এবিএনএ: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও বাড়ছে ক্ষোভ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রভাব বিস্তার করে তিনি এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। তার কর্মকাণ্ডে অনেকেই আতঙ্কে থাকেন এবং প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও দাবি উঠেছে।
এলাকায় এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনেও তার ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতা মো. আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। সময়ের সঙ্গে এসব অভিযোগ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।
তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অবৈধ জুয়ার আসর পরিচালনা, প্রতারণা এবং অন্যের সম্পত্তি দখলের মতো অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, চিতলমারী শেরেবাংলা ডিগ্রি কলেজে একটি পদে থাকতে তিনি স্নাতক পাসের একটি ভুয়া সনদ জমা দেন। পরে যাচাইয়ে সেটি জাল বলে প্রমাণিত হয়।
এছাড়া জমি সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়, অল্প পরিমাণ জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিপুল পরিমাণ জমির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নিজের নামে নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি পরবর্তীতে ধরা পড়ে।
এসব ঘটনার জেরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ে এলাকায় অস্থিরতা ও আতঙ্ক বাড়ছে বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতা মো. আহসান হাবিব। তিনি বলেন, “অ্যাডভোকেট লাভলু নামে এক ব্যক্তি ভুয়া আইডি ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি রাজনীতি করি বলেই প্রতিপক্ষরা আমাকে হেয় করতে এসব মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।”
এবিএনএ: জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখালে চলবে না এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর বিরোধী দলের আপত্তি ও সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখনই স্পিকার মন্তব্য করেন, “দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে শুনতে হবে।”
স্পিকার আরও বলেন, সংসদে মৌখিক বক্তব্যের সুযোগ সীমিত। সদস্যদের নোটিশের মাধ্যমে প্রস্তাব দিতে হবে এবং সেসব নোটিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং চাইলে সদস্যরা সংশোধনী প্রস্তাব আনতে পারেন।
বর্তমান সংসদের পরিবেশ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, অতীতের তুলনায় এবারের সংসদে সহযোগিতামূলক পরিবেশ রয়েছে। ইতোমধ্যে বহু বিল পাসের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, যা সংসদীয় ইতিহাসে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিরোধী সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ তুলে ধরা উচিত। পরবর্তী অধিবেশনে সংশোধনী বিল আনার সুযোগ রয়েছে এবং সরকারপক্ষ তা বিবেচনা করতে পারে।
স্পিকার আরও জানান, গণতন্ত্রে মতভিন্নতা স্বাভাবিক বিষয়। বিরোধী দলের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন বলেও আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এবিএনএ: সংসদে তীব্র আপত্তি ও বিতর্কের মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। বিলটি অনুমোদনের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধান বিরোধী দল অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছে।
শুক্রবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। বিলটি ভোটে পাস হওয়ার পর বিরোধী দল তাদের আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করে।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগের ঘোষণা দেন। তার ঘোষণার পরই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একে একে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান।
বিরোধী দলের দাবি, বিলটি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি এবং তাদের উত্থাপিত আপত্তিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সরকারপক্ষ বিলটি পাসের পক্ষে অবস্থান নেয়।
ওয়াকআউটের ঘটনায় সংসদে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশন চালিয়ে যাওয়া হয়।
১০ এপ্রিল ২০২৬-এর বাংলাদেশের সংবাদপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে ছয়টি বড় থিম: জ্বালানি সাশ্রয়ী জরুরি ব্যবস্থা, কৃষিতে ডিজেল-সংকট ও আঞ্চলিক জ্বালানি কূটনীতি, হাম প্রাদুর্ভাব ও জরুরি টিকাদান, সংসদে দ্রুতগতির আইন প্রণয়ন, মুজিবনগর সরকার গঠনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, এবং রেফারেন্ডাম বাস্তবায়ন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি। এগুলো একসাথে দেখলে স্পষ্ট হয়—বাংলাদেশ এখন একই সময়ে অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, প্রতিষ্ঠানগত রূপান্তর এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। Dhaka TribuneReutersReutersDhaka Tribune
১. জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সংক্ষিপ্ত অফিস সময় ও আগাম বাজার বন্ধ
সরকার ৯টা–৪টা অফিস সময়, ব্যাংকিং সময় কমানো, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ, আলোকসজ্জা সীমিতকরণ, সরকারি খরচে কাটছাঁট, নতুন সরকারি যানবাহন ক্রয়ে বিরতি এবং জ্বালানি খাতের ব্যয় ৩০% কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পেছনে যুক্তি হলো—মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক জ্বালানি চাপে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা। Dhaka TribuneDhaka Tribune
জ্বালানি সাশ্রয়ী জরুরি ব্যবস্থা
ইতিবাচক দিক
রাষ্ট্র দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এটি নীতিগত তৎপরতার ইঙ্গিত।
সরকার বিকল্প জ্বালানি উৎস, বৈদ্যুতিক বাস, এবং ব্যয়সংযমের মতো পদক্ষেপও সামনে এনেছে—যা মাঝারি মেয়াদে জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে পারে। Dhaka Tribune
নেতিবাচক দিক
বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিস সময় কমানো বা বাজার তাড়াতাড়ি বন্ধ করা জ্বালানি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় খাতগুলো—বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও পরিবহন—সরাসরি খুব বেশি কমায় না। এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা, বিশেষ করে সন্ধ্যাকালীন বিক্রি-নির্ভর খুচরা ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। Dhaka Tribune
আন্তর্জাতিক তাৎপর্য
এটি দেখাচ্ছে, বৈশ্বিক সংঘাত এখন বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দৈনন্দিন সময়সূচিকেও বদলে দিতে পারে।
২. ডিজেল সংকটে কৃষি চাপে, একই সঙ্গে ভারতমুখী জ্বালানি কূটনীতি
রয়টার্সের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ধান রোপণের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বহু কৃষক ডিজেল পেতে দীর্ঘ লাইন দিচ্ছেন, অনেক স্টেশনে “No Fuel” সাইন ঝুলছে, আর সীমিত পরিমাণে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। এতে সেচ ব্যাহত হচ্ছে, জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, চারা হলদে হয়ে পড়ছে এবং খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ তার পরিশোধিত জ্বালানির বড় অংশ আমদানি করে, যার বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য। Reuters
একই সময়ে বাংলাদেশ ভারত থেকে বেশি জ্বালানি ও সার চেয়েছে, এবং নয়াদিল্লি তা “readily and favourably” বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জ্বালানি সহযোগিতা নতুন কৌশলগত গুরুত্ব পেয়েছে। ReutersDhaka Tribune
ইতিবাচক দিক
আঞ্চলিক কূটনীতিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে—এটি বাস্তববাদী পদক্ষেপ।
ভারত থেকে পাইপলাইনভিত্তিক বা বাড়তি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে তা দ্রুত চাপ কমাতে পারে। Reuters
নেতিবাচক দিক
কৃষির মৌসুমি সেচে ব্যাঘাত সরাসরি খাদ্যনিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
এটি বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামোর ভঙ্গুরতাকেও সামনে এনেছে। ReutersDhaka Tribune
আন্তর্জাতিক তাৎপর্য
বাংলাদেশের জ্বালানি-সংকট এখন কেবল ঘরোয়া নয়—এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সরবরাহ-রাজনীতি, সীমান্তবাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত।
৩. হাম প্রাদুর্ভাব: জনস্বাস্থ্যে লাল সতর্কতা, তবে টিকাদান অভিযানে দ্রুত সাড়া
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় এক মিলিয়নেরও বেশি শিশুকে লক্ষ্য করে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রয়টার্স জানাচ্ছে, ১৭টি নিশ্চিত মৃত্যু, ১১৩টি সন্দেহজনক মৃত্যু, ৭,৫০০-এর বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৬ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য সামনে এসেছে। ১৮টি উচ্চঝুঁকির জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। UNICEF, WHO ও Gavi এই অভিযানে যুক্ত রয়েছে। Reuters
ইতিবাচক দিক
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় মৃত্যুহার কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। Reuters
নেতিবাচক দিক
এত বড় প্রাদুর্ভাব রুটিন টিকাদানে ফাঁক, স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপ এবং জেলা পর্যায়ের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরছে।
হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে পারে। Reuters
আন্তর্জাতিক তাৎপর্য
এটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংযোগের একটি উদাহরণ—এক দেশের টিকাদান-ফাঁক দ্রুত আঞ্চলিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।
৪. সংসদে দ্রুত আইন পাস: প্রতিষ্ঠানগত স্বাভাবিকতা, নাকি পর্যাপ্ত বিতর্কহীন আইনপ্রণয়ন?
