ইরানে সরকার বদলের পরিকল্পনায় কড়া বার্তা চীনের: ‘জনসমর্থন মিলবে না, সংঘাত আরও বাড়বে’

এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটিতে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, বাইরের শক্তির মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা বদলানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে না এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও গভীর হতে পারে।

রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক বার্ষিক সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, কোনো ধরনের ‘কালার রেভল্যুশন’ বা পরিকল্পিত শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা জনগণের সমর্থন অর্জন করতে পারবে না। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।

ওয়াং ই বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তার মতে, এই যুদ্ধের কোনো ইতিবাচক ফল নেই এবং শক্তি প্রয়োগ করে স্থায়ী সমাধানও সম্ভব নয়। বরং সামরিক সংঘাত মানুষের মধ্যে ঘৃণা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের জন্ম দেয়।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার এই অঞ্চলের মানুষেরই থাকা উচিত। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শক্তিশালী হওয়া মানেই যে সব সময় সঠিক হওয়া—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বিশ্বকে আবার ‘জঙ্গলের আইনের’ দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে শক্তিই সবকিছু নির্ধারণ করে। বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধের সমাধান খোঁজা প্রয়োজন।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েও ইরানের বর্তমান সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে না।

এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এতটাই দৃঢ় যে বাহ্যিক হামলার মাধ্যমে তা দ্রুত ভেঙে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়ন সেই দাবির বাস্তবতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই হত্যার ঘটনায়ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে চীনের কৌশলগত সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন ওয়াং ই।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি সব পক্ষকে দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *