Tag: রাজনীতি

  • ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    ফল মেনেই মাঠে নামল জামায়াত: বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমানের

    এবিএনএ: নির্বাচনের ফলাফলকে সম্মান জানিয়ে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের পথ দীর্ঘ; এই পথে মানুষের আস্থা অর্জন, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সংগঠিত প্রস্তুতিই হবে বিরোধী রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

    শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দলটি সামগ্রিক ফলাফল স্বীকার করছে এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। তিনি আরও বলেন, একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে জামায়াতের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

    নির্বাচনী সময়ে মাঠে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নানা চাপ ও হয়রানির মধ্যেও যারা ভোটাধিকার প্রয়োগে এগিয়ে এসেছেন, তাদের সাহসিকতা গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত দিয়েছে। ফলাফলে হতাশ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি; সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন নিয়ে বিরোধী ব্লক হিসেবে দলটির অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

    তিনি অতীতের রাজনৈতিক উত্থান-পতনের উদাহরণ টেনে বলেন, রাজনীতিতে পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ। তাই বিরোধী দলে থেকেই গঠনমূলক ভূমিকা রেখে নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় চাপ অব্যাহত থাকবে। দলটি নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখতে চায়।

    নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, সদ্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করা জাতির জন্য প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো জায়গা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বলেন তিনি। ঘটনার ছবি, ভিডিওসহ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া এবং গণমাধ্যমে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার নির্দেশনাও দেন।

    আসন্ন সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমিরের বার্তা—জনগণের ম্যান্ডেট কোনো ছাড়পত্র নয়; এটি শর্তযুক্ত দায়িত্ব। সবার জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা। শান্তিপূর্ণ রাজনীতির অঙ্গীকারে দলটি অবিচল থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ : তারেক রহমান

    আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ : তারেক রহমান

    এবিএনএ: জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠিত হলে রাষ্ট্র পরিচালনা হবে জনগণের কাছে জবাবদিহির ভিত্তিতে। তিনি জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং আইনের শাসন কার্যকরভাবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটাই তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও দলের প্রতিশ্রুতি।

    তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ রাখার বিকল্প নেই—কারণ জনগণই রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, প্রথম ভোট গণতন্ত্র ও জবাবদিহির পক্ষে দেওয়া হোক।

    ভোটের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এলাকার মানুষের দায়িত্ব নেবেন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমপিরা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কি না, তা নজরদারিতে রাখা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচারকে মূলনীতি হিসেবে ধরে এগোনোর কথাও বলেন তিনি।

    দলীয় প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা বোঝার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। প্রবাসে থাকার সময়ও দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কথা তুলে ধরেন তিনি।

    অতীতের শাসনামলে বিএনপির কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন কামনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

  • সরকার গঠন করলে প্রথমদিন ফজর পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব

    সরকার গঠন করলে প্রথমদিন ফজর পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব

    এবিএনএ: জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মানবিক, নিরাপদ ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রথম দিন ফজরের নামাজ শেষে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবেন। তাঁর ভাষ্যে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ভোগের বিষয় নয়—এটি আমানত ও জবাবদিহিতার বিষয়।

    ভাষণে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার—ধর্ম ও পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষাই হবে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। নারী-পুরুষের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দিতে প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি। তিনি জানান, নীতিনির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে দলীয় ইশতেহার ও নীতিকৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে; সুযোগ পেলে সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে সঙ্গে সঙ্গেই।

    তিনি অতীতের দমন-পীড়ন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সমালোচনা করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হয় না। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে ঐক্যের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘না’ বলার আহ্বান জানিয়ে সততা, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি করার কথা বলেন।

    রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, কাঠামোগত পরিবর্তন সময়ের দাবি—এ কারণেই সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের মতামতের মাধ্যমে সংস্কারকে টেকসই করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়া, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন।

    ভাষণের শেষে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন, আচরণবিধি মানা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, রাষ্ট্র সবার—সরকার হবে জনগণের। ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার নীতিতে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকারেই তাঁর বক্তব্য শেষ হয়।

  • ভোটের আগেই নামবে প্রচারের পর্দা—মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় থামছে সব প্রচারণা

    ভোটের আগেই নামবে প্রচারের পর্দা—মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় থামছে সব প্রচারণা

    এবিএনএ: গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হয়।

    এবার ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে। সে হিসেবে ৪৮ ঘণ্টা আগের সময়সীমা দাঁড়ায় ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা। ওই সময়ের মধ্যেই পোস্টার, মাইকিং, সভা-সমাবেশসহ প্রার্থীদের সব প্রচার কার্যক্রম শেষ করতে হবে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে প্রায় ২০ দিন প্রচারের সুযোগ পেয়েছিলেন প্রার্থীরা।

    নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নিয়ম ভাঙলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র।

    দলভিত্তিক হিসেবে বিএনপির প্রার্থী সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ প্রতীকে প্রার্থী ২৫৮ জন। জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে লড়ছে ২২৯ জন প্রার্থী। জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৯৮ জন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে রয়েছেন ৩২ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ‘ফুটবল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭৬ জন।

  • নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শঙ্কা, ‘শান্তিতে থাকতে দেবে না প্রতিষ্ঠিত শক্তি’—মির্জা আব্বাস

    নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শঙ্কা, ‘শান্তিতে থাকতে দেবে না প্রতিষ্ঠিত শক্তি’—মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং প্রশাসনের একাংশের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে যে সরকারই দায়িত্ব নিক না কেন, বিশ্বের কিছু প্রতিষ্ঠিত শক্তি দেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেবে না।

    শনিবার রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় হক ক্যাসেল ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন সাবেক এই মন্ত্রী।

    মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে কারও কারও মধ্যে বিশেষ কিছু প্রার্থীর প্রতি দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রভাবশালী মহল আগেই নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর নাম তালিকাভুক্ত করে রেখেছে, যাদের যেকোনো মূল্যে সংসদে পাঠানো হবে—ভোট পড়ুক বা না পড়ুক। তিনি বলেন, এমন বাস্তবতা গণতন্ত্র ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি।

    গণআন্দোলনের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেল-জুলুম সহ্য করে বিএনপিই আন্দোলনের পথ তৈরি করেছে। অথচ এখন কেউ কেউ এমন ভঙ্গিতে কথা বলছেন, যেন তারাই এককভাবে পরিবর্তনের নায়ক। তিনি মন্তব্য করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ ক্ষমতার দাবি করেনি, অথচ আজ অনেকেই ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাবছে।

    নির্বাচনী রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র শক্তি পরোক্ষভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছে এবং নির্বাচনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। তার মতে, আওয়ামী লীগের পর বিএনপিকেও রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা দৃশ্যমান।

    নিজের এলাকা ঢাকা-৮ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধির কার্যকর উপস্থিতি পায়নি। তবে তিনি সব সময় মানুষের পাশে ছিলেন বলে দাবি করেন। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখাই ছিল তার নীতি।

    রমনা পার্ক উন্নয়নসহ এলাকার নানা জনস্বার্থমূলক কাজে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রয়োজনে এলাকার মানুষ তাকে এক ফোনেই পাশে পাবেন।

  • ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—ফ্যামিলি কার্ড থেকে পেপাল পর্যন্ত বিএনপির ইশতেহারের ৯ বড় অঙ্গীকার

    ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—ফ্যামিলি কার্ড থেকে পেপাল পর্যন্ত বিএনপির ইশতেহারের ৯ বড় অঙ্গীকার

    এবিএনএ: ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার–২০২৬ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে।

    শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন।

    ইশতেহারে বলা হয়, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর আওতায় মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হবে, যা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

    কৃষি খাতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সুবিধা পাবেন মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।

    স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা এবং মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।

    শিক্ষাক্ষেত্রে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় অগ্রাধিকার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরির অঙ্গীকার করা হয়েছে। সরকারি নিয়োগে মেধা ও স্বচ্ছতাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথাও বলা হয়।

    এছাড়া ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষায় নদী-খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

    ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও কল্যাণমূলক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম পেপাল চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব গঠন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

    ইশতেহার ঘোষণার সময় তারেক রহমান বলেন, এটি কেবল নির্বাচনী অঙ্গীকার নয়, বরং জনগণের সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক চুক্তির প্রতিফলন। জনগণের রায়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

  • ফ্যামিলি কার্ডে মাসিক সহায়তা থেকে ১০ লাখ চাকরি—বিএনপির ইশতেহারে যেসব বড় চমক থাকছে

    ফ্যামিলি কার্ডে মাসিক সহায়তা থেকে ১০ লাখ চাকরি—বিএনপির ইশতেহারে যেসব বড় চমক থাকছে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    বিএনপির এবারের ইশতেহার মূলত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ ও পূর্বঘোষিত ‘২৭ দফা’র সমন্বয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সুশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    দলীয় সূত্র জানায়, ইশতেহারের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা অথবা চাল, ডাল, তেল ও লবণের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্যাকেজ দেওয়া হবে। নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়ন ও পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাই এর মূল লক্ষ্য।

    কৃষি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রবর্তন করা হবে ‘কৃষি কার্ড’। এর মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্র ন্যায্যমূল্যে পাবেন। পাশাপাশি কৃষি বীমা, সহজ শর্তে ঋণ, সেচ সুবিধা এবং মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজারদরের তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কর্মসংস্থান ইস্যুতে বিএনপি দিয়েছে বড় প্রতিশ্রুতি। দলটির লক্ষ্য আগামী ১৮ মাসে সরকারি-বেসরকারি ও পিপিপি উদ্যোগে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এজন্য মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষা ও বিদেশি ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার বড় অংশই নারী। শিক্ষা খাতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিড-ডে মিল চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

    ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্য মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ক্রীড়া খাতে প্রতিটি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ এবং দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী দুদক ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের অঙ্গীকারও রয়েছে ইশতেহারে।

    বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, এই ইশতেহার কোনো কাগুজে স্বপ্ন নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবন বদলের বাস্তব পরিকল্পনা।

  • ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে কড়া হুঁশিয়ারি: টাকা নিয়ে এলে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

    ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে কড়া হুঁশিয়ারি: টাকা নিয়ে এলে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক লুটেরা ও ঋণখেলাপিমুক্ত করতে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। ভোটের অধিকার রক্ষায় কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তরুণ সমাজ ইতোমধ্যে জেগে উঠেছে—ডাকসু, চাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্রসংসদের নির্বাচনে তার প্রতিফলন দেখা গেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনতার রায়ের মধ্য দিয়েই দেশের জন্য নতুন পথ উন্মোচিত হবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা গণতান্ত্রিক ধারাকে অস্বীকার করে, তাদেরকে ভোটের মাধ্যমেই জবাব দিতে হবে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের ঢেউ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ভোট কেনাবেচা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, কেউ যদি অর্থের বিনিময়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তবে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। আগের দিনের অনিয়মের সংস্কৃতি আর চলবে না—এমন বার্তাও দেন তিনি।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, স্বল্প সময়ে কিছু গোষ্ঠী দুর্নীতির পথে গেছে। আসন্ন নির্বাচনে জনগণের রায়ে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে দাবি করেন তিনি।

    চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান এবং উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান।

  • ক্ষমতা পেলে খুলনার ধ্বংসপ্রায় শিল্পকে নতুন প্রাণ দেবো: তারেক রহমান

    ক্ষমতা পেলে খুলনার ধ্বংসপ্রায় শিল্পকে নতুন প্রাণ দেবো: তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, খুলনাঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে এসব রুগ্ন শিল্পকে আবারও বিকশিত করা হবে। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে সেই সুযোগ এলে শিল্পাঞ্চল ঘুরে দাঁড়াবে।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী লুটপাটের মাধ্যমে শিল্পখাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

    সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েও কথা বলেন। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত ঘটনাকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যারা প্রতারণা করে, তারা কখনোই দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে না—এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম কাজ হবে দেশ পুনর্গঠন। তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়নি। মত প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের। দীর্ঘদিন ধরে যে অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে, নির্ধারিত দিনে ইনশাআল্লাহ সেই অধিকার জনগণ প্রয়োগ করবে।

    জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। এ সময় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন আসনের বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • নারীদের অধিকার রক্ষায় বিএনপির কঠোর অঙ্গীকার, নির্বাচনী প্রচারে ইশরাক হোসেনের বার্তা

    নারীদের অধিকার রক্ষায় বিএনপির কঠোর অঙ্গীকার, নির্বাচনী প্রচারে ইশরাক হোসেনের বার্তা

    এবিএনএ: নারী সমাজের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সূত্রাপুরের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    ইশরাক হোসেন জানান, সম্প্রতি কর্মজীবী কয়েকজন নারী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলে নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

    আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা। গত ১৭ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামের পথে নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় ছাত্রনেতাদের গুম ও হত্যার ঘটনাও তুলে ধরেন।

    ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়, যাতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ী হবে কেবল কোনো দল নয়—জয়ী হবে বাংলাদেশ ও এর জনগণ।

    নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং প্রতিপক্ষের কোনো উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। দেশজুড়ে বিএনপির যে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে, তা নষ্ট করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। তার মতে, বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

    বক্তব্যের শেষাংশে ইশরাক হোসেন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও অবদানের ধারাবাহিকতায় বিএনপি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবে।

    এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু, সূত্রাপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আজিজুল ইসলাম, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম এ সাহেদ মন্টুসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।