Tag: নির্বাচন

  • সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক সচেতনতামূলক যৌথ মহড়া ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার ১৫ ডিসেম্বর রাউজান উপজেলায় কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং অফিসার, চট্টগ্রাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

    প্রধান অতিথি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, যা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়—এটি বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি আগামী একশ’ বছরের বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট।

    জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে তারা কী ধরনের বাংলাদেশ চায়। ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মানুষ আর রক্তপাত নয়—শান্তিতে বসবাস করতে চায়। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো স্বার্থের কাছে যেন কেউ নিজের মেরুদণ্ড ও বিবেক বিক্রি না করেন—ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি এই আহ্বানও জানান তিনি। প্রশাসন কঠোর হতে চায় না, তবে পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে কঠোর হতে বাধ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, কোনো অবস্থাতেই রাউজানে ভোটগ্রহণের পরিবেশে কেউ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না। নির্বাচনকে ঘিরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বালু সন্ত্রাসী ও অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থেকে তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান এবং বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ, রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম রাহাতুল ইসলাম এবং রাউজান থানা অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি)।যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে রাউজান উপজেলা পর্যন্ত গাড়িবহরের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

    সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তাগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত উদ্যোগে রাউজানে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

  • স্বাধীনতা অস্বীকারকারীরা এখন ‘নতুন দেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে—বিশ্বাসযোগ্য নয়: মির্জা ফখরুল

    স্বাধীনতা অস্বীকারকারীরা এখন ‘নতুন দেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে—বিশ্বাসযোগ্য নয়: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: যারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছিল, তাদের ওপর আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আজ নতুন রূপে হাজির হয়ে এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন তারাই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। কিন্তু দেশের মানুষ ইতিহাস জানে, তারা বিভ্রান্ত হবে না।

    রোববার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে মূলত দুটি বিপরীত শক্তির মধ্যে। একদিকে থাকবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি। অন্যদিকে থাকবে সেই গোষ্ঠী, যারা বারবার ধর্মকে সামনে এনে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

    তিনি আরও বলেন, একাত্তরের ইতিহাস কোনোভাবেই ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। যারা এই দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, তারা কখনো স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়াতে পারেন না। প্রশ্ন হলো—জাতি কোন পথে যাবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে নাকি স্বাধীনতা অস্বীকারকারীদের পথে?

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বেছে নেবে। এ কারণেই এবারের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, আজ আবার সেই পুরোনো শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যারা ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অথচ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান আন্দোলন ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাও করেছিল এই একই গোষ্ঠী।

    সভায় তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনের পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন—এটি দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে স্মরণকালের সংবর্ধনা দেওয়ার আহ্বান জানান।

    মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল জয়নুল আবেদিনসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

  • নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    এবিএনএ,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত প্রথম জরিমানা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে। বিশাল গাড়িবহর নিয়ে নির্বাচনি এলাকায় পৌঁছার পর চট্টগ্রামে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো। নির্বাচনী আচরণবিধি, ২০২৫ এর ২৭ ধারায় সম্ভাব্য প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান মং এছেন।

    শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে লোহাগাড়া উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে এ জরিমানা করা হয়েছে। ওই উপজেলায় নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মং এছেন এ আদেশ দেন। গত ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপি নাজমুল মোস্তফা আমিনকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। নবাগত প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রথমবারের মতো নির্বাচনের মাঠে এসেছেন।

    সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, ‘তিনি (নাজমুল মোস্তফা আমিন) চট্টগ্রাম থেকে সাতকানিয়া উপজেলা হয়ে লোহাগাড়ায় বটতলী স্টেশন এলাকায় আমাদের উপজেলার সীমানায় পৌঁছার পর আমরা গাড়িবহরের গতিরোধ করি। তিনি নিজে একটি জিপে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন। শ’খানেক মোটর সাইকেল, জিপ, প্রাইভেট কারসহ আরও গাড়ি সামনে-পেছনে ছিল। তফসিল ঘোষণার পর এ ধরনের মোটর শোভাযাত্রা নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন। জরিমানার পাশাপাশি তাকে আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি অবশ্য গাড়িবহর নিয়ে আর অগ্রসর হননি। পরে তিনি একটা মাহফিলে চলে যান।’​