সংসদ ১০টি বিল পাস করেছে, যেগুলোর লক্ষ্য ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আনুষ্ঠানিক আইনে রূপ দেওয়া। একই সঙ্গে Dhaka Central University Bill 2026 পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একটি একীভূত একাডেমিক কাঠামোর অধীনে আনা হবে। Dhaka TribuneDhaka Tribune
ইতিবাচক দিক
অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়া মানে নির্বাহী সিদ্ধান্তকে সংসদীয় বৈধতার আওতায় আনা—এটি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিকায়নের লক্ষণ।
সাত কলেজের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট ও একাডেমিক অনিশ্চয়তা দূর করতে নতুন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি বড় কাঠামোগত পদক্ষেপ হতে পারে। Dhaka Tribune
নেতিবাচক দিক
প্রতিবেদন বলছে, এসব বিল প্রায় বিনা সংশোধনী ও উল্লেখযোগ্য আলোচনাবিহীনভাবে পাস হয়েছে। আন্তর্জাতিক পাঠকের দৃষ্টিতে এটি সংসদীয় স্ক্রুটিনি বা গভীর নীতিগত বিতর্কের ঘাটতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। Dhaka Tribune
আন্তর্জাতিক তাৎপর্য
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এখন কতটা কার্যকর বিতর্ক, সংশোধন ও জবাবদিহির মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে—সেটি বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
৫. মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস: রাষ্ট্রচিন্তা, ইতিহাস ও বর্তমানের সেতুবন্ধ
১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ভিত্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত অস্থায়ী সরকার মুক্তিযুদ্ধকে একটি সংগঠিত রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে; ১৭ এপ্রিল শপথ হয় বৈদ্যনাথতলায়। এই সরকার সামরিক প্রতিরোধ, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে। Dhaka Tribune
ইতিবাচক দিক
জাতীয় পরিচয়, সাংবিধানিক বৈধতা এবং স্বাধীনতার আদর্শকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
রাজনৈতিক রূপান্তরের সময়ে এমন ঐতিহাসিক দিনগুলো জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হতে পারে। Dhaka Tribune
নেতিবাচক দিক
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার প্রায়ই প্রতীকী ঐক্যের বদলে দলীয় ব্যাখ্যার প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত হয়।
ফলে ঐতিহাসিক স্মৃতি কখনও ঐকমত্যের পরিবর্তে বিভাজনও বাড়াতে পারে।
আন্তর্জাতিক তাৎপর্য
বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন-ইতিহাস বোঝা ছাড়া দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ভাষা ও ক্ষমতার বৈধতার প্রশ্ন পুরোপুরি বোঝা কঠিন।
৬. ১১-দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি: অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি, নাকি নতুন অস্থিরতার পূর্বাভাস?
