বেগের বিষয়। আমাদের সবার সতর্ক হওয়া উচিত।” এর আগে ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে বলেন, “সবাই এখনই তেহরান ছেড়ে চলে যাও!”

    ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে ট্রাম্প কেন এমন বিবৃতি দিলেন সেটি স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য হলো ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যেকোনো চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা, তার মনে যে চুক্তিই থাকুক না কেন।

    ‘ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র পাশে আছে’

    ইরানের গোপন পারমাণবিক স্থাপনা ‘ফোরদো’-তে হামলা চালানোর ক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইকেল হেরজোগ। তার এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।

    এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে হেরজোগ বলেন, “ফোরদো একটি গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই কেবল এমন বোমা আছে যা সেখানে আঘাত হানতে পারে।”  তিনি আরো বলেন, “ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রতিরোধে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।” ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাটি ইরানের একটি পাহাড়ি অঞ্চলে গভীরভাবে ভূগর্ভে অবস্থিত।  বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্তব্য ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে।

    এদিকে, ইরান এখনো বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মোসাদের সদর দপ্তরে আগুন

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মোসাদের সদর দপ্তরে আগুন

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেগুলোয় ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর সদরদপ্তরে আগুন দেখা যাচ্ছে।

    ইরানের রেভ্যলুউশনারি গার্ডকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থাটি বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে আক্রান্ত মোসাদ। সংবাদ সংস্থাটি টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে বলেছে, ‘সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স ফাইটাররা একটি কার্যকর অভিযানে সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্রে আঘাত করেছে।’

    মোসাদ কার্যালয়ে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি। এ সব বিষয়ে সরকারি যে বিধিনিষেধ আছে তাতে ইসরায়েলের সংবাদ মাধ্যম কিছু নির্দিষ্ট স্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে পারে না।

    ইসরায়েলি গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের শহর হার্জলিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। উপকূলীয় শহরটিতে অবস্থিত একটি ‘স্পর্শকাতর’ স্থান নিশানা করা এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ‘স্পর্শকাতর’ স্থান বলতে সাধারণত কোনো সামরিক বা কৌশলগত স্থানের ইঙ্গিত দেয়।

    গত শুক্রবার ইরানের ওপর এক নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাসহ পরমাণু বিজ্ঞানী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিহত হন। তেহরান দাবি করেছে, হামলায় ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। এরপর শনিবার রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছিল ইসরায়েল ও ইরান। এতে উভয় দেশেই বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সেদিনই ইরান মোট ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলে। অন্তত ২২টি এলাকায় আঘাত হেনেছে এই মিসাইল ও ড্রোন। এখনো দুই পক্ষা পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।  দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

  • ঢাকায় ভিসা কার্যক্রম ফের চালু করায় অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

    ঢাকায় ভিসা কার্যক্রম ফের চালু করায় অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

    এবিএনএ: ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রসেসিং কার্যক্রম পুনরায় চালু করায় দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই ধন্যবাদ জানান।

    হাইকমিশনার রাইল জানান, এখন থেকে ভিসা আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে। বর্তমানে ৬৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন এবং সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ হাজারের বেশি। সাক্ষাৎকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নির্বাচন, প্রশাসনিক সংস্কার ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

    জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“এই প্রথমবার জনগণ, বিশেষত তরুণ ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। আমি বিশ্বাস করি, এটি একটি উৎসবমুখর ও আশাব্যঞ্জক মুহূর্ত হবে।” নির্বাচনী সহায়তার অংশ হিসেবে ইউএনডিপির মাধ্যমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়া ২০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার দেবে বলে জানান হাইকমিশনার রাইল।

    দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে পৌঁছেছে, যা গত পাঁচ বছরে গড়ে বছরে ১৬.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাইল আরও জানান,“অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডসের মাধ্যমে তিন হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এখন অ্যালামনাই নেটওয়ার্কে যুক্ত, যারা দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছেন।”

    প্রফেসর ইউনূস এই বৃত্তির সংখ্যা আরও বাড়াতে অনুরোধ জানান। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,“বাংলাদেশে অবস্থানরত ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা আরও বাড়ানো জরুরি।” এর জবাবে হাইকমিশনার রাইল জানান, ২০১৭ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে ৫৫৩.৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মানবিক সহায়তা দিয়েছে এবং সম্প্রতি আরও ৯.৬ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি বলেন,“মিয়ানমারে পরিস্থিতি অনুকূল হলে, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে।”

    বাংলাদেশে নতুন দায়িত্ব পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাইল বলেন,“বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক গতিশীলতা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে আকৃষ্ট করেছে। এখানে এসে আমি সত্যিই রোমাঞ্চিত।” সাক্ষাতে সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম উপস্থিত ছিলেন।

  • কৌশল না সংঘাত? ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সন্ধিক্ষণ

    কৌশল না সংঘাত? ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সন্ধিক্ষণ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনো ইরানে ইসরায়েলের হামলায় জোরালো সমর্থন জানাচ্ছে, কখনো তিনি নিজের এই অবস্থান থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, আবার কিছু সময় পর আবারও সমর্থনে ফিরে আসছেন। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে তার এই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তার অবস্থানকে অস্পষ্ট করে তুলেছে। সংঘাত যতই বাড়ছে, ততই অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এসব হামলা ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করেই’ চালানো হয়েছে। তাহলে এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কী কী বিষয় বিবেচনায় নিচ্ছেন? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এখন তার সামনে কী কী বিকল্প পথ খোলা রয়েছে?