    নেতাকর্মীদের নিয়ে নাজমুল মোস্তফা আমিন চট্টগ্রাম শহর থেকে গাড়ির বহর নিয়ে দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় তার গাড়ির বহর বটতলী মোটর ষ্টেশনের সিটিজের পার্ক কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পৌঁছলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্গনের দায়ে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।​

    উক্ত আসনে​ প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এলাকায় তার নির্বাচনী প্রচারণা চালালে ও আচরণ বিধি লংঘন সংক্রান্ত তেমন কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। চট্টগ্রামে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত প্রথম কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হল।

    গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

  • গুলির আঘাতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ওসমান হাদি, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

    গুলির আঘাতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ওসমান হাদি, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

    এবিএনএ: গুলিতে গুরুতর আহত ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকদের মতে, তার চিকিৎসা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এর আগে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

    শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে পরবর্তীতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    শনিবার দুপুরে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল বাংলাদেশের মেডিকেল সার্ভিসেস পরিচালক ডা. আরিফ মাহমুদ জানান, ওসমান হাদির মস্তিষ্কে আঘাত অত্যন্ত জটিল। যদিও তার হৃদ্‌যন্ত্র সচল রয়েছে, তবে মস্তিষ্কের অবস্থা উদ্বেগজনক।

    তিনি আরও বলেন, মস্তিষ্কের স্টেমে আঘাতের কারণে রোগীর চোখের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। তবে কিছুটা আশার দিক হলো—শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এখনও কার্যকর রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতি—সবকিছুর জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে জানান চিকিৎসক।

  • ধর্মের আড়ালে সহিংসতার রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে জামায়াত—কঠোর সমালোচনায় এনসিপি

    ধর্মের আড়ালে সহিংসতার রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে জামায়াত—কঠোর সমালোচনায় এনসিপি

    এবিএনএ: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, জামায়াত ইসলামী ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে দেশে সহিংসতা, বিভাজন ও ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করছে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে দলটি জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে জামায়াতের ভূমিকা উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

    বিবৃতিটি পাঠান এনসিপির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। এতে বলা হয়, ৬ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্সের (এনপিএ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার যে প্রমাণ-ভিত্তিক বক্তব্য দেন, তা সম্পূর্ণ তথ্যসম্মত।

    এনসিপি দাবি করে, পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৭ নভেম্বর নির্বাচনী প্রচারণায় সংঘর্ষের সময় গুলি চালানো তুষার মণ্ডলের পরিচয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত করেছে—তিনি জামায়াতের কর্মী। তাকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও এই ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করা ‘দায় এড়ানোর চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করে এনসিপি।

    দলটি আরও জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সুযোগ থাকলেও জামায়াত সেই পথ অনুসরণ না করে পুরোনো সহিংসতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাইছে। নতুন রূপে ‘সহিংস খেলায়’ অংশ নিতে চাইছে—যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অশুভ সংকেত।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মের অপব্যবহার, অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি ও সংঘাত সৃষ্টি—এসবই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতি বজায় রাখতে সব দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা উচিত বলে মন্তব্য করে এনসিপি। পাশাপাশি তারা জামায়াতকে সত্য, শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায়।

    এর আগে গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন বলেন—নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই বিএনপি-জামায়াত জোটের মতো কিছু দল অস্ত্রের মহড়ায় প্রতিযোগিতায় নেমেছে। রোববার এক প্রতিক্রিয়া বিবৃতিতে জামায়াত এ মন্তব্যকে ‘মনগড়া, অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক’ বলে দাবি করে এবং আখতার হোসেনকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।

  • “জামায়াতকে ভোট দিলে আমার মৃতদেহই পাবেন” বক্তব্যে তোলপাড় কিশোরগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা

    “জামায়াতকে ভোট দিলে আমার মৃতদেহই পাবেন” বক্তব্যে তোলপাড় কিশোরগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা

