Tag: নির্বাচন

  • নির্বাচনে পক্ষপাত চলবে না—নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাল জামায়াত

    নির্বাচনে পক্ষপাত চলবে না—নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাল জামায়াত

    এবিএনএ: নির্বাচনী পরিবেশে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পটুয়াখালীর বাউফলে দলটির থানা কার্যালয়ে পরিচালিত পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে এ আহ্বান জানানো হয়।

    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাউফল থানা জামায়াত কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশ তল্লাশি চালালেও কোনো আপত্তিকর বা অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি।

    তিনি অভিযোগ করেন, অভিযানের সময় একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছিলেন, যা থেকে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার দাবি, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দেশে-বিদেশে দলটির একটি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে। এ ধরনের সংগঠনের বিরুদ্ধে প্ররোচিত হয়ে অভিযান চালানো অনভিপ্রেত ও অনৈতিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, বাউফল থানার ওসি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমন অবস্থায় তাকে দায়িত্বে রেখে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

    তিনি অবিলম্বে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। পাশাপাশি নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

  • নির্বাচনী উত্তাপে ঢাকা-১২: প্রচারণাকালে সংঘর্ষে কোদাল প্রতীকের তিন কর্মী আহত

    নির্বাচনী উত্তাপে ঢাকা-১২: প্রচারণাকালে সংঘর্ষে কোদাল প্রতীকের তিন কর্মী আহত

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে কোদাল প্রতীকের তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাকিন (২৭), আহাদ (২৭) ও হোসেন।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার মধুবাগে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তিনজনকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

    কোদাল প্রতীকের প্রার্থী এবং বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক অভিযোগ করে বলেন, বিকেলে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর সমর্থকরা আকস্মিকভাবে হামলা চালায়। তার দাবি, হামলাকারীরা পাইপ, লাঠি ও রড ব্যবহার করে কর্মীদের ওপর আক্রমণ করে, এতে তিনজন আহত হন।

    তিনি আরও জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে।

    এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতিরঝিলের মধুবাগ এলাকা থেকে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত তিনজনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। আহতরা কোদাল প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে।

  • ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে কড়া হুঁশিয়ারি: টাকা নিয়ে এলে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

    ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে কড়া হুঁশিয়ারি: টাকা নিয়ে এলে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক লুটেরা ও ঋণখেলাপিমুক্ত করতে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। ভোটের অধিকার রক্ষায় কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তরুণ সমাজ ইতোমধ্যে জেগে উঠেছে—ডাকসু, চাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্রসংসদের নির্বাচনে তার প্রতিফলন দেখা গেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনতার রায়ের মধ্য দিয়েই দেশের জন্য নতুন পথ উন্মোচিত হবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা গণতান্ত্রিক ধারাকে অস্বীকার করে, তাদেরকে ভোটের মাধ্যমেই জবাব দিতে হবে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের ঢেউ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ভোট কেনাবেচা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, কেউ যদি অর্থের বিনিময়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তবে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। আগের দিনের অনিয়মের সংস্কৃতি আর চলবে না—এমন বার্তাও দেন তিনি।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, স্বল্প সময়ে কিছু গোষ্ঠী দুর্নীতির পথে গেছে। আসন্ন নির্বাচনে জনগণের রায়ে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে দাবি করেন তিনি।

    চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান এবং উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান।

  • ক্ষমতা পেলে খুলনার ধ্বংসপ্রায় শিল্পকে নতুন প্রাণ দেবো: তারেক রহমান

    ক্ষমতা পেলে খুলনার ধ্বংসপ্রায় শিল্পকে নতুন প্রাণ দেবো: তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, খুলনাঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে এসব রুগ্ন শিল্পকে আবারও বিকশিত করা হবে। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে সেই সুযোগ এলে শিল্পাঞ্চল ঘুরে দাঁড়াবে।

    সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী লুটপাটের মাধ্যমে শিল্পখাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

    সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েও কথা বলেন। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত ঘটনাকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যারা প্রতারণা করে, তারা কখনোই দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে না—এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম কাজ হবে দেশ পুনর্গঠন। তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়নি। মত প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের। দীর্ঘদিন ধরে যে অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে, নির্ধারিত দিনে ইনশাআল্লাহ সেই অধিকার জনগণ প্রয়োগ করবে।

    জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। এ সময় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন আসনের বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের হয়ে মাঠে কোকোর স্ত্রী

    ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের হয়ে মাঠে কোকোর স্ত্রী

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যস্ত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেও সারাদেশের প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে নিজ এলাকায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারছেন না তিনি। এই পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি।

    এবিএনএ: শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকায় সুবাস্তু নজর ভ্যালি মার্কেটের সামনে থেকে তারেক রহমানের পক্ষে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ শুরু করেন শামিলা রহমান সিঁথি। এরপর তিনি গুলশান এলাকার ডিএনসিসি মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন।

    এ সময় তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে তারেক রহমানের জন্য দোয়া ও ভোট কামনা করেন। গণসংযোগকালে শামিলা রহমান সিঁথি বলেন, তিনি ভাইয়ের পক্ষ থেকে ভোটারদের কাছে এসেছেন এবং সবাইকে তারেক রহমানের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

    এই প্রচারণায় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিনের স্ত্রী ব্যারিস্টার মেহেনাজ মান্নানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    এদিকে ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে নিয়মিত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম এবং যুগ্ম সমন্বয়ক ফরহাদ হালিম ডোনার।

  • নির্বাচনী ফল বদলের ষড়যন্ত্র চলছে, আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মির্জা আব্বাস

    নির্বাচনী ফল বদলের ষড়যন্ত্র চলছে, আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: নির্বাচনী মাঠে নতুন প্রার্থীদের স্বাগত জানালেও ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামনে কী ঘটবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

    তার দাবি, কয়েকজন প্রার্থীর আচরণ ও তৎপরতা লক্ষ্য করে মনে হচ্ছে তারা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “বাস্তবতা উপলব্ধি করা জরুরি। একটি বিশেষ মহল নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটে গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    মির্জা আব্বাস আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গেও তিনি নির্বাচন করেছেন, তবে তখন এমন বিষোদগার হয়নি বলে উল্লেখ করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে একটি পক্ষ সারাদিন তার নাম নিয়ে কটূক্তি করছে এবং উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব কৌশলে তিনি বিচলিত নন বলেও জানান। তিনি বলেন, “আমি বহু নির্বাচন মোকাবিলা করেছি। এ ধরনের আচরণে আমি অভ্যস্ত।”

    বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, জনগণই শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে যে আবেগ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের দিন দেখা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • জোটের দ্বন্দ্বে উত্তাল চট্টগ্রাম-৮, উন্মুক্ত নির্বাচন চান শহীদ ওমরের মা

    জোটের দ্বন্দ্বে উত্তাল চট্টগ্রাম-৮, উন্মুক্ত নির্বাচন চান শহীদ ওমরের মা

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এবার উন্মুক্ত নির্বাচনের দাবি তুলেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওমর ফারুকের মা রুবি আক্তার। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন ক্যাম্পেইনের প্রথম দিনে তিনি এ দাবি জানান।

    চট্টগ্রামে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নির্বাচনী সফরকালে বোয়ালখালীর ফুলতলায় আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত হয়ে রুবি আক্তার বলেন, এই আসনে দলীয় হিসাবের চেয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, এলাকার মানুষ যাকে চেনে ও বিশ্বাস করে, তাকেই ভোট দিতে চায়।

    এই দাবি উঠে আসে এমন এক সময়ে, যখন ১০ দলীয় জোটের আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি জোটের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির জুবাইরুল হাসান আরিফকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই জোটের ভেতরে ও মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতা শুরু হয়।

    মনোনয়ন যাচাইয়ে জামায়াত, এনসিপি ও খেলাফত মজলিস—এই তিন দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। পরে খেলাফত মজলিস প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এনসিপি অসন্তোষ প্রকাশ করে।

    যদিও পরে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়, তবু মাঠপর্যায়ে আবু নাছেরের সমর্থকদের একটি অংশ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যেতে থাকে। এতে ভোটের সমীকরণ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

    স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালী-চান্দগাঁও এলাকায় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় ডা. আবু নাছের একজন পরিচিত মুখ। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে প্রার্থী ঘোষণায় এনসিপির প্রার্থী এলাকায় তেমন পরিচিত নন বলেই আলোচনা চলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে রুবি আক্তার বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কখনো বিক্রি হয়নি এবং স্থানীয় মানুষের অবদান উপেক্ষা করা উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, জোটের ভোটের হিসাব সীমিত হলেও স্থানীয় ভোটই এই আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

    এদিকে এনসিপির প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফ দাবি করেন, জোট ঐক্যবদ্ধ থাকলে আসন ধরে রাখা সম্ভব। তবে রুবি আক্তারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—চট্টগ্রাম-৮ আসনে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় সিদ্ধান্ত না কি স্থানীয় জনগণের রায়।

  • ভোটের অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান: সিলেটের জনসভায় তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

    ভোটের অধিকার রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান: সিলেটের জনসভায় তারেক রহমানের কঠোর বার্তা

    এবিএনএ: ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পাশাপাশি দেশের ভেতরেও একটি চক্র আবারও ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্রে সক্রিয় হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশে ব্যালট ছিনতাই, ডামি প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন এবং রাতের আঁধারে ভোট গ্রহণের মতো ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গত ১৬ বছরে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এই সময়কালে দেশের সার্বভৌমত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—দিল্লি হোক কিংবা অন্য কোনো রাজধানী, কারও কাছে নয়; সবার আগে বাংলাদেশ।” তিনি দাবি করেন, যারা অতীতে ভোট ও বাক-স্বাধীনতা হরণ করেছে, তারাই বহু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর নিখোঁজ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত।

    জনসভায় তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

  • দেশ রক্ষায় কঠোর বার্তা মির্জা আব্বাসের: প্রতারক ও ধান্দাবাজদের হাতে ক্ষমতা যেতে দেব না

    দেশ রক্ষায় কঠোর বার্তা মির্জা আব্বাসের: প্রতারক ও ধান্দাবাজদের হাতে ক্ষমতা যেতে দেব না

    এবিএনএ: বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করবেন, তবে কোনোভাবেই প্রতারক ও ধান্দাবাজদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা যেতে দেবেন না।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, নির্বাচনী রাজনীতিতে নামার পর বিএনপির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, যেভাবে কুৎসা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, তিনি কোনোভাবেই পরিচয়হীন রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তার ঠিকানা ও পরিচয় স্পষ্ট—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দায়িত্বশীল রাজনীতিই তার পথ।

    নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতি ধৈর্য ও ত্যাগের জায়গা। অল্প বয়সে ক্ষমতার লোভে অস্থির না হয়ে শেখার মানসিকতা নিয়ে এগোতে হবে। দেশ গঠনের রাজনীতিতে বিএনপি সব সময় সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

    মির্জা আব্বাস আরও বলেন, দেশের প্রয়োজনে রাজপথে থাকার ইতিহাস বিএনপির রয়েছে। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অতীতের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপি কখনো ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতি করেনি।

    আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ঋণখেলাপির ছায়া নির্বাচনেও: আদালতের আদেশে টিকে গেলেন ৩১ প্রার্থী, অর্ধেক বিএনপির

    ঋণখেলাপির ছায়া নির্বাচনেও: আদালতের আদেশে টিকে গেলেন ৩১ প্রার্থী, অর্ধেক বিএনপির

    এবিএনএ: ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে ১৫ জনই বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র রয়েছেন ১১ জন এবং বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে এসব প্রার্থী ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও আদালতের আদেশের কারণে তারা প্রার্থী তালিকায় টিকে যান। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের দায়ে তারা খেলাপি হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

    এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে শুধু ঋণখেলাপির কারণেই ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৮ জন, বিএনপির তিনজন এবং জামায়াতে ইসলামীর দুজন রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জেএসডি ও এলডিপিসহ একাধিক দলের প্রার্থীরাও বাদ পড়েছেন।

    গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৯টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ ও অবৈধ—উভয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও খেলাপির তথ্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আদালতের আদেশে টিকে যাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপিল নিষ্পত্তির পর জানা যাবে। তবে ঋণখেলাপি ইস্যুতে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন যাচাইয়ে কড়াকড়ি স্পষ্টভাবেই চোখে পড়ছে।