পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণে ট্রাম্পের ‘না’—ইসরায়েলের পরিকল্পনায় হোয়াইট হাউসের অস্বস্তি
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বাড়ানোকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর।


এবিএনএ: ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এলাকায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বসতি সম্প্রসারণ ও দখলদারিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তির পথে বাধা তৈরি করতে পারে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের মতে, ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পশ্চিম তীরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। দখলদারিত্ব বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা দুর্বল হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার হচ্ছে অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পরিবেশ গড়ে তোলা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের গতি বেড়েছে। গত কয়েক বছরে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার নতুন আবাসন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার কয়েকটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি নেতাদের নেতৃত্বে পশ্চিম তীরে বসতকারীর সংখ্যা বাড়ানো ও নতুন আবাসন প্রকল্প নেওয়ার ঘোষণা আসে। এসব ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা জোরালো হয়। মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে।
বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে জানায়, পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের ফলে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়বে, বহু ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এই আটটি দেশ ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত গাজা বোর্ড অব পিসের সদস্য বলেও উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক এই প্রতিক্রিয়ার পরই পশ্চিম তীর ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।