    এবিএনএ: কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফজলুর রহমানের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে তিনি বলেন, “যদি জামায়াতকে ভোট দেন, তাহলে আমার মৃতদেহই পাবেন।” তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

    সভায় তিনি নিজের ‘ফজা পাগলা’ উপাধি প্রসঙ্গে বলেন, “যারা আমাকে এই নাম দিয়েছে, তারা স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারী। তারা যদি ভোটে জিতে যায়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ বিপন্ন হবে। তাই তাদেরকে ভোট দেওয়া মানে সত্যের পাশে না দাঁড়িয়ে ইতিহাস বিকৃতিকে মেনে নেওয়া।”

    তিনি আরও জানান, “আমি মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি বলে আমাকে নানা অপমানের শিকার হতে হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অনেক কথা বলা হলেও আমি সত্যের পথে অটল। কারণ যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি অসম্মান দেখায়, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা আমার দায়িত্ব।”

    ফজলুর রহমান দাবি করেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একজন সাহসী কণ্ঠস্বর। তিনি বলেন, “আমি সাধারণ মানুষের সন্তান, কিন্তু স্বাধীনতার জন্য যারা যুদ্ধ করেছেন আমি তাদের একজন বন্ধু ও সহযোগী। তাই সত্যের পথে থাকতেই আমি আপসহীন।”

    এদিনের কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস. এম. কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান স্বপন ঠাকুরসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

    সভা শেষে এলাকাজুড়ে তার বক্তব্য নিয়ে উত্তেজনা ও জোর আলোচনা চলতে থাকে।

  • নির্বাচনের আগে আইন পাসের তাড়াহুড়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা

    নির্বাচনের আগে আইন পাসের তাড়াহুড়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আইন তড়িঘড়ি করে পাসের উদ্যোগ সরকারের ভিন্ন উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মনে করেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন কোনো গণম্যান্ডেট ছাড়াই পাস করা হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ধারার অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে।

    শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে আমরা তথ্য পেয়েছি যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন এবং এনজিও সংক্রান্ত একটি আইন দ্রুত পাস করাতে চাচ্ছে। এই আইনের পেছনে সরকারের এমন একটি উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা আদতে গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করবে।

    বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, “জনগণের অনুমতি এবং মতামত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক আইন পাস করা কখনোই সমীচীন হতে পারে না। আমরা মনে করি, এসব আইন পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদে যথাযথ যুক্তিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে প্রণয়ন করাই যথাযথ হবে।”

    তিনি সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন অগণতান্ত্রিক ও তাড়াহুড়োপূর্ণ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য, কারণ এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ‘দুই দল যা বলে, সরকার তা-ই করে’ — কঠোর সমালোচনায় মির্জা আব্বাস

    ‘দুই দল যা বলে, সরকার তা-ই করে’ — কঠোর সমালোচনায় মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: সরকারের কার্যক্রমে স্বাধীনতার অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার নিজস্ব কোনো শক্তির ওপর নয়, বরং দুটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবে টিকে আছে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এ আয়োজন করে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, “এই সরকার দুই দলের ওপর নির্ভর করে চলছে—একটি তাদের নিজেদের সৃষ্টি, আরেকটি পুরনো দল। এই দুটি দল যা বলে, সরকার তা-ই বাস্তবায়ন করে। নির্বাচনী প্রতীক নিয়েও এর প্রমাণ আমরা দেখেছি।”

    তিনি আরও বলেন, “যারা একসময় মুখ খুলতে সাহস পেত না, তারাই আজ চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। এ সাহস তারা কোথা থেকে পেল? তাদের কোনো গণভিত্তি নেই। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো, তাহলে বোঝা যেত কার আসল জনসমর্থন কতটুকু।”

    মির্জা আব্বাস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এই দলগুলোকে জেতানোর জন্য সরকার হয়তো অবৈধ উপায় অবলম্বন করতে পারে। আগের মতো রাতের ভোট দিনে, দিনের ভোট রাতে হতে পারে। দেশের জনগণ এসব অনাকাঙ্ক্ষিত দলকে চায় না, তবুও তারা আজ বড় বড় কথা বলছে—এটা বিস্ময়কর।”

