Tag: রাজনীতি

  • বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে ফল মেলেনি, সাত দল নিয়ে নতুন কৌশলে জামায়াত

    বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে ফল মেলেনি, সাত দল নিয়ে নতুন কৌশলে জামায়াত

    এবিএনএ:  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দলের অবস্থান ভিন্ন থাকায় আলোচনায় কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি।

    গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপাড়ায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। অপরদিকে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএনপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি ও নির্বাচনের আগে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তারা ছাড় দিতে রাজি নয়।

    এর আগে জামায়াত ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও খেলাফত মজলিসসহ সাত দলের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব দল ঘোষণা দিয়েছে—জুলাই সনদের অধীনে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথাও বলা হয়।

    রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে, বিএনপি-জামায়াত বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় জামায়াত এখন সাত দল নিয়ে সমন্বিতভাবে এগোচ্ছে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ কার্যকর করতে হলে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হবে এবং পিআর পদ্ধতিতে সংসদ গঠন করতে হবে।

    এদিকে বিএনপি বলছে, সংবিধানের ঊর্ধ্বে কোনো দলিল হতে পারে না। আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ বন্ধ হলে তা নাগরিক অধিকারের জন্য ক্ষতিকর হবে। দলটি জানায়, যেসব সংস্কার কার্যকরে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন, তা নতুন সংসদেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

    অন্যদিকে জামায়াতের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের দাবি, নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংস্কার করে সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ উভয় জায়গাতেই পিআর পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবি জানায়।

    সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বরফ না গলাতে জামায়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের চেষ্টা করছে। এর আগে লন্ডনে তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছিলেন। এবারও তারা মনে করছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সমাধান খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপি-জামায়াত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে বিরোধী রাজনীতির মধ্যে নতুন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের চিত্রকে আরও জটিল করে তুলবে।

  • নির্বাচন করলে তফসিলের আগেই পদ ছাড়বেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    নির্বাচন করলে তফসিলের আগেই পদ ছাড়বেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    এবিএনএ:  স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তিনি যদি জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তফসিল ঘোষণার আগেই উপদেষ্টার পদ ছাড়বেন।

    বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে সিদ্ধান্ত নিলে তফসিল ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করব। এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।”

    সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে সাবেক এক নারী সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত নেতা জানে আলম অপুর মামলায় নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, “চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অপুর দেওয়া কথিত স্বীকারোক্তি জোর করে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার সঙ্গে আমার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।”

    তিনি আরও জানান, অপুর স্ত্রী দাবি করেছেন, তাকে গুম করে সেই স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সূত্র থেকেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি শুনেছেন।

    রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “যাদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে—আগে করেছেন বা ভবিষ্যতে করবেন বলে ভাবছেন—তাদের সরকারের বাইরে থাকা উচিত।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত যা হয়নি, তার পাল্লাটাই ভারী। জনগণ অভ্যুত্থানের কিছু সুফল পেয়েছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কতটা সুফল পেয়েছে, সেটা জনগণই ভালো বলতে পারবে।”

  • অতি শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের ঐক্যের আহ্বান

    অতি শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের ঐক্যের আহ্বান

    এবিএনএ:  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই তিনি দেশবাসীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন। রবিবার রাজশাহী মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রাখে। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে পুনর্গঠনের পথে এগোতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের রমজানের আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হবে। তবে এরপরও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় আমরা স্বৈরাচারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হয়েছি।”

    বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী শাসন দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেসব ক্ষেত্র পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার ও তরুণদের ভবিষ্যৎ গঠনে কাজ করবে।

    দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই হবে বিএনপির মূল লক্ষ্য। এজন্য দলকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং তাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে।

  • “আমি গোয়েন্দা কমিটিতে ছিলাম”—তারযুক্ত হেডফোন নিয়ে কমলা হ্যারিসের সতর্কবার্তা ঘিরে বিতর্ক

    “আমি গোয়েন্দা কমিটিতে ছিলাম”—তারযুক্ত হেডফোন নিয়ে কমলা হ্যারিসের সতর্কবার্তা ঘিরে বিতর্ক

