Tag: রাজনীতি

  • নির্বাচনী ঐক্য ভেঙে একক পথে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, ২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

    নির্বাচনী ঐক্য ভেঙে একক পথে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, ২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট রাজনীতি থেকে সরে এসে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও আসন সমঝোতার টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ঐক্য ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

    শুক্রবার রাজধানীতে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানান, দলটি ইতোমধ্যে ২৬৮টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বাকি ৩২টি আসনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানানো হবে।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবেই অংশ নেবে।”

    এর আগে আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের জেরে ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়েই জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১০টি রাজনৈতিক দল ২৫৩টি আসনে নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের জন্য আলাদা চেয়ার রাখা হলেও দলটির কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

    একই দিনে দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং রাতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনও বর্জন করে ইসলামী আন্দোলন। যদিও ওই সমঝোতায় দলটির জন্য পাঁচটি উন্মুক্ত আসনসহ মোট ৪৭টি আসন প্রস্তাব করা হয়েছিল।

    রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত জোটে না থাকায় উন্মুক্ত রাখা আসনগুলোতে জামায়াত তাদের নিজস্ব প্রার্থী দেবে। এ অবস্থায় একক নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি।

  • চাঁদাবাজি করলে বিএনপিতে ঠাঁই নেই : আমির খসরু

    চাঁদাবাজি করলে বিএনপিতে ঠাঁই নেই : আমির খসরু

    এবিএনএ: বিএনপি কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা সহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিএনপির রাজনীতি শান্তি, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। যারা চাঁদাবাজি কিংবা মাস্তানির সঙ্গে জড়িত, তাদের এখনই দল ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড (উত্তর পতেঙ্গা) বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমির খসরু।

    দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকারের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি কখনো নীতিগত প্রশ্নে আপস করেননি।

    দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়ে গেছে। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে অর্থনীতিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে উন্নয়নের সুফল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অর্থপাচার কিংবা বড় প্রকল্পের নামে দুর্নীতির রাজনীতি হবে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি করবে দলটি।

    চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের ভেতরে এসব অপকর্মের কোনো জায়গা নেই। কেউ যদি এসব কাজে জড়িত থাকে, তাহলে সময় থাকতে শুধরে যেতে হবে; নচেৎ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের লোক দল ছাড়লেও বিএনপির জনপ্রিয়তা বা নির্বাচনী সাফল্যে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সভায় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ বিতর্ক: প্রতীকের অবস্থান নিয়ে যা জানাল নির্বাচন কমিশন

    পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ বিতর্ক: প্রতীকের অবস্থান নিয়ে যা জানাল নির্বাচন কমিশন

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর অবস্থান নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যালট পেপার ছাপানোর ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ক্রমধারাই অনুসরণ করা হয়েছে।

    বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, কমিশনের কাছে যে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা অনুযায়ীই পোস্টাল ব্যালটে দল ও প্রতীকগুলো সাজানো হয়েছে।

    এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ধানের শীষ প্রতীকটি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যালটের মাঝামাঝি স্থানে রাখা হয়েছে। দলটির নেতাদের দাবি, ব্যালট ভাঁজ করলে এই প্রতীক অনেক সময় ভোটারের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। এ কারণে বিদেশে পাঠানো হয়নি—এমন পোস্টাল ব্যালট সংশোধনের দাবিও তোলে বিএনপি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, পোস্টাল ব্যালট পুনর্মুদ্রণ বা সংশোধনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। কমিশনের সভায় আলোচনা করেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এই বিতর্ককে ঘিরে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • নির্বাচনের মাঠে বিএনপি: গুলশানে চালু হলো দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিস

    নির্বাচনের মাঠে বিএনপি: গুলশানে চালু হলো দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিস

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে নতুন ধাপ যোগ করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনী কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিচালনার জন্য রাজধানীতে আলাদা একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিস চালু করেছে দলটি।

    শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কে অবস্থিত ১০/সি নম্বর ভবনে ফিতা কেটে এই অফিসের উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুহুল কবির রিজভী জানান, বিএনপির গঠিত নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটির সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম এই অফিস থেকেই পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, আর সেই কাজকে আরও কার্যকর ও সংগঠিত করতেই এই পৃথক কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