    জামায়াতে ইসলামীকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “যারা একসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতারই বিরোধিতা করেছিল, আজ তারাই শাসনভার চায়! ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে তারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল, আর এখন ধর্মের নামে দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। এই গোষ্ঠীই দেশের ক্ষতি করেছে।”

    বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কখনো এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না। জাতিকে বিভক্ত করে ফায়দা লুটতে চাওয়া শক্তিকে বিএনপি কখনোই পুনর্বাসনের সুযোগ দেবে না।”

    সভায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

  • বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    এবিএনএ:  ঐকমত্য কমিশনে দেওয়া বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’কে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর ভাষায়, “বিএনপি যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেটি আসলে ‘নোট অব চিটিং’। এর মাধ্যমে তারা ১৮ কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু তরুণ সমাজ তাদের সেই অপচেষ্টা বুঝে ফেলেছে।”

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ টাওয়ারে জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জাতীয় নির্বাচন কোন পথে?’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি এখন দেশের মধ্যে অনৈক্য ও বিভেদের রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ যে ঐক্যের পথে হাঁটছিল, বিএনপি সেই পথ থেকে সবাইকে সরাতে চাইছে। দেশের মানুষ এখন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে আছে— যেন তিনি দ্রুত জুলাই সনদের সুপারিশ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে শুরু করে পিএসসি পর্যন্ত সব জায়গায় নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিচ্ছে। “ওরা চায় ভাইয়াগিরি চলুক, ছোট ভাইয়েরা যেন চাকরি পায় দলের কলের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিরপেক্ষ পিএসসি গঠনের—এটাই ছাত্র সমাজের দাবি,” বলেন তিনি।

    এনসিপি নেতা আরও বলেন, “বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে ভেটো দিয়েছে, অথচ একসময় তারাই এই ব্যবস্থার দাবিদার ছিল। দেশের বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবিতেই যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা তারা ভুলে গেছে।”

    তিনি বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি খোলাখুলি সংস্কারের বিরোধিতা করে, আর জামায়াত ভণ্ডামি করে সংস্কারের পক্ষে কথা বলে কিন্তু আসলে বিপক্ষে অবস্থান নেয়।” তাঁর দাবি, “জামায়াত নিম্নকক্ষে পিআর চাচ্ছে নিজেদের আসন বাড়ানোর কৌশল হিসেবে।”

    নির্বাচনী প্রতীকের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, “আমরা শাপলা প্রতীক চাই এবং সেটিতেই নির্বাচন করবো। শাপলার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “কমিশন যদি অবৈধভাবে তালিকা তৈরি করে, তবে আমরা শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করবো।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন মুখ্য সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, ডা. তাসনিম জারা, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা ও মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানসহ নেতৃবৃন্দ।

  • ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা: প্রতারণার অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

    ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা: প্রতারণার অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এটা জনগণের সঙ্গে যেমন প্রতারণা, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা। এই পরিস্থিতিতে একে কোনোভাবেই ঐক্য বলা যায় না। তাহলে কমিশনটি গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?”

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদের বই ‘বিচার সংস্কার নির্বাচন : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    এর আগের দিন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। তবে ফখরুলের দাবি, কমিশন সদস্যদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতগুলো চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    তিনি বলেন, “আমরা শুনেছিলাম কমিশন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ভিন্নমতগুলোও সুপারিশে যুক্ত করা হবে। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেগুলো একেবারেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের উপেক্ষা ঐক্যের পরিপন্থী।”

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “একটি বিশাল গণঅভ্যুত্থান ও ত্যাগের বিনিময়ে আজকের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, সেই অর্জনগুলো জাতির কল্যাণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বরং বিভক্তি ক্রমেই বাড়ছে। এই বিভক্তি কারা সৃষ্টি করছে এবং কেন, তা গভীরভাবে ভাবতে হবে।”

    প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “আপনি জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। এখন আপনার দায়িত্ব হলো এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করা, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই নির্বাচনই হতে হবে জাতির সংকট সমাধানের পথ।”

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরু এবং লেখক-সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী প্রমুখ।