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্রেটিক দলের নেত্রী কমলা হ্যারিস সম্প্রতি প্রযুক্তি ব্যবহারে নিরাপত্তা বিষয়ে একটি মন্তব্য করে ভাইরাল হয়ে উঠেছেন। স্টিফেন কোলবার্টের জনপ্রিয় টক শো-তে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনোই ওয়্যারলেস ইয়ারফোন ব্যবহার করি না, বিশেষ করে গোপন বা গুরুত্বপূর্ণ ফোনকলে।”

    কমলা ব্যাখ্যা করেন, “আমি সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সদস্য ছিলাম এবং গোপন নথি সম্পর্কিত ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়েছি। আমি জানি, ট্রেনে বসে AirPods দিয়ে ফোন করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “তারযুক্ত হেডফোন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি নিরাপদ।”

    এই মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। কেউ বলেছেন, এমন একজন উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদের কাছ থেকে এই ধরনের সতর্কতা প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। অনেকে বিষয়টিকে গ্রহণযোগ্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ ব্যঙ্গও করেছেন।

    একজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সরকার যদি আমার AirPods দিয়ে কথা শুনতে চায়, তাহলে তারা শুধু শুনবে আমি এক সপ্তাহ ধরে এক গান বাজিয়ে চলেছি!”

    অন্যদিকে, একই সাক্ষাৎকারে কমলা হ্যারিস জানান, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার আসন্ন গভর্নর নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে তিনি ‘ভঙ্গুর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “এই ব্যবস্থায় আমি আপাতত আর ফিরতে চাই না।”

    তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ব্যক্তিগত ও জাতীয় নিরাপত্তা—দুটোই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেই মনে করছেন সাবেক এই গোয়েন্দা কমিটির সদস্য। তাঁর এই সতর্কতা এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

  • পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও এগোচ্ছে কমিশন

    পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও এগোচ্ছে কমিশন

    এবিএনএ:  দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের অংশ হিসেবে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

    বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই), রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপের ২৩তম দিনে মধ্যাহ্ন বিরতির পর এই ঘোষণা দেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

    তিনি জানান, দীর্ঘ আলোচনা চললেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য আসেনি। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কমিশনের উপরই পড়ে। কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।

    কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী—

    • উচ্চকক্ষে নিজস্ব আইন প্রণয়নের ক্ষমতা থাকবে না।

    • অর্থবিল ছাড়া সংসদের প্রতিটি বিল উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।

    • এক মাসের মধ্যে বিল অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান না হলে তা অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।

    • প্রত্যাখ্যান হলে বিল সংশোধন করে নিম্নকক্ষে ফেরত পাঠানো হবে।

    • নিম্নকক্ষ সংশোধন গ্রহণ বা বাতিল করতে পারবে।

    এছাড়া উচ্চকক্ষে ১০% নারী প্রার্থী রাখা বাধ্যতামূলক এবং জাতীয় নির্বাচনের সময়ই উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা জমা দিতে হবে।

    তবে এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে স্পষ্ট মতবিরোধ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে।
    বিএনপি, লেবার পার্টি, এনডিএম, জাতীয়তাবাদী জোট এবং ১২ দলীয় জোট পিআর পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের ঘোর বিরোধিতা করেছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “উচ্চকক্ষের ক্ষমতা ও কাঠামো নিয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। তাই চূড়ান্ত প্রস্তাবে একমত হতে পারছি না।”

    সিপিবি, বাসদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামআমজনতার দল উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
    নাগরিক ঐক্য বলেছে, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা না থাকায় উচ্চকক্ষ অনর্থক হয়ে যাবে।

    দলগুলোর বিভক্ত মতের মধ্যেও কমিশন চূড়ান্ত প্রস্তাব দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক ঐক্যমত্য আদৌ প্রতিষ্ঠিত হয় কি না।

  • এবার আর হুট করে কিছু নয়: রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন শ্রাবন্তী

    এবার আর হুট করে কিছু নয়: রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন শ্রাবন্তী

    এবিএনএ:  টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় একসময় হুট করেই রাজনৈতিক জগতে প্রবেশ করেছিলেন। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর বিজেপি ছেড়ে দিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তারপর থেকেই রাজনীতির মঞ্চে তার সক্রিয়তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। এবার সেই সব জল্পনার জবাব দিলেন তিনি নিজেই।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রাবন্তীকে প্রশ্ন করা হয়, যদি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন, তাহলে তিনি কি নির্বাচন করবেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। দলের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব। আমি রাজনীতিতে নতুন। আগে নিজেকে তৈরি করব, তারপর সিদ্ধান্ত নেব। হুট করে কিছু করব না।’