১১-দলীয় একটি জোট জানিয়েছে, সংসদে রেফারেন্ডামের রায় বাস্তবায়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তাদের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে লিফলেট বিতরণ, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিক্ষোভ, জেলা পর্যায়ে সমাবেশ এবং ঢাকায় সেমিনার। Dhaka Tribune
ইতিবাচক দিক
এটি দেখায় যে রাজনৈতিক বিরোধিতা এখনও জনপরিসরে সক্রিয়, এবং নীতি-প্রশ্নে সংগঠিত চাপ প্রয়োগের পথ খোলা আছে।
গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বহুপক্ষীয় চাপ অনেক সময় নীতি বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করে।
নেতিবাচক দিক
রাস্তামুখী আন্দোলন দ্রুত আইনশৃঙ্খলা, বিনিয়োগ-আস্থা, প্রশাসনিক মনোযোগ ও সংস্কার-এজেন্ডাকে বিঘ্নিত করতে পারে।
বাংলাদেশ যদি একই সঙ্গে জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও কৃষি-চাপে থাকে, তবে রাজনৈতিক উত্তাপ পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। Dhaka Tribune
আন্তর্জাতিক তাৎপর্য
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ—বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কি প্রাতিষ্ঠানিক পথে থাকবে, নাকি আবার সড়ক-রাজনীতিতে তীব্র হবে?
সার্বিক মূল্যায়ন: ইতিবাচক বনাম নেতিবাচক চিত্র
ইতিবাচক সামগ্রিক ট্রেন্ড
বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র কয়েকটি ফ্রন্টে একই সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে—জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক কূটনীতি, জনস্বাস্থ্য, আইন প্রণয়ন ও শিক্ষাগত পুনর্গঠন। এই বহুমাত্রিক সক্রিয়তা দেখায় যে সরকার শুধু সংকট ম্যানেজ করছে না, বরং কিছু ক্ষেত্রে কাঠামোগত সমাধানও খুঁজছে। Dhaka TribuneReutersDhaka Tribune
নেতিবাচক সামগ্রিক ট্রেন্ড
কিন্তু একই সঙ্গে বড় দুর্বলতাও স্পষ্ট—আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামো, খাদ্য সরবরাহে কৃষি-ঝুঁকি, রুটিন টিকাদানে ফাঁক, দ্রুত আইন পাসে বিতর্কহীনতা, এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের সম্ভাবনা। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন “policy responsiveness” দেখালেও “structural vulnerability” থেকে পুরোপুরি বেরোতে পারেনি। Dhaka TribuneReuters
এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে একদিনেই ৩১টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২৮টি অধ্যাদেশ অবিকল রেখে আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন আইন পাস করা হয়েছে এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও অনুমোদন পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের ১২তম দিনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন খাতের সংশোধনী আইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অবিকল রেখে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংশোধন, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন সংশোধন, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সংশোধন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংশোধন এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধন বিল। এছাড়া বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী, শ্রম আইন, ইউনিয়ন পরিষদ, আইনগত সহায়তা প্রদান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সংশোধনী বিল অনুমোদন করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ, বাংলাদেশ গ্যাস, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণসহ একাধিক নতুন আইনও পাস হয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর—পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ সম্পর্কিত সংশোধনী বিলও অনুমোদন পেয়েছে।
এছাড়া ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ এবং হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন সংশোধন বিলও পাস হয়েছে।
অন্যদিকে কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন বিল পাস করেছে সংসদ। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে সংশ্লিষ্ট বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ বিষয়ক অধ্যাদেশও রহিত করা হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে কমিশনের কার্যক্রম পূর্বের আইনি কাঠামোতে পরিচালিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।
এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হবে শুক্রবার থেকে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ১০ এপ্রিল সকাল ১১টা থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে ওই দিন থেকেই ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া চলবে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আগ্রহী প্রার্থীদের ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে। ১২ এপ্রিলই মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা দেওয়ার শেষ দিন।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, আপিল দাখিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।
সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি ও তাদের জোটের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬টি আসন। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট পাবে ১৩টি আসন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে একটি আসন। সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মোট সংখ্যা ৫০টি।
এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একাধিক অধ্যাদেশের ভিত্তিতে প্রস্তুত ১৩টি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত আইনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতের বিল অনুমোদনের মাধ্যমে আইনগত কাঠামোয় নতুন পরিবর্তনের পথ খুলেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশ কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে আলোচনা শেষে সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।
সকালের অধিবেশনে যেসব বিল পাস হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।
বিকেলের অধিবেশনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’, ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা রহিতকরণ আইন, ২০২৬’, ‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬’ এবং ‘পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলী) আইন, ২০২৬’।
একই দিনে দ্বিতীয় দফায় আরও চারটি বিল অনুমোদন পায়। এগুলো হলো ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’ এবং ‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।
সংসদে একদিনে এতগুলো বিল পাস হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব আইনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো, বিনিয়োগ পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবিএনএ: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। একইসঙ্গে আপত্তি ওঠায় আরও তিনটি বিল তাৎক্ষণিকভাবে পাস না করে আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব বিল উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে একে একে সাতটি বিল অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংসদে এদিন মোট ১০টি বিল উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সাতটি বিল পাস হলেও তিনটি বিল নিয়ে সদস্যদের আপত্তি থাকায় সেগুলো আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত একটি সংশোধনী বিল যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
যেসব সাতটি বিল পাস হয়েছে সেগুলো হলো— ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন-২০২৬, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (সংশোধন) আইন-২০২৬, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) আইন-২০২৬, নির্বাচন কমিশন কর্মচারী (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সম্পর্কিত অন্তর্বর্তী বিশেষ বিধান রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং বাংলাদেশ ল অফিসার্স (সংশোধন) আইন-২০২৬।
এদিকে আলোচনার জন্য রাখা তিনটি বিল হলো— জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইন-২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিতকরণ আইন-২০২৬। এসব বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে পুনরায় সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি আইন হিসেবে অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই প্রথম ধাপে ১০টি বিল সংসদে তোলা হয়েছে। বাকি অধ্যাদেশগুলো পর্যায়ক্রমে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এবিএনএ: সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এবার সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা Shafiqur Rahman জানিয়েছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। ১১ দল একসঙ্গে বসে শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে তারা ‘সংস্কার’ চেয়েছিলেন, যা গণভোটে জনগণের রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশ।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলেও সেটি ছিল সংবিধান সংশোধনকেন্দ্রিক। বিরোধী দল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের দাবি হলো সংবিধানের মৌলিক সংস্কার।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো কমিটি গঠন গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের সমান প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাবও তারা দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ‘সংস্কার’-এর কথা বলেছিলেন, ‘সংশোধন’-এর নয়।
স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। পরে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন, তবে স্পিকার জানান—প্রস্তাবটি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, গৃহীত হয়নি।
এ ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তারা সংকটের সমাধান চেয়েছিলেন, কিন্তু জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে। তার মতে, এটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনগণের মতামতকে আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে আগের গণভোটগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সবসময় জনগণের রায়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।
শফিকুর রহমান জানান, সংসদে সমাধান না হওয়ায় এখন তারা জনগণের কাছেই ফিরে যাবেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দেশজুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, তারা সংসদ ত্যাগ করেননি, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রয়েছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আন্দোলনই তাদের একমাত্র পথ বলে মনে করছেন তিনি।
এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা ভিন্নমত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জমা দিয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। বৈঠকে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, যার মধ্যে নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকে প্রায় ২২টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং এর মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে তারা একমত হতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কিছু প্রস্তাব জোর করে পাস করানোর চেষ্টা চলছে।
বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দলটি। তাদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানকে আবারও দলীয় প্রভাবের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় এবং বিচারপতি নিয়োগের জন্য গঠিত বাছাই কমিটি বাতিল করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে তারা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা খর্বের আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।
গণভোট ইস্যুতে দলটির অবস্থান আরও কঠোর। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট জাতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি বাতিলের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি গণভোট অসাংবিধানিক হয়, তাহলে একই প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়?
তিনি আরও জানান, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে কিছু বিষয়ে সংশোধনীসহ আংশিক সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে বলেও জানান তিনি। কিন্তু যেসব প্রস্তাব জনগণের স্বার্থবিরোধী বলে মনে হচ্ছে, সেগুলোতে কোনো আপস করবে না জামায়াত।
সব মিলিয়ে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ ঘিরে সংসদে মতবিরোধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।