Tag: নির্বাচন

  • ভোটার স্বাক্ষরের গরমিলেই বড় ধাক্কা: চট্টগ্রাম ও ফেনীতে বাতিল ৫৩ প্রার্থীর মনোনয়ন

    ভোটার স্বাক্ষরের গরমিলেই বড় ধাক্কা: চট্টগ্রাম ও ফেনীতে বাতিল ৫৩ প্রার্থীর মনোনয়ন

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৫৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীই রয়েছেন ২২ জন। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংবলিত সমর্থন তালিকায় গরমিল পাওয়ায় এসব মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্রসহ মোট ১৪৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। চার দিনব্যাপী যাচাই শেষে ৪১ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কয়েকটি আসনে ভোটার তালিকার তথ্য মিল না পাওয়া ছাড়াও ঋণখেলাপি ও দলীয় মনোনয়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণেও প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

    চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলার মনোনয়ন বাতিল হয় ঋণখেলাপি হওয়ায়। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ১ শতাংশ ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে অসংগতি ধরা পড়ায় তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। একই কারণে চট্টগ্রামের একাধিক আসনে আরও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রার্থিতা হারান।

    এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন ছাড়াই প্রার্থী হওয়া এবং প্রস্তাবকের স্বাক্ষরসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের আলী আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। কয়েকটি আসনে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এবং ভোটার স্বাক্ষরের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় আরও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়।

    চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা আপিল করার সুযোগ পাবেন। আগামী ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করা হবে এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে।

    ফেনী জেলার তিনটি আসনেও একই ধরনের কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ফেনী-১, ফেনী-২ ও ফেনী-৩ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর নথি দাখিল না করা, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরসংক্রান্ত গরমিল প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

    ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হকের তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে আপিল করলে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিষয় পুনরায় বিবেচনা করা হবে।

  • ভোট ও গণভোট ঘিরে ডিজিটাল সতর্কতা: সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের কড়া নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    ভোট ও গণভোট ঘিরে ডিজিটাল সতর্কতা: সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের কড়া নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ: আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সামগ্রিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে তথ্যপ্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধ কঠোরভাবে দমনের বিকল্প নেই।

    প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকার নাগরিক সেবাগুলোকে দ্রুত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসছে। দেশ ও প্রবাসে এসব সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে হলে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

    তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়নে একটি রেটিং পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দেন।

    আর্থিক খাতে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ তালিকা সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে।

    তিনি আসন্ন নির্বাচন ঘিরে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন মোকাবিলায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ও বিটিআরসির মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

    সভায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, আইজিপি বাহারুল আলম ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা: সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসলো বিএনপির প্রতিনিধি দল

    নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা: সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসলো বিএনপির প্রতিনিধি দল

    এবিএনএ: আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বৈঠকে বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি, কমিশনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিএনপির পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

    বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • এনসিপি ছাড়লেন ডা. তাসনিম জারা: ‘চাঁদায় পাওয়া অর্থ এক টাকাও রাখব না’

    এনসিপি ছাড়লেন ডা. তাসনিম জারা: ‘চাঁদায় পাওয়া অর্থ এক টাকাও রাখব না’

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। শনিবার সন্ধ্যার দিকে দলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ মাধ্যম এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন।

    পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ডা. তাসনিম জারা জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতিতে যাঁরা তাঁকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন, তাঁদের সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে কারও অর্থ রাখার নৈতিক অধিকার তাঁর নেই।

    শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জারা লেখেন, সংসদে গিয়ে ঢাকা-৯ আসনের মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন থেকেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় কোনো দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

    এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়েই তিনি পদত্যাগ করেন। ঢাকা-৯ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে ডা. তাসনিম জারার নাম আলোচনায় থাকলেও পদত্যাগের ফলে সে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। বিকল্প হিসেবে হুমায়রা নুরকে প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছে, যদিও ওই আসন জামায়াত ছাড়বে কিনা তা নিশ্চিত নয়।

    দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নারী নেতা জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে আসছিলেন। এই তালিকায় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ দলীয় নেতৃত্বের কাছে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন।