    রাজনৈতিক জীবনে তার আগের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শ্রাবন্তী বলেন, শুধু পরাজয়ের কারণেই তিনি বিজেপি ছেড়ে দেননি। বরং, অভিজ্ঞতাটি খুব একটা সুখকর না হওয়ায় তিনি নিজেই সরে এসেছেন।

    ‘আগে হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এবার তা করব না,’ বলেন শ্রাবন্তী। তিনি আরও যোগ করেন, ‘বেহালা পশ্চিমে দাঁড়িয়েছিলাম কারণ ওটাই আমার এলাকা, আমি সেখানেই ভোট দিই। আবেগ কাজ করেছিল। কিন্তু মানুষ যাকে যোগ্য মনে করেছেন তাকেই বেছে নিয়েছেন, এতে আমার কোনো দুঃখ নেই। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

    রাজনীতি করলেও শ্রাবন্তী কিন্তু অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ছবি ‘রবীন্দ্র কাব্যরহস্য’, যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন ঋত্বিক চক্রবর্তী এবং পরিচালনায় ছিলেন সায়ন্তন ঘোষাল।

    চলতি বছর মুক্তি পেতে যাচ্ছে আরও একটি বড় বাজেটের ছবি ‘দেবী চৌধুরাণী’, যেখানে শ্রাবন্তীর বিপরীতে ভবানী পাঠকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

    শ্রাবন্তী যে ধীরে ধীরে রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান এবং ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে আরও সচেতন হতে চান—তা স্পষ্ট তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে।

  • চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ছাত্রনেতাদের আদালত প্রাঙ্গণে মারধর

    চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ছাত্রনেতাদের আদালত প্রাঙ্গণে মারধর

    এবিএনএ:  রাজধানীর গুলশানে সাবেক মহিলা এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবি করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের চার নেতাকে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজিত জনতা কিল-ঘুষি ও লাথি মারে।

    ঘটনাটি ঘটে রোববার বিকালে রিমান্ড শুনানির আগে ও পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রাঙ্গণে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন– ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব এবং আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ। পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আদালত তাদের প্রত্যেককে ৭ দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

    আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, এই চক্র গত বছর আগস্ট থেকে ধানমন্ডি, গুলশান ও বনানী এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসায় গিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতো এবং পরবর্তীতে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে উল্লাস প্রকাশ করত। এমনকি তারা বিভিন্ন সময়ে তারেক রহমানকেও কটাক্ষ করত।

    রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, অভিযুক্তরা শেখ হাসিনাকে ‘পালিয়ে থাকা’ বলে মন্তব্য করে এবং এনসিপির ব্যানারে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালাতো। তাদের রিমান্ডে এনে কোটি টাকার অবৈধ উৎস সম্পর্কে জানা যাবে বলে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ।

    অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, আসামিরা বাসায় যাওয়ার আগে থানায় জানিয়ে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তবে আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আবারও উত্তেজিত জনতা আসামিদের মারধর করে।

    প্রসঙ্গত, ২৬ জুলাই রাতে গুলশানের সেই বাসায় চাঁদাবাজির সময় পুলিশ চারজনকে হাতেনাতে আটক করে। গ্রেফতারের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

  • ফ্যাসিবাদের পর এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের ডাক জামায়াত আমিরের

    ফ্যাসিবাদের পর এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের ডাক জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে একবার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে, এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরেকটি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে।

    শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা একটা লড়াইয়ে জয়ী হয়েছি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। এবার আরেকটা যুদ্ধ হবে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে। ইনশাআল্লাহ, সেই লড়াইটাও আমরা জিতব।”

    তিনি আরও জানান, এই সমাবেশ আয়োজন করতে গিয়ে তিনজন কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের স্মরণে তিনি আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারগুলোর জন্য ধৈর্য ও সহনশীলতা কামনা করেন।

    জাতির অতীত সংগ্রামকে স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যদি আবু সাঈদ ও তাঁর সহযোদ্ধারা দাঁড়াতেন না, যদি সেই সময় ২৪ জন জীবন বাজি রেখে প্রতিরোধ না গড়তেন, তবে আজ যারা অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তাদের অবস্থান থাকত কোথায়?”