    ১. নেতানিয়াহুর চাপে নতি স্বীকার ও সংঘাত বাড়ানো
    গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েল যখন তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের হুমকি দেন, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ‘আরো ভয়ংকর’ হামলা আসবে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বোমায় সজ্জিত।

    নেতানিয়াহুর মতো তিনিও বলেন, ইরান পারমাণবিক বোমার মালিক হতে পারবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্প বলেছেন, তার পছন্দের পথ (নেতানিয়াহুর মতো না) হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি করা (এই পথটি তার নিজের দাবি করা ‘বিশ্বমানের চুক্তি-কারিগর’ ইমেজের সঙ্গেও যায়)। কিন্তু কিভাবে সেখানে পৌঁছতে হবে, সে বিষয়ে তিনি দ্বিধায় ভুগেছেন। কখনো শক্তির প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন, কখনো জোর দিয়েছেন কূটনীতির দিকে।

    গত সপ্তাহে তার এক বক্তব্যেও এই দ্বিধা ফুটে ওঠে। তিনি বলেছিলেন, ইরানের ওপর ইসরায়েলি হামলা হয়তো চুক্তিতে সাহায্য করবে, অথবা সেটা পুরো চুক্তিকেই ‘বিধ্বস্ত’ করে দেবে। তবে এই অনিশ্চয়তাপূর্ণ অবস্থান বা অস্থিরতাকে অনেক সময়ই ট্রাম্পের সমর্থকরা তার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

    এটাকে তারা বলছেন ‘ম্যাড ম্যান থিওরি’ বা কূটনীতির তথাকথিত ‘পাগল তত্ত্ব’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত অনিশ্চয়তা বা অপ্রত্যাশিত আচরণ প্রতিপক্ষকে (বা ট্রাম্পের ক্ষেত্রে, এমনকি মিত্রদেরও) বাধ্য করে একটি নির্দিষ্ট পথে আসতে। এই তত্ত্বটি মূলত প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের স্নায়ুযুদ্ধকালীন কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
    ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা ও সমর্থক ইরান ইস্যুতে এই ‘পাগল তত্ত্ব’ কৌশলের পক্ষে। তাদের বিশ্বাস, এসব হুমকিই শেষ পর্যন্ত সফল হবে। কারণ তারা মনে করেন, ইরান আসলে আলোচনায় আগ্রহী না (যদিও ২০১৫ সালে ওবামার নেতৃত্বে হওয়া একটি পরমাণুচুক্তিতে ইরান স্বাক্ষর করেছিল, যেটা ট্রাম্প পরে বাতিল করে দেন)।

    নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পকে সামরিক পথ বেছে নিতে চাপ দিয়ে আসছেন, কূটনৈতিক পথ নয়। আর ট্রাম্প শেষমেশ হয়তো ইরানের নেতৃত্বের প্রতি তার আগ্রাসী হুমকিগুলোকেই বাস্তবায়নের দিকে এগোবেন। যদিও তিনি বহুবার নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

    ইসরায়েল গোপনে আরো জোরালোভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়াতে চাইতে পারে, যেন তারা মনে করে কাজটা যেন দ্রুত শেষ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন বাংকারবিধ্বংসী বোমা আছে, যা ইরানের ফরদোতে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ধ্বংস করতে পারে বলে ইসরায়েলের বিশ্বাস।

    এদিকে যতই সংঘর্ষ বাড়ছে, ততই কংগ্রেসের রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে, যারা বহুদিন ধরেই ইরানে সরকার পরিবর্তনের ডাক দিয়ে আসছেন।

    ট্রাম্প হয়তো এটাও ভাবছেন, এতে ইরান দুর্বল অবস্থায় আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে। কিন্তু সত্য হলো, ইরান ইতিমধ্যে আলোচনার টেবিলে ছিল, কারণ তার দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ওমানে রবিবার ষষ্ঠ দফা আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন সেই আলোচনাও বাতিল হয়ে গেছে।

    ২. মধ্যপন্থা
    এখন পর্যন্ত ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত নয়। তবে সংঘাত বাড়লে সেটি ট্রাম্পের জন্য বড় ঝুঁকি নিয়ে আসতে পারে, এমনকি তা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও স্থলভিত্তিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে সহায়তা করছে।

    ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কিছু উপদেষ্টা হয়তো তাকে সতর্ক করছেন, এই মুহূর্তে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য, যা ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলাকে আরো তীব্র করে তুলতে পারে। কারণ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে প্রাণঘাতী হামলা করেছে।

    নেতানিয়াহু এখন বলছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর হামলা চালালে সেটা সংঘাত বাড়াবে না, বরং সংঘাতের শেষটা এখানেই। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা কিছু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি এমন হামলার বিপক্ষে।

    ৩. সমর্থকদের চাপ ও পেছনে সরে আসা ট্রাম্পের মনে যেসব বড় রাজনৈতিক বিষয় ঘুরপাক খাচ্ছে, তার একটি হলো তার দেশের অভ্যন্তরীণ সমর্থন। কংগ্রেসের বেশির ভাগ রিপাবলিকান সদস্য এখনো ইসরায়েলকে জোরালোভাবে সমর্থন করেন, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে যাওয়া। এদের অনেকেই প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলাকে সমর্থন করেছেন।

    কিন্তু ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের ভেতরে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর উঠে এসেছে, যারা এখন এই ‘লোহার মতো শক্ত’ ইসরায়েলকে সমর্থনকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে। গত কয়েক দিনে তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মতো ঝুঁকি কেন নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

    ট্রাম্পপন্থী সাংবাদিক টাকার কার্লসন শুক্রবার কড়া সমালোচনা করে লিখেছেন, প্রশাসনের দাবি, তারা যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু তা সত্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত, ইসরায়েলকে নিজের মতো করে ছেড়ে দেওয়া। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ও তার ‘যুদ্ধপিপাসু সরকার’ এমনভাবে কাজ করছে, যাতে মার্কিন সেনারা বাধ্য হয়ে তাদের হয়ে যুদ্ধ করতে নামে।

    কার্লসন লেখেন, ‘এই যুদ্ধে জড়ানো মানে হবে, যেসব কোটি কোটি ভোটার আশা করেছিলেন, একটি সরকার আসবে যারা সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দেবে, তাদের মুখের ওপর মাঝের আঙুল দেখানো।’ ঠিক একইভাবে, ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন সোশ্যাল হ্যান্ডল এক্সে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘যারা যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের পুরোপুরি অংশ বানাতে চায়, তারা আমেরিকা ফার্স্ট বা মাগা আদর্শের নয়।’

    এটি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় দুর্বলতার দিক প্রকাশ করে। এতে তার ওপর চাপ বাড়ে ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক নীতির থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার। আর কিছু কিছু প্রকাশ্য মন্তব্যে দেখাও যাচ্ছে, ট্রাম্প এই চাপের প্রতি সাড়া দিচ্ছেন।

  • নগরভবনে সভা করলেন ইশরাক, নামের সঙ্গে ‘মাননীয় মেয়র’

    নগরভবনে সভা করলেন ইশরাক, নামের সঙ্গে ‘মাননীয় মেয়র’

    শপথ গ্রহণ না করেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে সংবর্ধনা পেয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। ঈদের ছুটির পর আজ সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় তাকে সংবর্ধনা দেন করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

    সোমবার সকাল ১১টার দিকে নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে উপস্থিত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পক্ষ থেকে করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইশরাককে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন বিএনপি নেতা ইশরাক। নগরভবনে এটিই তার প্রথম সভা। সভার ব্যানারে তার নামের শেষে ‘মাননীয় মেয়র, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন’ লেখা ছিল। পরিচ্ছন্ন ঢাকা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতকল্পে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। সভায় ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে সম্মোধন করেন কর্মকর্তারা।

    অন্যদিকে ইশরাকের শপথের দাবিতে নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা। তাদের কর্মসূচির কারণে সকাল থেকে নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। ভেতরে বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়েক ভাগে ভাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

  • তেহরানের ‘পুরো আকাশ’ দখলে নেওয়ার দাবি ইসরায়েলের

    তেহরানের ‘পুরো আকাশ’ দখলে নেওয়ার দাবি ইসরায়েলের

    এবিএনএ:

    ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশসীমা নিজেদের দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন দাবি করেছেন, তারা তেহরানের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে।

    এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইরান সরকারের এক তৃতীয়াংশ মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করে ফেলেছি।’ গত শুক্রবার ইরানের ওপর এক নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাসহ পরমাণু বিজ্ঞানী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিহত হন। তেহরান দাবি করেছে, হামলায় ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছে।

    এরপর শনিবার রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছিল ইসরায়েল ও ইরান। এতে উভয় দেশেই বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, ইরান মোট ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলে। অন্তত ২২টি এলাকায় আঘাত হেনেছে এই মিসাইল ও ড্রোন। ১৩ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৩৮০ জন ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছে। তাদের দাবি, হতাহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।