    ডা. তাসনিম জারা জানান, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার থেকে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এজন্য প্রয়োজনীয় ভোটার স্বাক্ষর সংগ্রহের আহ্বানও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে তিনি গণচাঁদার মাধ্যমে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন তিনি। বিকাশে অর্থ পাঠানো ব্যক্তিদের জন্য একটি ফর্ম পূরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া অনুদানের ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমে প্রক্রিয়া জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

  • ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাগেরহাটে প্রার্থী ছড়াছড়ি, মনোনয়ন ফরম নিলেন ২৫ জন

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাগেরহাটে প্রার্থী ছড়াছড়ি, মনোনয়ন ফরম নিলেন ২৫ জন

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২৫ জন প্রার্থী ইতোমধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন কার্যালয়।

    বাগেরহাট-১ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কপিল মণ্ডল, বিএনপি-স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এম এ এইচ সেলিম, এস এম মুজিবর রহমান ও মাসুদ রানা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মশিউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজিবর রহমান শামীম এবং এবি পার্টির মো. আমিনুল ইসলাম মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।

    বাগেরহাট-২ আসনে মনোনয়ন নিয়েছেন বিএনপির শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর শেখ মনজুরুল হক রাহাত, ইসলামী আন্দোলনের শেখ আতিয়ার রহমান এবং খেলাফত মজলিসের বালী নাছের ইকবাল ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বিএনপির ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও মো. জুলফিকার আলী, জামায়াতের মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ, ইসলামী আন্দোলনের শেখ জিল্লুর রহমান, জাসদ-রবের হাবিবুর রহমান মাস্টার এবং এনসিপির মো. রহমাতুল্লাহ মনোনয়ন নিয়েছেন।

    বাগেরহাট-৪ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীরা হলেন বিএনপির সোমনাথ দে, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও কাজী খাইরুজ্জামান শিপন, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল আলীম এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. ওমর ফারুক।

    জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। পরে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

  • বড়দিনের বার্তায় সম্প্রীতির ডাক: ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের শুভেচ্ছা বিনিময়

    বড়দিনের বার্তায় সম্প্রীতির ডাক: ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের শুভেচ্ছা বিনিময়

    এবিএনএ: বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্য বিনিময় করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হয়।

    অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, ন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের সভাপতি বিশপ ফিলিপ পি অধিকারী, খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ড. বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও এবং জাতীয় চার্চ পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি খ্রিস্টোফার অধিকারীসহ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা তাঁদের বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সুনাম ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।

    আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ বড়দিনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, যিশু খ্রিস্টের ক্ষমা, মানবপ্রেম ও সেবার আদর্শ অনুসরণ করেই বিশ্বজুড়ে এ উৎসব উদযাপিত হচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের পুনর্গঠনে জনগণের আস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছেন এবং একটি সুন্দর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সে প্রচেষ্টা সফল হবে বলে তিনি প্রার্থনা করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে বড়দিন ও আসন্ন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সমাজের আয়না; তাঁদের অবস্থান দেখেই সমাজের সার্বিক পরিস্থিতি অনুধাবন করা যায়।

    তিনি আরও বলেন, একটি সুস্থ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে ধর্মীয় নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

    অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নেতারা বড়দিন উপলক্ষে আড়াই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তাঁরা জানান, দেশজুড়ে প্রায় ৮০০টি চার্চে ধাপে ধাপে এ অনুদান বিতরণ করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠান শেষে বড়দিন উদযাপনের অংশ হিসেবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

  • নির্বাচন নিয়ে বার্তা: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে পাঁচ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি

    নির্বাচন নিয়ে বার্তা: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে পাঁচ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি

    এবিএনএ: বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা।

    মঙ্গলবার দেওয়া ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, বিল হুইজেঙ্গা ও সিডনি কামলাগার-ডোভ। তাঁদের সঙ্গে চিঠিতে আরও সই করেন কংগ্রেস সদস্য জুলি জনসন ও টম আর সুওজি। চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

    চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে আইনপ্রণেতারা বলেন, জাতীয় সংকটের এই সময়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণে ড. ইউনূসের এগিয়ে আসাকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

    তাঁরা উল্লেখ করেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিফলনের পরিবেশ তৈরি করতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে রাজনৈতিক মতাদর্শের সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকার প্রতি সমর্থন থাকলেও একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া মৌলিক মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    মার্কিন আইনপ্রণেতারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে কাঠামোগত সংস্কারের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখা বা ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় সক্রিয় করলে এসব লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।

  • নির্বাচনের মুখে বাংলাদেশে বিপজ্জনক প্রবণতা, জনরোষকে ব্যবহার করা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: আইরিন খান

    নির্বাচনের মুখে বাংলাদেশে বিপজ্জনক প্রবণতা, জনরোষকে ব্যবহার করা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: আইরিন খান

    এবিএনএ: বাংলাদেশ যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে, তখন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে জনরোষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইরিন খান। তাঁর মতে, এমন প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    সম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইরিন খান এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

    আইরিন খান জানান, ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, পাশাপাশি নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে। এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতা শরীফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর।

    জাতিসংঘের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও শিল্পীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করে দায়ীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

    আইরিন খানের মতে, এই ধরনের হামলা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। বরং দায়মুক্তির দীর্ঘদিনের চর্চা এবং গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের অভাবই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। গত এক বছরে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি উভয় পর্যায় থেকেই গণমাধ্যমের ওপর চাপ বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে শতাধিক সাংবাদিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়মুক্তির ধারাবাহিকতা ভাঙতে না পারায় হামলা ও হুমকি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আইরিন খান।

  • আ.লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়ন, বাগেরহাটে ‘নতুন মুখে’ ক্ষুব্ধ তৃণমূল

    আ.লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়ন, বাগেরহাটে ‘নতুন মুখে’ ক্ষুব্ধ তৃণমূল

    এবিএনএ: দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মুখে রাজপথে টিকে থাকা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে বাগেরহাটে সদ্য দলবদল করা সাবেক দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ায় জেলা জুড়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনে এমন সিদ্ধান্তে দলের তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।

    স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মাস আগেও যারা আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ও সুবিধাভোগী ছিলেন, তারাই এখন ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে নির্বাচনের মাঠে। এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও ব্যঙ্গ।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক এবং অতীতে চিতলমারী উপজেলার একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা নিয়ে এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    অন্যদিকে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সোমনাথ দে। রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তিনি বেশ পরিচিত মুখ। একসময় জাতীয় পার্টি, পরে আওয়ামী লীগ এবং সর্বশেষ বিএনপিতে যোগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মনোনয়ন পাওয়ায় দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।

    এই দুই প্রার্থীর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তোলা পুরনো ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা আসন্ন নির্বাচনে দলের ভরাডুবির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

    ফেসবুকে চিতলমারীর এক বাসিন্দা লেখেন, “১৭ বছর ধরে যারা নির্যাতন সহ্য করে রাজপথে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ আসা লোককে মনোনয়ন দেওয়ায় আমরা চরম হতাশ।” একই ধরনের মন্তব্য করেছেন আরও অনেকে, কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও তুলেছেন।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের কিছু করার নেই। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রকে জানিয়েছি।

    জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ায় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা এটি মেনে নিতে পারছে না। দীর্ঘদিনের ত্যাগীরা আজ অবহেলিত।

    অন্যদিকে মনোনয়নপ্রাপ্ত কপিল কৃষ্ণ মন্ডল দাবি করেন, তিনি কখনো সক্রিয়ভাবে অন্য দলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    সোমনাথ দে বলেন, যারা অনিয়ম ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তারাই তার মনোনয়নে ক্ষুব্ধ। সাধারণ মানুষ তাকে গ্রহণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এদিকে বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং বাগেরহাট-৩ আসনে ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বাগেরহাট-২ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা সাবেক সভাপতি এম এ সালামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন—দাবি না মানা হলে তারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।

  • সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    এবিএনএ: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও জানমাল ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে সব ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা সরকার দৃঢ়ভাবে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। অল্প কিছু গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

    অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি বড় জাতীয় দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সেই আদর্শের সঙ্গে যুক্ত, যার জন্য শহীদ শরিফ ওসমান হাদি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে হলে সমাজে সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং ঘৃণার রাজনীতি পরিহার করা জরুরি।

    সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সংবাদকর্মীদের ওপর আঘাত মানেই সত্য ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।