Tag: রাজনীতি

  • সংসদে উত্তাপ: মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী দলকে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    সংসদে উত্তাপ: মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী দলকে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবটির প্রক্রিয়াগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলের কড়া সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed

    রোববার সংসদ অধিবেশনে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এ দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা Shafiqul Rahman যে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, তা সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে দেওয়া হয়নি। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে হলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে নোটিশ দিতে হয়।

    মন্ত্রী আরও বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনতে হলে নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ জরুরি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রয়োজনে সংশোধিত নোটিশ জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সংসদের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদকে আগের বিশৃঙ্খল পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান, সংসদীয় বিধি অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে।

    মুলতবি প্রস্তাবের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব বিষয় আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, সেগুলো সাধারণ মুলতবি প্রস্তাবের মাধ্যমে আলোচনা করা যায় না। এ ধরনের বিষয়ে আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

    পরিস্থিতি সমাধানে একটি সমঝোতার প্রস্তাবও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে সরকার ও বিরোধী দলসহ সব পক্ষকে নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

    তিনি আরও বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংবিধান প্রণয়নের জন্য সবার মতামত জরুরি। তাই সংসদীয় কাঠামোর মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

  • বাগেরহাটে চরের জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: একে একে তিন খুন, আতঙ্কে দুই গ্রাম

    বাগেরহাটে চরের জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: একে একে তিন খুন, আতঙ্কে দুই গ্রাম

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মধুমতি নদীর চরের সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ রূপ নিয়েছে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। বিশ্বাস ও শেখ—এই দুই প্রভাবশালী পক্ষের দ্বন্দ্বে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকা এখন আতঙ্কে আচ্ছন্ন।

    সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘটিত সহিংসতায় শেখ পক্ষের যুবক রাজিব শেখ (২৫) নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে প্রতিশোধপরায়ণ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৩০টি বসতবাড়ি ও দোকান পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    শনিবার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সৌরভ বিশ্বাস (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত রাজিব শেখকে চিংগড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

    🔥 গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ধ্বংসস্তূপ

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের মাঝামাঝি সড়কজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ইট-পাথরের টুকরো। দুই গ্রামেই বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর এখন কেবল ছাইয়ের স্তূপ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

    নিহত রাজিবের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর জন্য বড় পরিসরে রান্নার আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে শেখ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের হারানো সম্পদ ও ভিটেমাটির শোকে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।

    এদিকে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস পরিবারের অনেকেই ঘরবাড়ি ফাঁকা করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

    ⚔️ দীর্ঘদিনের বিরোধের পটভূমি

    স্থানীয়দের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে মধুমতি নদীর চরের সরকারি জমি দখল ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। একপক্ষে রয়েছেন মচন্দপুর গ্রামের সাঈদ বিশ্বাসের অনুসারীরা, অন্যপক্ষে চিংগড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলমের অনুসারীরা।

    এই বিরোধে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। পূর্বের এক ঘটনায় আলম শেখ নিহত হন। এরপরও থামেনি সংঘাত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরেক দফা সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন নামে একজন নিহত হন।

    স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনও এই সংঘর্ষকে আরও উসকে দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    👮 পুলিশের অবস্থান

    বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, রাজিব শেখ হত্যাকাণ্ডসহ অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • নতুন সরকারের শপথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় অভিযান: নেপালে গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি

    নতুন সরকারের শপথের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় অভিযান: নেপালে গ্রেপ্তার সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি

    এবিএনএ: নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের নাটকীয় মোড় এসেছে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই। শপথ নেওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    শনিবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডুর ভক্তপুর এলাকায় তাদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করে কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের বিশেষ ইউনিট।

    পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী গণমাধ্যমকে জানান, একটি তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সাবেক বিশেষ বিচারক গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন কমিশনটি এই সুপারিশ দেয়।

    পটভূমি: সহিংস বিক্ষোভ ও অভিযোগ

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ‘জেন-জি’ আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।

    বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন রমেশ লেখক। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চরমে পৌঁছে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর। ওই দুই দিনে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৯ জন ছিলেন বিক্ষোভকারী।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী অলি। এর আগেই পদ ছাড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখক।

    অন্তর্বর্তী সরকার ও তদন্ত

    পদত্যাগের পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। একই সঙ্গে সহিংসতা ও জনঅভ্যুত্থানের কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

    নতুন নেতৃত্ব ও পরিবর্তনের বার্তা

    গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে নতুন সরকার গঠন করেন বালেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)। ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