    রিজভী আরও জানান, নির্বাচনী যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার্থে অফিসে একটি কল সেন্টারও চালু করা হয়েছে, যা দলীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।

  • ঋণখেলাপির ছায়া নির্বাচনেও: আদালতের আদেশে টিকে গেলেন ৩১ প্রার্থী, অর্ধেক বিএনপির

    ঋণখেলাপির ছায়া নির্বাচনেও: আদালতের আদেশে টিকে গেলেন ৩১ প্রার্থী, অর্ধেক বিএনপির

    এবিএনএ: ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে ১৫ জনই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র রয়েছেন ১১ জন এবং বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে এসব প্রার্থী ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও আদালতের আদেশের কারণে তারা প্রার্থী তালিকায় টিকে যান। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের দায়ে তারা খেলাপি হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

    এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে শুধু ঋণখেলাপির কারণেই ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৮ জন, বিএনপির তিনজন এবং জামায়াতে ইসলামীর দুজন রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জেএসডি ও এলডিপিসহ একাধিক দলের প্রার্থীরাও বাদ পড়েছেন।

    গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৯টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ ও অবৈধ—উভয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও খেলাপির তথ্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আদালতের আদেশে টিকে যাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপিল নিষ্পত্তির পর জানা যাবে। তবে ঋণখেলাপি ইস্যুতে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন যাচাইয়ে কড়াকড়ি স্পষ্টভাবেই চোখে পড়ছে।

  • ভোটার স্বাক্ষরের গরমিলেই বড় ধাক্কা: চট্টগ্রাম ও ফেনীতে বাতিল ৫৩ প্রার্থীর মনোনয়ন

    ভোটার স্বাক্ষরের গরমিলেই বড় ধাক্কা: চট্টগ্রাম ও ফেনীতে বাতিল ৫৩ প্রার্থীর মনোনয়ন

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৫৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীই রয়েছেন ২২ জন। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংবলিত সমর্থন তালিকায় গরমিল পাওয়ায় এসব মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্রসহ মোট ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। চার দিনব্যাপী যাচাই শেষে ৪১ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কয়েকটি আসনে ভোটার তালিকার তথ্য মিল না পাওয়া ছাড়াও ঋণখেলাপি ও দলীয় মনোনয়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণেও প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

    চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলার মনোনয়ন বাতিল হয় ঋণখেলাপি হওয়ায়। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে অসংগতি ধরা পড়ায় তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একই কারণে চট্টগ্রামের একাধিক আসনে আরও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রার্থিতা হারান।

    এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই প্রার্থী হওয়া এবং প্রস্তাবকের স্বাক্ষরসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের আলী আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কয়েকটি আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এবং ভোটার স্বাক্ষরের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় আরও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়।

    চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আপিল করার সুযোগ পাবেন। আগামী ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করা হবে এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে।

    ফেনী জেলার তিনটি আসনেও একই ধরনের কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ফেনী-১, ফেনী-২ ও ফেনী-৩ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর নথি দাখিল না করা, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংক্রান্ত গরমিল প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

    ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হকের তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে আপিল করলে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিষয় পুনরায় বিবেচনা করা হবে।

  • মার্কিন অভিযানের প্রশংসা করে চমকপ্রদ মন্তব্য মাচাদোর, ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়ার দাবি

    মার্কিন অভিযানের প্রশংসা করে চমকপ্রদ মন্তব্য মাচাদোর, ট্রাম্পকে নোবেল দেওয়ার দাবি

    এবিএনএ: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই আলোচনায় রয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। সম্প্রতি একটি মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য।

    ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মাচাদো জানান, গত অক্টোবরে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি সেটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, “তখনই আমি বিশ্বাস করেছিলাম, তিনি এই পুরস্কারের উপযুক্ত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে।”

    ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনাকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন মাচাদো। তিনি বলেন, “৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে একটি অনন্য দিন হয়ে থাকবে। এটি শুধু আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য নয়, বরং মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষেও গুরুত্বপূর্ণ।”

    নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মাচাদোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে একত্র করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন।

    তবে মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাধিক দেশ এই ঘটনাকে আগ্রাসন, বলপ্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাচাদোর প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়। পরে তিনি বিরোধী জোটের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়াকে সমর্থন দেন। নোবেল পাওয়ার পর মাদুরো তাঁকে কটাক্ষ করে ‘ডাইনি’ বলেও আখ্যা দেন।

    ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ট্রাম্প একাধিকবার মন্তব্য করেছিলেন, মাদুরোর ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।

    এদিকে, মাচাদো কবে ভেনেজুয়েলায় ফিরবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডেলসি রদ্রিগেজ। শপথগ্রহণের পর তিনি মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

  • একাত্তরের চেতনা ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না: তারেক রহমান

    একাত্তরের চেতনা ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না: তারেক রহমান

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। একাত্তরের ইতিহাস ও চেতনাকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশে যে নতুন বাস্তবতা ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সরকার ও বিরোধী দলসহ সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। একই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

    বৈঠক শেষে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের মূল ভিত্তি—এই চেতনাকে ধারণ করেই নব্বই ও সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথে এগোতে হবে।

  • মান্না, হামিদুর, টিএস আইয়ুবসহ ৮৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল

    মান্না, হামিদুর, টিএস আইয়ুবসহ ৮৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), যা আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এরপর আপিল দাখিল ও নিষ্পত্তি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন যাচাইয়ের কাজ অব্যাহত ছিল। এদিন বিভিন্ন আসনে যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৮৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি হলো—বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ুব এবং কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ ছাড়া দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির আরও আটজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    হলফনামায় ভুল ও অসংগতি, তথ্যে গরমিল, ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, মামলা সংক্রান্ত জটিলতা এবং ঋণখেলাপির অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

    চট্টগ্রাম: তিনটি আসনে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকী, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (জাকের) মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যা। এর মধ্যে এরশাদ উল্যা নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার, আহমদ কবির, খেলাফত মজলিসের আফরাফ বিন ইয়াকুব এবং গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসানের। চট্টগ্রাম- ৩ (সন্দ্বীপ) আসনে জাতীয় পার্টির এমএ ছালাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াহেদুল মাওলা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    বগুড়া: জেলার তিনটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান। এর মধ্যে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে দুইজন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে চারজন এবং বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্য গরমিল থাকায় বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার।

    জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকতা জানান, হলফনামায় নোটারি পাবলিকের আইনজীবীর স্বাক্ষর ছিল ২৮ তারিখ কিন্তু প্রার্থী হিসেবে মান্নার স্বাক্ষর ছিল ২৯ তারিখে। তাতে প্রতীয়মান হয়েছে প্রার্থী নোটারি পাবলিকের সামনে স্বাক্ষর করেননি। স্বাক্ষর করার নিয়ম নোটারি পাবলিকের সামনে। তবে ‌আপিল করার সুযোগ আছে বলেও তিনি জানান।

    বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অন্য প্রার্থীরা হলেন– জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার ও স্বতন্ত্র রেজাউল করিম তালু।

    বগুড়া-১ আসনে মোট সাত প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তারা হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এবিএম মোস্তফা কামাল পাশা। বগুড়া-৩ আসনে মোট পাঁচ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শাহজাহান আলী তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    যশোর: জেলার আরও দুটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে যশোর-৩ (সদর) আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নিজাম উদ্দিন অমিতের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যশোর-৪ আসনে (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুব, দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

    বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুবের নামে ঢাকা ব্যাংকে খেলাপি ঋণ রয়েছে। তাই তাঁর প্রার্থিতা গ্রহণ না করতে সম্প্রতি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দেয় ব্যাংক।

    কক্সবাজার: কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী সাত প্রার্থীর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল প্রার্থীরা হলেন– জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মওলা। এর মধ্যে একটি মামলার যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

    এ ছাড়া কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরওয়ার আলম কুতুবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

    কুমিল্লা : জেলার ছয়টি আসনে ১৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– কুমিল্লা-১ আসনে জাতীয় পার্টির সৈয়দ ইফতেকার আহসান, জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর ফারুক, কাজী ওবায়েদ ও আবু জায়েদ আল মাহমুদ। কুমিল্লা-২ আসনে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আব্দুস সালাম, কল্যাণ পার্টির মো. শাহাব উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী রমিজ উদ্দিন ও মনোয়ার হোসেন। কুমিল্লা-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইউসুফ সোহেল ও গণঅধিকার পরিষদের মো. মনিরুজ্জামানের। কুমিল্লা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল করিম এবং খেলাফত মজলিসের মোফাজ্জল হোসেন। কুমিল্লা-৫ আসনে সিপিবির আবদুল্লাহ আল কাফি। কুমিল্লা-৬ আসনে বাসদের কামরুন নাহার সাথী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুনুর রশিদ।

