Tag: ইরান

  • শ্রীলঙ্কা উপকূলে নৌসেনা নিহতের জেরে পাল্টা হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের অভিযান

    শ্রীলঙ্কা উপকূলে নৌসেনা নিহতের জেরে পাল্টা হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের অভিযান

    এবিএনএ: শ্রীলঙ্কা উপকূলে সংঘটিত এক হামলায় নিজেদের নৌসেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ‘ইহুদিবাদী শক্তির’ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ২০তম হামলা পরিচালনা করেছে।

    ইরানের দাবি, এই হামলা উৎসর্গ করা হয়েছে শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন হামলায় নিহত নৌসেনাদের স্মরণে। ওই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রতিশোধের ঘোষণা দেয় তেহরান।

    তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে নিহত নৌসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। যদিও হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    এদিকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল।

  • মিলান মহড়া শেষে ফেরার পথে টর্পেডো হামলা! ডুবে গেল ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’, নিহত অন্তত ৮৭

    মিলান মহড়া শেষে ফেরার পথে টর্পেডো হামলা! ডুবে গেল ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’, নিহত অন্তত ৮৭

    এবিএনএ:ভারতে অনুষ্ঠিত বহুজাতিক নৌ মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে ভারত মহাসাগরে ডুবে গেছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইরিস ডেনা। শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটি ডুবে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৮৭ জন নৌসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও ৬২ জনের খোঁজ মেলেনি।

    ইরানের এই ফ্রিগেট চলতি বছরের মিলান ২০২৬ মহড়ায় অংশ নিতে ভারতের জলসীমায় আসে। এর আগেও ২০২৪ সালে একই মহড়ায় যোগ দিয়েছিল জাহাজটি। মহড়া শেষ করে নিজ দেশে ফেরার পথে এই বিপর্যয় ঘটে।

    মহড়ার লক্ষ্য ও প্রেক্ষাপট

    ভারতীয় নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ‘মিলান’ মহড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক সামুদ্রিক আয়োজন। এতে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী অংশ নিয়ে সমুদ্র নিরাপত্তা, সমন্বিত অভিযান ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুশীলন করে। হারবার ও সি-ফেজে সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মতো জটিল মহড়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    প্রকাশ্যে এলো বিস্ফোরণের ভিডিও

    ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর একটি সাদাকালো ভিডিও প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে, যা সাবমেরিনের পেরিস্কোপ থেকে ধারণ করা। ভিডিওতে দূরে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সামরিক অভিযানের এমন তাৎক্ষণিক চিত্র প্রকাশের ঘটনা বিরল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    অনুসরণ করছিল কি সাবমেরিন?

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান থেকে ভারত পর্যন্ত যাত্রাপথে মার্কিন সাবমেরিনটি গোপনে আইরিস ডেনা-কে নজরদারিতে রেখেছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে এক দেশের নৌবাহিনীর অন্য দেশের জাহাজকে অনুসরণ করা অস্বাভাবিক নয়।

    এই ঘটনার পর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

  • ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, আহত ৫—সাইরেনে কেঁপে উঠল এলাকা

    ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, আহত ৫—সাইরেনে কেঁপে উঠল এলাকা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে Israel Defense Forces (আইডিএফ)।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার পরপরই তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি সেবা ইউনিটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু করেছে। কোথায় কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

    আইডিএফ দাবি করেছে, নিক্ষিপ্ত বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষ বা সাব-মিউনিশনের অংশ কিছু স্থানে পড়ে স্থানীয়ভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

    এদিকে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, যেসব এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে, সেখানকার বাসিন্দারা আপাতত আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হতে পারেন। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্রের নিকটেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

    ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা: নিহত ৩, আহত ৬৮—কঠোর বার্তা আবুধাবির

    আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা: নিহত ৩, আহত ৬৮—কঠোর বার্তা আবুধাবির

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত তিনজন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল আব্দুল নাসের আল হুমাইদি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান থেকে আমিরাতের দিকে মোট ১৮৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮১২টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

    তার দাবি, নিক্ষেপ করা অধিকাংশ অস্ত্রই আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ভূপাতিত করা হয়, ১৩টি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে এবং মাত্র একটি আমিরাতের ভূখণ্ডে আঘাত হানে। পাশাপাশি আটটি ড্রোন ও আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিরোধ করা হয়েছে।

    হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে।

    মুখপাত্র আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর যেকোনও আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আমিরাত সংরক্ষণ করে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের এই বিস্তার উপসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া বার্তা আইআরজিসির: ‘আরও নরকের দরজা খুলবে’

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া বার্তা আইআরজিসির: ‘আরও নরকের দরজা খুলবে’

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্রতর হওয়ায় ইরানের সামরিক নেতৃত্ব আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত আরও জোরদার করা হবে।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। তার ভাষায়, “শত্রুপক্ষকে ধারাবাহিক ও কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, সামরিক অভিযান থামার কোনো লক্ষণ নেই।

    এদিকে তেহরান ইউরোপীয় দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো অংশ নিলে তা সরাসরি যুদ্ধঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও সমন্বিত পদক্ষেপকে আক্রমণাত্মক জোটের অংশ হিসেবেই দেখা হবে।

    ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় সম্ভাব্য “প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা” নেওয়ার কথা উল্লেখ করার পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা আসে।

    অন্যদিকে সংঘাতে ইরানে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

  • বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংস কমান্ড সেন্টার

    বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংস কমান্ড সেন্টার

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ল। ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর বরাতে দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। সেখানে ঘাঁটির ভেতরে একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