    নতুন সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—আইনের প্রয়োগে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলি ও রমেশ লেখকের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরং বলেন,
    “এটি প্রতিশোধ নয়, এটি ন্যায়বিচারের পথে এগোনোর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। আইনের চোখে সবাই সমান।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তার নেপালের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এটি একদিকে যেমন আইনের শাসনের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়াতে পারে।

  • মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে চলছে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা

    মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে চলছে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা

    এবিএনএ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক Mirza Abbas গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর Evercare Hospital Dhaka-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মস্তিষ্কে প্রথম দফার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর শারীরিক জটিলতার কারণে দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে তার মস্তিষ্কে প্রথম অপারেশন শুরু হয় এবং সন্ধ্যা প্রায় সোয়া ৬টার দিকে সেটি শেষ হয়। পরে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আবারও দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, অপারেশন তখনও চলছিল।

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী অবস্থার উন্নতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে পরিবার। এজন্য বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ইফতারের সময় পানি পান করার মুহূর্তে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। এরপর দ্রুত তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ওই রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    এছাড়া বিএনপির মহাসচিব Mirza Fakhrul Islam Alamgir এবং Shafiqur Rahmanসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান।

    মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

  • সংসদের আগে বিএনপি এমপিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ: অধিবেশন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু

    সংসদের আগে বিএনপি এমপিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ: অধিবেশন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন ও পুরোনো সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যপ্রণালী সম্পর্কে দক্ষ করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতা তারেক রহমান

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দলের সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন।

    সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতি

    রুদ্ধদ্বার এই কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

    এছাড়া কর্মশালায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

    কী শেখানো হবে কর্মশালায়

    দলীয় সূত্র জানায়, এই কর্মশালায় নতুন ও পুরোনো সংসদ সদস্যদের সামনে সংসদের বিভিন্ন কার্যপ্রণালী বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • সংসদের আচরণবিধি

    • বিল প্রণয়ন ও তা পর্যালোচনার পদ্ধতি

    • বাজেট সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ

    • সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম

    • অধিবেশনে বক্তব্য উপস্থাপন ও আলোচনা পদ্ধতি

    অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাও নতুনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন।

    অধিবেশন আহ্বান

    আগামী ১২ মার্চ সকাল ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই অধিবেশন আহ্বান করেন।

    নতুন এমপিদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব

    এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট ২০৯ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৬ জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। ফলে সংসদীয় নিয়ম-কানুন ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম।

    দলের এক সিনিয়র নেতা জানান, কর্মশালায় এমপিদের শেখানো হবে—
    কীভাবে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করতে হয়, কীভাবে বিল নিয়ে আলোচনা করতে হয়, নিজের নির্বাচনী এলাকার সমস্যা সংসদে উপস্থাপন করার কৌশল এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেওয়ার পদ্ধতি।

    দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি

    দুই দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রথম দিনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের কয়েকটি জেলার সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা সেশন রাখা হয়েছে।

    পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এমপিরা অংশ নেবেন। বিকেলে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সংসদ সদস্যদের জন্য পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন সংসদ সদস্যরা সংসদের কার্যক্রমে আরও দক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন।

  • নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিতর্ক: রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অপসারণ দাবি জামায়াতের

    নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিতর্ক: রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অপসারণ দাবি জামায়াতের

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কথিত ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ ইস্যুতে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে পদ থেকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধেও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরুতে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মনে হলেও দিন শেষে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অনিয়মের অভিযোগ আসে। তার দাবি, অনেক কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান এবং দলের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    তিনি আরও জানান, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছু এজেন্টের যোগসাজশে ব্যালট কেটে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের অভিযোগে জামায়াত অন্তত ৫৩টি আসনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

    তাহের বলেন, সম্প্রতি সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি বক্তব্যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে তাদের ধারণা। তার মতে, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য কারা এবং কীভাবে প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে—তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এজন্য সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বর্তমান সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, বিষয়টি স্পষ্ট করতে খলিলুর রহমানকেও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

  • জাতীয় সংসদে নতুন চিফ হুইপ ও ছয় হুইপ নিয়োগ: কাদের হাতে সংসদের শৃঙ্খলা

    জাতীয় সংসদে নতুন চিফ হুইপ ও ছয় হুইপ নিয়োগ: কাদের হাতে সংসদের শৃঙ্খলা

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নেতৃত্ব কাঠামো শক্তিশালী করতে চিফ হুইপ ও ছয়জন হুইপ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সংসদ সচিবালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এতে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম প্রকাশ করা হয়।

    চিফ হুইপের দায়িত্ব পেয়েছেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মণি। হুইপ হিসেবে দায়িত্বে এসেছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের জিকে গউস, খুলনা-৩ আসনের রকিবুল ইসলাম, শরিয়তপুর-৩ আসনের মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, নাটোর-২ আসনের অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, দিনাজপুর-৪ আসনের মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজাম)।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংসদের অধিবেশন পরিচালনায় সমন্বয়, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখাই নতুন হুইপদের প্রধান দায়িত্ব হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নিয়োগে সংসদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে গতি আসবে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয়েও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

  • রাজনীতিতে সৌজন্যের ইঙ্গিত: জামায়াতের ইফতারে আমন্ত্রণ পেলেন মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিতে সৌজন্যের ইঙ্গিত: জামায়াতের ইফতারে আমন্ত্রণ পেলেন মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৌজন্যের নতুন বার্তা দিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান–এর উদ্যোগে আগামী শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    দলের পক্ষে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিতে বিএনপির মহাসচিবের বাসভবনে যান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াতপত্র হস্তান্তর করেন।

    আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি শুভেচ্ছা ও সালাম পৌঁছে দেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন এবং মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন।

  • আইনের চোখে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা: নয়াপল্টন থেকে মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা

    আইনের চোখে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা: নয়াপল্টন থেকে মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টি আইনের আলোকে মূল্যায়ন করা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলে কার্যালয় খোলার সুযোগ নেই এবং এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো দলের সাংগঠনিক তৎপরতা পরিচালনা করতে হলে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান মানতেই হবে। আইনগত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কার্যালয় খোলার উদ্যোগ নিলে তা বৈধতা পাবে না—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।

    স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব জানান, সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তুলনামূলক স্বল্প সময়ের মধ্যেই সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

    এ ছাড়া সংসদ অধিবেশন শুরু হলে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে কার্যক্রম এগোনোর কথাও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে তুমুল দৌড়ঝাঁপ: কারা পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন, জল্পনা তুঙ্গে

    বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে তুমুল দৌড়ঝাঁপ: কারা পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন, জল্পনা তুঙ্গে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ। এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পাওয়ায় আসন অনুপাতে দলের ঝুলিতে যাচ্ছে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন। এসব আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নারী নেত্রীরা শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, কেউ কেউ বিভিন্ন পর্যায়ে লবিংও চালাচ্ছেন।

    বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করতে হবে। ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত আসন নির্ধারিত হয়। এই হিসাবে বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি আসন পাবে। বাকি আসনগুলো স্বতন্ত্রদের সমঝোতা ও জোটের ওপর নির্ভর করছে।

    নির্বাচন কমিশনের কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রক্রিয়া কার্যত শুরু হয়েছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো যে নাম প্রস্তাব করবে, নিয়ম অনুযায়ী তারাই নির্বাচিত হবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন শেষ করা হবে।

    দলীয় সূত্র বলছে, কারা মনোনয়ন পাবেন কিংবা কোন যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে—এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে সাধারণ নির্বাচনে যোগ্য হয়েও মনোনয়ন না পাওয়া নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা মহিলা দল ও ছাত্রদলের বর্তমান-সাবেক নেত্রীদের গুরুত্ব দেওয়ার কথাও আলোচনায় আছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের পরিবারভুক্ত কেউ কেউ মনোনয়ন পেতে পারেন—এমন কথাও ভেতরে ভেতরে শোনা যাচ্ছে।

    মনোনয়ন চূড়ান্ত না হলেও প্রত্যাশীরা বসে নেই। কেউ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করছেন, কেউ অতীতের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান জানাচ্ছেন।

    দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—মাহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, বীথিকা বিনতে হোসাইন, নাভীলা চৌধুরী, রেহানা আক্তার রানু, নাদিয়া পাঠান পাপন, আরিফা সুলতানা রুমা, সাবরিনা বিনতে আহমেদ, সাবিনা খান পপি সহ আরও অনেকে।

    সুলতানা আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন তিনি এবং নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দল তার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে—এমন প্রত্যাশা তার।


    ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন জানান, দীর্ঘ সময় মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং দুঃসময়ে দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন—সে বিবেচনায় তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন।


    বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, সংগঠনের মাধ্যমে মানবিক ও আইনি সহায়তায় যুক্ত ছিলেন তিনি; সাম্প্রতিক সময়ে দলের কার্যক্রমেও সক্রিয় রয়েছেন।


    সাবেক সংরক্ষিত সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, আগেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে—দল চাইলে আবারও সে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত তিনি।

    সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বিএনপির ভেতরে প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার আগ পর্যন্ত জল্পনা-কল্পনাও থামছে না।