    গাইবান্ধা: পাঁচটির মধ্যে দুটি আসনের আট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল প্রার্থীরা হলেন– গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা আক্তার, মোস্তফা মহসিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রমজান আলী ও জাতীয় পার্টির মাহফুজুল হক সরদার। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে সিপিবির প্রার্থী মিহির কুমার ঘোষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল মাজেদ ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম গোলাম আযম।

    মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী দলের জেলা কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন, সিপিবির শ ম কামাল হোসেন, লেবার পার্টির আনিছ মোল্লা ও খেলাফত মজলিসের নুর হোসাইন নুরানী।

    বরিশাল: তিনটি আসনে দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন– বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনে খেলাফত মজলিসের এ কে এম মাহবুব আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া বরিশাল-৫ আসনে বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্তী ও বরিশাল-৬ আসনে মুসলিগ লীগের আব্দুল কুদ্দুসের মনোনয়পত্র স্থগিত হয়েছে।

    খুলনা: জেলার দুটি আসনে জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থীসহ আরও তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– খুলনা-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আরা পারভীন (ইয়াসিন), খুলনা-৬ আসনে একই দলের প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল বিশ্বাস।

    কুড়িগ্রাম:  জেলার চারটি আসনের দুটিতে গতকাল এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও একজনের স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে মনোনয়নপত্র স্থগিত হয়েছে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলমের। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল খালেকের।

    পাবনা: পাবনা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির দুই বিদ্রোহী নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন খায়রুন নাহার খানম মিরু ও হাজি ইউনুস আলী। এদিকে গতকাল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের প্রস্তাবক ও সাঁথিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মিরাজুল ইসলাম প্রামাণিককে ডিবি আটক করেছে। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এই অভিযোগ করেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    রংপুর: জেলার দুটি আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান, বাসদের আনোয়ারুল ইসলাম বাবলু ও খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডলের। রংপুর-৪ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– স্বতন্ত্র শাহ্‌ আলম বাশার, জয়নুল আবেদিন ও জাতীয় পার্টির (আনিস-রুহুল) আব্দুস ছালাম।
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ছয়টির মধ্যে তিনটি আসনে ছয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন– ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে হাবিবুর রহমান ও নজরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান ও মো. কাজী জাহাঙ্গীর।

    টাঙ্গাইল: আটটির মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তারা হলেন– টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোন্তাজ আলী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হারুন অর রশীদ। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোয়ার হোসেন সাগর, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে স্বতন্ত্র আইরিন নাহার ও শাহজাহান মিয়া, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আমজাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম তালুকদার ও মো. আব্দুল হালিম মিঞা।

  • খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র, মানুষের ভালোবাসার শক্ত বার্তা দেখছে বিএনপি

    খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র, মানুষের ভালোবাসার শক্ত বার্তা দেখছে বিএনপি

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতিকে দেশের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জানাজায় মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের ভবনের ছাদ পর্যন্ত মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে—খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। নীতি, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে খালেদা জিয়া আজীবন সংগ্রাম করেছেন, কারাবরণ করেছেন, দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্যেও দেশ ছেড়ে যাননি। দেশের মাটি, মানুষ ও স্বাধীনতার প্রতি তার ভালোবাসাই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের এই সংকটময় সময়ে তার প্রয়াণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক তৈরি করেছে। তাই তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় জানাজায় মানুষের চোখে জল দেখা গেছে। এই আবেগই প্রমাণ করে, খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন—তিনি ছিলেন মানুষের আস্থার প্রতীক।

    বিএনপি মহাসচিবের মতে, খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শ বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনকে তিনি যেভাবে ধারণ করেছিলেন, সেই পথ ধরেই তারেক রহমান নেতৃত্ব দেবেন—এমন প্রত্যাশা মানুষের।

    আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি দলকে দুর্বল করবে না; বরং মানুষের ভালোবাসা ও আবেগ বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।