Tag: রাজনীতি

  • নির্বাচনের আগে আইন পাসের তাড়াহুড়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা

    নির্বাচনের আগে আইন পাসের তাড়াহুড়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আইন তড়িঘড়ি করে পাসের উদ্যোগ সরকারের ভিন্ন উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মনে করেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন কোনো গণম্যান্ডেট ছাড়াই পাস করা হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ধারার অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে।

    শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে আমরা তথ্য পেয়েছি যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন এবং এনজিও সংক্রান্ত একটি আইন দ্রুত পাস করাতে চাচ্ছে। এই আইনের পেছনে সরকারের এমন একটি উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা আদতে গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করবে।

    বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, “জনগণের অনুমতি এবং মতামত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক আইন পাস করা কখনোই সমীচীন হতে পারে না। আমরা মনে করি, এসব আইন পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদে যথাযথ যুক্তিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে প্রণয়ন করাই যথাযথ হবে।”

    তিনি সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন অগণতান্ত্রিক ও তাড়াহুড়োপূর্ণ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য, কারণ এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রস্তুতি: ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা নিশ্চিত করল ইসি

    স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রস্তুতি: ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা নিশ্চিত করল ইসি

    এবিএনএ:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই ঘোষণা করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে তিনি এ তথ্য জানান।

    ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “এবারের জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কেউ যদি বিচ্যুতি ঘটানোর চেষ্টা করে, তাকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্ভুল করতে পর্যবেক্ষকদের আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

    পর্যবেক্ষকদের সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা পক্ষপাতিত্ব করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তফসিল ঘোষণার ১০ দিনের মধ্যে পর্যবেক্ষক সংস্থার তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। ভুয়া পর্যবেক্ষক চিহ্নিত করতে এবার প্রথমবারের মতো পরিচয়পত্রে কিউআর কোড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে তিনি জানান, বিদেশি কেউ দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের হয়ে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে না। তাদের নিজস্ব আইন ও নিয়ম মেনে বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে অনুমোদন নিতে হবে।

    সংলাপে উপস্থিত পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রে নিরাপদ প্রবেশের নিশ্চয়তা, ভোটের তিন দিন আগে পরিচয়পত্র সরবরাহ, পোস্টাল ব্যালট পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

    সবশেষে নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, সকল প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও কঠোর নজরদারিতে সম্পন্ন করা হবে, যেন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়।

  • অস্থিরতার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা ছিলেন মওদুদ আহমদ: মির্জা ফখরুলের আবেগঘন স্মৃতিচারণ

    অস্থিরতার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা ছিলেন মওদুদ আহমদ: মির্জা ফখরুলের আবেগঘন স্মৃতিচারণ

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমরা এখন এমন এক অস্থিরতার মধ্যে বাস করছি, যেখানে মানুষের আশা ও গণতন্ত্রের পথ প্রায় অন্ধকারে ঢাকা।” তিনি জানান, এই অনিশ্চয়তার সময়টিতে যে ক’জন মানুষ দেশের জন্য সত্যিকারের দিকনির্দেশনা দিতে পারতেন, তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ছিলেন অন্যতম। তাঁর কণ্ঠে দুঃখের সুর—“খুব আফসোস হয়, তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন দেখে যেতে পারেননি, যা তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা করেছিলেন।”

    মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ রচিত নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    তিনি বলেন, “মওদুদ আহমদ শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, ছিলেন ইতিহাসের একজন গভীর পর্যবেক্ষক। আন্তরিকভাবে ইতিহাসচর্চা ও সত্যিকারের রাজনৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন এক অনন্য প্রজ্ঞাবান ও বহুমাত্রিক গণতান্ত্রিক ব্যক্তিত্ব।”

    স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফখরুল বলেন, “২০১২ সালে আমরা ১৭ জন যখন প্রথমবারের মতো কারাবন্দি হলাম, তখন দেখলাম ব্যারিস্টার মওদুদ খুব দ্রুত ডিভিশন সেলের দিকে যাচ্ছেন। জানতে পারলাম, তিনি রুম নাম্বার ওয়ানে গিয়ে লিখতে বসবেন। কারাগারে তিনি ভোর থেকে রাত পর্যন্ত লিখতেন, শুধু খাবারের সময় একটু উঠতেন। তাঁর লেখালেখির প্রতি যে নিষ্ঠা ছিল, তা সত্যিই অনুকরণীয়।”

    অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাসহ দেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের অবদান, তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে কথা বলেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আপস নয়, জনগণের সরকার গঠনের প্রত্যয় মির্জা ফখরুলের

    স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আপস নয়, জনগণের সরকার গঠনের প্রত্যয় মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া যাবে না— এমন দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, জাতির অস্তিত্ব রক্ষার এই প্রশ্নে বিএনপি কখনোই আপস করবে না।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়ে এ বক্তব্য দেন তিনি।

    নির্ধারিত প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জরুরি কারণে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি বিএনপি মহাসচিব।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। আমরা যেকোনো মূল্যে এই মর্যাদা রক্ষা করব। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।”

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষের ভোট ও মতের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।”

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক। তিনি একদলীয় শাসনের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়।”

  • জুলাই সনদের দাবিতে জামায়াতসহ ৮ দলের বৈঠক: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত

    জুলাই সনদের দাবিতে জামায়াতসহ ৮ দলের বৈঠক: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছে জামায়াতসহ আট দলীয় জোট। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি বা গণভোটের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না আসায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা নেয় দলগুলো।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হবে, যেখানে জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি এবং নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানানো হবে। তবে সেই আলোচনায় ইতিবাচক ফল না এলে আট দলের জোট কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

    নেতারা বলেন, জুলাই সনদের দাবিতে জনগণের প্রত্যাশা রক্ষায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, তবে সরকারের নীরবতা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী পদক্ষেপ আরও কঠোর হবে।

  • ১৩ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ: কী জানালেন সচিব

    ১৩ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ: কী জানালেন সচিব

    এবিএনএ:  নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে। ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই সংলাপ শুরু হবে।

    মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা ১৩ নভেম্বর থেকে সংলাপ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোন দলকে আগে আমন্ত্রণ জানানো হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা করে ধাপে ধাপে জানানো হবে।’

    ইসি সচিব আরও জানান, কমিশন চায় নভেম্বর মাসের মধ্যেই সব দলের সঙ্গে মতবিনিময় সম্পন্ন করতে, যাতে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া যায়।

    জাতীয় পার্টিকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হয়নি। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

    একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের দাবিদার দুই পক্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’

  • চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলা: দ্রুত গ্রেফতারের দাবি মির্জা ফখরুলের

    চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলা: দ্রুত গ্রেফতারের দাবি মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালীন দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে নগরীর হামজারবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, এ সময় আরও একজন যুবকও গুলিবিদ্ধ হন।

    এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রার্থীর ওপর এই ধরনের হামলা গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করার অপচেষ্টা।” তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

    বুধবার সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি সমর্থকদের সঙ্গে গণসংযোগে ছিলেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম জানান, “আমরা হামলার খবর পেয়েছি, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”

    উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এরশাদ উল্লাহর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার মাত্র দুই দিন পরই তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটল, যা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

  • চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ, সহযাত্রী নিহত—বিস্ফোরক উত্তেজনা নির্বাচনী এলাকায়

    চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ, সহযাত্রী নিহত—বিস্ফোরক উত্তেজনা নির্বাচনী এলাকায়

    এবিএনএ: চট্টগ্রামে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের মহানগর আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর পূর্ব বায়েজিদ চালিতাতলী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই দলের কর্মী সরোয়ার হোসেন বাবলা (৪৩) নিহত হন এবং অপর একজন শান্ত আহত হন।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগের সময় হামলার শিকার হন। আহতদের দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে সরোয়ার মারা যান। ঘটনাটি তদন্তাধীন, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত সরোয়ার হোসেন বাবলা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে খুন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এরশাদ উল্লাহ দলীয় প্রচারণায় বের হন। মাগরিবের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা হঠাৎ এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এতে এরশাদ, সরোয়ার ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শান্ত গুলিবিদ্ধ হন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা আগে থেকেই প্রচারণার মিছিলে মিশে ছিল। হঠাৎ তারা গুলি ছোড়ে, ঘটনাস্থলেই সরোয়ার নিহত হন। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য নির্বাচনী অচলাবস্থা সৃষ্টি করা। তবে আমাদের ধৈর্য ও সাহস নিয়ে এগোতে হবে।”

    হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও বোয়ালখালী এলাকায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এরশাদ উল্লাহ আশঙ্কামুক্ত থাকলেও আহত শান্তের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

    এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে যোগাযোগ করা হলেও বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জসিম উদ্দিন ফোন ধরেননি বলে জানা যায়।

  • ‘দুই দল যা বলে, সরকার তা-ই করে’ — কঠোর সমালোচনায় মির্জা আব্বাস

    ‘দুই দল যা বলে, সরকার তা-ই করে’ — কঠোর সমালোচনায় মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: সরকারের কার্যক্রমে স্বাধীনতার অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার নিজস্ব কোনো শক্তির ওপর নয়, বরং দুটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবে টিকে আছে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এ আয়োজন করে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, “এই সরকার দুই দলের ওপর নির্ভর করে চলছে—একটি তাদের নিজেদের সৃষ্টি, আরেকটি পুরনো দল। এই দুটি দল যা বলে, সরকার তা-ই বাস্তবায়ন করে। নির্বাচনী প্রতীক নিয়েও এর প্রমাণ আমরা দেখেছি।”

    তিনি আরও বলেন, “যারা একসময় মুখ খুলতে সাহস পেত না, তারাই আজ চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। এ সাহস তারা কোথা থেকে পেল? তাদের কোনো গণভিত্তি নেই। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো, তাহলে বোঝা যেত কার আসল জনসমর্থন কতটুকু।”

    মির্জা আব্বাস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এই দলগুলোকে জেতানোর জন্য সরকার হয়তো অবৈধ উপায় অবলম্বন করতে পারে। আগের মতো রাতের ভোট দিনে, দিনের ভোট রাতে হতে পারে। দেশের জনগণ এসব অনাকাঙ্ক্ষিত দলকে চায় না, তবুও তারা আজ বড় বড় কথা বলছে—এটা বিস্ময়কর।”

    জামায়াতে ইসলামীকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “যারা একসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতারই বিরোধিতা করেছিল, আজ তারাই শাসনভার চায়! ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে তারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল, আর এখন ধর্মের নামে দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। এই গোষ্ঠীই দেশের ক্ষতি করেছে।”

    বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কখনো এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না। জাতিকে বিভক্ত করে ফায়দা লুটতে চাওয়া শক্তিকে বিএনপি কখনোই পুনর্বাসনের সুযোগ দেবে না।”

    সভায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

  • বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    এবিএনএ:  ঐকমত্য কমিশনে দেওয়া বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’কে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর ভাষায়, “বিএনপি যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেটি আসলে ‘নোট অব চিটিং’। এর মাধ্যমে তারা ১৮ কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু তরুণ সমাজ তাদের সেই অপচেষ্টা বুঝে ফেলেছে।”

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ টাওয়ারে জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জাতীয় নির্বাচন কোন পথে?’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি এখন দেশের মধ্যে অনৈক্য ও বিভেদের রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ যে ঐক্যের পথে হাঁটছিল, বিএনপি সেই পথ থেকে সবাইকে সরাতে চাইছে। দেশের মানুষ এখন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে আছে— যেন তিনি দ্রুত জুলাই সনদের সুপারিশ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে শুরু করে পিএসসি পর্যন্ত সব জায়গায় নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিচ্ছে। “ওরা চায় ভাইয়াগিরি চলুক, ছোট ভাইয়েরা যেন চাকরি পায় দলের কলের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিরপেক্ষ পিএসসি গঠনের—এটাই ছাত্র সমাজের দাবি,” বলেন তিনি।

    এনসিপি নেতা আরও বলেন, “বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে ভেটো দিয়েছে, অথচ একসময় তারাই এই ব্যবস্থার দাবিদার ছিল। দেশের বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবিতেই যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা তারা ভুলে গেছে।”

    তিনি বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি খোলাখুলি সংস্কারের বিরোধিতা করে, আর জামায়াত ভণ্ডামি করে সংস্কারের পক্ষে কথা বলে কিন্তু আসলে বিপক্ষে অবস্থান নেয়।” তাঁর দাবি, “জামায়াত নিম্নকক্ষে পিআর চাচ্ছে নিজেদের আসন বাড়ানোর কৌশল হিসেবে।”

    নির্বাচনী প্রতীকের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, “আমরা শাপলা প্রতীক চাই এবং সেটিতেই নির্বাচন করবো। শাপলার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “কমিশন যদি অবৈধভাবে তালিকা তৈরি করে, তবে আমরা শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করবো।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন মুখ্য সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, ডা. তাসনিম জারা, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা ও মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানসহ নেতৃবৃন্দ।