Tag: নির্বাচন

  • নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা: শরীয়তপুরে জামায়াত অফিস থেকে ৭ লাখ টাকা উদ্ধার, শিক্ষককে কারাদণ্ড

    নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা: শরীয়তপুরে জামায়াত অফিস থেকে ৭ লাখ টাকা উদ্ধার, শিক্ষককে কারাদণ্ড

    এবিএনএ: শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় জামায়াতে ইসলামী’র একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। অভিযানে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, অর্থ বিতরণের তালিকা এবং একটি ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গোলাম মোস্তফা নামে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর নড়িয়া থানা পুলিশ দণ্ডপ্রাপ্তকে কারাগারে পাঠায়।

    আটক গোলাম মোস্তফা ১২৭ নম্বর হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি চলমান নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্রে পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।

    নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস জানান, নির্বাচনী কার্যক্রমে অর্থ বিতরণের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া টাকার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় এবং সেখানে তার উপস্থিতির যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা হয়।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেন ওই এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নির্বাচনী কার্যালয় পরিচালনা করছিলেন। বুধবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

    এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থীর মিডিয়া সেলের প্রধান মাসুদ কবির দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কর্মীদের যাতায়াত ও খাবারের খরচের জন্য রাখা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে।

    অন্যদিকে, একই রাতে নড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী সফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত বিভিন্ন এলাকায় অর্থের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশাসনের কাছে এ ধরনের তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    উল্লেখ্য, শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট আটজন প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

  • ভোটের আগমুহূর্তে ঢাকা-১৫ আসনে উত্তাপ: দাঁড়িপাল্লার ১৩ নির্বাচনী বুথ ভাঙচুরের অভিযোগ জামায়াত আমিরের

    ভোটের আগমুহূর্তে ঢাকা-১৫ আসনে উত্তাপ: দাঁড়িপাল্লার ১৩ নির্বাচনী বুথ ভাঙচুরের অভিযোগ জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, তার প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র ১৩টি নির্বাচনী বুথ ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ভাঙচুর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ঢাকা-১৫ নির্বাচনী এলাকায় দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের প্রচারণা বুথগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো দল বা প্রার্থীকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না।

    তিনি আরও বলেন, যারা নীতিনির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা করতে ব্যর্থ, তারাই সহিংসতার পথে হাঁটছে। তবে সাধারণ মানুষের সমর্থনই তাদের শক্তি এবং ভয়ভীতির রাজনীতি দিয়ে জনতার কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব নয়।

    ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, সাধারণ মানুষের মনে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে। ভোটের দিন সেই সমর্থনের প্রতিফলন ঘটবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।

  • ভোটের আগমুহূর্তে অনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতার ছায়া: জামায়াতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বিএনপির

    ভোটের আগমুহূর্তে অনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতার ছায়া: জামায়াতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ বিএনপির

    এবিএনএ: নির্বাচনের ঠিক আগের দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থসহ জামায়াত নেতার আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, নির্বাচনের আগে এ ধরনের অর্থ বহন ও বিতরণের চেষ্টা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল এবং এটি ভোট কেনার ইঙ্গিত দেয়।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান দিয়ে যারা মাঠে নেমেছে, তাদের পক্ষ থেকে অর্থের প্রলোভন দেখানো চরম ভণ্ডামির উদাহরণ।

    ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের দাবি
    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সম্ভাব্য জাল ভোটের আশঙ্কা তুলে ধরে ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। মাহদী আমিন বলেন, কিছু এলাকায় ধর্মীয় পোশাক ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নারীদের মর্যাদা ও পর্দার প্রতি সম্মান রেখেই সন্দেহজনক ভোটারের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এনআইডি বা পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে মিল রেখে মুখমণ্ডলের প্রয়োজনীয় অংশ যাচাই করা উচিত। এ কাজ নারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বা নারী এজেন্টের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।

    সৈয়দপুর বিমানবন্দর প্রসঙ্গ ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ
    তিনি বলেন, টানা কয়েক দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির থাকার পরও বিপুল অঙ্কের অর্থ বহনের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু সৈয়দপুর নয়, ঢাকা-১৫, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ আর্থিক লেনদেনের খবর বিএনপি পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

    এছাড়া অভিযোগ করা হয়, কিছু এলাকায় ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর ও ভোটার আইডির তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। বিএনপির দাবি, ধর্মীয় আবেগ বা অর্থের প্রলোভন দেখিয়েও ভোটারদের বিভ্রান্ত করা সম্ভব হয়নি।

    সহিংসতা ও জাল সিলের অভিযোগ
    বিএনপির নেতারা আরও বলেন, কয়েকটি এলাকায় ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে দেশীয় অস্ত্র ও অবৈধ সামগ্রী জড়ো করা হচ্ছে। বগুড়ার নন্দীগ্রামে সংঘর্ষে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার আহত হওয়ার ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবি জানান তারা। লক্ষ্মীপুরে জাল সিল উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির জবানবন্দি উল্লেখ করে দলটি দাবি করে, পরিকল্পিতভাবে ভুয়া সিল তৈরির প্রক্রিয়া চলছিল।

    ভোটার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান
    আগামীকালের নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটারদের সকালেই কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানায় বিএনপি। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়ে দলটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে শেষ নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে দুইজনের মৃত্যু

    টাঙ্গাইলে শেষ নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে দুইজনের মৃত্যু

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গণমিছিলে অংশ নিতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে দুজন সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা সদর উপজেলার সেলিমপুর ইউনিয়নের চর পাকুল্যা গ্রামের জোনাব আলী এবং একই ইউনিয়নের ছোনাট গ্রামের জিয়াউর রহমান। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিছিল শুরুর আগে একজন এবং মিছিল চলাকালে আরেকজন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একজনের হার্টের জটিলতা দেখা দেয় এবং অন্যজনের ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, প্রচারণার শেষ দিনে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ও শহরের অলিগলি থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মিছিলে অংশ নেয়। এ সময় দুজন কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের অকালপ্রয়াণে শোক প্রকাশ করে তিনি পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, নিহত দুজনই বয়সে প্রবীণ ছিলেন এবং আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

  • রাজনীতিতে বাড়ছে পেশিশক্তি ও পুরুষতান্ত্রিকতা, ঝুঁকিতে প্রান্তিক ভোটাররা

    রাজনীতিতে বাড়ছে পেশিশক্তি ও পুরুষতান্ত্রিকতা, ঝুঁকিতে প্রান্তিক ভোটাররা

    এবিএনএ: নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে দেশের নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষ এবং বিশেষভাবে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অর্থের প্রভাব, পেশিশক্তির দাপট, ধর্মীয় ব্যবহার ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে—যা প্রান্তিক ভোটারদের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

    সোমবার নির্বাচন কমিশনের আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি না—সে প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। টিআইবির পক্ষ থেকে বিষয়টি কমিশনের সংশ্লিষ্ট সেলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। কমিশনার সানাউল্লাহ তাদের উপস্থাপিত তথ্য ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

    নির্বাচনী স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তার মতে, প্রযুক্তি পুরোপুরি বন্ধ না করে অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি ও নীতিমালা জোরদার করা দরকার। স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বানও জানান তিনি।

  • আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ : তারেক রহমান

    আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ : তারেক রহমান

    এবিএনএ: জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠিত হলে রাষ্ট্র পরিচালনা হবে জনগণের কাছে জবাবদিহির ভিত্তিতে। তিনি জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং আইনের শাসন কার্যকরভাবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটাই তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও দলের প্রতিশ্রুতি।

    তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ রাখার বিকল্প নেই—কারণ জনগণই রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, প্রথম ভোট গণতন্ত্র ও জবাবদিহির পক্ষে দেওয়া হোক।

    ভোটের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এলাকার মানুষের দায়িত্ব নেবেন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমপিরা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন কি না, তা নজরদারিতে রাখা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচারকে মূলনীতি হিসেবে ধরে এগোনোর কথাও বলেন তিনি।

    দলীয় প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা বোঝার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। প্রবাসে থাকার সময়ও দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কথা তুলে ধরেন তিনি।

    অতীতের শাসনামলে বিএনপির কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন কামনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

  • সরকার গঠন করলে প্রথমদিন ফজর পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব

    সরকার গঠন করলে প্রথমদিন ফজর পড়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করব

    এবিএনএ: জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মানবিক, নিরাপদ ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রথম দিন ফজরের নামাজ শেষে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবেন। তাঁর ভাষ্যে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ভোগের বিষয় নয়—এটি আমানত ও জবাবদিহিতার বিষয়।

    ভাষণে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার—ধর্ম ও পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষাই হবে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। নারী-পুরুষের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দিতে প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি। তিনি জানান, নীতিনির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে দলীয় ইশতেহার ও নীতিকৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে; সুযোগ পেলে সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে সঙ্গে সঙ্গেই।

    তিনি অতীতের দমন-পীড়ন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সমালোচনা করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হয় না। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে ঐক্যের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘না’ বলার আহ্বান জানিয়ে সততা, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি করার কথা বলেন।

    রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, কাঠামোগত পরিবর্তন সময়ের দাবি—এ কারণেই সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের মতামতের মাধ্যমে সংস্কারকে টেকসই করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়া, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন।

    ভাষণের শেষে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন, আচরণবিধি মানা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, রাষ্ট্র সবার—সরকার হবে জনগণের। ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার নীতিতে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকারেই তাঁর বক্তব্য শেষ হয়।

  • ভোটের আগেই নামবে প্রচারের পর্দা—মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় থামছে সব প্রচারণা

    ভোটের আগেই নামবে প্রচারের পর্দা—মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় থামছে সব প্রচারণা

    এবিএনএ: গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হয়।

    এবার ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে। সে হিসেবে ৪৮ ঘণ্টা আগের সময়সীমা দাঁড়ায় ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা। ওই সময়ের মধ্যেই পোস্টার, মাইকিং, সভা-সমাবেশসহ প্রার্থীদের সব প্রচার কার্যক্রম শেষ করতে হবে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে প্রায় ২০ দিন প্রচারের সুযোগ পেয়েছিলেন প্রার্থীরা।

    নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নিয়ম ভাঙলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র।

    দলভিত্তিক হিসেবে বিএনপির প্রার্থী সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ প্রতীকে প্রার্থী ২৫৮ জন। জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে লড়ছে ২২৯ জন প্রার্থী। জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৯৮ জন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে রয়েছেন ৩২ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ‘ফুটবল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭৬ জন।

  • নির্বাচনী উত্তাপে বাগেরহাটে আগুন! স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রস্তাবিত মেডিকেল প্রকল্পে দুর্বৃত্তদের হামলা

    নির্বাচনী উত্তাপে বাগেরহাটে আগুন! স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রস্তাবিত মেডিকেল প্রকল্পে দুর্বৃত্তদের হামলা

    এবিএনএ: বাগেরহাট শহরের স্টেডিয়াম-সংলগ্ন এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্পের স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে একটি স্পিড বোর্ড ও আশপাশের কয়েকটি গাছ পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ঘটনার বিবরণ দিয়ে এম এ এইচ সেলিমের বড় ছেলে মেহেদী হাসান পিন্স জানান, বাগেরহাটবাসীর জন্য একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ার স্বপ্ন ছিল তাদের। আগে জমি নির্ধারণও করা হয়েছিল। স্টেডিয়াম এলাকার ওই স্থানে আগে একটি স্থানীয় পত্রিকার অফিস ছিল, সেখানে দুটি সেমিপাকা ঘর ও সামনে একটি স্পিড বোর্ড রাখা ছিল। আগুনে বোর্ডটি ও বেশকিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় দুটি টিনশেড ঘর অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, কর্মীদের হুমকি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তার। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান পরিবারটি।

    বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে এবং ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

    বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, অফিসে তালা দেওয়া, ভাঙচুর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম, মাহবুবুর রহমান টুটুল, সামিদ আল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

    এম এ এইচ সেলিম অভিযোগ করে বলেন, বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া) আসনে তার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ, প্রচারণার মাইক ভাঙচুর এবং যাত্রাপুর এলাকার অফিসে তালা লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এম এ এইচ সেলিমের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কর ফাঁকির অভিযোগ সত্য হলে তার মনোনয়নপত্র বৈধ হতো না। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।