    তিনি আরও বলেন, শহীদদের ত্যাগকে ছোট করে দেখা কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো শোভন নয়। যারা এমন করে, তাদের মধ্যেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা বাসা বাঁধে।

    সামগ্রিকভাবে সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত লড়াইয়ের ডাক দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এই লড়াই কেবল দলের নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহৎ গণআন্দোলনের রূপরেখা।

  • “আমি রাজনীতি করি না, বুঝিও না”—আদালতে হাজির হয়ে বললেন অপু বিশ্বাস

    “আমি রাজনীতি করি না, বুঝিও না”—আদালতে হাজির হয়ে বললেন অপু বিশ্বাস

    এবিএনএ: রাজধানীর ভাটারা থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় এনামুল হক নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস।

    আজ (১৩ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে আদালত ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

    আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অপু বিশ্বাস বলেন, “আমি রাজনীতি করি না, বুঝিও না। আমি একজন অভিনয়শিল্পী, অভিনয়ই আমার পেশা ও পরিচয়। আইনের বিষয়গুলো আমার আইনজীবীরা দেখছেন।”

    অপু বিশ্বাসের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল বাশার কামরুল জানান, এর আগে ২ জুন উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন অপু। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আজ নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন জামিন চান এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।

    প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৯ জুলাই ভাটারা থানার সামনে আন্দোলনরতদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসা নেন।

    পরবর্তীতে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩০০–৪০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন।

    ওই মামলায় অপু বিশ্বাসসহ মোট ১৭ জন অভিনয়শিল্পীকে অভিযুক্ত করা হয়। তালিকায় রয়েছেন সুবর্ণা মোস্তফা, রোকেয়া প্রাচী, সোহানা সাবা, শাওন, জ্যোতিকা জ্যোতি, জায়েদ খান, সাইমন সাদিক, আজিজুল হাকিম, তারিন, উর্মিলা শ্রাবন্তী করসহ অনেকে।

    অপু বিশ্বাসকে ২০৮ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এর আগে একই মামলায় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়াকেও গত ১৮ মে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে দুইদিনের মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্তি পান।

  • নগর ভবনে ইশরাক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সাংবাদিককে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি!

    নগর ভবনে ইশরাক সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, সাংবাদিককে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি!

    এবিএনএ:  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঘনিষ্ঠ শ্রমিক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় সংঘর্ষ কাভার করতে যাওয়া একাধিক সাংবাদিক আক্রান্ত হন, এমনকি একজনকে ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টার দিকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান প্রিন্স তার সমর্থকদের নিয়ে নগর ভবনে প্রবেশ করলে সেখানে উপস্থিত দলের আরেক পক্ষের নেতা আরিফ চৌধুরীর অনুসারীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই তা রূপ নেয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায়। দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

    পরে দেখা যায়, আরিফুজ্জামানের অনুসারী সন্দেহে নগর ভবনের এক কর্মী শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়। পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও ইশরাক সমর্থকরা তাকে পুলিশের কাছে তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। একইভাবে আরেক ব্যক্তিকেও প্রিন্সের অনুসারী সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হতে হয়। পুলিশ পরে দুইজনকেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    ঘটনার বিষয়ে আরিফুজ্জামান প্রিন্স দাবি করেন, নগর ভবনে তাদের শান্তিপূর্ণ প্রবেশকে প্রতিহত করতে প্রতিনিয়ত বহিরাগতরা হুমকি ও হামলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি জানান, তারা একত্রে প্রবেশের চেষ্টা করলেই প্রতিপক্ষ অতর্কিত হামলা চালায়।

    অন্যদিকে, আরিফ চৌধুরীর ভাষ্যমতে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নগর ভবনে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি এসে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অন্তত আটজনকে আহত করে।

    এই সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদেরও ছাড় দেওয়া হয়নি। নাগরিক টেলিভিশনের রিপোর্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শিশির জানান, তিনি ভিডিও ধারণ করছিলেন, এমন সময় তার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে সব ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয়। এমনকি তাকে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়।

    এনটিভির রিপোর্টার নাজিবুর রহমানও জানান, তাকে এবং তার ক্যামেরাম্যানকে ভয় দেখিয়ে ভিডিও ধারণ থেকে বিরত রাখা হয়।

    এই ঘটনায় নগর ভবনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং তথ্য সংগ্রহের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ইশরাকপন্থীদের বিরুদ্ধে।