Tag: আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

  • ইরানে হামলা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিদ্রোহী সুর: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বললেন সিনেটর

    ইরানে হামলা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিদ্রোহী সুর: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বললেন সিনেটর

    এবিএনএ: ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে. মার্কি এই অভিযানের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া নেওয়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী।

    এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং বড় পরিসরের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে, সামরিক উত্তেজনা বাড়ালে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকুচিত হয়।

    সিনেটর মার্কি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভয়াবহতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ পর্যায় থেকেও স্বীকার করা হয়েছে যে তেহরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়াচ্ছে না। তাই সংঘাতের পথে না গিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার সুযোগ এখনও রয়েছে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকট নতুন কোনো যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে—যা মার্কিন জনগণ চায় না। তাঁর ভাষায়, বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে তরুণদের পাঠানো এবং দেশে স্বাস্থ্যসেবা সংকটে থাকা পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে যায় না।

    প্রসঙ্গত, শনিবার ভোরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযানের পর তেহরানও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। সংঘাতের এই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি উঠছে।

  • পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণে ট্রাম্পের ‘না’—ইসরায়েলের পরিকল্পনায় হোয়াইট হাউসের অস্বস্তি

    পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণে ট্রাম্পের ‘না’—ইসরায়েলের পরিকল্পনায় হোয়াইট হাউসের অস্বস্তি

    এবিএনএ: ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এলাকায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বসতি সম্প্রসারণ ও দখলদারিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তির পথে বাধা তৈরি করতে পারে।

    হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের মতে, ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পশ্চিম তীরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। দখলদারিত্ব বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা দুর্বল হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার হচ্ছে অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পরিবেশ গড়ে তোলা।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের গতি বেড়েছে। গত কয়েক বছরে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার নতুন আবাসন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার কয়েকটির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি নেতাদের নেতৃত্বে পশ্চিম তীরে বসতকারীর সংখ্যা বাড়ানো ও নতুন আবাসন প্রকল্প নেওয়ার ঘোষণা আসে। এসব ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা জোরালো হয়। মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে।

    বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে জানায়, পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের ফলে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়বে, বহু ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এই আটটি দেশ ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত গাজা বোর্ড অব পিসের সদস্য বলেও উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক এই প্রতিক্রিয়ার পরই পশ্চিম তীর ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

  • ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নড়েচড়ে ওঠলো যখন শুক্রবার হামাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া গাজার বিষয়ক প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত পোষণ করার খবর দিল। তারা কিছু শর্তে প্রস্তাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা মেনে নিয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    ট্রাম্প নিজেই হামাসের ওই বিবৃতি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন হামাস স্থায়ী শান্তির পথে এগোতে চায় এবং ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, যেন জিম্মিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। তার আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়ে।

    ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অন্যান্য পশ্চিম ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা এই অগ্রগতি স্বাগত জানিয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান, কাতার ও মিসরের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে — এখনই যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই প্রতিক্রিয়াকে উৎসাহজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সব পক্ষকে পরিস্থিতি শান্তিভাবেই এগোতে অনুরোধ করেছেন। ইউরোপীয় নেতারা—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও সংঘবদ্ধ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা ব্যক্ত করেছে যে, এটি জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির পথে একটি বড় ধাপ হতে পারে।

    তবে অনেকে সতর্কও: হামাসের সাড়া পুরো ব্যাপারকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে না—কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও আলোচনার বাইরে আছে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা দাবি, গাজার ভবিষ্যত প্রশাসন ও অস্ত্রবিরতি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ফলে বাস্তব কাজে যাওয়ার আগে আরও কড়া ব্যাকচেক ও মধ্যস্থতাকারী সংলাপ প্রয়োজন।

    প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল; তাই দ্রুত কিভাবে এগোতে হবে, কোন পর্যায়ে দুপক্ষ সাক্ষর করবে এবং জিম্মিদের মুক্তির পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—এসব প্রশ্ন এখনো ঝুলে আছে। সরাসরি প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসাবে ইসরায়েল কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে শুরু করেছে বলে খবর এসেছে।

  • উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা: পাশে থাকার অঙ্গীকার

    উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা: পাশে থাকার অঙ্গীকার

    এবিএনএ:  ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং ১৬৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক শোকবার্তায় জানান, ঢাকায় যে বেদনাদায়ক বিমান দুর্ঘটনায় বহু তরুণ শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (পূর্বে টুইটার) -এ তিনি লিখেছেন, “এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশবাসীর প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ভারত বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সবধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

    ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও একই বার্তার সত্যতা নিশ্চিত করে একটি ফেসবুক পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে।

    এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় বলা হয়, “মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা জাতীয়ভাবে এক গভীর শোকের মুহূর্ত। এতে বিমানসেনা ও শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ অনেকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।”

    প্রধান উপদেষ্টা আহতদের সুস্থতা কামনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন।

    এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেশের প্রতিটি স্তরকে নাড়া দিয়েছে। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন মহল।

    এখন সকলের একটাই প্রত্যাশা—এই ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়।