    বাহরাইনের শেখ ইসা অঞ্চলে অবস্থিত এই মার্কিন বিমানঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১ মার্চ থেকে ঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানানো হয়েছে। এতে কমান্ড সেন্টার ও প্রশাসনিক ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ইরানি সূত্রের দাবি।

    তবে হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা পাল্টা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট নয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • ইরানে তৃতীয় দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগুন, এক নজরে ভয়াবহ চিত্র

    ইরানে তৃতীয় দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগুন, এক নজরে ভয়াবহ চিত্র

    এবিএনএ: ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার তৃতীয় দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মিলছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে তেহরান। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বহু দেশে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

    ইরানের ভেতরের চিত্র

    রাজধানী **তেহরান**সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাতে বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি বেড়েছে। মধ্যাঞ্চলের সানান্দাজ শহরেও হামলার খবর মিলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

    উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিস্তার

    ভোরের দিকে আবুধাবি ও **দোহা**য় বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়ায়। কাতার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে বলে জানানো হয়েছে। জরুরি নিরাপত্তাজনিত কারণে কাতার এয়ারওয়েজ সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
    এদিকে ওমান উপকূলে একটি তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত-এ মার্কিন দূতাবাসসংলগ্ন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়; শোধনাগারের কাছে ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও এসেছে। বাহরাইন বন্দর ও শিল্পাঞ্চলে হামলার পর দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

    ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানে তাদের সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে’ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। মার্কিন পক্ষ হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

    লেবানন, সিরিয়া ও জর্ডানে উত্তাপ

    সংঘাতের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে লেবানন-এর রাজধানী **বৈরুত**সহ বিভিন্ন এলাকায়; বিমান হামলায় বহু হতাহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। **সিরিয়া**তে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেসামরিকরা আহত হয়েছেন। জর্ডান আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    ভূমধ্যসাগরে নতুন মাত্রা

    ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস-এ অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। রয়্যাল এয়ার ফোর্স পরিচালিত আক্রোতিরি ঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমিত ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের পরিধি দ্রুত বাড়ছে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ।

  • কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত: প্রাণ গেল ১ জনের, আহত অন্তত ৩২—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত: প্রাণ গেল ১ জনের, আহত অন্তত ৩২—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের হামলায় কুয়েতে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। কুয়েতের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববারের হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে; আহতদের বড় অংশই বিদেশি নাগরিক।

    কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, শনিবার ও রোববারের ধারাবাহিক হামলায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি বিভাগগুলোতে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে।

    ইরান দাবি করছে, সাম্প্রতিক ঘটনায় তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-কে ঘিরে উত্তেজনার কথাও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। পাল্টা অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।

    এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় প্রাণহানির খবর মিলেছে। ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ জানিয়েছে, সেখানে নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন; অন্যরা নেপাল ও পাকিস্তানের নাগরিক।

    আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বহু ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছে; এর একটি অংশ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে বলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।

    অন্যদিকে, সংঘাতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত

    ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত

    এবিএনএ: ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান মাহমুদ আহমেদিনেজাদ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত একটি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে জানা গেছে। তেহরানের একটি লক্ষ্যবস্তুতে চালানো এ হামলায় তাঁর মৃত্যু ঘটে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্র দাবি করেছে।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, হামলা তেহরানের নারমাক এলাকার কাছে তাঁর আবাসস্থলকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল, যেখানে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার পর নিয়মিত বসবাস করছিলেন। হামলায় তাঁর নিরাপত্তা টিমের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছে। যদিও ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ এখনও এ তথ্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কি ঘোষণা দিয়েছে তা নিশ্চিত নয়।

    আহমেদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পশ্চিমা শক্তি, বিশেষ করে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর অবস্থানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর শাসনামলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

    তার প্রেসিডেন্সির দ্বিতীয় মেয়াদে পরিচালিত ২০০৯ সালের নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল এবং নির্বাচন পরবর্তী আম হলে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ইরানজুড়ে সেই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল।

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার এক পর্যায়ে এমন একটি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের মৃত্যুর সংবাদটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম এ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।

  • ইরানের হাতে আসছে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত

    ইরানের হাতে আসছে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চিত্রে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে ইরানচীন-এর মধ্যে উন্নত অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনাবেচার সম্ভাব্য সমঝোতা। একাধিক কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান চীনের তৈরি সিএম–৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। এমন সময়েই এই আলোচনা জোরালো হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার সিএম–৩০২ কম উচ্চতায় ও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম, যা জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পারে। এই অস্ত্র যুক্ত হলে ইরানের নৌ-আক্রমণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং উপসাগরীয় জলপথে টহলরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে।

    সূত্রগুলো জানায়, গত জুনে ইসরাইল–ইরান সীমিত উত্তেজনার পর থেকেই আলোচনা নতুন গতি পায়। এই প্রক্রিয়ায় ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বেইজিং সফর করেছেন। তবে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে, দাম কত এবং সরবরাহের সময়সূচি—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি।

    এদিকে হোয়াইট হাউস ও বেইজিং—উভয় পক্ষের কাছেই মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না হলে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    চুক্তিটি কার্যকর হলে এটি হবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন-এর উন্নত জাহাজ-বিধ্বংসী প্রযুক্তি ইরানে সরবরাহের বড় উদাহরণ। জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্কের মধ্যেই এমন লেনদেন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব-বিস্তারের টানাপোড়েনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। বিমানবাহী রণতরী USS Abraham LincolnUSS Gerald R. Ford-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখতে বেইজিং তেহরানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী।